খুঁজুন
শনিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লজ্জাঃ সভ্যতার ঐশ্বর্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০, ৯:২১ অপরাহ্ণ
লজ্জাঃ সভ্যতার ঐশ্বর্য

আবদুল কাইয়ুম মাসুদ : ৯০ এর দশকের শেষের দিকের ঘটনা। আমার এক বন্ধু তার আত্মীয়ের পিচ্চির সাথে ঘটে যাওয়া খুব মজার এক ঘটনা বর্ণনা করলো। সেটি ছিলো এরকম, ছোট্ট বাবুটির সাথে সে দুষ্টুমির ছলে বলেছিলো, তোমার লজ্জা নেই, পিচ্চিও প্রাণপন চেষ্টা করছে তার লজ্জা আছে সেটা বুঝাবার। কিন্তু পিচ্চি তো পিচ্চিই, বড়দের সাথে কি আর পারে! এক পর্যায়ে সে প্যান্ট খুলবে খুলবে ভাব করছে, কিন্তু খুলছে না। মানে সে বুঝাতে চাইছে, লজ্জা আছে দেখে সে প্যান্ট পরছে। ৩/৪ বছরের বাচ্চা বুঝেছে প্যান্ট পরে সে লজ্জা ঢেকে রেখেছে। এতোটুকু বয়সে এটুকুই যথেষ্ঠ ছিলো। সেসময় পিচ্চির এ কাহিনি আমাদের হাসির উপলক্ষ হয়েছিলো। আমরা তখন অনার্সের ছাত্র ছিলাম।

ছোট্ট পিচ্চির জন্য লজ্জার আবরণ হিসেবে ছোট্ট একটি প্যান্ট পরার জ্ঞানই যথেষ্ঠ। এরপর মানব সন্তান যতো বড় হতে থাকে ততো এ আবরণের পরিসরও বাড়তে থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার কথা-বার্তা, আচার-আচরণ, খাওয়া-পরা, দেখা-সাক্ষাৎ, আলাপ-আলোচনা, স্নেহ-সম্মান, সৌজন্যতা-ভদ্রতা সর্বোপরি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি স্তরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে লজ্জার আবরণ থাকা বাঞ্চনীয় হয়ে দাঁড়ায়।

লজ্জা ন্যাচারাল একটি বিষয়। সব মানুষেরই লজ্জা থাকে; কারো বেশি, কারো কম। কিশোর বয়স থেকেই শরীরবৃত্তীয় নানা কারণে মানুষের মাঝে লজ্জার বিকাশ হতে থাকে। এই লজ্জাই সভ্যতার আবরণ হিসেবে মানুষকে সুশোভিত করে রাখে। অনৈতিক যে কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে স্বীয় লজ্জা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি অনেক স্বাভাবিক কাজও চক্ষু লজ্জার ভয়ে অনেককে এড়িয়ে যেতে দেখা যায়। আবার একই কারণে কাউকে কাউকে অনিচ্ছা সত্বেও অনেক কাজ করতেও দেখা যায়। যেমন মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেক মানুষ সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও নানান আচার অনুষ্ঠান করে যেতে দেখা যায়।

এককথায় বলতে গেলে মানুষকে আপনার ভেতর থেকে অনৈতিক, অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজে যেমন বাধা দেয় এ লজ্জা, তেমনি অনেক কল্যাণকর কাজেও তাড়া দেয়। অর্থাৎ লজ্জা যার যতো বেশি, সে ততো পরিশুদ্ধ থাকতে পারে। আবার উল্টো কথাও আছে, যার লজ্জা নেই, সে যে কোনো কিছু করতে পারে।

লজ্জার সঠিক বিকাশ যথাসময়ে হওয়া চাই। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বয়োসন্ধিকালীন খুব সতর্কতার সহিত এক্ষেত্রে বাচ্চাদের সহায়তা করা খুবই জরুরি, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য বিশেষ করে মা-বাবাকে এটির যথাযথ বিকাশে যেমন লক্ষ্য রাখতে হয় তেমনি লজ্জার কারণে সে যেনো কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে দিকটাও পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাকে শিখিয়ে দিতে হয় কোথায় লজ্জা করবে আর কোথায় সতর্ক হয়ে নিজেকে রক্ষা করবে। এখান থেকেই মূল্যবোধ জাগ্রত হয়।

এখন জেনে নিই, লজ্জা বলতে কী বোঝায়? এটির আরবি প্রতিশব্দ ‘হায়া’ আর ইংরেজি প্রতিশব্দ Shame, Modesty অথবা Inhibition (শালীনতা, সংযম, আত্মপ্রতিরোধ) কিন্তু কোনো ওয়ার্ডই ‘হায়া’র তাৎপর্য ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয় না। Shame এর বাংলা প্রতিশব্দ হয় লজ্জা/অপমান/গ্লানি। Modesty বলতে বোঝায় অশিষ্ট আচরণ থেকে দূরে থাকা; এক ধরনের নিস্তেজ সংকোচ। Modesty শব্দের বিপরীতার্থক বিশেষণ immodest কখনও কখনও প্রশংসাসূচক Courage অর্থাৎ সাহস বা নির্ভীকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। Inhibition (সংযম বা আত্মপ্রতিরোধ)-এর শাব্দিক অর্থ হলো, চেতন বা অবচেতন; এক ধরনের অর্ন্তনিহিত যান্ত্রিকতা যা অগ্রহণযোগ্য মানসিক প্রবণতা্র অবদমন করে রাখে। এটি খুবই নিরপেক্ষ একটি সংজ্ঞা। এজন্যই মনোচিকিৎসকরা তাদের রোগীদের ক্ষেত্রে Inhibition বা আত্মপ্রতিরোধকে জয় করার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন।

এই সকল শব্দ বা প্রতিশব্দে কাঙ্ক্ষিত নৈতিক মানে অস্পষ্টতা লক্ষ করা যায়। তবে ‘হায়া’ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একটি পরম কাঙ্খিত নৈতিক গুণ বুঝায়; যা আমাদেরকে সকল মন্দ,পাপকার্য ও অনৈতিকতা থেকে সুরক্ষা (Protection) দিয়ে থাকে। কোনো অপরাধকর্মে নিয়োজিত হওয়ার কথা ভাবলেই যেটির প্রভাবে আমরা ভেতরে-ভেতরে কষ্ট ও অস্বস্তি অনুভব করি, সেটিই ‘হায়া’ বা ‘লজ্জা’। এটি মানুষের সহজাত প্রবণতা। ইসলামে ‘হায়া’ বা লজ্জা নৈতিক ব্যঞ্জনাকে পরিস্ফুট করে। মানুষকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :‘প্রত্যেক ধর্মেরই একটি স্বতন্ত্র নৈতিক আহবান আছে, ইসলামের নৈতিক আহবান হলো হায়া’। এ বাণিটি সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে সংকলিত আছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল(সঃ) আরও বলেছেন, যা বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযি শরীফে সংকলিত হয়েছে…

‘লজ্জাশীলতা পূণ্য ও কল্যাণ ব্যতীত আর কিছুই আনয়ন করে না। অন্য বর্ণনায় আছে লজ্জার সর্বাংশই উত্তম।’

‘লজ্জা ও অল্প কথা বলা ঈমানের দু’টি শাখা আর অশ্লীলতা ও বাকপটুতা (বাচালতা) মুনাফিকীর দু’টি শাখা।’

উপরে উল্লিখিত বাণি হতে প্রতিয়মান হয় যে, মনুষ্যত্ব ও লজ্জাশীলতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। লজ্জা ভদ্র লোকের ভূষণ আর নির্লজ্জতা মুনাফিকের অস্ত্র। সুতরাং সভ্য নর-নারীর জন্য সেই ভূষণ আঁকড়ে থাকা অপরিহার্য।

