খুঁজুন
, ,

মাটিরাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধার প্রতিবাদে মানবন্ধন: প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 18 November, 2020, 6:14 pm
মাটিরাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধার প্রতিবাদে মানবন্ধন: প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে দাফন করতে না দেয়ার অভিযোগে তবলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম ভুইয়া ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে বিক্ষ্দ্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা।

মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে তার অছিয়ত মোতাবেক তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করতে না দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে মাটিরাঙ্গা সদরের বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন শেষে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রধান করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

মাটিরাঙ্গা পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম‘র সভাপতিত্ব মানববন্ধনে প্রধান অঅতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মো. রইচ উদ্দিন।

ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনছুর আলী, খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সংসদ কমান্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো: ইমরান ও খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. হারুন মিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ করলাম, নিজেদের জীবনবাজি রেখে দেশের জন্য পতাকা ছিনিয়ে আনলাম অথচ মৃত্যুর পরে দেশের মাটিতে দাফনের জন্য সাড়ে তিন হাত মাটি পাবোনা তা মেনে নেয়া যায়না। এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বাঁধার মুখে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তবলছড়ির অদুরে আদশগ্রাম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
বীর মুক্তোযোদ্ধা মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করতে না দেয়ায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে বৃহত্তর কর্মসুচী ঘোষনার হুশিয়ারী দেন বক্তারা।

মানববন্ধন শেষে তবলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম ভুইয়াসহ তার দোসরদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) ভোরে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছিদ্দিকুর রহমান। মৃত্যুর পর তাকে তবলছড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করতে গেলে কবরস্থান কমিটির বাঁধার মুখে ঐ দিন বিকাল ৫টার সময় আদর্শগ্রাম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এনিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম/প্রদীপ

Feb2
Feb2

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।