খুঁজুন
, ,

লজ্জাঃ সভ্যতার ঐশ্বর্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 21 October, 2020, 9:21 pm
লজ্জাঃ সভ্যতার ঐশ্বর্য

আবদুল কাইয়ুম মাসুদ : ৯০ এর দশকের শেষের দিকের ঘটনা। আমার এক বন্ধু তার আত্মীয়ের পিচ্চির সাথে ঘটে যাওয়া খুব মজার এক ঘটনা বর্ণনা করলো। সেটি ছিলো এরকম, ছোট্ট বাবুটির সাথে সে দুষ্টুমির ছলে বলেছিলো, তোমার লজ্জা নেই, পিচ্চিও প্রাণপন চেষ্টা করছে তার লজ্জা আছে সেটা বুঝাবার। কিন্তু পিচ্চি তো পিচ্চিই, বড়দের সাথে কি আর পারে! এক পর্যায়ে সে প্যান্ট খুলবে খুলবে ভাব করছে, কিন্তু খুলছে না। মানে সে বুঝাতে চাইছে, লজ্জা আছে দেখে সে প্যান্ট পরছে। ৩/৪ বছরের বাচ্চা বুঝেছে প্যান্ট পরে সে লজ্জা ঢেকে রেখেছে। এতোটুকু বয়সে এটুকুই যথেষ্ঠ ছিলো। সেসময় পিচ্চির এ কাহিনি আমাদের হাসির উপলক্ষ হয়েছিলো। আমরা তখন অনার্সের ছাত্র ছিলাম।

ছোট্ট পিচ্চির জন্য লজ্জার আবরণ হিসেবে ছোট্ট একটি প্যান্ট পরার জ্ঞানই যথেষ্ঠ। এরপর মানব সন্তান যতো বড় হতে থাকে ততো এ আবরণের পরিসরও বাড়তে থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার কথা-বার্তা, আচার-আচরণ, খাওয়া-পরা, দেখা-সাক্ষাৎ, আলাপ-আলোচনা, স্নেহ-সম্মান, সৌজন্যতা-ভদ্রতা সর্বোপরি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি স্তরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে লজ্জার আবরণ থাকা বাঞ্চনীয় হয়ে দাঁড়ায়।

লজ্জা ন্যাচারাল একটি বিষয়। সব মানুষেরই লজ্জা থাকে; কারো বেশি, কারো কম। কিশোর বয়স থেকেই শরীরবৃত্তীয় নানা কারণে মানুষের মাঝে লজ্জার বিকাশ হতে থাকে। এই লজ্জাই সভ্যতার আবরণ হিসেবে মানুষকে সুশোভিত করে রাখে। অনৈতিক যে কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে স্বীয় লজ্জা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি অনেক স্বাভাবিক কাজও চক্ষু লজ্জার ভয়ে অনেককে এড়িয়ে যেতে দেখা যায়। আবার একই কারণে কাউকে কাউকে অনিচ্ছা সত্বেও অনেক কাজ করতেও দেখা যায়। যেমন মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেক মানুষ সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও নানান আচার অনুষ্ঠান করে যেতে দেখা যায়।

এককথায় বলতে গেলে মানুষকে আপনার ভেতর থেকে অনৈতিক, অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজে যেমন বাধা দেয় এ লজ্জা, তেমনি অনেক কল্যাণকর কাজেও তাড়া দেয়। অর্থাৎ লজ্জা যার যতো বেশি, সে ততো পরিশুদ্ধ থাকতে পারে। আবার উল্টো কথাও আছে, যার লজ্জা নেই, সে যে কোনো কিছু করতে পারে।

লজ্জার সঠিক বিকাশ যথাসময়ে হওয়া চাই। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বয়োসন্ধিকালীন খুব সতর্কতার সহিত এক্ষেত্রে বাচ্চাদের সহায়তা করা খুবই জরুরি, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য বিশেষ করে মা-বাবাকে এটির যথাযথ বিকাশে যেমন লক্ষ্য রাখতে হয় তেমনি লজ্জার কারণে সে যেনো কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে দিকটাও পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাকে শিখিয়ে দিতে হয় কোথায় লজ্জা করবে আর কোথায় সতর্ক হয়ে নিজেকে রক্ষা করবে। এখান থেকেই মূল্যবোধ জাগ্রত হয়।