উপর্যুক্ত শিক্ষার ভিত্তিতেই ইসলামের স্বর্ণযুগে এক বিস্ময়কর ও বহুমাত্রিক নৈতিক বিপ্লব সাধিত হয়েছিলো, ‘হায়া’ বা লজ্জা ছিলো সেই যুগের ভীত, মহা মূল্যবান ঐশ্বর্য। আজও বিশ্বব্যাপী প্রতি শুক্রবার যে-জুমআর খুতবা প্রদান করা হয় সেখানে এখনো ইসলামের তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদিনা হযরত উসমান (রা:) এর কথা উল্লেখ করা হয়, যিনি ছিলেন সর্বাধিক লজ্জাশীল (আসদাকুহুম হায়া)। ইসলামে ‘হায়া’ লজ্জা অনেক বেশি উচ্চমূল্যে গৃহীত ও অভিনন্দিত হয়।

ইসলামে যে পর্দার বিধান, নারী পুরুষের মেলামেশার ক্ষেত্রে ইসলামের যে বিধিনিষেধ, পুরুষ ও নারীর সম্পর্কের বিষয়ে ইসলামের যে শিক্ষা, তার সবই হায়া থেকে উৎসারিত।

খেলাফতের পরও শতাব্দীর পর শতাব্দী মুসলিম সমাজে হায়া, লজ্জাশীলতা বা সম্ভ্রমবোধ অক্ষত ছিলো। তিন শতাব্দী আগে মুসলিম দেশগুলো যখন একে একে পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনস্থ হলো, সেসময় তারা এমন এক সভ্যতার মুখোমুখি হলো, যার সাথে অনেক ক্ষেত্রে হায়া বা লজ্জাশীলতার দ্বন্দ্ব দেখা দিলো। নবাগত পশ্চিমা সভ্যতা কিছু ক্ষেত্রে নৈতিক মানে উন্নীত হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা হায়া বা মুল্যবোধে কুঠারাঘাত করতে থাকে। ফলে উদ্ভুত নির্লজ্জ পরিস্থিতি একসময় বর্বরতায় রূপ নেয়।

বন্দুকের জোরে তাদের যে সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলো, সেই পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিমসমাজ প্রায় সামষ্টিকভাবে তাদের এতোদিনের লালিত হায়া বা লজ্জাশীলতার ঐশ্বর্য হারিয়ে নিঃস্ব হতে থাকলো। পশ্চিমাদের শক্তিশালী ও প্রলুব্ধকর প্রচার হয়ে উঠল সেই যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার। প্রথমে বই-পুস্তক, ম্যাগাজিন ও সংবাদপত্র দিয়ে শুরু; তারপর এলো রেডিও, টেলিভিশন আর এখন ইন্টারনেট। শুরু হলো বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ আর সাংস্কৃতিক বিনিময়। এক্ষেত্রে কিছু কিছু ভালো দিক যেমন রয়েছে তেমনি অনেকাংশে মানুষের স্বভাবগত লজ্জার খোলস থেকে বের করে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া।

ফলতঃ এমন সব ধারণা ও মনোভাবের প্রসার ঘটাতে থাকলো, যা ‘হায়া’র জন্য খুবই ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক। তারা অশ্লীলতাকে করে তুললো হৃদয়গ্রাহী ও আকর্ষণীয়। আর বেহায়াপনার এই গতি অভাবনীয়রূপে বৃদ্ধি পেতে থাকলো; যা এখন পূর্ববর্তী সকল সম্মিলিত প্রচারের চেয়েও বহুগুণ ক্ষমতাধর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

এই করুণ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি ও পরিত্রাণ লাভের জন্য আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ‘হায়া’ অর্থাৎ লজ্জাবোধকে যথাযথ বিবেচনায় গ্রহণ করতে হবে। অশ্লীলতার প্রসার যতোই হোক, নিজের ভেতর থেকে তা প্রতিরোধের নৈতিক শক্তি যেনো আগামী প্রজম্ম পায় ‘হায়া’র ভিত্তিতে সে শিক্ষা তাদের দেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নৈতিকতা ছাড়া ইসলামী জীবন হয় না; আর ‘হায়া’ ছাড়া ইসলামী নৈতিকতার ভিত্তি মজবুত হয় না। এ কথাটি আমাদের হৃদয়ে গেঁথে নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

