খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বপ্নের প্রকল্প : চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
স্বপ্নের প্রকল্প : চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর

ফজলুর রহমান : ‘‘কি যে এক নতুন অনুভূতি, আমার চোখে পানি চলে আসছে, খুশিতে কান্না চলে আসার মতো অবস্থা আমার”-চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর পরিদর্শন করার সময় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালনা (সচিব) হোসনে আরা বেগম, এনডিসি। ১৩ নভেম্বর সবুজ ক্যাম্পাসের উজ্বল আলোয় তিনি প্রকল্প স্থানে পা ফেলতে না ফেলতেই এমন অনুভূতির প্রকাশ ঘটান। এরপর বিশালাকার ইনকিউবেটর অবকাঠামো ঘুরে ঘুরে দেখে আরো মুগ্ধতা প্রকাশ করেন দেশের তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষ পর্যায়ে থাকা এই ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব। চুয়েটের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমও অনেক স্বপ্নে গড়া এই প্রকল্পে পা রেখে নতুন আবেগে ভাসেন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ নির্মিত হচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম ইনকিউবেটর – শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইকিউবেটর। যা বাস্তবায়ন হলে দেশের তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতৃন দিগন্তের উন্মোচন হতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এবার আমরা ইনকিউবেটরের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখি।

ইনকিউবেটর কি?
ইনকিউবেটর মানে আমরা সাধারণত বুঝি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর যন্ত্র। কিন্তু এখানে না আছে ডিম না ফুটবে বাচ্চা। এইরূপ প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন নতুন আইডিয়া, উদ্ভাবন বা গবেষণালব্ধ ফলাফলকে প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিসে রূপান্তর ঘটানোর লক্ষে প্রারম্ভিক সহায়তা প্রদান করা। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

বিজনেস ইনকিউবেটর কি?
বিজনেস ইনকিউবেটর হ’ল একটি কর্মক্ষেত্র, যা একটি ছাদের নীচে সমস্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আনুষাঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করে স্টার্টআপ/ নতুন উদ্যোগকে সহায়তা করা হয়। ডেস্ক বা অফিস ছাড়াও, ইনকিউবেটরে প্রায়শই বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা, অর্থ সহায়তা , প্রশাসনিক সহায়তা, অফিস সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের গমনাগমনসহ আবাসিক সংস্থান থাকে।

ইনকিউবেটরের ইতিহাস

ইনকিউবেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম সফলভাবে শুরু হয় সেই ১৯৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে Batavia Industrial Centre (BIC) এর মাধ্যমে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১০ হাজার আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর রয়েছে। National Business Incubation Association (NBIA)-এর ২০০৫ সালের তথ্য মতে, কেবল উত্তর আমেরিকায় এসব ইনকিউবেটরের মাধ্যমে প্রায় ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ চীনে ৭০০ এর অধিক এবং ভারতে ৭০ এর অধিক ইনকিউবেটর রয়েছে।চীন ও ভারতে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ইনকিউবেটর স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। আইটি সেক্টরে নতুন নতুন সফল উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছে। এটা বলা হয় যে, ইনকিউবেটরে ১ ডলার বিনিয়োগ করলে ৩০ ডলার আয় করা যায়।

চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চুয়েটের স্নাতকদের দক্ষ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারদর্শী হিসেবে গড়ে তোলা এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরো সম্মৃদ্ধ করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে বেগবান করার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অধিকতর ভূমিকা রাখার নিমিত্তে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম ইনকিউবেটর শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের একটি ড্রিম প্রকল্প হিসেবে এটাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এটার নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর ২৬তম সভায় গত ০৬ জুন, ২০১৭ খ্রি. একনেক চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুয়েটের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্পটির অনুমোদন দেন।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় চুয়েট ক্যাম্পাসে ১০ তলা ভবনের মূল ইনকিউবেশন ভবন তৈরি হবে। যাতে গবেষণা কেন্দ্র, ইনোভেশন জোন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি কোলাবরেশন জোন, আইডিয়া ডেভল্পমেন্ট জোন, ফুডকোর্ট, প্রদর্শনী কক্ষসহ আইটি কোম্পানির জন্য অত্যাধুনিক অফিস কক্ষ থাকবে। এছাড়াও একটি ৬ তলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবনে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রশিক্ষণ কক্ষ এবং কনফারেন্স কক্ষ থাকবে। স্টার্টআপ কোম্পানিকে আবাসিক সুবিধা প্রদানের জন্য একটি পুরুষ এবং একটি নারী ডরমিটরি তৈরি হচ্ছে। ইনকিউবেটর স্থাপন প্রকল্পের আওতায় দুইটি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো:
১। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক/ স্নাতকদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা প্রদান।
২। বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইটি/ আইটিএস শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা।
৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সংযোগ স্থাপন করা।
৪। ভৌত অবকাঠামো ও আনুসঙ্গিক সুবিধাদি তৈরি করা।

নামকরণ: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদনক্রমে ‘চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের নাম “চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর” নামে নামকরণ করা হয়।

রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল: এই প্রকল্পের মাধ্যমে আহরিত সম্পদের ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এজন্য “চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাক্কালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং চুয়েট কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নান্তে আহরিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য জনবল, অপারেশন এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে চুয়েট কর্তৃপক্ষকে বাজেট বরাদ্দের কথা রয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও পরিচালন চুয়েটের বাৎসরিক আর্থিক বরাদ্দ হতে মিটানো হবে।

পরিচালক নিয়োগ: প্রকল্পের জন্য অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার লক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্মসচিব সৈয়দ জহুরুল ইসলাম। ইনকিউবেট পরিচালনার জন্য চুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক-কে পরিচালক পদে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সার্বিক তদারকিতে আছেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (অপারেশন এন্ড মেইন্টেন্যান্স) নরোত্তম পাল। এছাড়া নির্মাণ কাজ তদারকিতে আছেন চুয়েটের নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান।

প্রশিক্ষণ: প্রকল্পে আইটি বিষয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির জন্য অনুমোদিত ডিপিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি গ্রাজুয়েটদের আইটি সার্ভিস প্রফেশনালে রূপান্তর করার জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ডিপিপি’র বিবরণ অনুযায়ী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার আইটি বিষয়ক শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল এবং এন্টারপ্রিনিউর হিসেবে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যে চুয়েটের ২৫০জন শিক্ষার্থীকে বিগডাটা, এআই, সাইবার নিরাপত্তা,ডাটা এনালেটিক্স, মেশিন সার্ভিং, ব্লকচেইন বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।এই কাজে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী এবং অভ্যন্তরীণ/ আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন করে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ডিপিপি-তে নির্দেশনা আছে।

গবেষণা: এখানে গবেষণার ক্ষেত্রে মাস্টার্স এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।গবেষণার ফলাফল হিসেবে প্রত্যেকটি গবেষণা প্রস্তাব হতে একটি স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশনাসহ সেমিনার/ ওয়ার্কশপ করতে হবে। প্রকাশনার সময় অর্থায়নের উৎস প্রকাশনায় উল্লেখ করতে হবে এবং গবেষণা সমাপ্তিতে প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণা সংক্রান্ত সব তথ্যাদি প্রকল্প অফিসে দাখিল করতে হবে। এরইমধ্যে ৭টি গবেষণা প্রকল্পে ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলোকে টেকসই এবং পণ্য হিসেবে রূপান্তর করার লক্ষে এগুলোকে ইনকিউবেটরে স্টার্টআপ হিসেবে গড়ে তোলাসহ অধিকতর সুবিধা প্রদান করা হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর সফলভাবে বাস্তবায়ন ও পরিচালনার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেন্জ মোকাবেলা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই ভূমিকা রাখার মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষা-গবেষণায় “Center of Excellence” হিসেবে গড়ে উঠতে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক এবং সহকারী রেজিস্ট্রার, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।

 

Feb2

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।