খুঁজুন
, ,

যাত্রামোহনের বাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 5 January, 2021, 5:30 pm
যাত্রামোহনের বাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা’

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথা বলছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনেরা।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানানো হয়। চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রড়ড় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে ঐতিহাসিক ভবনটি রক্ষায় তিনদফা দাবিও জানানো হয় প্রশাসনের কাছে।

সংবাদ সম্মেলনে কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন সংবিধানের ২৪ ধারা উল্লেখ করে বলেন, “ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান রক্ষায় রাষ্ট্রের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। যাত্রামোহন সেনগুপ্তর বাড়িটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যমণ্ডিত ভবন। এ ধরনের যেসব ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে তা সংরক্ষণ করতে হবে। এ নিয়ে আইনও আছে।”

চট্টগ্রাম আদালত ভবন রক্ষার সময়ে এই যুক্তিতে মামলা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রয়োজনে যাত্রামোহন সেনগুপ্তর এই ঐতিহাসিক বাড়িটি রক্ষায় আমরা মামলায় যাব। এটির সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের ও নাগরিকদের কর্তব্য। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র উদাসীনতা দেখিয়েছে বলে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।”

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের নেতৃত্বে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে সোমবার ওই বাড়িটি ভাঙার হাত থেকে রক্ষা পায়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে জমি ইজারা নিয়ে ওই ভবনে এখন একটি বিদ্যালয় চলছিল। আদালতের আদেশের কথা বলে সোমবার ফরিদ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বুলডোজার নিয়ে সদলবলে এসে বাড়িটি ভেঙে ফেলতে গিয়েছিলেন।

প্রতিরোধের মুখে জেলা প্রশাসন এসে ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি সিলগালা করে জানায়, এ ভবনের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

‘অপকৌশলে’ এই জমিটির বিষয়ে আদালতের আদেশ আনা হয়েছে বলে দাবি করে রানা দাশগুপ্ত বাড়িটি সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

ভারতীয় কংগ্রেসের নেতা যাত্রামোহন সেনগুপ্ত এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। চট্টগ্রামের এই আইনজীবীর ছেলে হলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত। যতীন্দ্র মোহনও ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতা। তিনি কলকাতার মেয়রও হয়েছিলেন। ইংরেজ স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তাকে নিয়ে কিছু দিন ভবনটিতে ছিলেন তিনি।

আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের আন্দোলন এবং ব্রিটিশি বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িতে মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, শরৎ বসু, মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় এসেছিলেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীরাও এই বাড়ির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সূর্য সেন, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তীর হয়ে মামলা লড়েছিলেন যতীন্দ্র মোহন। এতে ব্রিটিশ শাসকদের রোষানলে পড়ে ১৯৩৩ সালে কারাগারে মৃত্যু হয়েছিল তার। এরপর নেলী সেনগুপ্তা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত রহমতগঞ্জের বাড়িটিতে ছিলেন। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। মুক্তিযুদ্ধের পর ফিরে দেখেন বাড়িটি বেদখল হয়ে গেছে।

১৯ গণ্ডা এক কড়া পরিমাণ জমিটি পরে শত্রু সম্পত্তি ঘোষিত হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে শামসুদ্দিন মো. ইছহাক নামে এক ব্যক্তি জমিটি লিজ বা ইজারা নিয়ে ‘বাংলা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন সেখানে। ১৯৭৫ এর পর নাম বদলে সেই ভবনে ‘শিশুবাগ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইছহাকের সন্তানরা স্কুলটি পরিচালনা করছেন।

বাড়িটি রক্ষার দাবিতে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক আলীউর রহমান সরকারের কাছে তিন দফা দাবি পেশ করেন।

