খুঁজুন
, ,

অপরাধীরা প্রটেকশন পায় সরকারের কাছ থেকে:রিজভী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 26 October, 2019, 2:20 pm
অপরাধীরা প্রটেকশন পায় সরকারের কাছ থেকে:রিজভী

খুনিরা সরকারের আশ্রয়ে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সমাবেশের পর আবরার হত্যার প্রতিবাদে ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবারও বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

রিজভী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সরকারের সোনার ছেলেরা অপরাধ করলে সেই অপরাধকে প্রটেকশন দেন এ সরকার বা সরকার প্রধান। নাটোরের নুর হোসেন বাবুর হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, নাটারের রানার হত্যাকারীদের ফাঁসি হয়েছিলো সেটা রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়েছেন। খবরের কাগজে বেরিয়েছে এই আওয়ামী লীগের আমলে দুইজন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং আবদুল হামিদ সাহেবের আমলে ৩৪ থেকে ৩৫ জন হত্যাকারীরা যাদের ফাঁসি হয়েছে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা প্রটেকশন পায় সরকারের কাছ থেকে। সেই সরকারের হঠাৎ করে সোনারকাঠি-রুপাকাঠি পরিবর্তন করে আজকে রাক্ষস থেকে মানবতার মূর্ত প্রতীক হলেন কি করে? ঘটনা কি? বিশ্বজিৎকে যারা হত্যা করেছে তাদেরও কিন্তু কিছু হয়নি। একের পর এক খুন, একের পর এক হত্যা, এই হত্যার সঙ্গে এই সরকার দলীয় যারা জড়িত তারা কোনো না কোনোভাবে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।’

রিজভী বলেন, ‘আজকে হঠাৎ করে টাকার খনি, ডলারের খনি, ক্যাসিনোর খনি। গত ১০ বছর কিছুই হলো না তাহলে হচ্ছে কেনো? এ নিয়ে জনমনে বড় বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ বলেন গৃহ বিবাদ, কেউ বলেন অন্য কোনো বিষয় আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। আমরা বলতে চাই, দুর্নীতি করা নিশ্চয় অপরাধ। সবচাইতে বড় দুর্নীতি হচ্ছে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করে দিনের ভোটকে রাতে করা। এটা হলো মহাদুর্নীতি। এই দুর্নীতির জন্য সবার আগে এই সরকারের বিচার হওয়া উচিত ছিলো।’

তিনি বলেন, ‘এই ভোটারবিহীন সরকার জনগণের সরকার নয়, এটি একটি মাফিয়া সিন্ডিকেট। তা না হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হবে না কেনো? এরকম মামলায় অসংখ্য জামিন হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীই বলেছেন, তারেক যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তার মা মুক্ত হবে না। ওই জামিনের চাবিটা শেখ হাসিনার হাতে আছে, ওই চাবিটা শেখ হাসিনা যতক্ষন পর্যন্ত না তালা খুলবেন ততক্ষন পর্যন্ত দেশনেত্রী মুক্ত হবেন না।’

রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রীর কাছে তার আত্বীয়-স্বজনরা যাচ্ছেন, খবর নিয়ে আসছেন। তিনি ডান হাত বাম হাত নাড়াতে পারছেন না, প্রতিদিন সেটা ফিক্সড হয়ে যাচ্ছে। যে ভদ্র মহিলা, যে জাতীয় নেত্রী তিনি আজকে ‘হুইল চেয়ারবাউন্ড’ হয়ে গেছেন। তাকে দুইজন লোক ধরে তুলতে হয়। কিন্তু আমরা দেখলাম তিনি হেঁটে কারাগারের মধ্যে গেছেন। কেনো তার এই অবস্থা? তার এই চরম শারীরিক অবস্থার জন্য দায়ী আজকের প্রধানমন্ত্রী, তার ক্ষোভ, তার প্রতিহিংসা, তার জিজ্ঞাসা, তার রাষ্ট্রক্ষমতায় ভোগ দখলের জন্য আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধুঁকে ধুঁকে জেলখানায় আছেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী হাসপাতালে আছেন তার চিকিৎসা নাই। তার আত্বীয়-স্বজনরা বলছেন, দেশনেত্রী মুক্ত হলে তিনি সিদ্ধান্ত নেবে। তারা দেশের বাইরে নিয়ে যাবে, দেশের মধ্যে বা বাইরে যেখানে উন্নতমানে চিকিৎসা হয় তারা করাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের এই আকুতি আজকে সরকারের কানে ঢুকে না। আজকে কোথায় যাবো? মানুষের শেষ আশ্রয় আদালত সেখানে কোনো বিচার নেই, কোনো বিচার পাওয়া যায় না। আমরা মনে করি, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, তার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার। যে প্রদীপ জ্বলে উঠার আগেই এই স্বৈরাচারী সরকার তাকে নিভিয়ে দিলো তার সোনার ছাত্রলীগ বাহিনী দিয়ে। এই আবরারকে যেভাবে তিল তিল করে হত্যা করা হয়েছে শারীরিক ও মানসিক অবর্ণনীয় বর্বর হামলা করে এটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সে আমার মতোই কোনো মায়ের সন্তান।

তিনি বলেন, যারা হত্যা করেছে এই হত্যাকারী শুধু ধরলেই হবে না, তাদের প্রত্যেককে দৃশ্যমান ফাঁসি দিতে হবে। হত্যাকারীর পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্যদের আমি বিচার চাই। কারণ যারা এই সন্তানদের জন্ম দিয়েছে, লালন-পালন করেছে অবশ্যই তারা দায়-দায়িত্ব রাখে। আমি সবার বিচার চাই।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি এই দেশের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। গণতন্ত্রের অপর নাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের অপর নাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে তিনি কারাগারে মানে বাংলাদেশ কারাগারে, গণতন্ত্র কারাগারে। তাকে অবশ্যই আমাদের মুক্ত করে আনতে হবে।

