খুঁজুন
, ,

যুবলীগকে একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 10 February, 2021, 9:33 pm
যুবলীগকে একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের নেতা-কর্মীদের জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আদর্শবিহীন রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুবলীগের নেতা-কর্মীদের বলবো জাতির পিতার আদর্শ যদি কেউ বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করে তাহলে সেই রাজনীতিতে টিকে থাকে।’

‘কিন্তু যে রাজনীতি করতে গিয়ে লোভের বসবর্তী হয়, অর্থ-সম্পদ যাদের কাছে বড় হয়ে যায়, তারা কিন্তু বেশিদিন টিকতে পারে না, এটা বাস্তবতা,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে আরো বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করে আদর্শ ভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে, আমাদের রাজনীতি যাতে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য হয়, কারণ সেটিই সঠিক রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করতে এসে যারা ভাগ্য তৈরি করতে লেগে পড়ে তারা কিছু টাকা পয়সা করতে পারলেও পরে তাদের আর কোন অস্তিত্ব থাকে না- এটাই প্রমাণিত সত্য।

তিনি বলেন, ’৭৫ পরবর্তী ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু হিসেবে নেয়াতে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ভাগ্যের বদল করতে পারলেও দেশ ও জনগণের কোন কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনি। তাই, আজকে জনগণের কাছে তাদের কোন স্থান নেই, এই স্থান আসলে থাকে না।

এই উপমহাদের প্রাচীন সংগঠন আওয়ামী লীগ জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলাতেই আজ পর্যন্ত টিকে রয়েছে উল্লেখ করে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের তিনি বলেন, ‘যুবলীগকে আমি বলবো, জাতির পিতার সেই আদর্শকে বুকে নিয়েই সংগঠন করতে হবে। তাহলেই এদেশের তরুণ সমাজের জন্য কাজ করা যাবে। কারণ, তারুণ্যই হচ্ছে কাজের সময়। ’

তিনি বলেন, ‘তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি,’ এইটি যে কারণে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের বক্তব্য।

সাবেক যুবলীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এমপি এবং হারুনুর রশীদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন নিখিল সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিএনপি’র রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বলেন, ২ হাজার কোটি টাকা থাকলে কেউ কোনদিন তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না বলে তারা ভেবেছিল। কিন্তু তাদেরকেও সরে যেতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বড়াই করে আমার কথাই বলেছিলেন-শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা কোনদিন বিরোধীদলের নেতাও হতে পারবে না। তার কথাটি তার বেলাতেই ফলে গেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা তার ছেলেকে (তারেক রহমান) নিয়ে বানিয়েও কিছু করতে পারেনি।’
‘একইভাবে আওয়ামী লীগ একশ’ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না- এটাও তার (খালেদা জিয়া) ঘোষণা ছিল। আল্লাহর রহমতে শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রথমবার ৫ বছর আর এর পরে টানা ১২ বছর ক্ষমতায় আছে বলেই জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি এ সময় বার বার ভোটে নির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতির পিতার নির্দেশে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে যুবসমাজকে কাজে লাগানোর জন্য ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে হত্যাকান্ডের শিকার শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। করোনার কারণে এবার যথাসময়ে এই অনুষ্ঠান হতে পারেনি।

এদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত সবসময়ই চলেছে এবং এদেশের তথাকথিত সুবিধাবাদী শ্রেনী তখন এবং পরবর্তীতেও তাদের অজানা কারণে সহযোগিতা করে গেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধকালীন যারা বিরোধিতা করেছে, হানাদারদের তোষামোদী করেছে, তাদের হাতে মা-বোনদের তুলে দিয়েছে, রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনী গড়ে তুলেছে এবং এদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছিল তাদের ষড়যন্ত্র কখনো থেমে থাকেনি। যেসব আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের স্বাধীনতায় বিশ^াস করেনি তাদের এই চক্রান্ত অব্যাহত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলো এদেশের কিছু মানুষ তারা তখনো এটা উপলদ্ধি করতে পারেনি। অথচ যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার সময় জাতির পিতা কেবল মানুষ আর জমি পেয়েছিলেন আর কিছুই যুদ্ধে অবশিষ্ট ছিল না। সেই দেশ পুনর্গঠনকালে কিছু লোক নানা সমালোচনা, বদনাম করা, অপপ্রচার চালাতে শুরু করে।’
‘এত কিছু করেও বাঙালির মন থেকে জাতির পিতাকে মোছা যায়নি,’ বলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক এবং রশিদের বিবিসিতে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে একটি স্বীকারোক্তিরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা বলেছিল, ‘মুজিব এত জনপ্রিয় ছিল যে শত চেষ্টা করেও তাঁকে মানুষের মন থেকে মুছতে পারেনি তাই তাঁকে হত্যা করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, প্রতিটি সময়ে তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়েছে বা কোন দুর্যোগ এসেছে যুবলীগ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে যুবলীগ। যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ যুবলীগের সদস্য শহীদ নূর হোসেন, বাবুল, ফাত্তাহসহ অগণিত শহীদ তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

স্মৃতিরোমন্থন করে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক/ স্বৈরাচার নিপাত যাক/’বুকে-পিঠে লিখে মিছিলে যোগদারকারি জীবন্ত পোষ্টার নূর হোসেনের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আমি তাঁকে সাবধান করেছিলাম, শার্টটা কোমরে বেঁধে আমার কাছে এসে সে শুধু বলেছিল আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দেন আপা আমি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দেব।’

‘আমি বলেছিলাম আমি শহীদ চাই না, গাজী চাই শার্টটা পর- তোমাকে কিন্তু গুলি করবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। কিছুক্ষণ পরেই চারদিকে বোমা ও গুলির আওয়াজ। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করেও গুলি করা হয়েছিল, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনেক সংগ্রামের মধ্যদিয়েই তাঁর দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে দেশ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই কঠিন পথ আমরা পার হতে পেরছি বলেই জনগণের জন্য কাজ করত পেরেছি এবং আজকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি।

Feb2
Feb2

ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 pm
ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ছুটির দিনে হাতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ নিতে শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আসে।

পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি চালু করেছে।

শুক্রবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে আসছে। নির্ধারিত স্থানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিয়ে তারা বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও।

চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ ইসলাম ও তার সহপাঠী সারোয়ার হোসেনও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরিফ বলে, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াবে।

আরিফ বলে, ‘এখন থেকে রাস্তায় কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দেখলে সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করব। বন্ধুদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’

দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে শিশুদের বিনোদন ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ যুক্ত করে জেলা প্রশাসন ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় আসেন। উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সব নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

ইকবাল বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হলে নাগরিকদের অভ্যাসেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এতে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। উদ্বোধনী দিনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্লাস্টিক কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা মুখ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য একটি বিনিয়োগ।’

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।