খুঁজুন
, ,

বারইখাল খনন-কুলগাঁও বাস টার্মিনাল জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনের সবুজ সংকেত:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 31 October, 2020, 5:18 pm
বারইখাল খনন-কুলগাঁও বাস টার্মিনাল জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনের সবুজ সংকেত:সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ সকালে নগরীর জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি লাঘবে বাস্তবায়নাধীন দু’টি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, এই প্রকল্প দু’র সুফল নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে। নাগরিক দুর্ভোগের প্রধান কারণ জলাবদ্ধতা ও যানজট। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই দুইটি সমস্যা নিরসনের অংশ হিসেবে চসিক নগরীতে পূর্ব বাকলিয়ায় বলিরহাটে বারইখাল খনন প্রকল্প ও কুলগাঁওয়ে বালুছড়াই বাস টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নে পদে পদে সকল বাধা অতিক্রম করে এখন স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তিযোগ ঘটাতে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের নগরী হিসেবে গড়ে উঠতে প্রাকৃতিক বন্দর সহ সকল উপাদান বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম তা হতে পারেনি। একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে যে ধরণের যুগোপযোগী পরিকল্পনা থাকা দরকার তা এতদিন ছিল না। ফলে এক সময়ের ছোট-খাট সমস্যাগুলো এখন আমাদের মাথা ব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বড় প্রমাণ জলাবদ্ধতা ও যানজট। চাক্তাই খাল দখল এবং প্রায় দু’ডজন খাল বিলুপ্তি নগরীতে জলাবদ্ধতার মূল উৎস এবং গণ ও পণ্য পরিবহনের জন্য বড় টার্মিনাল না থাকায় যেখানে সেখানে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ডগুলো যানজট সমস্যাকে অনিবার্য করে তুলেছে। তাই এই দুইটি বিষয়কে মাথায় রেখে আমাদেরকে এগুতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী সেই ভাবেই এগুতে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দু’টি বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প নগরীতে জলাবদ্ধতা ও যানজট সংকট নিরসনের সবুজ সংকেত। তিনি পূর্ব বাকলিয়া বলিরহাটে জাইকার অধীনে ১৩’শ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দকৃত বারইখাল খনন প্রকল্পটির বিবরণী তুলে ধরে জানান, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি সরাসরি চাক্তাই খালের সাথে যুক্ত হবে এবং ওই খাল হয়ে পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির প্রশস্থ ৬৫টি ফুট। দু’পাশে থাকবে ২০ ফুট প্রশস্থ সড়ক ও ৬ ফুট প্রশস্থ ওয়ার্কওয়ে। বিগত ৬ বছর ধরে বিভিন্ন কারণে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ ঝুলে ছিল। আমরা প্রয়োজনীয় দেনদরবার করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ আবার শুরু করতে পেরেছি। চসিকের প্রকৌশল সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রকৌশলীদের এই ব্যাপারে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি কুলগাঁও বালুছড়াই ৮.১ একর জায়গার ওপর চসিকের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন বাস টার্মিনাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শণকালে জানান, এই প্রকল্পটি ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোপূর্বে চসিক ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগকে ১৩০ কোটি টাকা প্রদান করেছে। এই প্রক্রিয়াটি করোনাকালে কিছুটা গতি হারালেও তাকে আবারও চাঙ্গা করার জন্য আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও তাগিদ প্রদান করে আসছি। আশাকরি এ ক্ষেত্রে আর কোন সময় ক্ষেপন করা হবে না এবং অধিগ্রহণ কাজ সমাপ্ত হলে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সমগ্র উত্তর চট্টগ্রাম এবং পাবর্ত্য রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার মধ্যে বিদ্যমান যানজট সমস্যা আর থাকবে না। খুব সহজেই এই বাস টার্মিনাল থেকে পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক এবং যাত্রী সাধারণ বিড়ম্বনামুক্ত আরামদায়ক সহজলব্য সেবা পাবেন। এর আগে তিনি প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য যাবার পথে বহদ্দারহাট মোড়ে রাস্তার উপর যত্রতত্র ভাবে বিভিন্ন রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি ট্যাক্সির যানবাহনের স্ট্যান্ড দেখে গাড়ী থেকে সেখানেই নেমে পড়েন এবং নিজ উদ্যোগে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোকে সরে যাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। ফলে খুব দ্রুতই এই প্রশস্থ সড়কটি জন ও যানবাহন চলাচলে উপযোগী হয়ে ওঠে। এ জন্য এলাকাবাসী এগিয়ে এসে প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, আবু ছালেহ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, আবু সিদ্দীক, শাহিনুল ইসলাম, এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রকৌশলী মফিজুল ইসলামসহ চসিকের প্রকৌশলী ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

জালালাবাদ তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শনে মুহাম্মদ শাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 7:03 pm
জালালাবাদ তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শনে মুহাম্মদ শাহেদ

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী লিংক রোডে অবস্থিত জালালাবাদ তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসায় ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ১০ টায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনে ৩০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট চড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম ও আবাসিক ঘরটি সর্ম্পূন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

২২ জুলাই (বুধবার) সকাল ১১ টায় পুড়ে যাওয়া মাদ্রাসা পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বায়েজিদ বোস্তামী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হারুন, ৪৪ নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব জাফর আহমদ খোকন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, যুবদলের সাবেক সহ তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাবুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগস্ত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ২ দিনের খাবার ও ছাত্রদের প্রয়োজনীয় পোশাক এবং শিক্ষা সামগ্রীর দায়িত্ব নেন। মাদ্রাসা কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায় মাদ্রাসা আগুন লাগার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম তদন্তে কাজ করছেন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা গণ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 1:52 pm
ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার ক্রেতারা

