খুঁজুন
, ,

মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান ইতিহাসে অনস্বীকার্য : মফিজুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 26 October, 2020, 6:40 pm
মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান ইতিহাসে অনস্বীকার্য : মফিজুর রহমান
২৪ঘণ্টা নিউজ ডেস্ক: উপমহাদেশের মহান বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী সাংবাদপত্রের সম্পাদক ও সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক, দার্শনিক, লেখক, গবেষক, রাজনীতিবিদ ও চিন্তাবিদ মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে স্বেচ্ছাসেবী সমাজ উন্নয়নমূলক সংগঠন পরিস্থিতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল ২৫ অক্টোবর রবিবার বিকাল ৩ ঘটিকায় নগরীর হোটেল এশিয়ান এস.আর. এর ব্যান্কুইট হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পরিস্থিতি২৪ডটকম’র সম্পাদক এ কে এম আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।
সিএইচআরসি’র সভাপতি সোহেল মো. ফখরুদ-দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদ লায়ন অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও গ্লোব শিপিং লাইন্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী, ব্যাংকার দুলাল কান্তি বড়ুয়া, এনবি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান, বাপউস’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক-প্রাবন্ধিক নুর মোহাম্মদ রানা। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স. ম. জিয়াউর রহমান, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইউনুস কুতুবী, লায়ন মো. আবু সালেহ, শিক্ষাবিদ মুরিদুল আলম, লায়ন ওসমান সরওয়ার, সাংবাদিক মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, ব্যবসায়ী ওবাইদুল হক মনি, ইমতিয়াজ ফারুকী, কবি রথিন্দ্রজিৎ হিরু, খোবাইব হামদান, কে এম ইউসুফ, মোজাফফর আহমদ, এস এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, রোটারিয়ান ডা. মনির আজাদ, বেলাল হোসেন উদয়ন, ইউসুফ জালাল, মো. রিদোয়ানুল হক জিদান, রোকন উদ্দিন আহমদ, সমীরন পাল, কালিম শেখ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক, উদার মানবতাবাদী, সাংবাদিকতা জগতের পথিকৃৎ, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর রাজনীতিবিদ, শিক্ষক এবং বিচক্ষণ সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর কর্ম ও ধ্যান ছিল সাধারণ মানুষের বহুমাত্রিক উন্নয়ন। মাওলানা ইসলামাবাদীর সমগ্র জীবন ছিল সংগ্রামী ও কর্মময়। শিক্ষকতা-সাংবাদিকতা, ধর্মপ্রচার ও রাজনীতিতে, সমাজসেবা ও শিক্ষা আন্দোলনে, নারী-শিক্ষায়, সাহিত্যকর্ম এবং একটি শিক্ষিত জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর সারাজীবনের ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঙালি চিরকাল স্মরণ করবে। বক্তারা আরো বলেন, জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন সংস্কারমুক্ত ও উদারপন্থী।
বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের তিনি ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সমাজসংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারে ব্রতী হন। যা তৎকালীন প্রচলিত শিাব্যবস্থায় সম্ভব ছিল না। প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি প্রাচীন ও আধুনিক জাতির ইতিহাস, রাজনীতি, সমাজনীতি, দর্শন, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, ভূগোল, ধর্মতত্ত্ব একই সাথে কৃষি-ব্যবসায় নীতি প্রভৃতি বিষয় প্রবর্তনের কথা তিনি ভেবেছিলেন। তিনি নারী শিক্ষাকে গুরুত্বের সাথে দেখেছিলেন। তাই বলা যায় বাংলা ভাষার ইতিহাসে ও জাতীয় জাগরণে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান অপরিসীম। তাঁর জীবনকে সমাজসেবা ও দেশসেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি ছিলেন মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত ও মুসলিম বাংলা সাংবাদিকতার অন্যতম পথ প্রর্দশক। আমাদের জাতিসত্তা বিনির্মাণে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান ইতিহাসের সোনালী পাতায় খচিত হয়ে থাকবে।
২৪ঘণ্টা/এন এম রানা
Feb2
Feb2

