প্রতারক চক্রের খপ্পরে স্বর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন পিতৃহারা নিজাম উদ্দিন, শয্যাশায়ী মা
নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি কমার্স কলেজ থেকে মার্স্টাস শেষ করে দুই বছর সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছি। কোন কূল-কিনারা না হলে টাকার দিয়ে কেডিএস লজিস্টিকে চাকরি করেছি ৬ বছর। তবে সেটাও ছেড়েছি ভূয়া নিয়োগপত্রের কারণে।
আমার বাবা নেই। একটা চাকরির খুব প্রয়োজন ছিলো। আর তাই চাকরি নামক সোনার হরিণ পাওয়ার আশায় ধাপে ধাপে নিজের সর্বস্ব প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছি। এরপরও স্বপ্ন পূরণ হয়নি বরং দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে স্ট্রোক করে বিছানায় শয্যাশায়ী হয়েছেন আমার মাও।
ঠিক এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেছেন প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়া যুবক নিজাম উদ্দিন। তিনি হালিশহর এলাকার বাসিন্দা।
নিজাম উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, চক্রটি এমনভাবে প্রলোভন দেখালো। ঘুনাক্ষরেও টের পাইন প্রতারিত হতে যাচ্ছি। সরকারি চাকরির স্বপ্নকে ছুঁতে চার দফায় (৬+৩+২+৪) ১৫ লাখ টাকা দিয়েছি। আমার দুই বন্ধু মহিন, জুবায়ের। তারাও দুই দফায় ১৪ লাখ টাকা দিয়েছে। কিন্তু কেউ চাকরি পাইনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিনিয়র অডিট অফিসারে নিয়োগ দিবে বলে ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে বাংলাদেশ ব্যংকের কর্মকর্তা সাজিয়ে ফোনে কথাও বলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু চাকরি হয়নি। ২০১৭ সাল থেকে চাকরি দিবে বলে বলে ঘুরাচ্ছিলো। মাথার উপর ঋনের বোঝা। মানসিকভাবে বির্পযস্ত। জানি না সমানের দিনগুলোতে কি হয়। এখন আমাদের আর কিছুই নেই। প্রশাসনের সহযোগীতা চেয়েছি।
এদিকে এসব স্বপ্ন ভাঙ্গা যুবকদের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া প্রতারক চক্রের প্রধান হোতা ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার নগরীর চান্দগাঁও থানার পাকা রাস্তার মাথা এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার ইব্রাহিমের বাড়িও চান্দগাঁও থানা এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহষ্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (বন্দর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতারক ইব্রাহিমকে গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করে তার প্রতারনার চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন নগর গোয়েন্দা (বন্দর) পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার এসএম মোস্তাইন হোসেন।
তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারনা করে আসছিলো ইব্রাহিম। তার মূল টার্গেট ছিলো শিক্ষিত বেকার যুবকরা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতারনার ফাঁদ পাততো সে।
প্রতারনার দায়ে চক্রের মূল হোতা ইব্রাহিমকে আজ গ্রেফতার করেছি। প্রতারক ইব্রাহিমের কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, এইচএসবিসি ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরের ভুয়া নিয়োগপত্র ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছি।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার ইব্রাহিম নিজেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা দিতো এবং একজন মহিলাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এইচআর এডমিন সাজিয়ে ঢাকায় নিয়ে যেতো। তারপর সেখানে মিথ্যা ইন্টারভিউ নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিতো। প্রতারনার টাকা ক্যাশ লেনদেন করতো ইব্রাহিম। সে একটি ইন্সুরেন্স্ কোম্পানিতে চাকরির কথা জানালেও তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
মোস্তাইন হোসেন আরও জানান, অনুসন্ধানে নেমে আমরা অন্তত ২০ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান পেয়েছি। যাদের কাছ থেকে প্রতারক ইব্রাহিম বিভিন্ন দফায় ৭০ লাখ টাকা আদায় করেছে। এই চক্রের সাথে আরও কারা কারা জড়িত তাদের ব্যাপারেও আমাদের অনুসন্ধান চলছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
২৪ ঘণ্টা/রাজীব সেন প্রিন্স


আপনার মতামত লিখুন