খুঁজুন
রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে লিখবে উপজেলা সংবাদকর্মীদের গল্প?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ
কে লিখবে উপজেলা সংবাদকর্মীদের গল্প?

২৪ ঘণ্টা : মা বলছে ছেলেকে কিরে খোকা এবারে পুজায় আমাকে শাড়ি কিনে দিবিতো? সারাদিন ক্যামেরা আর একটা মাইক্রোফোন নিয়ে হোন্ডা নিয়ে ঘুরে বেড়াস রাতে ফিরে আমাকেতো টাকা দিস না বৌমাকে টাকা রাখতে দিসতো সামনেতো পুজা কিছুইতো বলিস না বুঝতে পারছিনা?

কি করবো বল মা, এটা যে আমার কর্তব্য সময় মত খবর প্রকাশ না করতে পারলে চলবে কি করে। আমরা যে এ কাজের জন্য সামান্য কিছু বেতন পাই আবার কেউ পায়না মা। আর তুমি পুজায় শাড়ি চাচ্ছো তাঁতে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। শুনছিলাম মা এবার নাকি সাংবাদিকরা করোনার কারনে প্রোনোদনা পাবে,আমিও পাবো মনে করেছিলাম আর সেটাকা দিয়ে তোমাকে ভাল একটা শাড়ি কিনে দিব। কিন্তু সে টাকা আমি পেলাম না কারন হয়ে দাঁড়ালো আমি যে উপজেলার।

আর কে বা লিখবে আমাদের এ কথার গল্প মা। স্ত্রী রাখো তোমার এসব কথা আগের রাতে নিউজ কভার করতে গিয়ে সারারাত ফিরলে না, ফোনটাও তোমার বন্ধ। তোমার চিন্তায় সারারাত আমি না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমাদের অপেক্ষার বেতন কত পেলাম তাহলে। ছেলে টাও সারারাত বাবা বাবা বলে কাঁদছিল, পাবেই বা কত বেতন।

শোন আমরা সংবাদকর্মী এটা নিয়ে ঠিকমতো অনেক অভিজ্ঞতার ব্যাপার বুক ফুলিয়ে বলতে তো পারো তোমার স্বামী একজন সংবাদকর্মী। আরো দশটা পেশার মত আমাদের টাও দেশের জন্য খুবই দরকার। আমরা খবর সংগ্রহ করে প্রিন্ট ইলেক্ট্রিক মিডিয়ায় প্রকাশ করি বলেই তো তোমরা ঘরে বসে সব কিছু জানতে পারো। এখান থেকে অনেক দূরে এখন কি হচ্ছে তা মূহুর্তেই জানা যাচ্ছে।

মা, নারে বাবা সেদিন তোর ছেলেকে নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম নতুন জামার জন্য খুব বায়না ধরেছে, আর তুমি যে টাকা দাও তাতেতো জামা কিনে দিলে এমাস না খেয়ে থাকতে হবে। তাই আমি কোন মতে বুজিয়ে নিয়ে এসেছি। তারপর তুমি সারাদিন না খেয়ে থাকলে আমি দুশ্চিন্তায় থাকি এই বুঝি তোর একটা কিছু হয়ে গেল গত বছর বছর ঝামেলায় জড়িয়ে পায়ের একটা চোট নিয়ে বাড়ি ফিরলি, এই রক্তের দাম কি কেউ তোমাকে দিয়েছে।

ছেলের জন্য এত চিন্তা করো নাতো মা না বাবা আমার মত তুমিও একদিন যখন হবে তখন আমার কথা বুঝবে। মা তুমি আর তোমার নাতি  এরকম করলে তোমার বৌমা তো ছেলেমানুষি করবেই ওদেরকে তো তুমি ভরসা দিবে মা, ছেলে আচ্ছা ঠিক আছে? সাবধানে থেকো মা এখন যে করোনার  উপদ্রব তাতে বাড়ি থেকে একদম বেরিও না। এখন আমি আসি মা, এই তোমরা খেয়ে নিও স্ত্রী যাবার সময় ব্যাগটা কাধে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিন বছরের ছেলেটা  হাতের আঙ্গুল ধরে বলল আমার জন্য কি আনবে বাবা, আর কখন ফিরবে তুমি, জানো বাবা তোমার যখন আসতে দেরি হয় তখন মা আর দিদি খুব চিন্তা করি আচ্ছা বাবা খুব তাড়াতাড়ি আসবো। এখন আসি একথা বলে বেরিয়ে গেল।

