খুঁজুন
, ,

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা; নিরুপায় পুলিশ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2020, 10:07 pm
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা; নিরুপায় পুলিশ প্রশাসন

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : মিরসরাই উপকূলীয় সাহেরখালী ইউনিয়নের বেড়িবাধ সংলগ্ন দোকানগুলোতে চুরি ঘটনা যেন নিত্য কর্ম পাতি নেতাদের। এমন কোন দিন নেই যে তারা এসব দোকানে চুরি করেনা। সাগর উপকূলীয় এলাকা হওয়ার কারণে চুরি করে নিরাপদে বন জঙ্গলে গা-ঢাকা দেয় সহজেই।

সরজমিনে গিয়ে কথা হয় বেড়িবাধ এলাকায় বেশ কয়েকজন দোকানির সাথে। তাদের মধ্যে একজন সেলিম সওদাগর, তিনি একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।

তিনি জানান, গত জুন মাসের প্রথমদিকে রাতের বেলা তার দোকানটি চুরি হয়ে যায়। চোরের দল তার দোকানের সৌর-বিদ্যুতের ব্যাটারি, সিগারেট, কোলড্রিংস ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রি মিলে প্রায় ১৬ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

বিষয়টি স্থানিয় চেয়্যারম্যান কামরুল ইসলামকে জানানোর জন্য ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ওয়ার্ড মেম্বার জয়নাল আবেদিন দুলালকে অবহতি করলে মেম্বার বলেন রাতের বেলা দোকান পাহারাদিয়ে চোরদের হাতে নাতে ধরতে পারলে বিচার করা হবে।

এই দোকানি অভিযোগ করে জানান, এসব কারা করে মেম্বার-চেয়ারম্যান ভালো করেই জানেন, তাদের কাছে এদের ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ সকলেই অভিযোগ করেছেন। আমরা নাম জানলেও বলতে পারিনা, কারন এর আগেও নাম বলার কারনে কয়েক জনকে হুমকি-ধমকি দিয়েছে এসব পাতি নেতারা।

সাহেরখালী বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা শহীদ মিয়া জানান, বিট অফিসের ২টি ব্যাটারি চুরি হয়েগেলেও মুখ খোলার সাহস হচ্ছে না। জানাজানি হলে থানায় জিড়ি করতে হবে, আসামী ধরার জন্য চাপ আসবে, ঝামেলা আরো বাড়বে। এখানে গত দুই বছর আছি আমি, দরজা খোলা রেখে ঘুমাতাম কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। গত দুই তিন মাস খুবই খারাপ অবস্থা, ৭ থেকে ৮টা দোকানে চুরি হয়েছে একের পর এক, ছাগল চুরি হয়েছে গরু জবাই করে গোস্ত নিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজনরাই কোন প্রকার প্রতিবাদ প্রতিরোধ করছে না। আমরা মাত্র দুইজন লোক থাকি বহিরাগত, আমরা মুখ খুললে দেখা যাবে রাতের বেলা হামলা করবে। তাই ঝামেলায় না গিয়ে নিজের পকেট থেকে জরিমানা দিয়ে ব্যাটারি কিনে দেব, তবু ঝামেলায় যাবো না।

অন্য একজন ব্যাবসায়ি জয়নাল আবেদিন জানান, তার দোকান থেকে সৌর-বিদ্যুতের একটি ব্যাটারি, সিগারেট, কোমল পানিয়, চিপস, বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও ক্যাশ থেকে নগদ টাকা সহ প্রায় ৩০ হজার টাকার মালামাল চুরি হয়ে যায়। তিনি উপজেলা রেডক্রিসেন্ট এর ২নং টিম লিড়ার ও স্থানিয় আওয়ামিলীগ সদস্য। চুরির অভিযোগ করলে সরকারের সম্মান নষ্ট হবে, এলাকার ছেলেরা করছে ,নিজের ও দলের জন্য এটি একটি লজ্জার বিষয়। তাই থানায় অভিযোগ করতে গিয়েও ফিরে এসেছেন মাঝ পথ থেকে।তবে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কে চুরির বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

তিনি জানান, কারা এসব করে ওয়ার্ড মেম্বার তাদের সম্পর্কে অবগত আছেন ভূক্তভোগি ও ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই মেম্বারকে অভিযোগ করে জানিয়েছেন।

নাজিম সওদাগর বলেন, রোজার শেষ সপ্তাহ তারাবির নামাজ পড়তে গেলে দোকানের তালা ভেঙ্গে তার দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা সহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। এই ব্যাপারে স্থানিয় মেম্বারকে জানানো হয়েছে তবে এখনো কোন সুরাহ হয়নি। অভিযুক্তদের ডাকাও হয়নি।

এমন আবস্থায় উপকূলিয় এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় কাজ করছে। কোন দিন কার দোকানে চুরি হয়, কার উপর হামলা নির্যাতন হয় এই ভয়ে।(চলবে)

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।