খুঁজুন
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্লোবের ভ্যাকসিন আবিষ্কার, অভিনন্দন বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
গ্লোবের ভ্যাকসিন আবিষ্কার, অভিনন্দন বাংলাদেশ

অ আ আবীর আকাশ : বিশ্বে মহামারী করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বাংলাদেশ অংশিদার হতে চলেছে, এই গর্বে আমরা বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে সত্যিই গর্বিত, আনন্দিত ও উৎপল্ল। পৃথিবী যেখানে ক্রমান্বয়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সংক্রমিত হয়ে নতজানু করছে, ক্রমশ লীন হতে চলেছে জনসংখ্যার আত্মহুতির মধ্য দিয়ে সেখানে নিভু নিভু হলেও খানিকটা আশা জাগিয়েছে আমাদের বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিটিউক্যাল লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক। গ্লোব বায়োটিক ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা মহামারী করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার সামর্থ্যবান হয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রাণীর শরীরে তা প্রয়োগ করে সাফল্য পেয়েছেন বলেও গ্লোব বায়োটেক বিজ্ঞানী শাহেদ জানিয়েছেন।

মহান আল্লাহ পাকের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি যে, এরকম একটি দুর্যোগকালীন সময়ে, প্রাকৃতিক মহামারীতে এত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হবে, তাও আবার বাংলাদেশের মতো এমন একটি দেশে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে দ্রুত সাফল্যের দরজায় পৌঁছে দিক। গ্লোব বায়োটেক যেন শীঘ্রই সফলতার সাথে ভ্যাকসিন বাজার নিয়ে আসতে পারে আমরা সে কামনা করি।

গ্লোব বায়োটেক সরকারের সুদৃষ্টি চেয়েছেন যেন সরকার করোনাভাইরাস এর সঠিক একটা গাইডলাইন তৈরি করে দেয়। সরকার যদি সত্যিকারভাবে সুদৃষ্টি প্রয়োগ করে তাহলে এরকম একটি গাইডলাইন তৈরি করা ব্যাপার নয়। গ্লোব বায়োটেক সফলতার সাথে ভ্যাকসিন বাজারে আসতে সরকারকে অবশ্যই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। পিছনের লোকের কথায় কর্ণপাত না করে এগিয়ে যেতে হবে কাঙ্খিত সাফল্যের গতিপথে, যেখানে অপেক্ষা করছে সফলতা, মহাবিজয়।

আজকের পৃথিবী বলতে গেলে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব জায়গা মানুষের পদচারণায় মুখর ছিলো, সেগুলো দেখলে এখন ভূতুড়ে মনে হয়। প্রতিদিনের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা, স্কুল বন্ধ, ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা, গণ-জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ – এসব কারণে এ পরিস্থিতি গুমোট তৈরি হয়েছে।

একটি রোগ ঠেকানোর ক্ষেত্রে পুরো বিশ্ব যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সেটি নজিরবিহীন। তবুও আশার কথা হচ্ছে প্রাণীর শরীরে পরীক্ষার পর দেখা গেছে, এই টিকার ইনজেকশন তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি এবং হোয়াইট ব্লাড সেল বা শ্বেতকণিকা তৈরি করে, যা শরীরের ভেতর করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

বিজ্ঞানিরা জানিয়েছেন তিনমাসের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে, কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরি শেষ হতে অনেক সময় বাকি। সম্ভবত কয়েকবছর পর্যন্ত লাগতে পারে। কিন্তু এর শেষ কোথায়? মানুষ কবে নাগাদ তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে পারবে? আসলেই কি পূণরায় জীবনের কোলাহলময় ছন্দে ফিরতে পারবে?

তবে গ্লোব বায়োটেক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন -সব ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বর মাসে তাদের ভ্যাকসিন বাজারজাত করবে। আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে অপেক্ষায় রইলাম।
বর্তমান দূর্যোগে একে একটি বড় রকমের প্রতিশ্রুতিশীল আবিষ্কার হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। তবে এটি পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারবে কি-না, তা বলার সময় এখনও আসেনি। এ নিয়ে ব্যাপক আকারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও চলছে।

* ভ্যাকসিন বা টিকা কীভাবে কাজ করে?