এরপর শুরু হলো জেলার সংবাদকর্মীর মত উপজেলার সংবাদকর্মীরা পাঠকের খবর জোগাড়ের দৌড়, এভাবেই প্রতিদিন তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে ওদের দেখা হয় কতশত খবর সংগ্রহ নিয়ে আসে তারা, আজ কে খুন হলো, কে মাঝ রাস্তায় পড়ে মারা গেল, কার নামের পাশে উপাধি যুক্ত হল, কোন শিশুটা রাস্তার পাশে জলাশয় থেকে উদ্ধার হল। এতসব খবর ওরা আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরে। আবার খবর মন মত না হলে শুনতে হয় অফিস থেকে নানা কথা। তখনো হায়ার লেভেল থেকে শুনতে হয় অনেক কথা। কিছু ভুল খবর প্রকাশিত হলে জনগণের রেশে পড়তে হয় সংবাদকর্মীদের। খরা বন্যা বজ্রপাতে ওদের থামতে মানা, কারণ ওরা থেমে গেলে দেশ থেমে যাবে।

সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে কে কখন কোথাও বিশাল কোন জনসভাতে উপরতলার মানুষের সামান্য কথা তুলে ধরবার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়তে হয় তাদের।তবুও হয়তো অনেক সময় দেখা মিলে না উপর তলার লোকদের সাথে। আসলে ওদের নিজেদের কাজটাই ওরকম। সবার জন্য সমানভাবে খবর দেয়ার চেষ্টা করলেও সামান্যতম ভুলভ্রান্তি তে ওদের নিয়ে চুল ছেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়, সঠিক খবর সঠিক সময় পৌঁছে দেয়ার জন্য বনে জঙ্গলে বাজারে শহরে নদীতে যেখানে সেখানে বিধি নিষেধ শর্তেও ওদের চলতে হয়। দুই পক্ষের মাঝখানে ও কখনো কখনো মাথা ফাটিয়ে আসতে হয় তাদের।সংবাদকর্মীরা প্রতি নিহত হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে আপডেট জোগাড় করে আমাদের জন্য আজ কতজন করোনায় পেশেন্ট বাড়লো আমরা বাড়িতে বসে সব পেয়ে যাই। তার জন্য ওরা প্রাণপর লড়াই করে ওরা মৃত্যু জানের পিছু পিছু ছুটতে থাকে শেষ দৃশ্যটা কাভার দেওয়ার জন্য ওরা সংবাদকর্মী রোবট না কিন্তু, তার পরেও ওদের নিয়ে মজা করে এবং ওদের কে নিয়ে অনেকে হাসাহাসিও করেন।

একবার ওদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে দেখুন উপজেলার সাংবাদিকদেরোতো পরিবার আছে, তাদের জীবনের মূল্যতো আছে? কেনই বা পেলনা করোনার প্রনোদনা সে কথা আজো ঘুরপাক খাচ্ছে? অথচ ওরা নিজেও জানেনা আজ বেরিয়ে গেলেও আগামী কাল আদৌ ফিরবে কিনা, আপনার বাড়ীর ছেলেরা যতটা ইনভাইট গাল করে ওরাও কিন্তু ততটাই পরিশ্রম করছে ওই জায়গায় দাঁড় করার জন্য ওদেরকে অনেক খরকুঠো কুড়াতে হয়েছে সংবাদকর্মূরা শুধু বেতন ভক্ত কর্মচারী না ভেবে দেখুন ওদেরও একটু সম্মান দিন। ওরা পেটের দায়ে এসব কাজ করছে তা নয় অনেক সাংবাদিক বেতন পর্যন্ত পায়না। ওরা একটা ভালোবাসার জায়গা অনেক পরিশ্রম করে তবেই এই জায়গা অর্জন করেছে। আমরা তো বাড়িতে বসে এসব খবর দেখি আর ওরা মৌমাছির মতো খবর সংগ্রহ করে আনেও  আমরা সব সময় সবকিছু সবার আগে জানাতে জানতে পারি।তারপরোও এবার করোনার নামে প্রেরিত প্রেরণা কেনই যে উপজেলা সংবাদকর্মীরা পেলনা?