চাঁদপুরের ইলিশের সুনামকে পুঁজি করে অনলাইনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পেজ খুলে চাঁদপুরের আসল ইলিশ সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। প্রশাসনের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রতারকরা কৌশল বদলে অব্যাহত রেখেছে এ প্রতারণা।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ৯ অক্টোবর চাঁদপুরে থেকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রি করতে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদপুর জেলার ইলিশের নাম করে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে প্রতিনিয়ত দেশবাসীকে প্রতারণা করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন চাঁদপুর এ ধরণের প্রতারণা রোধে ৭ ব্যবসায়ীকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন প্রদান করা হয়। ইলিশের অনলাইন ব্যবসার জন্যে আগ্রহী প্রার্থীদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে যোগ্যতা সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরম এ আবেদন করতে হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর মাছ ঘাটের কিছু ব্যবসায়ী অনলাইনে ইলিশ বিক্রয় করছেন। তারা সবাই ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে ইলিশ বিক্রয় করেন।

ইলিশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদপুরের বৈধ কিছু অনলাইন ইলিশ বিক্রেতার লোগো, পুরনো ভিডিও যুক্ত করে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা করেই যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। তাদের ফাঁদ থেকে বাদ পড়ছেন না চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। প্রশাসন কঠোর হলেও এসব প্রতারক ধরা ছোয়ায় বাইরে থাকছে। তবে প্রতারণা থেকে মুক্তির জন্য চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের ভুক্তভোগী হিম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ নামে একটি পেজের বিজ্ঞাপন আমার নজরে আসে। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে আমি ইলিশ মাছ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করি এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ মাছের অর্ডার দেই। তখন তারা আমাকে জানায়, অর্ডার নিশ্চিত করতে হলে আগে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তারা যে বিকাশ ও নগদ নম্বর দেয়, সেখানে আমি মোট ১১ হাজার টাকা পাঠাই। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও তারা কোনো মাছ পাঠায়নি। এরপর আমি বারবার যোগাযোগ করে মাছ কিংবা টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা ধরনের অজুহাত দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা জানায়, আমার নামে নাকি একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেটি চালু করতে হলে আরও টাকা পাঠাতে হবে। অ্যাকাউন্ট চালু হলেই আগের ১১ হাজার টাকাসহ সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেয়। কিন্তু তখন আমি বুঝতে পারি, এটি একটি প্রতারণার ফাঁদ। এরপরও তারা বিভিন্নভাবে আরও টাকা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমি শুধু একাই নই, আমার মতো আরও অনেক মানুষ অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এভাবে হাতিয়ে নেওয়া খুবই নিন্দনীয়। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমার হারানো টাকা দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

শরীয়তপুর সদরের তুলাসার এলাকার বাসিন্দা মিন্টু মাদবর বলেন, চাঁদপুরের ইলিশের স্বাদ নিতে অনলাইনে রুপালি ইলিশের সেরা চাঁদপুর পেইজের নামে একটি ফেসবুক পেজের সঙ্গে গত পরশু যোগাযোগ করি। প্রতারক চক্রকে ১১ হাজার টাকা দেই। কিন্তু চক্রটি ইলিশ আমাকে দেয় নাই।

নিবন্ধনকৃত অনলাইন ইলিশ ব্যবসায়ী খোকন পাটওয়ারী বলেন, আমরা অনলাইনে ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে ইলিশ বিক্রি করি। আমাদের এখানে অনলাইনে নিবন্ধনকৃত ৭টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত। একটা শ্রেণির প্রতারক চক্র অনলাইনে দেখায়, মাছের দাম অনেক কমে গেছে। তারা মানুষের কাছ থেকে মাছের টাকা নেয়। কিন্তু মাছ দেয় না। আমি অনুরোধ করব আপনাদের হাতে ইলিশ পৌঁছানোর আগে টাকা দেবেন না।

চাঁদপুর মাছঘাটের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক নুরুল আমিন বলেন, অভিনব কায়দায় ভুয়া পেজ ব্যবহার করে ইলিশ বিক্রির প্রতারণা করছে প্রতারকরা। এসব প্রতারণা করছে দেশের অন্য জেলায় বসে এক শ্রেণির প্রতারক। তাই আপনাদের হাতে ইলিশ পৌঁছানোর আগে টাকা দেবেন না।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত আলী বলেন, দেশে বিদেশ থেকে কেউ ক্যাশ অন ডেলিভারি ছাড়া ইলিশ ক্রয় করবেন না। টাকা দেওয়ার আগে অন্তত খোঁজ-খবর নিয়ে মাছ ক্রয় করবেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, আমরা অনলাইনে বিক্রির প্রতারণা রোধে ৭ ব্যবসায়ীকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন প্রদান করা হয়। আমরা জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। জেলা প্রশাসনের ওয়েব সাইডেও ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হয়েছে। কেউ যদি ইলিশ বিক্রিতে প্রতারণা করে তাহলে আপনার নিকটতম থানায় যোগাযোগ করুন।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তালিকা বহির্ভূত অন্যান্য অনলাইন পেজ থেকে সংশ্লিষ্টদের ইলিশ ক্রয়ের বিষয়ে প্রতারণা হতে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ প্রতারিত হলে আপনার নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।