খুঁজুন
, ,

কে লিখবে উপজেলা সংবাদকর্মীদের গল্প?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 6 October, 2020, 1:06 am
কে লিখবে উপজেলা সংবাদকর্মীদের গল্প?

২৪ ঘণ্টা : মা বলছে ছেলেকে কিরে খোকা এবারে পুজায় আমাকে শাড়ি কিনে দিবিতো? সারাদিন ক্যামেরা আর একটা মাইক্রোফোন নিয়ে হোন্ডা নিয়ে ঘুরে বেড়াস রাতে ফিরে আমাকেতো টাকা দিস না বৌমাকে টাকা রাখতে দিসতো সামনেতো পুজা কিছুইতো বলিস না বুঝতে পারছিনা?

কি করবো বল মা, এটা যে আমার কর্তব্য সময় মত খবর প্রকাশ না করতে পারলে চলবে কি করে। আমরা যে এ কাজের জন্য সামান্য কিছু বেতন পাই আবার কেউ পায়না মা। আর তুমি পুজায় শাড়ি চাচ্ছো তাঁতে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। শুনছিলাম মা এবার নাকি সাংবাদিকরা করোনার কারনে প্রোনোদনা পাবে,আমিও পাবো মনে করেছিলাম আর সেটাকা দিয়ে তোমাকে ভাল একটা শাড়ি কিনে দিব। কিন্তু সে টাকা আমি পেলাম না কারন হয়ে দাঁড়ালো আমি যে উপজেলার।

আর কে বা লিখবে আমাদের এ কথার গল্প মা। স্ত্রী রাখো তোমার এসব কথা আগের রাতে নিউজ কভার করতে গিয়ে সারারাত ফিরলে না, ফোনটাও তোমার বন্ধ। তোমার চিন্তায় সারারাত আমি না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমাদের অপেক্ষার বেতন কত পেলাম তাহলে। ছেলে টাও সারারাত বাবা বাবা বলে কাঁদছিল, পাবেই বা কত বেতন।

শোন আমরা সংবাদকর্মী এটা নিয়ে ঠিকমতো অনেক অভিজ্ঞতার ব্যাপার বুক ফুলিয়ে বলতে তো পারো তোমার স্বামী একজন সংবাদকর্মী। আরো দশটা পেশার মত আমাদের টাও দেশের জন্য খুবই দরকার। আমরা খবর সংগ্রহ করে প্রিন্ট ইলেক্ট্রিক মিডিয়ায় প্রকাশ করি বলেই তো তোমরা ঘরে বসে সব কিছু জানতে পারো। এখান থেকে অনেক দূরে এখন কি হচ্ছে তা মূহুর্তেই জানা যাচ্ছে।

মা, নারে বাবা সেদিন তোর ছেলেকে নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম নতুন জামার জন্য খুব বায়না ধরেছে, আর তুমি যে টাকা দাও তাতেতো জামা কিনে দিলে এমাস না খেয়ে থাকতে হবে। তাই আমি কোন মতে বুজিয়ে নিয়ে এসেছি। তারপর তুমি সারাদিন না খেয়ে থাকলে আমি দুশ্চিন্তায় থাকি এই বুঝি তোর একটা কিছু হয়ে গেল গত বছর বছর ঝামেলায় জড়িয়ে পায়ের একটা চোট নিয়ে বাড়ি ফিরলি, এই রক্তের দাম কি কেউ তোমাকে দিয়েছে।

ছেলের জন্য এত চিন্তা করো নাতো মা না বাবা আমার মত তুমিও একদিন যখন হবে তখন আমার কথা বুঝবে। মা তুমি আর তোমার নাতি  এরকম করলে তোমার বৌমা তো ছেলেমানুষি করবেই ওদেরকে তো তুমি ভরসা দিবে মা, ছেলে আচ্ছা ঠিক আছে? সাবধানে থেকো মা এখন যে করোনার  উপদ্রব তাতে বাড়ি থেকে একদম বেরিও না। এখন আমি আসি মা, এই তোমরা খেয়ে নিও স্ত্রী যাবার সময় ব্যাগটা কাধে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিন বছরের ছেলেটা  হাতের আঙ্গুল ধরে বলল আমার জন্য কি আনবে বাবা, আর কখন ফিরবে তুমি, জানো বাবা তোমার যখন আসতে দেরি হয় তখন মা আর দিদি খুব চিন্তা করি আচ্ছা বাবা খুব তাড়াতাড়ি আসবো। এখন আসি একথা বলে বেরিয়ে গেল।