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও

Feb2

কলেজছাত্রের বানানো গো-কার্ট চালিয়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
কলেজছাত্রের বানানো গো-কার্ট চালিয়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কলেজছাত্র রিজয়ান রশীদের তৈরি গো-কার্ট (রেসিং কার) পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান। এ সময় শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিতে তিনি নিজেই গো-কার্টটি চালিয়ে দেখান।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয় প্রাঙ্গণে গো-কার্টটি চালান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গো-কার্ট পরিদর্শনের সময় কলেজছাত্র রিজয়ান রশীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরে উদ্ভাবনী কাজের প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ বাড়াতে তিনি নিজেই গো-কার্টটি চালিয়ে দেখান এবং শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাবনী কাজে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।

 

এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে তথ্য লুকিয়ে বাংলাদেশ আসছে ‘এমটি নিনেমিয়া’। ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রার পর থেকে জাহাজটির অবস্থান সম্পর্কে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তবে জাহাজটি বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

বিএসসি বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশন সিস্টেম (আইএএস) বন্ধ রেখে লোহিত সাগর (রেড সি) পাড়ি দিয়েছে এমটি নিনেমিয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র রুটে চলাচল করার সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইএএস বন্ধ রেখে চলাচল করা অপরাধ নয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মালিকানাধীন একমাত্র পরিশোধন কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)। ইআরএলে পরিশোধনে ব্যবহৃত অপরিশোধিত জ্বালানি (ক্রুড অয়েল) শতভাগ আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ক্রুড আমদানি করে। আমদানিকৃত এসব ক্রুড পরিবহন করে বিএসসি। বিএসসি এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় মার্চ মাসে দুই লাখ ক্রুড পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়। এরমধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজ। প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে তার নিশ্চয়তা এখনো মিলেনি।

পাশাপাশি অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীতে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ এক লাখ টন ক্রুড লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের ট্যাংকার ভেসেলের যাত্রা বাতিল হয়। ফলে ক্রুড অয়েল সংকটে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যায় ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট। এরমধ্যে বিকল্প পথে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ ক্রুড নিয়ে এমটি নিনেমিয়া গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে।

তবে যাত্রার পর থেকে বৈশ্বিক ভেসেল ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইট থেকে এমটি নিনেমিয়া জাহাজটির অবস্থান ও গন্তব্যের তথ্য মিলছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘রেড সি পার হয়ে গালফ অব এডেন পেরিয়ে এসেছে। এখন এরাবিয়ান সি-তে আছে। তাদের জিপিএস চালু আছে। কিন্তু আইএএস সিস্টেম গতকালও বন্ধ পাওয়া গেছে। হয়তো ওনারের (মালিকপক্ষ) নির্দেশনা অনুযায়ী নিনেমিয়া জাহাজটি তাদের আইএএস বন্ধ রেখেছে। তবে মেইলে জাহাজের অবস্থান সম্পর্কে জেনেছি। মূলত সিস্টেমে কেউ অ্যাটাক করতে পারে এমন সন্দেহে হয়তো আইএএস বন্ধ রাখা হয়েছে।’

বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য বেশ কয়েকটি ভেসেল ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজটি চায়নার জোশান বন্দর থেকে ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের দিকে রওয়ানা দেয়। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি ১৯ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু আল বাহর বন্দরে পৌঁছে। ২০ এপ্রিল এক লাখ টন ক্রুড লোড করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়ার আগ পর্যন্ত জাহাজটির অবস্থান জানা সম্ভব হলেও এরপর থেকে জাহাজটির অবস্থান জানা যাচ্ছে না।