এগুলো হচ্ছে- যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত ও নেলী সেনগুপ্তা’র সম্পত্তি নিয়ে যেসব দলিল করা হয়েছে তা দেশের কৃষ্টি-ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে বাতিল ঘোষণা করা; চট্টগ্রাম জেলা যুগ্ম জজের প্রথম আদালত থেকে দেওয়া আদেশ এবং উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসকে না জানিয়ে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল করতে পুলিশি তৎপরতার যথাযথ তদন্ত করা; অর্পিত সম্পত্তি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে ঐতিহাসিক ভবনটি অক্ষত রেখে পেছনে বহুতল ভবন তৈরি করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন স্মৃতি জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক অনুপম সেন বলেন, “যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত ও নেলী সেনগুপ্তার বাড়িটি দখল করে সেখানে বাংলা কলেজ ও পরবর্তীতে সেখানে শিশুবাগ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা অন্যায় হয়েছে। ঐতিহাসিক সেই ভবনকে সরকার ইজারা দিয়ে অন্যায় করেছে। এরপর এখন আরেকপক্ষ এসে নিজেদের মালিক দাবি করে সেটা ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করছে, সেটাও অন্যায়।

“ভবনটি চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ। আমরা চাই না সেটি হারিয়ে যাক। ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে ভবনটি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করে সেখানে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করার দাবি করছি।”

আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত বলেন, “অতীতেও চট্টগ্রাম আদালত ভবন, রেলস্টেশন, সিআরবি নিয়ে আমরা এই পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ সেই ভবনগুলোও ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল। আমরা পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম গঠন করে সেদিন এই অপকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমাদের প্রতিবাদ যৌক্তিক হওয়ায় সরকার সেই ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

“আমরা সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পাবনায় সুচিত্রা সেনের ভিটেমাটি যেভাবে সরকার অধিগ্রহণ করে সেটাকে স্মৃতি সংগ্রহশালা করেছে, একই আদলে এই ভবনটিও রক্ষা করা হোক। অন্যথায় আইনি প্রক্রিয়ায় যেভাবে চট্টগ্রাম আদালত ভবন আমরা রক্ষা করেছি, একই পদক্ষেপ এক্ষেত্রেও গ্রহণে আমরা পিছপা হব না।”
জাল নথি তৈরি করে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বাড়িটি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে গণ্য আছে। জেলা প্রশাসক এর কাস্টডিয়ান কিন্তু মালিক নন। দখলদার ফরিদ উদ্দিনের পক্ষে আদালতের আদেশের যে নথি দেখানো হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে মিলন সেনগুপ্ত বনাম ফরিদ। যে জমির মালিক মিলন সেনগুপ্ত নন, বিক্রির ক্ষেত্রে তিনি কিভাবে পক্ষভুক্ত হন? উনার তো বিক্রির কোনো আইনগত অধিকারই নেই। জাল দলিল সৃজন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করে তারা একটা আদেশ এনেছেন, যেটা অবৈধ।’’

সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, “দখলদার ফরিদ উদ্দিন একজন ভূমিদস্যু। আমরা জানতে পেরেছি, উনি সারাদিন আদালত ভবনে ঘোরাঘুরি করেন। উনার কাজ হচ্ছে জাল দলিল সৃজন করে সম্পত্তি দখল করা এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, জাসদ নেতা ইন্দুনন্দন দত্ত, আইনজীবী সুভাষ চন্দ্র লালা, শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ প্রমুখ।

Feb2
Feb2

ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে রেলগেটে বাস, মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইকে ধাক্কা, নিহত ২

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 July, 2026, 6:56 am
ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে রেলগেটে বাস, মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইকে ধাক্কা, নিহত ২