ভূমি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর দেশীয় প্রযুক্তিতেই : মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 6:51 pm
ভূমি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর দেশীয় প্রযুক্তিতেই : মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা ও সফটওয়্যার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মেধায় তৈরি। এমনকি স্বল্প ব্যয়ে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের উদ্ভাবকও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একজন শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চুয়েটের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চুয়েটে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে তারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ অংশে পরিণত হয়েছেন। এই যাত্রাকে সফল করতে কঠোর অধ্যবসায়, গবেষণার মনোভাব এবং আত্মোন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স ও স্যামসাংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে তারা দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। বর্তমান শিক্ষার্থীরাও একদিন একইভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি, ই-পর্চাসহ অধিকাংশ ভূমিসেবা ‘ভূমি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে জিওফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর একটি অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাফল্য-ব্যর্থতা, আনন্দ-বেদনা থাকবে। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই মাদকের আশ্রয় নেওয়া যাবে না। মাদক কখনো সমস্যার সমাধান নয়; এটি মেধা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে। তিনি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ়চেতা ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে প্রতিকূলতা মোকাবিলার আহ্বান জানান।

‘বরবাদ’-এর পর ফের হৃদয়ের ছবিতে শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 6:34 pm
‘বরবাদ’-এর পর ফের হৃদয়ের ছবিতে শাকিব খান

গত বছরের রোজার ঈদে মুক্তি পায় মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘বরবাদ’। ঢালিউডে নতুন ইতিহাস রচনা করে ছবিটি। দেশ-বিদেশে বিপুল সাফল্য পায়। নির্মাতাদের দাবি অনুসারে, ছবিটি ৭৫ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেছিল। আর ছবিতে শাকিব খানের লুক-অভিনয়ও ছিল আলোচনার তুঙ্গে।

‘বরবাদ’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর ইন্ডাস্ট্রি ও দর্শক সবার অপেক্ষা, ফের কবে হৃদয়ের ছবিতে শাকিব অভিনয় করবেন। এবার সেই খবরই দিলেন তারা। শাকিব ও হৃদয় দুজনেই যৌথভাবে জানালেন, ফিরছেন তারা।

আজ বিকেলে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন শাকিব। সেখানে তার সঙ্গে বসে রয়েছেন হৃদয়, ও প্রযোজক শাহরিন সুলতানা সুমি। ছবির ক্যাপশনে ‘রাজকুমার’ লিখেছেন, “বরবাদ’ টিম আবার ফিরছে। আবারও ইতিহাস তৈরি করা যাক।”

এই পোস্টের পরই দর্শকের মধ্যে বিপুল উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। মন্তব্যের ঘরে হাজারো কমেন্ট। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলছেন, হৃদয়ের গল্পে নতুন রূপে শাকিবকে দেখার অপেক্ষায় তারা।

এদিকে প্রযোজক সুমি জানালেন, কিছুদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে শুটিং। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের ঈদে মুক্তি পাবে ছবিটি।

‘বরবাদ’-এ শাকিবের নায়িকা ইধিকা পাল। তাদের রসায়ন দারুণ পছন্দ করেছিল দর্শক। নতুন ছবিতেও তিনি থাকবেন কিপ্রসঙ্গত, ‘বরবাদ’-এর পর সিয়াম আহমেদকে নিয়ে ‘রাক্ষস’ বানিয়েছেন হৃদয়। এছাড়া ‘বিদায়’ নামে আরো একটি ছবির শুটিংও সম্পন্ন করে রেখেছেন এই নির্মাতা। সেখানে রয়েছেন বাপ্পারাজ ও প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।

কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 6:19 pm
কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক দর্শন ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের জীবনের সকল পর্যায়েই তার প্রভাব অপরিসীম।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।

তিনি বলেন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত, প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল প্রকাশ ছিল শুদ্ধ।

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান দিশারি এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের।

তিনি বলেন, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা। তার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন ফুরানোর নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।

তিনি বলেন, শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু হয়েছে।

তিনি ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাগণ, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণ যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন।

তিনি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেয়ার ইঙ্গিত করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানেও আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।

নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান জটিল বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। নজরুল কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টানের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।

এ সময় সারাদেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুল প্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে কবির নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।

পরিশেষে, জাতীয় কবির জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।