এখন জেনে নিই, লজ্জা বলতে কী বোঝায়? এটির আরবি প্রতিশব্দ ‘হায়া’ আর ইংরেজি প্রতিশব্দ Shame, Modesty অথবা Inhibition (শালীনতা, সংযম, আত্মপ্রতিরোধ) কিন্তু কোনো ওয়ার্ডই ‘হায়া’র তাৎপর্য ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয় না। Shame এর বাংলা প্রতিশব্দ হয় লজ্জা/অপমান/গ্লানি। Modesty বলতে বোঝায় অশিষ্ট আচরণ থেকে দূরে থাকা; এক ধরনের নিস্তেজ সংকোচ। Modesty শব্দের বিপরীতার্থক বিশেষণ immodest কখনও কখনও প্রশংসাসূচক Courage অর্থাৎ সাহস বা নির্ভীকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। Inhibition (সংযম বা আত্মপ্রতিরোধ)-এর শাব্দিক অর্থ হলো, চেতন বা অবচেতন; এক ধরনের অর্ন্তনিহিত যান্ত্রিকতা যা অগ্রহণযোগ্য মানসিক প্রবণতা্র অবদমন করে রাখে। এটি খুবই নিরপেক্ষ একটি সংজ্ঞা। এজন্যই মনোচিকিৎসকরা তাদের রোগীদের ক্ষেত্রে Inhibition বা আত্মপ্রতিরোধকে জয় করার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন।

এই সকল শব্দ বা প্রতিশব্দে কাঙ্ক্ষিত নৈতিক মানে অস্পষ্টতা লক্ষ করা যায়। তবে ‘হায়া’ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একটি পরম কাঙ্খিত নৈতিক গুণ বুঝায়; যা আমাদেরকে সকল মন্দ,পাপকার্য ও অনৈতিকতা থেকে সুরক্ষা (Protection) দিয়ে থাকে। কোনো অপরাধকর্মে নিয়োজিত হওয়ার কথা ভাবলেই যেটির প্রভাবে আমরা ভেতরে-ভেতরে কষ্ট ও অস্বস্তি অনুভব করি, সেটিই ‘হায়া’ বা ‘লজ্জা’। এটি মানুষের সহজাত প্রবণতা। ইসলামে ‘হায়া’ বা লজ্জা নৈতিক ব্যঞ্জনাকে পরিস্ফুট করে। মানুষকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :‘প্রত্যেক ধর্মেরই একটি স্বতন্ত্র নৈতিক আহবান আছে, ইসলামের নৈতিক আহবান হলো হায়া’। এ বাণিটি সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে সংকলিত আছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল(সঃ) আরও বলেছেন, যা বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযি শরীফে সংকলিত হয়েছে…

‘লজ্জাশীলতা পূণ্য ও কল্যাণ ব্যতীত আর কিছুই আনয়ন করে না। অন্য বর্ণনায় আছে লজ্জার সর্বাংশই উত্তম।’

‘লজ্জা ও অল্প কথা বলা ঈমানের দু’টি শাখা আর অশ্লীলতা ও বাকপটুতা (বাচালতা) মুনাফিকীর দু’টি শাখা।’

উপরে উল্লিখিত বাণি হতে প্রতিয়মান হয় যে, মনুষ্যত্ব ও লজ্জাশীলতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। লজ্জা ভদ্র লোকের ভূষণ আর নির্লজ্জতা মুনাফিকের অস্ত্র। সুতরাং সভ্য নর-নারীর জন্য সেই ভূষণ আঁকড়ে থাকা অপরিহার্য।