লেখক: প্রভাষক,
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ
কর্ণফুলী এ জে চৌধুরী কলেজ
চট্টগ্রাম।

Feb2

কলেজছাত্রের বানানো গো-কার্ট চালিয়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
কলেজছাত্রের বানানো গো-কার্ট চালিয়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কলেজছাত্র রিজয়ান রশীদের তৈরি গো-কার্ট (রেসিং কার) পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান। এ সময় শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনকে উৎসাহ দিতে তিনি নিজেই গো-কার্টটি চালিয়ে দেখান।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয় প্রাঙ্গণে গো-কার্টটি চালান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গো-কার্ট পরিদর্শনের সময় কলেজছাত্র রিজয়ান রশীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরে উদ্ভাবনী কাজের প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ বাড়াতে তিনি নিজেই গো-কার্টটি চালিয়ে দেখান এবং শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাবনী কাজে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।

 

এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে তথ্য লুকিয়ে বাংলাদেশ আসছে ‘এমটি নিনেমিয়া’। ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রার পর থেকে জাহাজটির অবস্থান সম্পর্কে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তবে জাহাজটি বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

বিএসসি বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশন সিস্টেম (আইএএস) বন্ধ রেখে লোহিত সাগর (রেড সি) পাড়ি দিয়েছে এমটি নিনেমিয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র রুটে চলাচল করার সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইএএস বন্ধ রেখে চলাচল করা অপরাধ নয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মালিকানাধীন একমাত্র পরিশোধন কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল)। ইআরএলে পরিশোধনে ব্যবহৃত অপরিশোধিত জ্বালানি (ক্রুড অয়েল) শতভাগ আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ক্রুড আমদানি করে। আমদানিকৃত এসব ক্রুড পরিবহন করে বিএসসি। বিএসসি এসব ক্রুড পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় মার্চ মাসে দুই লাখ ক্রুড পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়। এরমধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন ক্রুড লোড করে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের ট্যাংকার জাহাজ। প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে তার নিশ্চয়তা এখনো মিলেনি।

পাশাপাশি অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীতে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ এক লাখ টন ক্রুড লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের ট্যাংকার ভেসেলের যাত্রা বাতিল হয়। ফলে ক্রুড অয়েল সংকটে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যায় ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট। এরমধ্যে বিকল্প পথে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে এক লাখ ক্রুড নিয়ে এমটি নিনেমিয়া গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে।

তবে যাত্রার পর থেকে বৈশ্বিক ভেসেল ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইট থেকে এমটি নিনেমিয়া জাহাজটির অবস্থান ও গন্তব্যের তথ্য মিলছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘রেড সি পার হয়ে গালফ অব এডেন পেরিয়ে এসেছে। এখন এরাবিয়ান সি-তে আছে। তাদের জিপিএস চালু আছে। কিন্তু আইএএস সিস্টেম গতকালও বন্ধ পাওয়া গেছে। হয়তো ওনারের (মালিকপক্ষ) নির্দেশনা অনুযায়ী নিনেমিয়া জাহাজটি তাদের আইএএস বন্ধ রেখেছে। তবে মেইলে জাহাজের অবস্থান সম্পর্কে জেনেছি। মূলত সিস্টেমে কেউ অ্যাটাক করতে পারে এমন সন্দেহে হয়তো আইএএস বন্ধ রাখা হয়েছে।’

বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য বেশ কয়েকটি ভেসেল ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজটি চায়নার জোশান বন্দর থেকে ৮ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের দিকে রওয়ানা দেয়। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটি ১৯ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু আল বাহর বন্দরে পৌঁছে। ২০ এপ্রিল এক লাখ টন ক্রুড লোড করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়ার আগ পর্যন্ত জাহাজটির অবস্থান জানা সম্ভব হলেও এরপর থেকে জাহাজটির অবস্থান জানা যাচ্ছে না।

