মধ্য আমেরিকায় বিটকয়েন লেনদেনে বৈধতা
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মধ্য আমেরিকার এল সালভাদর বিটকয়েনে লেনদেনকে বৈধতা দিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মনে করেন, বিটকয়েনের মাধ্যমে বছরে রেমিট্যান্সের কমিশন সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা নাগরিকরা আর্থিক সেবা পাবেন। তবে সালভাদরের নাগরিকরা বিটকয়েনের অনুমোদন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বিটকয়েনের লেনদেনকে বৈধ ঘোষণা করেছে এল সালভাদর। এরপর থেকেই দেশটির নাগরিক এবং আর্থিকখাতের কর্মীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
কার্লোস নামে ব্যাংকের মধ্যবয়সী এক কর্মী বলেন, এটা এমন কিছু যা আমরা আগে কখনো দেখিনি। আজ আমরা ক্রিপ্টোকারেন্সি পাচ্ছি। এটা বড় একটা সুযোগ। তবে তার জন্য সব নাগরিকের কাছে অ্যাপ থাকতে হবে। তবে বিটকয়েনের অনুমোদন নিয়ে ভিন্ন মত আছে অনেকের। এক সালভাদরান বলেন, ‘আমি মনে করি এটা দেশের আর্থিকখাতের বা সম্পদের স্পেকুলেশন। সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ বিটকয়েনের লেনদেনে যুক্ত হতে পারবে না। তবে বোঝা যাচ্ছে এটা বড় বিনিয়োগকারিদের জন্য খুবই লোভনীয়। যারা তাদের সম্পদ বিভিন্নখাতে রাখতে চান।’
দেশটির প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে মনে করেন, প্রতিবছর সালভাদের প্রবাসী কর্মীরা যে রেমিট্যান্স পাঠান, বিটকয়েন ব্যবহার করলে কেবল তাতেই সাশ্রয় হবে ৪০ কোটি ডলার। পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা নাগরিকরাও এর মাধ্যমে আর্থিক সেবা পাবেন। যদিও প্রযুক্তিসেবার বাইরে থাকা বেশিরভাগ নাগরিক বিটকয়েনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিটকয়েন চালুর আগে দেশটির সরকার ২ কোটি ডলার খরচ করে ৪০০ বিটকয়েন কিনেছে। তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বিটকয়েনের অনুমোদন সালভাদরের মুদ্রাপাচার এবং আর্থিক অস্থিতিশীলতাও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফিলিস্তিন বংশোদ্ভুত সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বাকুলে বয়সে তরুণ হলেও তার বিরুদ্ধে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত করে ফেলেছেন।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম অস্বাভাবিক ওঠানাম এবং সাইবার ঝুঁকির বিবেচানায় এর বৈধতায় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে বিশ্বের অনেক দেশে।


আপনার মতামত লিখুন