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পাঁচটি বগির ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এ ঘটনায় মাহিন্দ্রার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী। তারা দুজনই মাহিন্দ্রার যাত্রী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীর দিকে একটি তেলবাহী ট্রেন যাচ্ছিল। ট্রেনটি খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় পেছনের পাঁচটি বগি কোনো এক কারণে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ার পর গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। তখন একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা বগিগুলো সেগুলোতে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ধাক্কায় বাসটিও রেললাইনের পাশের দিকে সরে যায়। দুর্ঘটনায় মাহিন্দ্রার চালকসহ সাতজন আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী জামাল মোল্লা বলেন, রাজবাড়ীগামী তেলবাহী ট্রেনটি রেলগেট পার হওয়ার আগেই পেছনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট অতিক্রম করায় গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক তখনই একটি বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা বগিগুলো সেগুলোতে ধাক্কা দেয়।

বাসের যাত্রী শরিফুল হোসেন বলেন, বাসটি ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়া যাচ্ছিল। খানখানাপুরে পৌঁছানোর পর একটি তেলবাহী ট্রেন চলে যায়। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দেন। বাসটি রেললাইন পার হওয়ার সময় হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা কয়েকটি বগির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে বাসটি রেললাইনের পাশের দিকে সরে যায়। আমরা বাসের ভেতরে ছিটকে পড়ি। কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা খান বলেন, বিচ্ছিন্ন বগির ধাক্কায় মাহিন্দ্রাটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে থামে। এতে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মাহিন্দ্রার চালক ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।

আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। গুরুতর আহত সাতজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যান। দুর্ঘটনার বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি রেকার দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

রাজবাড়ী রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরিদপুর থেকে একটি ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। সেটি এসে বিচ্ছিন্ন বগিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর রেললাইন সচল করা হবে।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। কী কারণে তেলবাহী ট্রেনের পেছনের পাঁচটি বগি মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

খুলশীতে বস্তিতে মিলল থানা লুটের জোড়া পিস্তল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 26 July, 2026, 9:55 pm
খুলশীতে বস্তিতে মিলল থানা লুটের জোড়া পিস্তল

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া ব্রাজিলের তৈরি দুটি অত্যাধুনিক ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে আমবাগান রেলওয়ে কলোনির পেছনের একটি বস্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। ডিবি উত্তরের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

এর আগে, গত রাতে একই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহ মোট সাত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, আমবাগান রেলওয়ে কলোনির পেছনের বস্তি এলাকায় অস্ত্র কেনা-বেচা চলছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ব্রাজিলীয় প্রযুক্তির ‘টরাস’ ব্রান্ডের দুটি ৯ এমএম পিস্তল জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ক্রস ব্যাংক ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অস্ত্র দুটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর অংশ।

বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

পূর্ব বাকলিয়ায় ১০০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 26 July, 2026, 9:48 pm
পূর্ব বাকলিয়ায় ১০০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর পূর্ব বাকলিয়া এলাকার ১০০০ অসহায় পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ হতদরিদ্র প্রায় ১০০০ পরিবারের হাতে তিনি এসব খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। বিতরণকৃত খাদ্য তালিকার মধ্যে চাল, ডাল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনা খাবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মরহুম ছাবেদুল হক মেম্বার স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, জনগণের কল্যাণই আমাদের অঙ্গীকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছি।বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সবার সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় মশক নিধনে স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মরহুম ছাবেদুল হক মেম্বার স্মৃতি সংসদের সভাপতি আজিজুল হক মাসুমের সভাপতিত্বে ও মাহবুব সিদ্দিকীর পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মো. তৈয়ব। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা শাহজাহান সিরাজ, আলি ইউসুফ, আব্দুল্লাহ আল সগীর, পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব আলী আজগর, বিএনপি নেতা সোলেমান সরদার, আলী আজগর, মো. আলমগীর, রৌশানগীর আমীন, কামরুন্নেসা, হাসানুল করিম, মোহাম্মদ সেলিম, আব্বাস আলী, কোহিনুর আক্তার, মো. শাকের, আবদুস সাত্তার, জিসান, সাজ্জাদ, ইমন, ইউনুস, জুনায়েদ, বোরহান, টিপু, নুরুল আবছার, মো. এরশাদ, আইমন, ইমরান, মো. সাকিন, রুস্তম আলী, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।