খুঁজুন
, ,

নাটকীয় জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পিএসজি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2020, 9:18 am
নাটকীয় জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পিএসজি

এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের যাত্রার সমাপ্তি প্রায় দেখে ফেলেছিল পিএসজি। রেফারির ঘড়ির কাঁটা তখন ৯০ ছুঁই ছুঁই, তখনও আটালান্টার বিপক্ষে ১-০’তে পিছিয়ে পিএসজি। ৯০তম মিনিটে মার্কুইনোস এক গোল দিয়ে সমতায় ফেরালেন দলকে। তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে ম্যাচ। কিন্তু নাটকীয়তার শেষ তখনই নয়। শেষ মুহুর্তের জন্য তোলা ছিল নেইমার-এমবাপেদের কাছে। এরিক চুপো মোটিং ৯৩ মিনিটে আরেকবার আটালান্টার জালে বল জড়ালেন। আর তাতেই হৃদয় ভাঙল আটালান্টার। এবং সেই সঙ্গে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠে গেল পিএসজি।

ইউরো ক্লাব ইন্ডেক্স বলছিল কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচে জয়ের সম্ভবনা দুই দলেরই প্রবল। একছত্র আধিপত্য দেখাতে পারবেনা কোনো দলই। দুই দলের মধ্যে ৪৭ দশমিক ০৩ শতাংশ জয়ের সম্ভবনা আটালান্টার আর ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ জয়ের সম্ভবনা পিএসজির। লিসবনে দেখা মিললো সেটাই। ধারাভাষ্যকরের ভাষায় ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ এট ইটস বেস্ট।’ ইতালির ইতিহাস গড়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে এসে কোয়ার্টার ফাইনালে আটালান্টা। আর পিএসজির সঙ্গে ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই। শেষ মুহুর্তে মার্কুইনেসের গোলে সমতায় আর চুপো মোটিংয়ের গোলে জয় নিশ্চিত।

খাতা কলমে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও ছেড়ে কথা বলেনি আটালান্টাও। পৃথিবীর সবচেয়ে রক্ষণাত্মক লিগে খেলেও মুড়ি মুড়কির মতো গোল করা আটালান্টা রুপকথা গড়েই ফেলেছিল। তবে শেষ মুহুর্তের দুই গোলে হাতছাড়া সেমি। ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এরপর তিন মিনিটের নাটকীয়তা! আর পিএসজির জয়।

লিসবনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা ছিল প্রবল। তবে জয়ের বাজি প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর পক্ষেই ছিল। কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার দল নয় আটালান্টাও। দুর্দান্ত ফুটবল খেলে বিশ্বের নজর কাড়া আটালান্টার আক্রমণভাগের ওপর নজর ছিল তাই সকলের। আর তা ম্যাচ জুড়ে দেখিয়েছেও। পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচের ২৭ মিনিটে মারিও পাসালিচের দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় আটালান্টা। ডুভান জাপাতার অ্যাসিস্ট থেকে গোল আসে আটালান্টার। আর এভাবেই শেষ হয় প্রথামার্ধ।

তবে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পরেই যেন মরিয়া হয়ে ওঠে পিএসজি। একের পর এক আক্রমণ ছিন্ন ভিন্ন করতে শুরু করে আটালান্টার রক্ষণ। তবে কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিল না। ক্রিকেটের ভাষায় ‘ঠিক ব্যাটে বলে যেন মিলছিল না।’ আর তাই তো অপেক্ষা বাড়তে থাকলো আর আটালান্টা স্বপ্ন বুনতে থাকল। ইনজুরিতে পড়ে আটালান্টার বিপক্ষে ম্যাচে খেলা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে শেষ মুহুর্তে দলের সঙ্গে থাকলেও প্রথমার্ধে ছিলেন না মাঠে। আর তার অনুপস্থিতি হাড়ে হাড়ে টেরও পেয়েছে পিএসজি। এমবাপে আর ডি মারিয়ার অনুপস্থিতিতে চাপটা যেন বেশিই ছিল নেইমারের কাঁধে।

চাপের মুহুর্তে দলকে ঠিকই কক্ষপথে রেখেছিলেন নেইমার। তবে বাজে ফিনিশিংয়ের কারণে প্রথমার্ধে আর সমতায় ফিরতে পারেনি পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করে আটালান্টা আর তাতেই টুঁটি চেপে ধরে নেইমাররা। আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে একের পর এক সুযোগ হারানোর মহড়া দেওয়া পিএসজিকে গুণতে হচ্ছিল মাশুল। ম্যাচের ৬০ মিনিটে পাবলো সারাবিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এমবাপে তখনও ১-০ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পিএসজি।

পিছিয়ে থাকলে হাল ছাড়েনি এমবাপেরা। ম্যাচের অন্তিম মুহুর্ত পর্যন্ত চালিয়ে গেছেন লড়াই। আর ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় এই ম্যাচ জিততে পিএসজি ঠিক কতটা মরিয়া।