উপর্যুক্ত শিক্ষার ভিত্তিতেই ইসলামের স্বর্ণযুগে এক বিস্ময়কর ও বহুমাত্রিক নৈতিক বিপ্লব সাধিত হয়েছিলো, ‘হায়া’ বা লজ্জা ছিলো সেই যুগের ভীত, মহা মূল্যবান ঐশ্বর্য। আজও বিশ্বব্যাপী প্রতি শুক্রবার যে-জুমআর খুতবা প্রদান করা হয় সেখানে এখনো ইসলামের তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদিনা হযরত উসমান (রা:) এর কথা উল্লেখ করা হয়, যিনি ছিলেন সর্বাধিক লজ্জাশীল (আসদাকুহুম হায়া)। ইসলামে ‘হায়া’ লজ্জা অনেক বেশি উচ্চমূল্যে গৃহীত ও অভিনন্দিত হয়।

ইসলামে যে পর্দার বিধান, নারী পুরুষের মেলামেশার ক্ষেত্রে ইসলামের যে বিধিনিষেধ, পুরুষ ও নারীর সম্পর্কের বিষয়ে ইসলামের যে শিক্ষা, তার সবই হায়া থেকে উৎসারিত।

খেলাফতের পরও শতাব্দীর পর শতাব্দী মুসলিম সমাজে হায়া, লজ্জাশীলতা বা সম্ভ্রমবোধ অক্ষত ছিলো। তিন শতাব্দী আগে মুসলিম দেশগুলো যখন একে একে পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনস্থ হলো, সেসময় তারা এমন এক সভ্যতার মুখোমুখি হলো, যার সাথে অনেক ক্ষেত্রে হায়া বা লজ্জাশীলতার দ্বন্দ্ব দেখা দিলো। নবাগত পশ্চিমা সভ্যতা কিছু ক্ষেত্রে নৈতিক মানে উন্নীত হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা হায়া বা মুল্যবোধে কুঠারাঘাত করতে থাকে। ফলে উদ্ভুত নির্লজ্জ পরিস্থিতি একসময় বর্বরতায় রূপ নেয়।

বন্দুকের জোরে তাদের যে সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলো, সেই পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিমসমাজ প্রায় সামষ্টিকভাবে তাদের এতোদিনের লালিত হায়া বা লজ্জাশীলতার ঐশ্বর্য হারিয়ে নিঃস্ব হতে থাকলো। পশ্চিমাদের শক্তিশালী ও প্রলুব্ধকর প্রচার হয়ে উঠল সেই যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার। প্রথমে বই-পুস্তক, ম্যাগাজিন ও সংবাদপত্র দিয়ে শুরু; তারপর এলো রেডিও, টেলিভিশন আর এখন ইন্টারনেট। শুরু হলো বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ আর সাংস্কৃতিক বিনিময়। এক্ষেত্রে কিছু কিছু ভালো দিক যেমন রয়েছে তেমনি অনেকাংশে মানুষের স্বভাবগত লজ্জার খোলস থেকে বের করে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া।

ফলতঃ এমন সব ধারণা ও মনোভাবের প্রসার ঘটাতে থাকলো, যা ‘হায়া’র জন্য খুবই ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক। তারা অশ্লীলতাকে করে তুললো হৃদয়গ্রাহী ও আকর্ষণীয়। আর বেহায়াপনার এই গতি অভাবনীয়রূপে বৃদ্ধি পেতে থাকলো; যা এখন পূর্ববর্তী সকল সম্মিলিত প্রচারের চেয়েও বহুগুণ ক্ষমতাধর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

এই করুণ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি ও পরিত্রাণ লাভের জন্য আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ‘হায়া’ অর্থাৎ লজ্জাবোধকে যথাযথ বিবেচনায় গ্রহণ করতে হবে। অশ্লীলতার প্রসার যতোই হোক, নিজের ভেতর থেকে তা প্রতিরোধের নৈতিক শক্তি যেনো আগামী প্রজম্ম পায় ‘হায়া’র ভিত্তিতে সে শিক্ষা তাদের দেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নৈতিকতা ছাড়া ইসলামী জীবন হয় না; আর ‘হায়া’ ছাড়া ইসলামী নৈতিকতার ভিত্তি মজবুত হয় না। এ কথাটি আমাদের হৃদয়ে গেঁথে নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

