খুঁজুন
, ,

করোনায় আক্রান্ত বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 23 June, 2020, 8:01 pm
করোনায় আক্রান্ত বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ

করোনায় আক্রান্ত বিশ্বের একনম্বর টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ।

এক বিবৃতিতে সার্বিয়ান টেনিস তারকা নিজেই জানিয়েছেন তা। জোকাভিচের স্ত্রী এলেনা রিস্টিচও করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু তাঁদের সন্তানরা এই রোগে আক্রান্ত নয় বলে জানা গেছে।

নিজের দেশ সার্বিয়ার বেলগ্রেডে নোভাক জোকোভিচের আয়োজিত প্রদর্শনী টুর্নামেন্ট নিয়ে তোলপার টেনিস বিশ্ব।

কারণ, সেখানে খেলতে আসা খেলোয়াড় এবং কোচিং সদস্যরা একের পরে এক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তা নিয়ে রীতিমতো কাঠগড়ায় বিশ্বের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা জোকোভিচ। তিনি নেজও করোনায় আক্রান্ত কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল।

জোকোভিচ নিজেই জানিয়ে দিলেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত। ১৪ দিন তিনি নিভৃতবাসে থাকবেন। দিন পাঁচেক পরে আবার পরীক্ষা করবেন।

জকোভিচসহ বিশ্বের শীর্ষ ২০ খেলোয়াড়ের অনেকেই যে খেলেছেন সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার ওই দুই টুর্নামেন্টে। যেখানে আবার সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। জোকোভিচ, দিমিত্রভ, কোরিচ, শাসা জভেরভ, মারিন চিলিচদের একসঙ্গ ফুটবল, বাস্কেটবল খেলার সঙ্গে নাচতেও দেখা গেছে।

মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই এই টেনিস সিরিজ আয়োজন করেছিলেন জকোভিচরা। খেলোয়াড়েরা অনেকদিন টেনিসে নেই, তাদের জড়তা কাটাতেই এই আয়োজন। শেষে তা উল্টো বিপদ বয়ে আনল।

বুলগেরিয়ান তারকা গ্রিগর দিমিত্রভ গত শনিবার করোনায় আক্রান্তের খবর জানান। পরের দিন (গতকাল) আক্রান্ত হন ক্রোয়েশিয়ার টেনিস তারকা কোরিচ। এরপর থেকেই জকোভিচের সমালোচনায় মুখর ছিল বিশ্ব টেনিস অঙ্গন। তিনিও স্ত্রীসহ আক্রান্ত হওয়ার পর আতঙ্ক আরো বেড়েছে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের। টুর্নামেন্টটিতে দর্শকদের আগ্রহও ছিল ব্যাপক। সার্বিয়া পর্বের ফাইনালে উপস্থিত ছিল ৫ হাজারেরও বেশি দর্শক। গ্রিগর দিমিত্রভ আক্রান্তের পর বাতিল হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া পর্বের ফাইনাল। যেখানে নোভাক জকোভিচের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল রাশিয়ার আন্দ্রে রুবলেভের।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 9:55 am
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় গোলের দেখা পেল। হুলিয়ান আলভারেজের দর্শনীয় গোলে ২-১ এ এগিয়ে গেল তারা। ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে বেশ দূর থেকে তার বাঁকানো শট দূরের পোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ তৃতীয়বার জাল কাঁপান।

এর আগে আর্জেন্টিনা দশম মিনিটে এগিয়ে যায়। নবম মিনিটে কর্নার পায় তারা। একেবারে মাপা শট নেন মেসি। বেশ লম্বা সুইস ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোল পেতে হলে অনেকদূর লাফিয়ে উঠতে হতো অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা ম্যানুয়েল আকানজির লাফিয়ে বল না পাওয়ার সুযোগটা কাজে আসে আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয় বার ঘেষে প্রবেশ করা বলে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুযোগ তৈরি করেছিল সুইজারল্যান্ড। এম্বোলো ডান দিক থেকে একটি থ্রু বল পেয়ে গোলের দিকে ছুটে যান। তিনি বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে বলটি বাড়িয়ে দেন। এনদোয়ে দ্রুত গোলে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লক করে তাকে আটকে দেন। তবে গোল হলেও সেটি হতো না। কারণ এর আগেই লাইন্সম্যান এম্বোলোর অফসাইডের কারণে পতাকা তুলেছিলেন।

সুইজারল্যান্ড আবার আক্রমণে ওঠে। বাঁ দিক থেকে বল ভেসে আসে বক্সের ভেতরে। এনদোয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে হেড করেন। কিন্তু মার্টিনেজ ডান দিকে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি আটকে দেন।

সুইস মিডফিল্ডার বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে এক জোরালো শট নেন। বলটি মার্টিনেজের সামনে এসে অদ্ভুতভাবে ড্রপ খেলেও তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে সেই গতিময় শটটি রুখে দেন।

লাল কার্ড পাওয়ার ঠিক আগে এনদোয়ে বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার এক ওয়ান-টু পাস খেলেন। ফিরতি পাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনদোয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন। কোণাকুনি শটে বলটি দূরের পোস্টে গিয়ে জড়ায়। সুইজারল্যান্ড দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে।

৬৭ মিনিটে গোল করে সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতা ফেরায়। ৫ মিনিট পর তারা ১০ জনের দলে পরিণত হলো। ৭২ মিনিটে তাদের ফরোয়ার্ড এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন। ৬৯ মিনিটে রেফারি প্রাথমিকভাবে এম্বোলোকে ফাউল করার কারণে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিএআরে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শ হয়নি। ফাউলের অভিনয় করার কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন সুইস ফরোয়ার্ড। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এম্বোলোকে।

জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজ একটি ক্রস রুখে দিয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে স্লাইড করেন। গোলমুখের সামনে বল উড়ে যায়। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পান মেসি। ডানদিকে কাট করে তিনি দূরের পোস্ট দিয়ে শট নেন। কিন্তু বিপজ্জনকভাবে বল বাঁক খেয়ে পোস্টের পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে জটলার ভেতরে বল পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অ্যাক্রোবেটিক কিক কোবেল সহজেই আটকে দেন।

বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা লিড নিলেও শেষ অর্ধে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। তারা শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনাকে আর এগিয়ে যেতে দেয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে স্কোর ১-১। তাতে অতিরিক্ত আরও ৩০ মিনিট খেলা হবে।

৯৩ মিনিটে আলভারেজের সঙ্গে ওয়ান টু পাসে বক্সের মধ্যে বল পান আলমাদা। বাঁ দিক থেকে নেওয়া তার শট কোবেল রুখে দেন। দুই মিনিট পর আবারও আলমাদার দুর্দান্ত একটি শট। বক্সের বাইরে থেকে তার শক্তিশালী শট কোবেলকে পরাস্ত করলেও সাইডনেটে লাগে।

দুই মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রুলারকে টেনে ধরে বুকড হন আলমাদা। পরের মিনিটে আকাঞ্জিকে ফাউল করে শাস্তি পান লাউতারো। সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 9:47 am
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাবেক স্পিকার। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম নেতা এবং দীর্ঘদিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আলী বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন এবং ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তার নিরপেক্ষতা, সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজ জন্মভূমি পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তার দুই ছেলেই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যারিস্টার হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আইন চর্চা করছেন।

বাংলাদেশের আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে সেমিতে ইংল্যান্ড, নিষ্প্রভ হালান্ডের বিদায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 9:17 am
বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে সেমিতে ইংল্যান্ড, নিষ্প্রভ হালান্ডের বিদায়

ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে। ম্যাচটিতে এক গোল করা আর্লিং হালান্ড আজ (রোববার) কোয়ার্টারে একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন। উল্টো তার অপ্রয়োজনীয় এক ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয় নরওয়ের। বিপরীতে জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ২-১ গোলে জিতে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠেছে।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ইংলিশরা নরওয়েকে চেপে ধরলেও, প্রথমে গোলের খাতা খোলে হালান্ডের দল। তবে তাদের লিড টিকেছে কেবল ১১ মিনিট। বিরতির আগমুহূর্তে ইংলিশরা সমতায় ফেরার পর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও স্কোরলাইন ১-১ অক্ষুণ্ন ছিল। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ৯৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য বল দখলে বেশ পিছিয়েই ছিল নরওয়ে। তবে বিরতির পর তার ধীরে ধীরে পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৫২ শতাংশ পজেশন রেখে ১৩টি শট নেয় প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে ওঠা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। বিপরীতে ১৪ শটের ৮টিই লক্ষ্যে ছিল ইংলিশদের।

রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ তারকা বেলিংহ্যাম এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ছয় গোল নিয়ে জাতীয় দল সতীর্থ হ্যারি কেইনের সঙ্গে যৌথভাবে তিনে অবস্থান করছেন। আসরের সেরা গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে (৮) এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (৮)। আর সাত গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। এর আগে শেষ ষোলোতে সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে হারানোর ম্যাচেও বেলিংহ্যাম জোড়া গোল করেছিলেন।

ম্যাচে নরওয়ের হয়ে ৩৬তম মিনিটে গোল করেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন এবং ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা চলতি সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকলেও বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আজ কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনকে।

এর আগে ৫৬তম মিনিটে নরওয়ে প্রায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল। কর্নার থেকে আসা বলে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের প্রতিহত করা বল ফিরতি শটে জালে জড়ান টরবিয়র্ন হেগেম। তবে ভিডিও রিভিউ শেষে বক্সের ভেতরে হালান্ডের ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। তিনি অপ্রয়োজনেই ধাক্কা মেরে ফেলে দেন ইলিয়ট অ্যান্ডারসনকে। প্রথমার্ধেও পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক হেডে হালান্ডকে অনায়াসী সেভে গোলবঞ্চিত করেন পিকফোর্ড।

টুর্নামেন্টে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া শেলদেরুপের শট ডান দিকের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ততক্ষণ পর্যন্ত বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করছিল ইংল্যান্ড। বিরতির আগমুহূর্তে ইনজুরি সময়ে কয়েকজনকে কাটিয়ে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে সমতাসূচক গোল করেছেন বেলিংহ্যাম। বেলিংহামের সমতাসূচক গোলের ঠিক আগে নরওয়ের একটি গোল কিক থেকে আসা বলটি মাঠে পড়ার আগে আকাশে ঝুলন্ত ক্যামেরার তারে স্পর্শ করেছে বলে মনে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বলটি তারে লেগেছে বলে শনাক্ত হলে খেলা থামিয়ে ড্রপ বলের মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করে বলের দখল নির্ধারণ করা হতো।

৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে বেলিংহ্যাম দলের এবং ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন। মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড সহজেই ধরে ফেলবেন বলেই মনে হচ্ছিল । কিন্তু বলটি বেরিয়ে যায় তার হাত ফসকে। সেখানেই প্রতিপক্ষের সুযোগের অপেক্ষায় থাকা বেলিংহ্যাম ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গিয়ে ফিরতি বলে পা ছুঁয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। শেষদিকে নরওয়ে মরিয়া হয়ে উঠলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।