খুঁজুন
, ,

ওজন ও পরিমাপকে ঠকছে ক্রেতারা; প্রতিকারহীন ভোগ্যপণ্যের বাজার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 5 October, 2020, 6:30 pm
ওজন ও পরিমাপকে ঠকছে ক্রেতারা; প্রতিকারহীন ভোগ্যপণ্যের বাজার

২৪ ঘণ্টা, ডেস্ক নিউজ : ভোক্তাদেরকে নিরাপদ মানসম্মত খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য সঠিক মান ও সঠিক পরিমাপে ক্রয় নিশ্চিতে দেশব্যাপী বিএসটিআই এর নিয়মিত সার্ভিল্যান্স টিম ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অবৈধ উৎপাদনারী, সরবরাহকারী, ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।

তারই অংশ হিসাবে রবিবার (০৪ অক্টোবর) বিএসটিআই চট্টগ্রাম ও ক্যাব চট্টগ্রাম কর্তৃক যৌথ বাজার সার্ভিল্যান্স অভিযানের মাধ্যমে নগরীর রেয়াজউদ্দীন বাজারে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, ফলের দোকান, মাংশের দোকান, ও মুরগির দোকান যাচাই করা হয়।

যাচাই কালে মের্সাস আলমগীর স্টোর, ৬০৪ স্টেশন রোড়, রেয়াজ উদ্দীন বাজার কর্তৃক বিএসটিআই মান সনদ বিহীন মুধু বিক্রয়, বিতরণ ও ও সংরক্ষন করার অপরাধে বাংলাদেশ স্টান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন ২০১৮ অনুযায়ী ১টি, হাজী জালাল স্টোর, ১০৬ সোলতান মার্কেট, রেয়াজউদ্দীন বাজার, চট্টগ্রাম কর্তৃক মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ বিহীন অবৈধ ঘি বিক্রয়, বিতরণ ও সংরক্ষনের অপরাধে এবং মোর্সাস নাছিরের মুরগির দোকান(নাছির চিকেন হাউজ), জলিল টাউয়ার, আবদুল্লাহ সিদ্দিকী রোড়, রেয়াজ উদ্দীন বাজার, চট্টগ্রামকে ওজনে কারচুপি করায় প্রতিষ্ঠান দু’ টির বিরুদ্ধে “ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড আইন ২০১৮” অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা কালে বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ মোস্তফা, পরিদর্শক মুকুল মৃদা, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস ও ক্যাব পাঁচলাইশ থানার সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।

নগরীর প্রশাসনের নাগের ডগায় নগরীর অন্যতম পাইকারী ও খুচরা বাজার বেয়াজউদ্দীন বাজারের মতো জায়গায় এখনও বাটখারা দিয়ে ওজন পরিমাপ করা হচ্ছে। যাতে দেখা যাচ্ছে মুরগিতে ১ কেজিতে দেয়া হচ্ছে ৭৭৬ গ্রাম আর ২ কেজিতে ১.৫৩৯ গ্রাম। বাজার তদারিকেতে উপস্থিত ক্যাব নেতৃবৃন্দ হতবাক হয়ে যান কিভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন লোকজনের নজরদারি সত্বেও একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা কিভাবে এ ধরনের প্রতারণা করে যাচ্ছেন।

বিএসটিআই এর “ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড আইন ২০১৮” অনুযায়ী বাজারে বাটখারার পরিবর্তে ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার করার কথা এবং ওজন পরিমাপ যন্ত্রটির মান বছরে একবার বিএসটিআই কর্তৃক ক্যালিব্রেশন/পরিক্ষীত হবার কথা থাকলেও কোনটিই করা হয়নি। অধিকন্তু পরিমাপ যন্ত্রটির ক্যালিব্রেশন/পরীক্ষার স্টিকার/সনদটি দৃশ্যমান স্থানে লটকানোর কথা থাকলেও সাধারনত তা মানা হয় না। ব্যবসায়ীরা এমন ভাবে স্টিকারটি রাখেন যাতে শুধুমাত্র বিএসটিআইএর কর্মকর্তারা পরিদর্শনের সময় দেখতে পান। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতা ওজনে কারচুরি শিকার হচ্ছেন।

বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম রেজার সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, বিএসটিআই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ল্যাব) সর্দার শামীম সওদাগর, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব পাঁচলাইশের সাধারন সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর ও চট্টগ্রাম ড্রিংকিং ওয়াটার ওয়ানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সম্পাদক ফয়সল আবদুল্লাহ আদনান, ক্যাব যুব গ্রুপের শেখ জাবের আল মিজান প্রমুখ।

সভায় বলা হয় ভোক্তারা খাদ্য-পণ্য ছাড়াও ক্রেতারা ওজন ও পরিমাপে কারচুপির শিকার হলেও প্রতিকার পাওয়া দুস্কর। ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্রগুলিতে ডিজিটাল উপায়ে কারচুপি করা হচ্ছে। আর ওজন যন্ত্রটি বিএসটিআই থেকে ক্যালিব্রেশন করার পর স্টিকারটি যথাযথভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে না। ফলে ভোক্তারা বৈধ ক্যালিব্রেশণ যন্ত্র দিয়ে পণ্য ক্রয় করার বিষয়ে জানতে পারছে না। ভোক্তাদেরকে ওজন ও পরিমাপকে কারচুপি বন্ধে বাজারভিক্তিক ব্যবসায়ীদের সাথে সচেতনতা সভা আয়োজন করা ও যৌথভাবে ওজন ও পরিমাপক মনিটরিং জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়াও অনেকগুলি খাদ্য-পন্য ব্যবসায়ীরা একটি পণ্যের লাইসেন্স নিয়ে ৮/১০ পন্য বাজারজাত করছে। আবার ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে আউট র্সোসিং করে খাদ্য-পণ্য বাজারজাত করছেন। কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলি যে উৎস থেকে খাদ্য-পণ্য সংগ্রহ করছেন তার মান বিএসটিআই কর্তৃক সনদ প্রাপ্ত নয়। এ ধরনের বিষয়গুলি রোধে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় করা এবং খাতঅনুযায়ী প্রাপ্ত অনিয়মগুলি সভায় উপস্থাপন করা এবং বাজার মনিটরিং বিষয়গুলি অগ্রাধিকার ভাবে সমাধান করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

ক্যাব নেতৃবৃন্দ নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পণ্য নিশ্চিতে অত্যধুনিক মান পরীক্ষাগার সুবিধার বিষয়টি উত্থাপন করেন। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সিংহভাগ খাদ্য-পণ্য আমদানি হলেও অধিকাংশ পণ্যের মান পরীক্ষা করা হয় ঢাকায়। সেকারনে ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এবং ব্যায় বাড়ছে। বিএসটিআই আঞ্চলিক পরিচালক জানান ভবন সংকটের কারনে চট্টগ্রামে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকার পরেও পণ্যের মান পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। ভবন সংকট দূরীভুত হলে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে। পরে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বিএসটিআইএর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন মান পরীক্ষায় ল্যাব এর সম্প্রসারিত সুবিধাগুলি পর্যবেক্ষন করেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 12:22 pm
জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার উপজেলার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী আমির হোসেন জানান, আমার একটি জায়গার দখল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আরমান তার ভাই ও তাদের সহযোগীরা আমার কাছে চাঁদাদাবি করে এবং আমাকে আমার ক্রয়কৃত জায়গা থেকে দখল উচ্ছেদ করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ হিসেবে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্ত করবেন।

মামলায় আরমান উদ্দিনের পাশাপাশি তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা জানান।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওইসময় দোকান থেকে ১২টি তিন-পাটের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা। এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবনের ওপরের তলার ভাড়াটিয়াদের কাছে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাসা তাদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়, সে কথাও বলেন আসামিরা। ঘটনার সময় বাদী প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে বসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে বলেন, তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে। আসামি আদিল চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বাদী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। পরে মামলা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। অফিসিয়ালি আমার কাছে এখনো কোন নির্দেশ আসে নি।

অভিযুক্ত আরমান উদ্দীন বলেন, মামলায় ঘটনার যেই তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে তার অনেক আগে থেকেই আমি ও আমার ভাই আরিফ সৌদি আরবে অবস্থান করছি। আর আমি যে বাদীকে কল দিছি এমন তথ্যও দিতে পারবে না। বাদীকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না,সেও আমাকে চিনবে কি না সন্দেহ আছে।

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।