লেখক: প্রভাষক,
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ
কর্ণফুলী এ জে চৌধুরী কলেজ
চট্টগ্রাম।

Feb2

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন: মাহদী আমিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 2:08 pm
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন: মাহদী আমিন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন। এ কারণে আমাদের একটা বড় সুযোগ রয়েছে। একদিকে, তারা যেমন সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার, একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও চীনে রপ্তানি হয়। তবে তুলনামূলকভাবে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে হোটেল ‘দাইওইউতাই’-এ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারি কিনা, ডাইভার্সিফাই কীভাবে করতে পারি? বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে আমাদের ডিউটি ফ্রি ইমপোর্ট চীনে রয়েছে। এ থেকে আরো কীভাবে সুবিধা পাওয়া যায় তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে চীনের বিশাল বাজারে রপ্তানির সুযোগ কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, তিস্তা প্রজেক্টের বিষয়ে আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারই আলোকে এই মহাপরিকল্পনার প্ল্যানিং স্টেজ থেকে শুরু করে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রোভাইড করা, তার উপর ভিত্তি করে আমাদের প্রজেক্ট ডিজাইন করা, প্ল্যানিং, এক্সিকিউশন সব জায়গাতে ধারাবাহিকভাবে চীন সরকার যুক্ত হবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করাটা খুব প্রয়োজন। এত বড় একটি প্রজেক্টে সেই জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে চীন কাজ করতে চায় এবং টোটাল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের ড্রেনেজ সিস্টেমে যে বিশেষজ্ঞ যেখানে রয়েছেন সেটি বাংলাদেশের কাজে লাগানো সম্ভব। দুই দেশের সরকার প্রধানই এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।’

মাহদী আমিন বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় চীনের যে মেগা সাইজ মার্কেট রয়েছে তাতে অবশ্যই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রোডাক্টের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই আমরা যদি আমাদের সাপ্লাই চেইনটাকে সেভাবে উন্নত করতে পারি, চীনের যে ডমেস্টিক ডিমান্ড আছে, সেটার সাথে এলাইন করতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।’

‘চীনের মার্কেটে আমরা অনেক কিছু রপ্তানি করতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে আজ বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল পাঁচ হাজার রপ্তানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এই ধরনের ফ্রুট, ভেজিটেবল, অ্যাগ্রোভেইড প্রোডাক্ট, ফিশারিজ অনেক ক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন ডাইভার্সিফিকেশন করতে পারি।’

একই সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, হাইটেক বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে যেখানে বাংলাদেশে একদিকে যেমন চীনের বিনিয়োগ করা সম্ভব। ঠিক একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে। এজন্য জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান করার বিষয়ে কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবো যেখানে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে বেনিফিট পাওয়া যাবে। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশও রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হবে। একই সঙ্গে চীনও তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রফিট পাবে।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘চীন বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট করতে চায় এবং অবশ্যই চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রাইভেট সেক্টরে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা ডিজিটাল ইকোনমি, আইটি, অ্যাগ্রিকালচার, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’

তিনি বলেন, ‘চীনের কিছু ব্যাংক আগামীতে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে চায়। আমাদের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমটাকে আমরা যেভাবে রিকভারি করছি এবং সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। চীন মনে করছে যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।’