এরপর শুরু হলো জেলার সংবাদকর্মীর মত উপজেলার সংবাদকর্মীরা পাঠকের খবর জোগাড়ের দৌড়, এভাবেই প্রতিদিন তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে ওদের দেখা হয় কতশত খবর সংগ্রহ নিয়ে আসে তারা, আজ কে খুন হলো, কে মাঝ রাস্তায় পড়ে মারা গেল, কার নামের পাশে উপাধি যুক্ত হল, কোন শিশুটা রাস্তার পাশে জলাশয় থেকে উদ্ধার হল। এতসব খবর ওরা আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরে। আবার খবর মন মত না হলে শুনতে হয় অফিস থেকে নানা কথা। তখনো হায়ার লেভেল থেকে শুনতে হয় অনেক কথা। কিছু ভুল খবর প্রকাশিত হলে জনগণের রেশে পড়তে হয় সংবাদকর্মীদের। খরা বন্যা বজ্রপাতে ওদের থামতে মানা, কারণ ওরা থেমে গেলে দেশ থেমে যাবে।

সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে কে কখন কোথাও বিশাল কোন জনসভাতে উপরতলার মানুষের সামান্য কথা তুলে ধরবার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়তে হয় তাদের।তবুও হয়তো অনেক সময় দেখা মিলে না উপর তলার লোকদের সাথে। আসলে ওদের নিজেদের কাজটাই ওরকম। সবার জন্য সমানভাবে খবর দেয়ার চেষ্টা করলেও সামান্যতম ভুলভ্রান্তি তে ওদের নিয়ে চুল ছেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়, সঠিক খবর সঠিক সময় পৌঁছে দেয়ার জন্য বনে জঙ্গলে বাজারে শহরে নদীতে যেখানে সেখানে বিধি নিষেধ শর্তেও ওদের চলতে হয়। দুই পক্ষের মাঝখানে ও কখনো কখনো মাথা ফাটিয়ে আসতে হয় তাদের।সংবাদকর্মীরা প্রতি নিহত হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে আপডেট জোগাড় করে আমাদের জন্য আজ কতজন করোনায় পেশেন্ট বাড়লো আমরা বাড়িতে বসে সব পেয়ে যাই। তার জন্য ওরা প্রাণপর লড়াই করে ওরা মৃত্যু জানের পিছু পিছু ছুটতে থাকে শেষ দৃশ্যটা কাভার দেওয়ার জন্য ওরা সংবাদকর্মী রোবট না কিন্তু, তার পরেও ওদের নিয়ে মজা করে এবং ওদের কে নিয়ে অনেকে হাসাহাসিও করেন।

একবার ওদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দেখুন উপজেলার সাংবাদিকদেরোতো পরিবার আছে, তাদের জীবনের মূল্যতো আছে? কেনই বা পেলনা করোনার প্রনোদনা সে কথা আজো ঘুরপাক খাচ্ছে? অথচ ওরা নিজেও জানেনা আজ বেরিয়ে গেলেও আগামী কাল আদৌ ফিরবে কিনা, আপনার বাড়ীর ছেলেরা যতটা ইনভাইট গাল করে ওরাও কিন্তু ততটাই পরিশ্রম করছে ওই জায়গায় দাঁড় করার জন্য ওদেরকে অনেক খরকুঠো কুড়াতে হয়েছে সংবাদকর্মূরা শুধু বেতন ভক্ত কর্মচারী না ভেবে দেখুন ওদেরও একটু সম্মান দিন। ওরা পেটের দায়ে এসব কাজ করছে তা নয় অনেক সাংবাদিক বেতন পর্যন্ত পায়না। ওরা একটা ভালোবাসার জায়গা অনেক পরিশ্রম করে তবেই এই জায়গা অর্জন করেছে। আমরা তো বাড়িতে বসে এসব খবর দেখি আর ওরা মৌমাছির মতো খবর সংগ্রহ করে আনেও  আমরা সব সময় সবকিছু সবার আগে জানাতে জানতে পারি।তারপরোও এবার করোনার নামে প্রেরিত প্রেরণা কেনই যে উপজেলা সংবাদকর্মীরা পেলনা?

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও

Feb2

টাইব্রেকারে মিসের মহড়া, ডাচদের বিদায় করল মরক্কো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 10:34 am
টাইব্রেকারে মিসের মহড়া, ডাচদের বিদায় করল মরক্কো

ম্যাচের মতো ফল নির্ধারণী টাইব্রেকারেও নাটকীয়তার জন্ম দিলো মরক্কো-নেদারল্যান্ডস। স্নায়ুরক্ষার এই লড়াইয়ে উভয় দলই যেন একের পর এক মিসের মহড়ায় নেমেছিল। মরক্কো মিস করার পর একইভাবে ডাচরাও মিস করেছে। শেষ পর্যন্ত পাঁচটি করে শট নেওয়ার পর ৩-২ ব্যবধানে ডাচদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় জানাল মরক্কো।

