খুঁজুন
, ,

নগরী অন্ধকারে ডুবে থাকে না এটাই আমার বড় অর্জন : মেয়র নাছির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2020, 10:18 pm
নগরী অন্ধকারে ডুবে থাকে না এটাই আমার বড় অর্জন : মেয়র নাছির

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বরেছেন, নগরবাসী প্রদত্ত রায়ে মেয়র পদে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সকলের সমন্বিত উদ্যোগে নাগরিক প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করেছি। আমাকে নগরবাসী ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে আমার দেয়া অঙ্গীকার ও নাগরিক প্রত্যাশা পূরণে আমি সচেষ্ট থেকেছি। নাগরিক সেবাবৃদ্ধিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নাগরিক প্রত্যাশা পূরণের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি। এই নগরী অন্ধকারে ডুবে থাকে না এটাই আমার বড় অর্জন।

মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারগণের প্রায় ১৮১ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ প্রায় ৩শ কোটি টাকার দায়-দেনার ভার কাঁধে নিয়ে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ধীরে ধীরে এই সংকট কাটিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে স্বাবলম্বী করেছি। আমি বিশ্বাস করি স্বদিচ্ছা থাকলে কঠিনকে জয় করা কোনো কঠিন কাজ নয়।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনায়ন ও অনিয়ম দূর করার শতভাগ সফল হওয়ার লক্ষ্যেই আমি কাজ করেছি। কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বছরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা ভূর্তুকি দেয়াসহ এ দু’টি বিভাগকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়ন, আলোকায়নের সাথে সাথে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের পরিকল্পিত উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি।

নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরীর স্বার্থে রাতে আবর্জনা অপসারণ, নগরীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়কে দৃষ্টিনন্দন ও সবুজায়ন এবং বিলবোর্ডমুক্ত নগরী উপহার দিয়েছি।

মেয়র আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান চলমান সংকট করোনার কারণে সারা দেশের মত নগরীর উন্নয়নকাজে ধীরগতি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে নান্দনিক, গ্রীন ও ক্লিন সিটিতে উন্নীত করণের যে প্রয়াস আমি হাতে নিয়েছি তা পরবর্তী নেতৃত্ব অব্যাহত রাখবে।

আজ সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চসিক পুরাতন নগরভবনের কেবি আবদুচ ছাত্তার মিলনায়তনে চসিক বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে সমন্বয় সভায় মেয়র এসব কথা বলেন।

এসময় মেয়র করোনাকালীন দু:সময়ে চসিকের বিদ্যুৎ কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় আলোকায়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের দুরদর্শী কর্মক্ষমতায় এহেন সংকটকালীন সময়েও চসিকের সড়ক বাতি সচল ছিল। বর্তমানে ভারী বর্ষায়ও জনগণ স্বাচ্ছন্দে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারছে। প্রধান প্রধান সড়ক ও অলি-গলিতে আলোকায়ন এখন চসিকের অন্যতম সেবা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীতেও এমন কর্মদক্ষতা অব্যাহত রাখার জন্য মেয়র তাদের প্রতি আহবান জানান।

বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত কর্মচারীদের হাতে চসিকের পরিচয় পত্র ও মুখে পরার মাস্ক তুলে দিয়ে সিটি মেয়র বলেন, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে চসিকের বিদ্যুৎ লাইন হতে অসাধু একটি চক্র অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে এর অপব্যবহার করছে। এই বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সতর্ক থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। চসিকের বিদ্যুৎকর্মীরা যাতে কোন ধরনের সমস্যায় না পরে সেজন্য চসিক প্রদত্ত পরিচয়পত্র সার্বক্ষণিক সাথে রাখার নির্দেশনাও দেন সিটি মেয়র।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯৪ সালের আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ১৮টি ওয়ার্ড এলাকায় সড়ক বাতির ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তীতে ৪১টি ওয়ার্ড এলাকায় আলো সেবা প্রদান কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারিত হয়। যার সংখ্যা বর্তমানে সোডিয়াম ও এলইডি বাতিসহ ৫১ হাজার ৫ শত ৭৩টি।

সমন্বয় সভায় মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কান্তি দাশ, সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল বারী, আনোয়ারুল হক চৌধুরী,সালমা বেগম, সিবিএ’র জাহেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।

আল মানাহিল নার্চার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে সিটি মেয়র

নগরীর হালিশহরস্থ আল মানাহিল নার্চার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন,করোনাকালে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারী সামাজিক উদ্যোগ প্রকৃত অর্থেই নি:স্বার্থ মানবিক সেবামূলক প্রয়াস। আলমানাহিল নাচার জেনারেল হাসপাতাল করোনা আক্রান্তদের জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট যে চিকিৎসা কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তা সংকট উত্তরণের পাথেয় থাকবে। এই হাসপাতালটিতে ১২টি আইসিইউসহ রয়েছে ফ্রি অক্সিজেন সার্পোট ব্যবস্থা। এ হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

এসময় কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবুল হাশেম, মোহাম্মদ হোসেন হিরন, আল মানহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর চেয়াম্যান হেলাল উদ্দিন জমির উদ্দিন, ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ উদ্দিন জমির উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ শিহাব উদ্দিন জমির উদ্দিন, হাসপাতালের পরিচালক এ ইউ এম সেলিম উল্লাহ, প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ ও পরিচালক শরীফ উদ্দিন জমির উদ্দিন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

কমল মহাজন হাট অস্থায়ী পশুর বাজার পরিদর্শন ঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন পতেঙ্গায় কমল মহাজন হাট অস্থায়ী পশুর বাজার পরিদর্শনকালে বলেন, এবার ঈদ-উল আযহার কেরবানীর পশু বাজারে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচা-কেনার পর্বটি সম্পাদন করতে হবে। কারণ পরিস্থিতি বুঝে আমাদেরকে সঠিকভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে অযথা সময় ক্ষেপন না করে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

এসময় মেয়র বাজার ইজারাদার ও পশু বিক্রেতাদের নিরাপদ দূরত্ব বজিয়ে রেখে পশু বেচা কেনার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নির্দ্দিষ্ট সীমার বাইরে যাতে কোন প্রকার পশু বেচা-কেনা না হয়। এর ব্যত্যয় ঘটলে সিটি কর্পোরেশন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় নামবেন।

তিনি প্রধান সড়ক হতে কমপক্ষে ১শ গজ দূরত্বে পশু বাজার পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

বাজার পরিদর্শনকালে কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন, চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম ও বাজার ইজারাদারগণ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।