খুঁজুন
বুধবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

I am an strong independent woman

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০, ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ
I am an strong independent woman
I know ppl will say I am an strong independent woman why I needed a man for my life…. yeah I need a man, I needed him, I needed the emotional dependency…. that’s how I am programmed.
Life e always ami just Ekta caring husband chaisi. Amar 1st miserable marriage Er por I stopped paying…. Tanvir Amake abar start koraise…. somehow he managed to influence me to start praying regularly again…. I was thinking my life has been changed. All my bad days are over. Allah gave me him to show me the right path …. to live a righteous life. I so wanted to visit Kaba with him….. I so badly wanted. Keno Amar shathe emon holo?
Ami Ki etai boka meye? If a man like Syed Mohammad Tanvir can play with my feelings, any man can, anyone can. I don’t deserve to live …. I can’t be a bad example for my daughter. She was so happy to know about us. She so loved him… she so wanted us to be together. Ami ok Ki jobab dibo?
No photo description available.
Feb2

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম স্থাপন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।‎ এর ফলে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেশ। এটি দেশের কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‎মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্বে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

‎প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এ দিন দুপুর আড়াইটায় অতিথিদের আসন গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ উপস্থিত ছিলেন।

‎এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধি ও রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

‎এর আগে, জ্বালানি খাতের এই মেগাপ্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে ওই কেন্দ্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালক (ডিজি) আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ জনের টিম নিয়ে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে ঢাকায় আসেন। সরকারি সূত্র জানায়, রোসাটমের ডিজি ঢাকায় নেমে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টারে রূপপুর প্ল্যান্টে রওয়ানা দিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

‎প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিংয়ের পর তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

‎এর আগে, গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর লাইসেন্স এবং ৫২ জন বিশেষজ্ঞের অনুমোদন দেয়। কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে পূর্বের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

‎রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে সড়কের কোথাও হাঁটু, কোথাও বুকসমান পানি, ভোগান্তিতে মানুষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে সড়কের কোথাও হাঁটু, কোথাও বুকসমান পানি, ভোগান্তিতে মানুষ

টানা বৃষ্টিতে আবারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি সড়ক। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।

নগরের প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে প্রবর্তক মোড় এলাকায়।

দুপুরের দিকে প্রবর্তক মোড়ের বড় অংশ ডুবে যায় কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে। গতকাল সোমবার যেখানে হাঁটুপানি ছিল, আজ সেখানে পানি উঠে বুকসমান। ওই পানির ভেতর দিয়েই রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় চালক মোহাম্মদ সাইফুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, খালের সংস্কারকাজ চলার কারণে কয়েক দিন ধরেই এখানে পানি জমছিল। বৃষ্টি হওয়ায় সেই পানি আরও বেড়ে গেছে। এখন চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক ডুবে আছে পানিতে। ওই অংশে হিজড়া খালের সম্প্রসারণকাজ চলছে। খালের মুখে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে খালের পানি উপচে সরাসরি সড়কে উঠে আসছে। পানির কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। সামান্য একটি অংশ পার হতে সময় লাগছে দীর্ঘক্ষণ। অবশ্য এ সড়ক এড়িয়ে চলছেন যানবাহনের চালকেরা।

পথচারীদের দুর্ভোগ দেখা গেছে আরও বেশি। কেউ জুতা হাতে নিয়ে ও কাপড় গুটিয়ে নেমেছেন পানিতে। কেউ আবার সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে ভারসাম্য রেখে পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক হাসান বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই প্রবর্তকে পানি জমে যায়। আজ তো অবস্থা আরও খারাপ। অফিসে যেতে গিয়ে মনে হচ্ছে যুদ্ধ করছি।’

একই চিত্র তুলে ধরলেন কলেজছাত্রী ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে হাঁটা যাচ্ছে না। পানি এত নোংরা যে নামতেও ভয় লাগে। কিন্তু অন্য কোনো পথ নেই। বাধ্য হয়েই নামতে হচ্ছে।’

