খুঁজুন
, ,

“জিয়া পরিবার ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় সরকার ঈর্ষান্বিত”

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 September, 2020, 8:45 pm
“জিয়া পরিবার ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় সরকার ঈর্ষান্বিত”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেছেন, জিয়া পরিবার ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় বর্তমান সরকার ঈর্ষান্বিত। বিএনপি তথা জিয়া পরিবারকে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতেই এক এগার সেনা সমর্থিত সরকার জিয়া পরিবারের উপর স্টীমরোলার চালায়।

তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে দিনের পর দিন রিমান্ডের নামে নির্যাতন করে টানা ৫৪৬ দিন কারাবাসের পর সরকারের সাজানো সবকটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে ২০০৮ সালে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি লাভ করেন।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের ১৩তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে নগরীর আমানত শাহ মসজিদে বাদে আছর খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার। যাদের দিনের শুরু হয় জিয়া পরিবারকে গালমন্দ করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে। বর্তমানে দেশে উন্নয়নের নামে লুটপাটতন্ত্র চলমান। চারিদিকে উন্নয়নের নামে হরিলুট করে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হচ্ছে প্রিয় স্বদেশ। ক্ষমতাসীন সরকার শুধু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চরিত্র হননের নামে
মিথ্যা ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্ট করছে।

তিনি এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের ১৩তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

খতমে কোরআন ও দোয়া মিলাদ মাহফিল শেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন আমানত শাহ মসজিদের খতীব। মুনাজাতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন ও শহীদ জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সি.সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন, সহ-সভাপতি নূর আহমেদ গুড্ডু, এস এম শাহ আলম রব, এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন, আব্দুল গফুর বাবুল, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু, হাসান মুরাদ, জসিমুল ইসলাম কিশোর, মোহাম্মদ আলী সাকী, সি. যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সেলিম খান, এরশাদ উল্লাহ, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, তানভির মল্লিক, ওমর ফারুক, গুলজার হোসেন, সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, ওসমান গণি, জমির উদ্দিন আহমেদ মানিক, জাফর আহমেদ খোকন, রাসেল নিজাম, শওকত আলী জুয়েল।

সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, আজিজুল হক মাসুম, জসিম উদ্দিন সাগর, মহিউদ্দিন মুকুল, মো. নওশাদ, দিদারুল আলম, সহ:সম্পাদক কমল জ্যোতি বড়ুয়া, মাহবুবুর রহমান, সাহেদুল ইসলাম, মো. জহিরুল ইসলাম জহির, কামরুল ইসলাম, কোরবান আলী, হামিদুল হক, জাহাঙ্গীল আলম বাবু, জাহাঙ্গির আলম মানিক, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, যুবরাজ, সালাহ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, ইব্রাহীম খান, সুলতান মাহমুদ খান সুমন, মনজুর আলম মঞ্জু, জাফর সাদেক সোহেল, নুরুল ইসলাম আজাদ।

সদস্য লতিফুল বারী সুমন, আইয়ুব আলী, কলিম উল্ল্যাহ, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুস সাত্তার, আরশাদ মোমেন আশু, থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শেখ রাসেল, আশিক মল্লিক, মনজুর আলম মনজু, রাজু খান, মোর্শেদ কামাল, ৫ নং যুবদলের আহবায়ক আকতার হোসেন, ২ নং ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক এস এম আলী, ৩ নং ওয়ার্ডের আহবায়ক মো. হাসান, ৭ নং ওয়ার্ডের আহবায়ক মো. জাবেদ হোসেন, ৪২ নং নাসিরাবাদ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের যুগ্ম আহবায়ক মো. মাসুদ আলম ও ৪৩ নং আমিন শিল্পাঞ্চল সাংগঠনিক ওয়ার্ডের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 August, 2026, 12:23 am
ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে  অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ‘সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা আজ ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ আলহাজ্ব সুলতান আহমদ হলে অনুষ্ঠিত হয়।

ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় উলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন হয়েছে বলেই মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ অস্তিত্ব লাভ করেছে। সকল সৃষ্টির উৎসই হচ্ছেন মহানবী (দ.)। তাঁর কারণে এবং তাঁরই উসিলায় সৃষ্টি জগৎ অস্তিত্ব পেয়েছে, টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ পুণ্য বরকত, কল্যাণ এবং সবিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন মানে কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী। তিনি বলেন, সমগ্র সৃষ্টির মূল হচ্ছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)। তাঁর আনুগত্য ও আহলে বাইতে রাসুলকে (দ.) ভালোবাসা ফরজ। উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ আন্তঃযোগাযোগ না থাকা, অনৈক্য-বিভাজনের কারণে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরা পেছনে পড়ে রয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমরা নেই। ফলে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী আমাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে। সুফিবাদী উদারনৈতিক মানবিক ইসলামের প্রসার ঘটাতে সকল সুন্নি মতাদর্শী ও তরিকতপন্থিদের একই প্ল্যাটফরমে আসতে হবে।

মুখ্য আলোচক ছিলেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান। তিনি বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন আল্লাহ পাকের সেরা নিয়ামত। তাই নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করি। বিগত দুই বছরে বহু মাজার খানকায় হামলা হয়েছে। মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অসংখ্য মাজার গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও এর বিচার হয়নি। বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে এর প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে।

উদ্বোধক ছিলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ নাফিসুর রহমান মাইজভাণ্ডারী। স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম বরকত আকাশ। নির্ধারিত বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনায় অংশ নেন হযরত শাহ আমানত (রহ.) দরবার শরীফের আওলাদ শাহজাদা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ খান মারুফ, গবেষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, শাহজাদা মাওলানা ফখরুল ইসলাম রিজভী, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ গোলাম রসুল, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ ছালেকুল মাওলা, আল্লামা শফিকুল ইসলাম আস সাঈদী, আল্লামা মঈনুদ্দিন রেজভী, মাওলানা রায়হান রেজা আশরাফী, মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী,আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা ও হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা প্রমুখ আনিছ মুহাম্মদ বিপলু, এম মহিউল আলম চৌধুরী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, ফরিদুল আলম আশরাফী, মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা বলেন, সুন্নি সুফিবাদিরা আজ জেগে উঠেছে। তাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না।

ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন গোলটেবিল আলোচনায় সমবেত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের পরিবেশনায় মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী।

পানি সরবরাহের জন্য টানেল ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনে সেতু কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 17 August, 2026, 6:45 pm
পানি সরবরাহের জন্য টানেল ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনে সেতু কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি

কর্ণফুলী নদী তীরে গড়ে তোলা বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের পানি নগরীর পতেঙ্গা ও কাট্টলী এলাকায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এটি ছিল সদ্য নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলমের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পদক্ষেপ।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানি সংকট। সাগর তীরবর্তী হওয়ায় এটি লবণাক্ততা প্রবণ এলাকা। সুপেয় পানির হাহাকার এবং পাইপলাইন না থাকায় অনেক এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ দুরুহ। এই তিন ওয়ার্ডে প্রচুর পানির চাহিদা রয়েছে।

ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ২ কোটি লিটার পানি এই ওয়ার্ডগুলোতে বরাদ্দ করা সম্ভব। এতে করে এই সমস্ত এলাকায় পানির চাহিদা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে টানেল দিয়ে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনার বিষয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মূল ঠিকাদারের সাথে কয়েকদফা সভা করে চট্টগ্রাম ওয়াসার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ। সভা ও চিঠি চালাচালির পর কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগারের পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহের লক্ষ্যে পাইপলাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নে অনাপত্তি প্রদান করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

১১ আগষ্ট বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অপারেশন শাখার একটি পত্র মারফত এই অনাপত্তি প্রদান করা হয়। অনাপত্তি পত্রে প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী টানেলের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নি-নিরাপত্তা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বিদ্যমান ইউটিলিটিসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়সমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক উল্লেখ করা হয়।

সে আলোকে কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপন কাজের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অনাপত্তি (No Objection) প্রদান করা হয়।

এবিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর টানেল দিয়ে ভান্ডালজুড়ি হতে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনা এটি আমার প্রথম পদক্ষেপ ছিলো। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এই অনাপত্তি প্রদানে আমার প্রথম পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো। এজন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, টানেল দিয়ে পানি আনার জন্য পাইপলাইন স্থাপন ও অন্যান্য আনষঙ্গিক কাজ সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মুল ঠিকাদার মাধ্যমে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবিষয়ে আগামীকাল ঢাকায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পতেঙ্গা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফিরবেন নারীরা, জানতে পেরেই উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 17 August, 2026, 6:10 pm
প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফিরবেন নারীরা, জানতে পেরেই উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ

দুই হাতে কাপড় ধরে সেলাইয়ের কাজ শিখছিলেন নাছরিন ফারজানা। প্রশিক্ষণ শেষে এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন তাঁর। কিন্তু নিজের কোনো সেলাই মেশিন নেই। প্রশিক্ষণ শেষ হলে মেশিনও পাবেন না। ফলে শেখা কাজটি কত দিন ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা।

বিষয়টি জানতে পেরে থমকে দাঁড়ান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকেই যোগাযোগ করেন স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। তাঁর আহ্বানে পাঁচটি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সংস্থাটি। অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও ১৫টি মেশিনের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকারও করা হয়।

মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় প্রশিক্ষণকক্ষের পরিবেশ। প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফেরার শঙ্কায় থাকা ২০ নারীর সামনে খুলে যায় শেখা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের ২০২৫–২০২৭ চক্রের আওতায় আয়োজিত দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কর্মসূচি উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক।

প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলা প্রশাসক জানতে পারেন, আধুনিক দর্জিবিজ্ঞান ও এমব্রয়ডারি ট্রেডে অংশ নেওয়া নারীদের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তখনই তিনি তাঁদের জন্য মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত মুরাদপুর থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থী নাছরিন ফারজানা। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি, প্রশিক্ষণ শেষে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন পাব। আজ ডিসি স্যার নিজে উদ্যোগী হয়ে আমাদের সবার জন্য নতুন সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করেছেন।’

তিন সন্তানের মা নাছরিনের স্বামী আগে প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বেকার। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন পেলে ঘরে বসে কাজ করে পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখতে চান নাছরিন।

তিনি বলেন, ‘সেলাই মেশিন না থাকায় অনেক নারী প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজ করতে পারেন না। নিয়মিত চর্চা না থাকায় একসময় শেখা কাজ ভুলে যান। মেশিনটি পেলে আমি কাজ করে সংসারের টানাপোড়েন কিছুটা হলেও কমাতে পারব।’

উদ্বোধনের আগে জেলা প্রশাসক ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলে প্রশিক্ষণের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ নয়, শেখা দক্ষতাকে আয় ও স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে পরিণত করার তাগিদ দেন জেলা প্রশাসক। প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে কাজের সুযোগ পাবেন, সেই পরিকল্পনাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের করতে বলেন তিনি।

আয়োজকেরা জানান, পাঁচটি ট্রেডে ২০ জন করে মোট ১০০ নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি ট্রেডের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। প্রশিক্ষণার্থীদের কাজের মান উন্নত করা এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা যে কাজই করি, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে করতে হবে। একটি সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকতে হবে। যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের জন্য সেটি কতটা কার্যকর এবং এই দক্ষতা নিয়ে তাঁরা বাস্তবে টিকে থাকতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

জনগণকে দেশের প্রধান সম্পদ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব প্রশিক্ষকদের। একজন মানুষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে না পারেন, তাহলে সেই প্রশিক্ষণের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো কাজই ছোট নয়। প্রশিক্ষণে ব্যয় করা সময়ের মূল্য দিতে হবে। নিষ্ঠার সঙ্গে অর্জিত দক্ষতা যেন আপনাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে শরণ, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন, বিভা, রিডো, ঠিকানা, স্পার, এসএসডি, পল্লী সেবা সংস্থা, প্রদীপন ও এআরপি।