ভেসেল ট্র্যাকিং সংস্থা ভেসেল ফাইন্ডারের তথ্য বলছে, জাহাজটি ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রা করেছে। গন্তব্য দেখানো আছে- নো লিংক আইএসআর/ইউএস/ইউকে (ইসরায়েল/আমেরিকা/যুক্তরাজ্য)। পৌঁছানোর সময় দেখানো আছে ৫ মে সন্ধ্যা ৬টা।

ভেসেল ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এমটি নিনেমিয়াকে গত ২১ এপ্রিল লোহিত সাগরে দেখা গেছে। জাহাজটিকে চলন্ত অবস্থায় দেখা গেলেও গন্তব্য দেখাচ্ছে না সাইটটি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএসসির চার্টার প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জির বাংলাদেশে লোকাল এজেন্ট প্রাইম ওশান ট্রেড লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অপারেশন) মো. হাবিব বলেন, ‘আমরাও জাহাজটির (এমটি নিনেমিয়া) জিপিএস অবস্থান পাচ্ছিলাম না। তবে অফিসিয়ালভাবে আমরা অবস্থান জানতে পেরেছি। জাহাজটি রেড জোন পেরিয়ে এসেছে। নির্ধারিত শিডিউল এখনো ঠিক আছে। শিডিউল অনুযায়ী আগামী ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছবে।’

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহকৃত জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।

বিপিসি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। পরিবহন খাতে মোট বিক্রি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ জ্বালানি। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালীতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে অন্যান্য খাতে।

ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট বিক্রির ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফার্নেস অয়েল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮ টন, যা মোট বিক্রির ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পেট্রোল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অকটেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। কেরোসিন ৬৭ হাজার ৪৭৭ টন, যা মোট ব্যবহারের শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। জেট ফুয়েল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন, যা মোট ব্যবহারের ৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টন, যা মোট ব্যবহারের ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

এরমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন ডিজেল, ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২২৯ টন ফার্নেস অয়েল, ৫৯ হাজার ১৫০ টন পেট্রোল, ৫৬ হাজার ৯৩৪ টন কেরোসিন, ৫৭ হাজার ৪১৪ টন বিটুমিন, ১৬ হাজার ১৮৭ টন এলপিজি, ৮ হাজার ৭১ টন জেবিও এবং এক লাখ ৫৩ হাজার ৫২৯ টন ন্যাফতা পরিশোধন করে বিপিসিকে সরবরাহ করেছে ইআরএল।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এ জলপথকে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়েই পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে। দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর বিপরীতে ইসরায়েলসহ আশপাশের আরব দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। এ জলপথ বন্ধ হওয়ার বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।

জাহাজের তথ্য লুকিয়ে গন্তব্যে যাত্রার বিষয়ে কথা হলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন এনাম আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজগুলো আইএএস বন্ধ রাখে। জাহাজের মধ্যেই এ ধরনের সুযোগ থাকে। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বে অস্থিরতা চলছে। হরমুজের আশেপাশে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর আমেরিকা নজরদারি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজ বের হলেই আমেরিকা সন্দেহ করে। ওই এলাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘আগে প্রায় ৯০ শতাংশ এলপিজি ইরান থেকে আসতো। এজন্য বাংলাদেশে আসা ইরানি অনেক জাহাজে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ কারণেই হয়তো আমেরিকান বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এমটি নিনেমিয়া তাদের আইএএস বন্ধ রেখে, সিস্টেমে গন্তব্য আমেরিকা কিংবা ইউকে দেখিয়েছে।’

মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিয়াম ফাউন্ডেশনের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এর অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে বিএনপি সরকার বরাবরই দেশ ও জনগণের স্বার্থে একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চেয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকার এই ধারা অব্যাহত রাখতে চায়।

তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশায় ছিল। বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে আমলাতন্ত্রকে আরও জনমুখী হতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি বিয়াম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।