যানবাহনের চালকদের জন্যও পরিস্থিতি কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। পানিতে ডুবে যাচ্ছে গাড়ির চাকা, কোথাও কোথাও ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল মালেক বলেন, ‘সকাল থেকে শহরের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও গোড়ালিসমান। পানি বেশি থাকলে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। যাত্রীরাও উঠতে চায় না। এতে আয়ও কমে যায়, ভোগান্তিও বাড়ে।’

নগরের আমতলের তিন রাস্তার মাথা এলাকায়ও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও নালা উপচে পানি সড়কে উঠেছে, আবার কোথাও পানি নামার পথ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হচ্ছে।

এদিকে নগরীতে সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রবর্তকের পাশে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যার কারণে সাময়িকভাবে পানি চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।’

তিনি জানান, চলমান উন্নয়নকাজ শেষ হলে ওই এলাকায় পানি জমার সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নেই, সেই দেশ কখনোই একটি গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না বা হয়ে উঠতে পারে না।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সভার আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। আর এই ন্যায়বিচার সবার জন্যই প্রযোজ্য। একজন মানুষও যাতে অর্থের অভাবে এক্সেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগ্যালি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। একজন ভুক্তভোগী টাকার অভাবে আইনজীবী সহায়তা নিতে পারবে না-এমনটা যেন না হয়, সেটি সরকার চেষ্টা করবে সর্বতোভাবে নিশ্চিত করতে।

আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নয়, এমন মানুষদের জন্য এক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়। এটি প্রতিটি মানুষের জীবনেই সত্য এবং বাস্তব হয়ে উঠুক। এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। ন্যায়বিচার কখনোই কেবল আদালত কেন্দ্রিক নয়, কোনো প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ। যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অবশ্যই প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ন্যায়পরায়ণতা তখনই অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আইন মানুষের উপর প্রয়োগের একটি যান্ত্রিক উপায় না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা সংরক্ষণ এবং প্রাপ্ত অধিকার নিশ্চিত করার একটি গভীর নৈতিক অঙ্গীকারের রূপ নেয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসেও এই ন্যায়বোধ একটি শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার যাতে প্রত্যেকটি মানুষ চর্চা করতে পারে তাদেরকে সরকার যথাসাধ্য লিগ্যাল এইড দেবে। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এছাড়া সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল ব্র্যাককে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে একটি কথা বিশেষভাবে প্রচলিত। সেটি হচ্ছে জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনাই। অর্থাৎ বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার বা তারও বেশি হবে, হাজারেরও বেশি হবে…বিরোধ-বিবাদ স্বল্প সময় এবং খুব কম খরচে আদালতের বাইরেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা বছরের পরিবর্তে বরং কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানগুলো করা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালত চাপ কমেছে। সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মানুষ সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারণে একদিকে সাধারণ বিরোধ বড় হয় এবং পরে তা জটিল রূপ ধারণ করে। ফলে অনেক সময় মানুষ বিচার বিমুখ হয়ে যায় কিংবা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। সুতরাং মানুষ যেন সহজে প্রাথমিক আইনি পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ব্যক্তিগতভাবে একজন নাগরিক হিসেবে আমি সেটি আশা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, এক্সেস টু জাস্টিস। প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় কিংবা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই কাম্য বা প্রত্যাশিত নয়।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন আমি নিজে কারাগারে এমন অনেককে দেখেছি, যারা শুধুমাত্র আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বা হয়েছেন। একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য নয়।

তিনি বলেন, যেকোনো রাষ্ট্র এবং সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি হচ্ছে ন্যায়বিচার। সব যুগেই মানুষ যা চেয়েছে তা হলো বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে তারা সমমর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সমতা সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক আস্থা একটা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষঠ জন্য অবশ্যই অপরিহার্য।

ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল শক্তি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উপরে প্রতিষ্ঠার শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ায় সুগম করতে লিগাল এইড ফার্ম তৈরি করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।