স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা; নিরুপায় পুলিশ প্রশাসন
আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : মিরসরাই উপকূলীয় সাহেরখালী ইউনিয়নের বেড়িবাধ সংলগ্ন দোকানগুলোতে চুরি ঘটনা যেন নিত্য কর্ম পাতি নেতাদের। এমন কোন দিন নেই যে তারা এসব দোকানে চুরি করেনা। সাগর উপকূলীয় এলাকা হওয়ার কারণে চুরি করে নিরাপদে বন জঙ্গলে গা-ঢাকা দেয় সহজেই।
সরজমিনে গিয়ে কথা হয় বেড়িবাধ এলাকায় বেশ কয়েকজন দোকানির সাথে। তাদের মধ্যে একজন সেলিম সওদাগর, তিনি একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।
তিনি জানান, গত জুন মাসের প্রথমদিকে রাতের বেলা তার দোকানটি চুরি হয়ে যায়। চোরের দল তার দোকানের সৌর-বিদ্যুতের ব্যাটারি, সিগারেট, কোলড্রিংস ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রি মিলে প্রায় ১৬ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
বিষয়টি স্থানিয় চেয়্যারম্যান কামরুল ইসলামকে জানানোর জন্য ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ওয়ার্ড মেম্বার জয়নাল আবেদিন দুলালকে অবহতি করলে মেম্বার বলেন রাতের বেলা দোকান পাহারাদিয়ে চোরদের হাতে নাতে ধরতে পারলে বিচার করা হবে।
এই দোকানি অভিযোগ করে জানান, এসব কারা করে মেম্বার-চেয়ারম্যান ভালো করেই জানেন, তাদের কাছে এদের ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ সকলেই অভিযোগ করেছেন। আমরা নাম জানলেও বলতে পারিনা, কারন এর আগেও নাম বলার কারনে কয়েক জনকে হুমকি-ধমকি দিয়েছে এসব পাতি নেতারা।
সাহেরখালী বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা শহীদ মিয়া জানান, বিট অফিসের ২টি ব্যাটারি চুরি হয়েগেলেও মুখ খোলার সাহস হচ্ছে না। জানাজানি হলে থানায় জিড়ি করতে হবে, আসামী ধরার জন্য চাপ আসবে, ঝামেলা আরো বাড়বে। এখানে গত দুই বছর আছি আমি, দরজা খোলা রেখে ঘুমাতাম কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। গত দুই তিন মাস খুবই খারাপ অবস্থা, ৭ থেকে ৮টা দোকানে চুরি হয়েছে একের পর এক, ছাগল চুরি হয়েছে গরু জবাই করে গোস্ত নিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজনরাই কোন প্রকার প্রতিবাদ প্রতিরোধ করছে না। আমরা মাত্র দুইজন লোক থাকি বহিরাগত, আমরা মুখ খুললে দেখা যাবে রাতের বেলা হামলা করবে। তাই ঝামেলায় না গিয়ে নিজের পকেট থেকে জরিমানা দিয়ে ব্যাটারি কিনে দেব, তবু ঝামেলায় যাবো না।
অন্য একজন ব্যাবসায়ি জয়নাল আবেদিন জানান, তার দোকান থেকে সৌর-বিদ্যুতের একটি ব্যাটারি, সিগারেট, কোমল পানিয়, চিপস, বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও ক্যাশ থেকে নগদ টাকা সহ প্রায় ৩০ হজার টাকার মালামাল চুরি হয়ে যায়। তিনি উপজেলা রেডক্রিসেন্ট এর ২নং টিম লিড়ার ও স্থানিয় আওয়ামিলীগ সদস্য। চুরির অভিযোগ করলে সরকারের সম্মান নষ্ট হবে, এলাকার ছেলেরা করছে ,নিজের ও দলের জন্য এটি একটি লজ্জার বিষয়। তাই থানায় অভিযোগ করতে গিয়েও ফিরে এসেছেন মাঝ পথ থেকে।তবে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কে চুরির বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
তিনি জানান, কারা এসব করে ওয়ার্ড মেম্বার তাদের সম্পর্কে অবগত আছেন ভূক্তভোগি ও ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই মেম্বারকে অভিযোগ করে জানিয়েছেন।
নাজিম সওদাগর বলেন, রোজার শেষ সপ্তাহ তারাবির নামাজ পড়তে গেলে দোকানের তালা ভেঙ্গে তার দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা সহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। এই ব্যাপারে স্থানিয় মেম্বারকে জানানো হয়েছে তবে এখনো কোন সুরাহ হয়নি। অভিযুক্তদের ডাকাও হয়নি।
এমন আবস্থায় উপকূলিয় এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় কাজ করছে। কোন দিন কার দোকানে চুরি হয়, কার উপর হামলা নির্যাতন হয় এই ভয়ে।(চলবে)
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন