খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার মেয়াদকালীন সময়ে কেউ দুর্নীতি করে পার পাবেনা-সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
আমার মেয়াদকালীন সময়ে কেউ দুর্নীতি করে পার পাবেনা-সুজন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন করপোরেশনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সাথে নির্দেশ দিয়েছেন নগরীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চসিকের ব্যাহাত সম্পত্তি উদ্ধারের।

তিনি আজ টাইগারপাসস্থ নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে এই ঘোষণা দেন।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়াদকালীন সময়ে কেউ দুর্নীতি করে পার পাবেনা। আমি যদি নিজে দুর্নীতি করি তাহলে আমাকে কেনো আপনারা সুযোগ দেবেন। আপনাদেরও দ্বায়িত্ব আছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের চিত্র দেখে প্রশাসক অসন্তোষ প্রকাশ করে আগামী একমাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় এবং চট্টগ্রাম মহানগরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

রাজস্ব বিভাগে কর্মরতরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পালন করার তাগাদা দিয়ে প্রশাসক বলেন, আপনাদের উপরই চসিকের আর্থিক সঙ্গতি নির্ভরশীল। বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ চসিকের আয় সংশ্লিস্ট খাতসমূহকে শক্তিশালী করতে রাজস্ব বিভাগে কর্মরতদের ভূমিকা অপরিসীম।

তিনি বলেন, চসিকের রাজস্ব খাতটি হচ্ছে আমাদের মূল চালিকা শক্তি। এথেকেই চসিকের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। তাই হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানে নগরবাসীকে উব্দুদ্ধ করতে রাজস্ব বিভাগে কর্মরতদের পরামর্শ দেন প্রশাসক।

সম্প্রতি রাজস্ব বিভাগে আভ্যন্তরিন বদলী বিষয় তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, এটি একটি চলমান পক্রিয়া। এতে করে এক সার্কেলে কর্মরতরা অন্য সার্কেলে গিয়ে অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের সুযোগ পাবেন। রাজস্ব আদায়কারীদের মধ্যে যারা তাদের টার্গেট ফিলাপ ও আয়বর্ধক কাজে অবদান রাখবেন তাদের চসিকের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে বলে প্রশাসক জানান অন্যথায় ব্যর্থতার দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনও করা হবে।

তিনি রাজস্ব আনাদায়ী হোল্ডিং নম্বরগুলো চিহ্নিত করে স্ব স্ব এলাকায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন।

মতবিনিময়কালে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা,সবিচ আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা সাহেদা পারভীন, সহকারী এস্টেট অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন, কর কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, নুরুল আলম, এস এম সালাউদ্দিন, মোহাম্মদ ইউসুফ,উপ কর কর্মকর্তা এখলাস উদ্দিন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চসিকের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত, অলংকার মোড়ে উচ্ছেদ হলো অবৈধ দোকান

চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশদ্বার সিটি গেইট হতে অলংকারমোড়ে এতদিন যাবত অবৈধ স্থাপনাসমূহ শহরের সৌন্দর্যহানি ও যানজটের কারণ হয়ে উঠেছিল। চসিকের বর্তমান প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন দায়িত্ব নেয়ার পর এই বিষয়টি আমলে এনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই অংশ হিসেবে আজ বৃহষ্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌস এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে নগরীর অলংকার মোড়স্থ ২টি যাত্রী ছাউনি সংলগ্ন অবৈধ দুটি দোকান ও নির্মাণাধীন স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তা ও ফুটপাতের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য উক্ত সড়কে আরো কিছু অবৈধ দোকানপাট থেকে যাওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনায় তাদেরকে আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। অন্যথায় কর্পোরেশন উচ্ছেদকালে উচ্ছেদের সমস্ত ব্যয়ভারসহ জরিমানা আদায় করা হবে। আজকের এই উচ্ছেদের ফলে জনমনে স্বস্থি ও যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে অভিমত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এজন্য তারা প্রশাসকসহ চসিকের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

অভিযানকালে চসিক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ.কে.এম রেজাউল করিম,নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়বসহ সিএমপি পুলিশ ও চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়ের সাথে ছিলেন।

চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম এর সাথে
দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম.এ মালেকের সৌজন্য সাক্ষাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক আজাদী চট্টগ্রামের একটি মাসদর্পন। বিশেষত চট্টগ্রামের রাজনীতি,সাহিত্য,সংস্কৃতি ও শিল্প বিকাশে এ গণমাধ্যমটি যুগের চাহিদা পূরণ করেছে। আমি মনে করি দৈনিক আজাদী কর্তৃপক্ষ তাদের অতিতের কথা স্মরণ রেখে সংবাদ পত্র জগতে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাবে। যারা আজাদীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের চাওয়া পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং আজাদীর সাথে সংশ্লিষ্টরাও মালিক পক্ষের সাথে সু-সম্পর্ক বজিয়ে রেখে সাংবাদিকতা ও জনদায়বদ্ধতার ক্ষেত্রটিকে একটি শৃজনশীল ক্ষেত্র হিসেবে সুন্দর ও পারস্পরিক সহাবস্থানের সেতুবন্ধন রচনা করবেন।

তিনি আজ অপরাহ্নে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম.এ মালেক এর বাসভবনে তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে একথাগুলো বলেন।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত পাঁচটি দৈনিক পত্রিকার প্রকাশনা আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় পনের দিন ধরে পাঠকরা এসব পত্রিকা পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম সূত্রমতে জানা যায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) বেতন বোনাসের দাবিতে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেকের বাসা ঘেরাও কর্মসূচি পালনের পর থেকে এই সংকটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সাংবাদিকসহ পত্রিকায় কর্মরতরা গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছেন। শুধু তা নয়, পাঠকরাও তাদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ প্রেস শ্রমিকরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই পত্রিকার বিক্রি আগের তুলনায় অনেকাংশে কম, তার ওপর আকস্মিক পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত,শত হকারের উপার্জনের পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসে সংকটময় এ পরিস্থিতি উত্তরনের অনুরোধ জানান চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামবাসী চাতকের মত তাকিয়ে আছে কখন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে প্রিয় পত্রিকাগুলো আবারও পড়তে পারবেন।

জাতীয় শোক দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে চসিকের কর্মসূচী
স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস ২০২০ ইং পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচীর আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মসূচীর মধ্যে ১৪ই আগস্ট শুক্রবার সকালে চসিক পরিচালিত সকল কিন্ডারগার্টেন ও বিদ্যালয় এবং কলেজ পর্যায়ে অন লাইন (পযরবভবফঁপধঃরড়হড়ভভরপব১৮@ুধযড়ড়.পড়স ঠিকানায় পিডিএফ বা জেপিজি ফরম্যাটে প্রেরণ) রচনা প্রতিযোগিতা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা।

১৫ আগস্ট শনিবার সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকাসহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পতাকা অর্ধনমিত করণ (চসিকের প্রধান কার্যালয়সহ সকল আঞ্চলিক অফিস, ওয়ার্ড অফিস, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ কর্পোরেশনের অন্যান্য সকল কার্যালয়) এবং কালো ব্যাজ ধারণ। সকাল ৯টা ০১ মিনিটে টাইগারপাস্থ নগরভবন প্রাঙ্গনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন, সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে টাইগারপাস্থ নগরভবনের মিলনায়তনে খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, এতিম সমাবেশ, তবারুক বিতরণ ও আলোচনা সভা। সকাল ১০ টায় টাইগারপাসে বৃক্ষরোপন কর্মসুচী উদ্বোধন। সকাল সাড়ে ১০ টায় দিনব্যাপী ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কর্মসূচী । এর পর চসিক পরিচালিত মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, সমূহে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত এছাড়াও মন্দির, গির্জা ও প্যাগোড়ায় বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।

উল্লেখিত সকল কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। চসিকের এসব কর্মসূচীগুলোতে সংশ্লিস্ট সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।

দানেশ ফাউন্ডেশন চারাগাছ প্রদান: আজ সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক নগরভবনে ৫শ চারাগাছ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের হাতে তুলে দিয়েছেন দানেশ ফাউন্ডেশন। এসব চারাগাছের মধ্যে ফলজ,বনজ ও ওষুধি গাছ রয়েছে।

এসময় চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আদিল মো. সরফরাজ চৌধুরী, উপদেষ্টা এস এম নুরুল হক, আকতার মিয়া, আনাস চৌধুরী, শোয়েবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান ও মুসলমানদের ঐক্যের জন্য দোয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান ও মুসলমানদের ঐক্যের জন্য দোয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সর্ব কর্তৃত্বময়, নিষ্কলুষ, নিরাপত্তা ও শান্তি দানকারী, ‍যিনি মুসলমানদের ওপর তার সম্মানিত ঘরের হজ ফরজ করেছেন, হজকে দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ বানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি সর্বময় জ্ঞান ও ক্ষমতার অধিকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যিনি সব সৃষ্টির সেরা। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী এবং অনুসারীদের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।

আম্মা বা’দ

হে মানবসকল! আপনারা তাকওয়া অবলম্বন করুন। কারণ তাকওয়ার মাধ্যমেই পরকালে বান্দার মুক্তি লাভ সম্ভব। আল্লাহ তাআলা সুরা হজের শুরুতে এরশাদ করেছেন, ‘হে মানবসকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের ভূকম্পন এক ভয়ানক ব্যাপার। যে দিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। মানুষকে তুমি দেখবে মাতালসদৃশ অথচ তারা মাতাল নয়; বস্তুত আল্লাহর আজাব বড়ই কঠিন।’

তাকওয়ার পথ হলো, নেক আমল করা এবং সব ধরনের পাপাচার ও মন্দ কাজ বর্জনের মাধ্যমে কেয়ামত দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তা এই জন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর এজন্য যে, কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন।’

পরকালের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো, তাওহিদের অনুসারী হওয়া, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা। মানুষ কীভাবে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করে বা তাকে ডাকে, যা তার কোনো ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না? এটাই তো চরম পথভ্রষ্টতা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সে এমন কিছুকে ডাকে যার ক্ষতি তার উপকার অপেক্ষা নিকটতর। কতই না নিকৃষ্ট এই অভিভাবক এবং কতই না নিকৃষ্ট এই সঙ্গী!’

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে যেন আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী নির্জন স্থানে নিক্ষেপ করল।’

ইমানদারদের আসল স্লোগান হলো আল্লাহর তাওহিদ। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ, কাজেই তোমরা তাঁরই অনুগত হও এবং সুসংবাদ দাও বিনীতদের; যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে কম্পিত হয়, যারা তাদের বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’ এগুলোই দ্বীনে ইসলামের মূল রোকন—তাওহিদ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য দেওয়া, নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, রমজানের রোজা রাখা এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ করা।

এর সাথে রয়েছে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার উপদেশ; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।’ এবং আল্লাহর আনুগত্যের ওপর ও কষ্টদায়ক তাকদিরের ওপর ধৈর্য ধারণ করার উপদেশ; ইরশাদ হয়েছে, ‘ধৈর্যশীলদের তো তাদের পুরস্কার পুরোপুরি দেওয়া হবে বিনা হিসাবে।’ একইসাথে আল্লাহর নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা; ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে আমি সেগুলোকে (কোরবানির পশু) তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’

সৃষ্টিজগতে আল্লাহর কিছু চিরন্তন নিয়ম রয়েছে, বান্দার উচিত সেগুলোর ওপর ঈমান আনা এবং তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন; আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে আল্লাহকে সাহায্য (আল্লাহর দ্বীনকে) করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিমান, পরাক্রমশালী।’ আল্লাহর নিয়মের মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর এই বাণী: ‘কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যেগুলোর বাসিন্দারা ছিল জালেম, তাই এসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে এবং কত সুদৃঢ় প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে!’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘কত জনপদকে আমি অবকাশ দিয়েছি এই অবস্থায় যে তা ছিল জালেম, অতঃপর আমি তাকে পাকড়াও করেছি এবং আমার কাছেই তো ফিরে আসতে হবে।’

মহান আল্লাহ তাঁর খলিল ইবরাহিমকে (আ.) হজের আজান বা ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে আরোহণ করে, দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে—তিনি তাদের যে চতুষ্পদ জন্তু রিজিক হিসেবে দিয়েছেন তার ওপর।’

হজের দিনগুলোতে যে ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে দুদিনে চলে যাবে তার কোনো পাপ নেই এবং যে বিলম্ব করবে তারও কোনো পাপ নেই। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, তোমাদের তাঁর কাছেই সমবেত করা হবে। হজের সফর শেষ করে ফেরার পূর্বে রয়েছে বিদায়ী তাওয়াফ।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে আপনাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা বা কঠিন নিয়ম চাপিয়ে দেননি; এটা আপনাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্বে আপনাদের নাম ‘মুসলিম’ রেখেছেন; যাতে রাসুল আপনাদের জন্য সাক্ষী হন এবং আপনারা সাক্ষী হন মানবজাতির জন্য। অতএব আপনারা নামাজ কায়েম করুন, জাকাত আদায় করুন এবং আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন; তিনিই আপনাদের অভিভাবক, কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী!

আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার অন্যতম উপায় হলো, বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা, বিশেষ করে হজের আমলসমূহ পালন করার সময়। কারণ এগুলো দোয়া কবুলের উপযুক্ত সময় ও জায়গা। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফা দিবসের দোয়া। আর আরাফার দিন আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে সর্বোত্তম বাক্যটি বলেছি, তা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর (অর্থাৎ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান)।’

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। তাদেরই জন্য রয়েছে তাদের আমলের প্রতিদান এবং আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’

হে আল্লাহ! আপনি হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন, তাদের জন্য হজের সব আমল সহজ করে দিন, তাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাদের নিরাপদে সওয়াব ও সফলতার সাথে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তওফিক দিন।

হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। আপনি তাদের সব বিষয়ের দায়িত্ব নিন এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সার্বিক অবস্থা কল্যাণময় করে দিন।

হে রাব্বুল আলামীন! হে আল্লাহ! আপনি খাদেমুল হারামাইন ওয়াশ-শরিফাইন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তাদের যাবতীয় কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার তওফিক দান করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। নিশ্চয়ই তারা আপনার বান্দাদের প্রতি ইহসান করেছেন, হাজিদের জন্য হজের সব ইবাদত সহজ করে দিয়েছেন এবং হারামাইন শরিফাইনের খেদমতে ও আগত মেহমানদের সেবায় অকাতরে ব্যয় করেছেন। আপনি তাদের মাধ্যমে আপনার দ্বীনকে বিজয়ী করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের মাধ্যমে আপনার দ্বীনকে সাহায্য করুন। আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মাদের (সা.) ওপর, তাঁর পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

হজের খুতবা (২০২৬) দিয়েছেন: শায়খ আলী আল হুজাইফি, মসজিদে নববির খতিব ও বিশ্বখ্যাত প্রবীণ আলেম।

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।