আটালান্টার গোল বরাবর ১৭টি শট ১৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করে পিএসজি। তবে সুযোগ হারানোর মহড়ায় গোল হাতছাড়া হয় নেইমারদের। আর তাই তো হাতছাড়া হতে বসেছিল সেমিফাইনালের টিকিট। তবে ফুটবলে শেষের আগে শেষ বলে যে নেই কিছু তা আরও একবার বুঝিয়ে দিল পিএসজি।

রেফারির ঘড়ির কাঁটায় তখন ৯০ মিনিট চলছে, আর চতুর্থ রেফারি তখন অতিরিক্ত সময় হিসেবে যোগ করেছেন ৫ মিনিট। অর্থাৎ ম্যাচে ফিরতে পিএসজির আছে মাত্র পাঁচ মিনিট। ডি বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান নেইমার, তবে জমাট বাধা রক্ষণে শট না নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ছয় গজের ভেতরে সেখান থেকে মারকুইনেসের শট। আর গোল! ৯০ মিনিটে এসে ম্যাচে সমতায় ফিরল পিএসজি।

ধারাভাষ্যকররা গলা ফাটাচ্ছেন ম্যাচ গড়াচ্ছে অতিরিক্ত সময়ে। তবে নেইমার-এমবাপেদের ভাবনায় ছিল অন্যকিছু। ম্যাচের তখন ৯৩ মিনিট চলছে, নেইমার পাস থেকে বল পেয়ে যান এমবাপে। আর ঠান্ডা মাথায় ডি বক্সের ভেতরে মাটি কামড়ানো পাস সতীর্থ চুপো মোটিংয়ের উদ্দেশে বাড়িয়ে দেন এমবাপে। আর ডি বক্সের ভেতর থেকে বল জালে জড়াতে এক চুল ভুল করেননি মোটিং। ব্যাস ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৯৩ মিনিটে এসে ২-১ গোলে এগিয়ে পিএসজি। আর এর কিছু সময় পরেই শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেন রেফারি। তাতেই নেইমার-এমবাপেদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 6:24 pm
বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আজ বুধবার বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 2:35 pm
জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে জশনে জুলুস। ৫৫তম জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েঠেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঐতিহ্যের জশনে জুলুস শুরু হয়।

ভিড় পেরিয়ে সেই জুলুস অপরপ্রান্ত টাইগারপাসে পৌঁছে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এ সময় আকাশ মেঘে ছেয়ে যায়, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়।

বৃষ্টিতে ভিজেই হুজুর কেবলার গাড়ি অনুসরণ করে জুলুস। আবার একই পথে ফিরে যায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে।

জুলুস অংশগ্রহণকারী ও পথচারীদের পানি, শরবত, খেজুর, কলা, বিরিয়ানি বিতরণ করছেন বিভিন্ন সংগঠন ও আগ্রহী মানুষেরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।

জুলুসের কারণে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলে আশেকরা আসেন নগরে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

পীর আল্লামা সাবির শাহ বলেন, প্রিয় নবীর আগমনে খুশি উদযাপন করা কোরআন, হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। আল্লাহ নেয়ামত প্রাপ্তিতে আনন্দ তথা ঈদ উদযাপন করতে বলেছেন। তাই সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (দ) প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য নেয়ামত। জশনে জুলুস এমন একটা কর্মসূচি যেখানে শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজ হয় না। কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (দ) পাঠ, রাসুলের সীরাত আলোচনা হয় এখানে। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার।

জুলুসে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মাহমুদ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন খোকনসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 1:47 pm
অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সহযোগিতা করতে জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার সচেষ্ট জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এমন কোনো অপরাধ নেই, যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী সেটা (অপরাধীকে) গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’ তবে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ বুধবার সকালে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে ভঙ্গুর অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাওয়া গিয়েছিল, গত ছয় মাসে তাদের মনোবল ফিরছে। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী এখন পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে কাজ করছে। ভালো কাজের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পুরস্কার, সনদ ও পদক দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সরকার ‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করছে। তবে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রংপুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মিরপুরের শিশুধর্ষণ ও হত্যা থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে আলোচিত কিংবা আলোচনার বাইরে থাকা প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত বিচার শেষ করতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা, তাদের মনোবল বাড়ানো এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার কাজ একসঙ্গে চলছে। অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব বাহিনীর জবাবদিহি ও কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) শিক্ষা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাঁর আদর্শে শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা রয়েছে। দেশে ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়, সাম্য ও শৃঙ্খলার পথে চলার আহ্বান জানান তিনি।

মানুষ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধী যে-ই হোক, যত ক্ষমতাশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, মানুষ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় এবং মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্র যেন আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

রংপুরের ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধী চক্র কোথা থেকে তৈরি হচ্ছে এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করে নির্মূল করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।