ChAdOx1 nCoV-19 নামের এই টিকাটি তৈরি করতে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে কাজ চলছে।

বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা শিম্পাঞ্জির শরীরের সাধারণ সর্দিকাশি তৈরি করে, এমন একটি ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন করে এই টিকাটি তৈরি করা করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এটাকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে এটা মানব শরীরে সংক্রমণ তৈরি না করে। এটাকে করোনাভাইরাসের কাছাকাছি একটা সাদৃশ্যও দেয়া হয়েছে।সব কিছু ঠিকঠাকভাবে যাচাই করার পর শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন৷ সেখানেও পেরুতে হবে নানা ধাপ৷ তাই আগেভাগে করোনা ভাইরাসের টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা নিয়ে মত না দিতে বলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা৷

যে টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে, তার ভেতরে করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের জিনগত বৈশিষ্ট্য ঢুকিয়ে (যে অংশটি আমাদের কোষকে আক্রমণ করে) দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এর মানে হলো, টিকাটি করোনাভাইরাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তখন শরীরের ভেতর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বুঝতে পারে যে, কীভাবে করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে পরাস্ত করা যাবে।

* অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল কী?

কোভিড-১৯, করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে বেশিরভাগ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে অ্যান্টিবডির দিকে, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি অংশ মাত্র।অ্যান্টিবডি হচ্ছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার তৈরি করা ছোট আকারের প্রোটিন, যা ভাইরাসের সঙ্গে সেটে গিয়ে সেটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসকে অকার্যকর করে দিতে পারে। টি-সেল, রক্তের সাদা একটি অংশ আক্রান্ত কোষগুলোকে খুঁজে বের করতে আর ধ্বংস করতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সাহায্য করে।

প্রায় সব কার্যকর টিকা অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলার মাধ্যমে কাজ করে।
টিকা দেয়ার ১৪ দিন পরে টি-সেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় আর অ্যান্টিবডির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় ২৮দিনের মধ্যে। তবে দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যাপারটি কেমন হতে পারে, সেটি এখনো যাচাই করে দেখতে পারেননি গবেষকরা।

* কি ধরনের নিরাপদ এটি?

এটা নিরাপদ, তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে।
যদিও সেগুলো খুব বিপদজনক কিছু নয়।ইতোমধ্যে বহির্বিশ্বে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৭০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে, টিকা নেয়ার পর তাদের জ্বর অথবা মাথাব্যথা হয়েছিল। গবেষকরা বলছেন, প্যারাসিটামল খেয়ে এটা সামলানো যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট বলেছেন, ” কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় আমাদের টিকা কাজ করবে, সেটা বলার আগে আমাদের আরও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া ফলাফল বেশ আশা যোগাচ্ছে।”

* পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে কি হবে?

এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল যদিও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক, কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য হলো সব মানুষকে দেয়ার জন্য নিরাপদ কিনা, সেটা নিশ্চিত করা। গবেষণায় এটা জানা যায়নি যে, এটা মানুষজনকে অসুস্থতা থেকে রক্ষা করবে নাকি তাদের কোভিড-১৯ উপসর্গ কমিয়ে দেবে।

পরবর্তী ধাপের পরীক্ষায় যুক্তরাজ্য জুড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেবে। তবে এই পরীক্ষাটি অন্যান্য দেশেও করা হবে। দেখা যাক ফল কি আসে। করোনা ভাইরাস গণহারে যেনো সংক্রামন ছড়িয়ে না পড়ে সেইজন্য কিছু নিয়মনীতি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
“এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কৌশল কী হবে এবং সেখান থেকে আমরা কিভাবে বের হয়ে আসবো -এনিয়ে নিয়ে বড় সমস্যা আছে,” বলছিলেন এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিষয়ক অধ্যাপক মার্ক উলহাউজ। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে পৃথিবীর কোন দেশেরই কৌশল নেই। এই কৌশল ঠিক করা বড় ধরণের বৈজ্ঞানিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এর তিনটি উপায় আছে।

১. টিকা দেয়া
২. বহু মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ফলে তাদের মধ্যে এনিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে
৩. অথবা স্থায়ীভাবে মানুষ এবং সমাজের আচার-আচরণে পরিবর্তন নিয়ে আসা

টিকা আসতে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৮ মাস। এই টিকা গ্রহণ করলে করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে আসলেও তারা অসুস্থ হবে না। যত বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া যাবে ততই ভালো। যদি মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশকে টিকা দেয়া হয়, তাহলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে না।
বাংলাদেশকে আশার কথা বিজ্ঞানী শাহেদ জানিয়েছেন ডিসেম্বর মাসে।

ইতোমধ্যে তিনটি খরগোশের দেহে পরীক্ষামূলক-ভাবে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হয়েছে। যে কোন টিকা আবিষ্কার করলে সেটি প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার করা হয় যে কোন প্রাণির উপর।

করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের জন্য বেশ দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। কিন্তু এটি সফল হবে কিনা কিংবা বিশ্বজুড়ে এই টিকা দেয়া যাবে কি না – সে নিশ্চয়তা নেই।তবে প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে আমাদের জোর লক্ষ্য রাখতে হবে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে কাশি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলার জন্য জন্য ব্রিটেন যে কৌশল নিয়েছে সেটি হচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা, যাতে হাসপাতালগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ না হয়ে যায়। হাসপাতালগুলো রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলে আইসিইউতে জায়গা পাওয়া যাবে না। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

ব্রিটেনের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা স্যার প্যাট্রিক ভ্যালান্সি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কখন কোন পর্যায়ে যাবে সেটি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া সম্ভব নয়। লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক নিল ফার্গুসন বলেন, “আমরা সংক্রমণের মাত্রা কমিয়ে রাখার কথা বলছি যাতে করে দেশের একটি কম সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়।”

” আমরা যদি দুই বছরের বেশি সময় যাবত এটা করতে পারি তাহলে দেশের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে আক্রান্ত হবে। এর ফলে স্বাভাবিক নিয়মে রোগ প্রতিরোধ গড়ে উঠবে।”

কিন্তু এ কৌশলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতদিন টিকবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে করোনাভাইরাসের অন্যান্য ধরণের যেসব সংক্রমণ হয়েছে সেসব ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুব ভালো কাজ করেনি। অনেক মানুষ তাদের জীবনে বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছে।

* বিকল্প কী?

অধ্যাপক উলহাউজ বলেন, তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে আমাদের আচার-আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন নিয়ে আসা যার ফলে সংক্রমণের মাত্রা বেশি না হয়। বর্তমানে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার মধ্যে কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন: কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি জোরদার করা।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর ঔষধ আবিষ্কার করা সম্ভব হলে সেটি অন্য কৌশলগুলো বাস্তবায়নের জন্যও সাহায্য করবে। মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ দেখা দেয়ার সময় ঔষধ প্রয়োগ করলে তাহলে সেটি অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে যাবার বিষয়টি বন্ধ করতে পারে।

অথবা হাসপাতালে চিকিৎসা দেবার মাধ্যমে এই রোগের মাত্রা কমিয়ে আনা যাতে আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের উপর চাপ কমে। এটি করা সম্ভব হলে সবকিছু বন্ধ করে দেয়া বা লকডাউনের আগে দেশগুলো বেশি রোগী সামাল দিতে পারবে।

এছাড়া হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে বেশি শয্যার ব্যবস্থা করে অধিক সংখ্যক রোগী সেবা দেয়া সম্ভব। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য এটিও একটি উপায়। তিনি বলেন, ” টিকা দেয়াটাই হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান। আমরা আশা করছি এটা যত দ্রুত সম্ভব হবে।”

বিশ্বে শতাধিক দেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিস্কারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাঘা বাঘা দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশও যে এরকম একটা সাহস দেখিয়েছে তার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। অভিনন্দন গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যাল, অভিনন্দন গ্লোব বায়োটেক, অভিনন্দন বাংলাদেশ।

লেখক: কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সম্পাদক: আবীর আকাশ জার্নাল

Feb2

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’

অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ ও খুলশী থানা এলাকায় জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম, র‍্যাব-০৭, সিএমপি এবং বিভাগীয় কার্যালয়, বিএসটিআই এর সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) উক্ত যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শাকিব শাহরিয়ার।

উক্ত অভিযানে আমানত প্যাকেজিং এন্ড মার্কেটিং, গুলবাগ আবাসিক এলাকা, বায়েজীদ, চট্টগ্রাম নামক একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিএসটিআই হতে সিএম সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল পণ্য বোতলজাতকরণ এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারপূর্বক বাজারজাতকরণের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ প্রায় ১০৪২ লিটার ভোজ্যতেল, আনুমানিক ১০,০০০ পিস পণ্যের মোড়ক এবং বেশ কিছু খালি বোতল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানার জিম্মায় দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে খুলশী থানা, চট্টগ্রাম এলাকায় ২টি প্রতিষ্ঠানে খাদ্যপণ্য মজুতের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে প্রায় ৫০ ড্রাম (প্রতি ড্রাম ২০০ লিটার) ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রামজাত ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুতের অভিযোগে ২টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মোট ৬০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২৬৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬,৭৭,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৫,৮২৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।