সংগঠনের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সভা পরিচালনা করেন। সমাবেশে মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান ও পেয়ারা মোস্তফা বক্তব্য দেন।

Feb2
Feb2

ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 3 October, 2026, 8:05 pm
ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণের একটি ছবি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, গত ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নৈশভোজে অংশগ্রহণের মুহূর্তের ছবিটি প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

আওয়ামীলীগের কাছে অনেক অস্ত্র রয়েছে, এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 3 October, 2026, 7:55 pm
আওয়ামীলীগের কাছে অনেক অস্ত্র রয়েছে, এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ম্যাক্সিমাম আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে গেছে। তবে কিছু কিছু নেতাকর্মী এখনো দেশে রয়ে গেছে। যেসব নেতাকর্মী এখনো দেশে রয়েছেন, তাদের কাছে অনেক অস্ত্র রয়েছে। এসব অস্ত্রের বেশির ভাগই এখনো উদ্ধার হয়নি। তাই এসব অস্ত্র উদ্ধার করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসন তাদের সম্পর্কে জানে। তাই অনতিবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করুন।

তিনি শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর লালদিঘীর পাড়স্থ জেলা পরিষদ চত্বরে কোতোয়ালি থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিরোধী মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সমাবেশ শেষে জেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি লালদিঘীর পাড়, বক্সি বিট হয়ে আন্দরকিল্লা মোড় হয়ে গিয়ে শেষ হয়।

কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

এসময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পুলিশ ভাইদের বলতে চাই, আপনারা জানেন আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা কোথায় আছে। আমি অনেকবার বলেছি, আপনারা দেখেছেন, তারা ৫ আগস্টের আগে মানুষ মেরেছে, ছাত্র জনতা হত্যা করেছে, গুম করেছে, আয়নাঘর তৈরি করেছিল এবং থানা থেকে অস্ত্র লুট করেছে। তাদের কাছে এখনো অনেক অস্ত্র আছে, যার বেশির ভাগই উদ্ধার হয়নি। আমরা এমন খবরও পেয়েছি, পাঁচ হাজার টাকা দিলেই নাকি বোমাবাজি করা যায়।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নিজেদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা প্রতিবাদ করেছি, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। আওয়ামী লীগ যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, আমরা সেভাবে পালিয়ে যাইনি। আমাদের নেতাকর্মীরা জেল, রিমান্ড, মামলা হামলা, গুম ও খুনের শিকার হওয়ার পরও রাজপথে ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের ডিসেম্বরের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। শেখ হাসিনা হত্যা মামলার আসামি। তিনি যদি দেশে আসতে চান, তাহলে আইনের মাধ্যমে আসতে হবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এতিম করে পালিয়ে গেছে। বিদেশে বসে তাদের উসকে দিচ্ছে। শেখ হাসিনার জন্য ফাসির রশি রেডি আছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবু সুফিয়ান এমপি বলেন, আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাজা বা দণ্ড নির্ধারিত হওয়ার পরেই কেবল তাদের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, অন্যথা তাদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

​পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর দায়িত্বশীলতার বিষয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি তাদের এক নেতা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে বিমানের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসংলগ্ন আচরণ করেছেন। অপরাধমূলক আচরণের কারণে তাকে যখন গ্রেপ্তার করা হলো, তখন বিরোধী দল সেই আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আখ্যায়িত করছে, যা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, দেশে যারা মানুষ হত্যা করেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করেছে, থানা ও অস্ত্র লুট করেছে তারা এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হত্যা, নাশকতা ও সন্ত্রাসের মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, বোমাবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য খোরশেদুল আলম, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. ইসমাইল বালি। বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপি নেতা শাহ আলম, হাজী নুরুল আকতার, হামিদ হোসাইন, হেলাল চৌধুরী, আবদুল বাতেন, একেএম পেয়ারু, গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির আকতার খান, এস এম মুফিজ উল্লাহ, খন্দকার নুরুল ইসলাম, আলাউদ্দীন আলী নুর, আলী আব্বাস খান, সাদেকুর রহমান রিপন, আবদুল মান্নান, মো. হাসান, সাব্বির আহমেদ, জসিম মিয়া, আবু ফয়েজ, দিদারুল ইসলাম, মো. সালাউদ্দীন, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, আলমগীর আলী, জাহেদ আহমেদ, উছমান গনী, থানা বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান মিয়া, আনোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম সেলিম, থানা যুবদলের আহবায়ক নুর হোসেন নুরু, সদস্য সচিব মো. হাসান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক এন মো. রিমন, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আবদুল্লাহ আল হাসান সোনামানিক, সদস্য সচিব আইনুল ইসলাম জুয়েল, ছাত্রদলের আহবায়ক ইয়াকুব আলী জুয়েল, সাইফুল আলম জনি প্রমুখ।

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 3 October, 2026, 5:11 pm
শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিখাত। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ আরও সহজলভ্য করছি। আমরা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করছি। খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী হোটেল সোনারগাঁও বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে। আমরা এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সব খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

তিনি বলেন, আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। আর চূড়ান্তভাবে, ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছি, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি আমরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে। আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আমাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। আমাদের সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদান করবে। এছাড়া স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি আমরা সম্প্রসারিত করছি। আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি। তবে এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান। আমরা ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করছি। আমরা উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।

পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। এছাড়া আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছি। এসব পদক্ষেপ কৃষিখাতকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব।আমরা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত করছি। বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পারি।

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেজন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে পারি। আমরা নতুন বাজার উন্মুক্ত করতে পারি এবং আমাদের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। একই সঙ্গে, আমরা আমাদের সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাব। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূলভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।