ভেসেল ট্র্যাকিং সংস্থা ভেসেল ফাইন্ডারের তথ্য বলছে, জাহাজটি ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রা করেছে। গন্তব্য দেখানো আছে- নো লিংক আইএসআর/ইউএস/ইউকে (ইসরায়েল/আমেরিকা/যুক্তরাজ্য)। পৌঁছানোর সময় দেখানো আছে ৫ মে সন্ধ্যা ৬টা।

ভেসেল ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এমটি নিনেমিয়াকে গত ২১ এপ্রিল লোহিত সাগরে দেখা গেছে। জাহাজটিকে চলন্ত অবস্থায় দেখা গেলেও গন্তব্য দেখাচ্ছে না সাইটটি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএসসির চার্টার প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জির বাংলাদেশে লোকাল এজেন্ট প্রাইম ওশান ট্রেড লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অপারেশন) মো. হাবিব বলেন, ‘আমরাও জাহাজটির (এমটি নিনেমিয়া) জিপিএস অবস্থান পাচ্ছিলাম না। তবে অফিসিয়ালভাবে আমরা অবস্থান জানতে পেরেছি। জাহাজটি রেড জোন পেরিয়ে এসেছে। নির্ধারিত শিডিউল এখনো ঠিক আছে। শিডিউল অনুযায়ী আগামী ৬ মে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছবে।’

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহকৃত জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।

বিপিসি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। পরিবহন খাতে মোট বিক্রি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ জ্বালানি। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালীতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে অন্যান্য খাতে।

ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট বিক্রির ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফার্নেস অয়েল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮ টন, যা মোট বিক্রির ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পেট্রোল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অকটেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। কেরোসিন ৬৭ হাজার ৪৭৭ টন, যা মোট ব্যবহারের শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। জেট ফুয়েল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন, যা মোট ব্যবহারের ৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টন, যা মোট ব্যবহারের ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

এরমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন ডিজেল, ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২২৯ টন ফার্নেস অয়েল, ৫৯ হাজার ১৫০ টন পেট্রোল, ৫৬ হাজার ৯৩৪ টন কেরোসিন, ৫৭ হাজার ৪১৪ টন বিটুমিন, ১৬ হাজার ১৮৭ টন এলপিজি, ৮ হাজার ৭১ টন জেবিও এবং এক লাখ ৫৩ হাজার ৫২৯ টন ন্যাফতা পরিশোধন করে বিপিসিকে সরবরাহ করেছে ইআরএল।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এ জলপথকে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়েই পরিবাহিত হয়। প্রধান রপ্তানিকারক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এই জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে। দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের মতো অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর বিপরীতে ইসরায়েলসহ আশপাশের আরব দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে। এ জলপথ বন্ধ হওয়ার বাংলাদেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।

জাহাজের তথ্য লুকিয়ে গন্তব্যে যাত্রার বিষয়ে কথা হলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন এনাম আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজগুলো আইএএস বন্ধ রাখে। জাহাজের মধ্যেই এ ধরনের সুযোগ থাকে। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বে অস্থিরতা চলছে। হরমুজের আশেপাশে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর আমেরিকা নজরদারি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জাহাজ বের হলেই আমেরিকা সন্দেহ করে। ওই এলাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘আগে প্রায় ৯০ শতাংশ এলপিজি ইরান থেকে আসতো। এজন্য বাংলাদেশে আসা ইরানি অনেক জাহাজে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ কারণেই হয়তো আমেরিকান বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এমটি নিনেমিয়া তাদের আইএএস বন্ধ রেখে, সিস্টেমে গন্তব্য আমেরিকা কিংবা ইউকে দেখিয়েছে।’

মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিয়াম ফাউন্ডেশনের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এর অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে বিএনপি সরকার বরাবরই দেশ ও জনগণের স্বার্থে একটি সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চেয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকার এই ধারা অব্যাহত রাখতে চায়।

তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশায় ছিল। বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে আমলাতন্ত্রকে আরও জনমুখী হতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি বিয়াম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।