পাঁচ মিস, এক হাতে ইয়াসিন বুনোর সেভ এবং বার্ট ভেরব্রুখেন ঠেকানোর পরেও লাইন ক্রস। অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় এক পেনাল্টি শ্যুটআউটে ডাচদের বিদায় এবং মরক্কোর শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়েছে। ৯০ মিনিট এবং এরপর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে স্কোরলাইন ১–১ থাকায় খেলা গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে।

যেখানে টানা প্রথম শটে গোল করেন নেদারল্যান্ডসের টিউন কুপমেইনার্স। পরের দুটি শটে মিস করেন মরক্কোর নেইল এল আয়নাউয়ি এবং ডাচ ফরোয়ার্ড জাস্টিন ক্লাইভার্ট। সুফিয়ান রাহিমি সমতায় ফেরান মরক্কোকে। নিজেদের তৃতীয় শটে দ্বিতীয় গোল পায় নেদারল্যান্ডসও, দিয়েছেন ভাউট ভেগহোর্স্ট। এরপর শেমসদিন তালবির গোলে মরক্কোকে ফের সমতায় ফেরানোর পর ডাচদের পক্ষে বাইরে শট মেরে বসেন কুইন্টেন টিম্বার্স।

গোলপোস্টে শট নিয়ে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি নাটকীয়তার জন্ম দেন। এরপর বুনো ঠেকিয়ে দেন সামারভিলের শট। তবে পঞ্চম ও শেষ শটে সাইবারি ভুল করেননি। গোল দিয়েই জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে মেতেছেন।

টাইব্রেকারে জার্মানিকে প্রথমবার হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 8:37 am
টাইব্রেকারে জার্মানিকে প্রথমবার হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

২০১৪ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জার্মানি টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। এবার তারা দাপট দেখিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে এক যুগ পর নকআউটে উঠেছিল। কিন্তু আর বেশি পথ চলতে পারল না চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপে প্রথমবার টাইব্রেকারে হার দেখে বিদায় নিলো তারা। নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে সমতায় থেকে শেষ হয়, তারপর অতিরিক্ত সময়েও একই স্কোর ছিল। পেনাল্টি শুটআউটে আর পেরে ওঠেনি জার্মানরা। ফক্সবোরোতে শেষ ৩২ এর ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে তাদের হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে।

চলতি বিশ্বকাপে তৃতীয় নকআউট ম্যাচেই দেখা মেলে টাইব্রেকারের। বিশ্বকাপে দুই দলেরই পেনাল্টি শুটআউটে শতভাগ সাফল্য ছিল। চারটি শুটআউটেই জিতেছে জার্মানি। এছাড়া বড় টুর্নামেন্টে তারা সাতবার টাইব্রেকারে চারবারই জিতেছিল।

১৯৭৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে হারের পর টানা ছয়টি জয় ছিল তাদের। কিন্তু এবার পারল না। বিশ্বকাপে এর আগে দুই দলের একবারই দেখা হয়েছিল। ২০০২ সালের আসরে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে প্যারাগুয়েকে হারায় জার্মানি। ২৪ বছর পর সেই হারের শোধ তুলল দক্ষিণ আমেরিকান দেশটি।

এর আগে প্যারাগুয়ে পাঁচবার নকআউটে খেললেও কোনোটিতে গোল করতে পারেনি। এর মধ্যে কেবল একবার তারা নকআউটে জিতেছিল, ২০১০ সালের টুর্নামেন্টে তারা পেনাল্টি কিকে জাপানকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। ওইবারই তারা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র টাইব্রেকার পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল। কিন্তু শেষ আটে তারা হেরে যায় ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপের পর প্রথমবার নকআউটে খেলতে নেমেছিল জার্মানি। ওইবার ফাইনালে তারা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চতুর্থ ট্রফি জিতেছিল।

পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানি প্রথম শটেই হোঁচট খায়। কাই হ্যাভার্জের বুলেটগতির শট প্যারাগুয়ে গোলকিপার গিল তার বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন। মাউরিসিও প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন ন্যয়ারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে। জার্মানির জোশুয়া কিমিখ কোনোমতে জালে বল জড়াতে পারেন। গুস্তাভো গোমেজ প্যারাগুয়েকে ২-১ গোলে এগিয়ে রাখেন। জামাল মুসিয়ালা তৃতীয় শটে সফল হন। প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজাও লক্ষ্যভেদে করেন।

জার্মানিকে আবার রুখে দেন গিল। চতুর্থ শটে দ্বিতীয় মিস করে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। নিকো ওল্টারমেডের নিচু শট ঠেকান প্যারাগুয়ান কিপার। চতুর্থ শটে সফল হলেই প্যারাগুয়ের জয় নিশ্চিত, কিন্তু অ্যান্তনিও সানাবরিয়া দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে বল মারেন। নাদিয়েম আমিরি পঞ্চম শটে গোল করে জার্মানদের টিকিয়ে রাখেন। তবে ন্যয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেভে প্যারাগুয়েকে হতাশ করেন। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনাকে রুখে দেন জার্মান কিপার। টাহ সেই উত্তেজনায় জল ঢালেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল মেরে। দুইবার সুযোগবঞ্চিত প্যারাগুয়ে পরের শটে জাল কাঁপায়। জোসে ক্যানেলের শক্তিশালী শট এবার জালে জড়াতে বাধা পায়নি।