‘চীনেরও বেশ কিছু কোম্পানি রয়েছে, যাদের বিশ্বের উন্নত দেশে অফিস রয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও অফিস করবে। এ বিষয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। আমরা সবসময় চাই পিপলস টু পিপলস কানেক্টিভিটি যেন বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে এসেছে। যেমন এডুকেশনের ক্ষেত্রে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। আমরা এটা শুরু করতে চাচ্ছি এবং এখানে বড় ধরনের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশনে চীন সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এরই মধ্যে তারা হাসপাতাল নিয়ে কাজ করছে। চীনের বিনিয়োগকৃত হাসপাতালের সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে কথা হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা করতে চান। চীনে বাংলাদেশি রোগীদের ভিসা আরো সহজ করা, হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটি কীভাবে বাংলাদেশিদের জন্য বাড়ানো যায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন সহজে চীনা ভিসা পায় এবং স্কলারশিপ বাড়ানোর সুযোগ পায়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতায় স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 1:50 pm
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতায় স্বাক্ষর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের শেষ দিন চীনের তিন ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে নিজ নিজ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের হোটেল দিওয়াউতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই অন্যতম উপদেষ্টা বলেন, ১৭ সমঝোতার মধ্যে ১৩টি হয়েছে দুই দেশের মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি, ৩টি হয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিটার সঙ্গে। বাকি একটি সমঝোতা হয়েছে সরকার দল বিএনপি ও চীনের সরকারি দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রত্যেকটি বৈঠকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুম প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। একইসঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন ও সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান।

সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 12:36 pm
সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান

সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ চাচ্ছে না। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন ভোট কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে না। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে জায়গাগুলার কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল সে সব জায়গা আগের মতো থেকে গেল।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের আশা ছিল, এতগুলা মানুষের ত্যাগ এবং জীবনের বিনিময়ে আমরা একটা পরিবর্তন পেয়েছি, এখন বাংলাদেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যেই এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন এবং সংস্কার পরিষদের সংস্কারের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে জনগণের ভোট পেল…একটা ভোটের মূল্যায়ন হলো আরেকটা ভোট ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ দুইটার কোনোটাই অগুরুত্বপূর্ণ না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ জনগণের এই মতকে অগ্রাহ্য করেছে। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই থেকে গেলাম। কোনো পরিবর্তন আসলো না। হয়তো কেউ কেউ বলবেন যে, চার মাসের সরকার…আমরা তো অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু না, ফাউন্ডেশনের ওপরে একটা দেশ এবং রাষ্ট্র চলে। আমরা সবাই জানি একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেজ— দিনটি কেমন যাবে সকালবেলাই তা বলে দেবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দল-বিরোধী দল সকলেই তো নির্বাচনের আগে বলেছে যে, আমরা গণভোট মানি। আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। ৭০ ভাগ মানুষের ভোটকে অগ্রাহ্য করা হলো কেন? আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার গণভোট বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপন করেছি। এ নিয়ে সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা করেছি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা এজন্য জনগণের পার্লামেন্টে বিষয়টা নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি। এটা কোনো দলের জন্য, কোনো জোটের জন্য নয়, এটা জনগণের দাবি। এই রায় দিয়েছে জনগণ।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে আমরা কার্যত দেখতে পাই— যাদের আমরা শিক্ষিত বলে মনে করি, উচ্চশিক্ষিত বলে মনে করি, তাদের একটা বিশাল অংশ, গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমাজের আমানতের খেয়ানত করে চলছে। তারা বৈধতার সীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ পথে মানুষের সম্পদ, ইজ্জত গ্রাস করে গেছে। যদি তারা সুশিক্ষিত হতেন তাহলে মানুষের ওপরে অবিচার তারা করতেন না। সমাজ এমনি এমনি চলে না। সমাজ চলার জন্য একটা সামাজিক কাঠামো লাগে। এই কাঠামোর মূল দায়িত্ব যারা পালন করেন বা শাসন ব্যবস্থা যাদের হাতে পরিচালিত হয়, তাদের আচরণের ওপর নির্ভর করে একটা সমাজ কতটুকু ভালো থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ দুইবার স্বাধীন হয়েছে। ৪৭-এ কবার ৭১-এ আরেক বার। বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কারা এখানে মানুষের প্রত্যাশার পারদ ধ্বংস করে দিল? সাধারণ জনগণ নয়, বরং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাদের ছিল, তাদের ব্যর্থতার কারণে আজও আমাদের দেশে কোনো সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানুষের জীবনে শান্তি নেই, নিরাপত্তা নেই। যুবকদের হাতে কাজ নেই। মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই। অহরহ আমরা সে ঘটনাগুলা দেখছি।

অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।