১২ বছরে প্রথমবার নকআউট খেলতে নেমে জার্মানি বড় ধাক্কা খায় বিরতির ঠিক আগে। বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পর গোল হজম করে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবে বিরতির পর তারা গোল শোধ দেয়। আর ব্যবধান বাড়েনি। তাতে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

৪২তম মিনিটে জুলিও এনকিসো নিচু হেডে জার্মানির জালে বল ঠেলে দেন। ম্যানুয়েল ন্যয়ারের কিছুই করার ছিল না। এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় প্যারাগুয়ে। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানরা। ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান উইর্টজের ক্রসে কাই হ্যাভার্জের মাথায় আলতো ছোঁয়া লেগে জালে জড়ায় বল। ১-১ গোলে সমতা ফেরায় জার্মানি। পরে স্কোরে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফল নির্ধারণে আরও ৩০ মিনিট খেলতে হচ্ছে দুই দলকে।

জার্মানির গোলে শোধের চার মিনিট পর গুস্তাভো কাবায়েরোর হেডে প্যারাগুয়ে সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে ন্যয়ার সেভ করেন। ৬৬ মিনিটে লেরয় সানের একটি শট প্যারাগুয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। হ্যাভার্জের আরেকটি হেড রুখে দেন প্রতিপক্ষ কিপার অরল্যান্ডো গিল। ইনজুরি টাইমে জোনাথন টাহের একটি হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকান গিল। মূলত প্যারাগুয়ান কিপারের নৈপুণ্যে জার্মানরা গোলের দেখা পায়নি।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০২ মিনিটে জার্মানি ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার কিক থেকে আসা বলে জোনাথন টাহ হেড করে গোল করেন। বল গিলের নাগালের ঠিক ওপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, শট নেওয়ার আগে ভালডেমার আন্তন গিলকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন এবং গোলটি বাতিল করা হয়।

প্যারাগুয়ে আগামী ৪ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মঙ্গলবারের ফ্রান্স ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচে জয় পেলে তারা ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য ফক্সবোরোতে ফিরে আসবে।

দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 1:13 am
দারুণ প্রত্যাবর্তনে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার আর এক মিনিটও বাকি নেই। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল। তাতে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল ব্রাজিল।

প্রথমার্ধে গোল খাওয়া ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছে। দলে পরিবর্তন এনেছে তারা। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে মাঠে নামানো হয়েছে। বিরতির পর ব্রাজিল ছন্দে ফেরে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো গোল শোধ দেন।

এর আগে হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দেয়। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জাপান।

অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।

৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।

জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।

১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায় জাপান। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। ৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। সুযোগও তৈরি করে একাধিকবার। ৫০ মিনিটে একটি দূর থেকে বাড়ানো বল ধরে এন্দ্রিক তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে বলটি গ্লাভসবন্দি করেন।

৫২ মিনিটে দানিলোর বাড়ানো একটি ক্রস থেকে গিমারেস বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে জোরালো হেড করেন, তবে সুজুকি দারুণভাবে ডাইভ দিয়ে সেটি রুখে দেন। ৫৫ মিনিটে কাসেমিরো খুব কাছ থেকে হেড করার পর তোমিয়াসু গোললাইনের ওপর থেকে বলটি প্রতিহত করেন এবং এরপর গোলপোস্টের সামনে জটলার সৃষ্টি হলে তিনি আবারও বল ব্লক করেন। জাপান পাল্টা আক্রমণে উঠলেও তাদের ক্রসটি একটু বেশি জোরে হয়ে যায়, যার ফলে সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়!

কিছুক্ষণ আগের সুযোগ মিস করার খেসারত চুকিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন কাসেমিরো! তার ৩ মিনিট পর ভিনিসিয়ুস বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ গতিতে তোমিয়াসুকে নাটমেগ করেন। বক্সের ভেতরে তিনি জাপানের আরেকজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে ড্রিবল করে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং ডাইভ দেওয়া সুজুকিকে ফাঁকি দিয়ে শট নেন; কিন্তু বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করে।

৭৫ মিনিটে জাপানি কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্তের উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়ুসকে বল বাড়ান এন্দ্রিক। ভিনিসিয়ুস গতি বাড়িয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে তার ডান পায়ে বল নেন, কিন্তু তার পাসটি ভুল জায়গায় চলে যায় এবং জাপানের রক্ষণভাগ বলটি ক্লিয়ার করে।