খুঁজুন
বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল্লামা তাহের শাহ’র নেতৃত্বে জুলুস র‍্যালী শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
আল্লামা তাহের শাহ’র নেতৃত্বে জুলুস র‍্যালী শুরু

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামস্থ আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় বের হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস র‍্যালী।

রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জশনে জুলুস নগরীর ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া আলিয়া মাদরাসাসংলগ্ন আলমগীর খানকাহ থেকে বের হয়।

জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকিস্তানের দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরিফের সাজ্জাদানশিন পীর ও চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ’র (মজিআ)।

জুলুসের বিশেষ গাড়িতে আছেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ হামেদ শাহ (মজিআ), আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উপদেষ্টা, পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক সুফি মিজানুর রহমান, আনজুমানের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মো. আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি মো. সামশুদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি সিরাজুল হক প্রমুখ।

জামেয়া আহমদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ থেকে শুরু হওয়া জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুল, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, প্যারেড কর্নার, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, আন্দরকিল্লা, চেরাগি পাহাড়, প্রেসক্লাব, কাজীর দেউড়ি, আলমাস, ওয়াসা, জিইসি, মুরাদপুর হয়ে জামেয়া মাদ্রাসা মাঠে মিলিত হবে। এর মধ্যে কাজীর দেউড়ি মোড়ে অস্থায়ী মঞ্চে হুজুর কেবলা বক্তব্য দেবেন ও দেশের শান্তি সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করবেন। এরপর জুলুস মাদ্রাসা মাঠে ফিরবে। সেখানে আখেরি মোনাজাত হবে।

জুলুসে অংশ নিতে বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র, সমবয়সী বন্ধুরা একই রঙের পাঞ্জাব, টুপি, পাগড়ি পরেছেন। বেশিরভাগ মানুষের হাতে মিলাদুন্নবীর জন্য নকশা করা বিশেষ পতাকা।

লাখো মানুষের এ জুলুসকে ঘিরে মুরাদপুর থেকে ষোলশহরের সড়কগুলোর পাশে বসেছে হাজারো অস্থায়ী দোকান। যেখানে পাজামা, পাঞ্জাবি, বই, রুমাল, খেলনা, খাবার, জুস ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে।

সুফি মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আল্লাহর হাবিব পৃথিবীতে এসেছিলেন মানবজাতির কল্যাণের জন্য। ১৯৭৪ সালে এ জুলুসের নির্দেশনা দেন বাগে সিরিকোট আল্লামা তৈয়ব শাহ (র.)। যারা নবীকে ভালোবাসেন, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। ঈদে মিলাদুন্নবী আমাদের খুশির দিন।

তিনি বলেন, এ মিলাদুন্নবীর উসিলায় আল্লাহ আমাদের আসমানি গজব থেকে রক্ষা করবেন।

সেক্রেটারি জেনারেল মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার জুলুসে ৬০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে ইনশাআল্লাহ। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র, বিভিন্ন মহল্লা কমিটি, সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন।

তিনি জুলুসকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থানসহ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।

জুলুসের নিরাপত্তায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের পাশাপাশি আড়াই হাজার আনজুমান সিকিউরিটি ফোর্স (এএসএফ) ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।

উল্লেখ্য,১৯৭৪ সালে বলুয়ারদিঘিস্থ খানকাহ থেকে জুলুস শুরু হয়। পরের বছর থেকে জুলুসে নেতৃত্ব দেন রাহনুমায়ে শরিয়ত ও তরিকত আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত বলুয়ারদিঘি এলাকা থেকে জুলুস বের হয়ে আসছিল। কিন্তু কালের পরিক্রমায় জুলুসের পরিধি বাড়তে থাকে। লোকসমাগম সংকুলান না হওয়ার ১৯৮৪ সাল থেকে স্থান পরিবর্তন করে ষোলশহর আলমগীর খানকা শরীফে আনা হয়। বর্তমানে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ থেকে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১৯৮৬ সাল থেকে সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ জুলুসে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

Feb2

মানবিক ডিসির গণশুনানি ধীরে ধীরে গণপ্রত্যাশায় রূপ নিচ্ছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসির গণশুনানি ধীরে ধীরে গণপ্রত্যাশায় রূপ নিচ্ছে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নিয়মিত গণশুনানি কার্যক্রম ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হচ্ছে। অসহায়, দরিদ্র ও বিপর্যস্ত মানুষ তাদের শেষ আশ্রয় হিসেবে ভিড় জমাচ্ছেন এই গণশুনানীতে—যেখানে অভিযোগ শুধু শোনা হয় না, তাৎক্ষণিক সহায়তার হাতও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

মাত্র ১৫ দিনের কোলের শিশু সন্তানকে নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা সুরাইয়া বেগম হাজির হন এই গণশুনানীতে। জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় দিশেহারা এই নারী সন্তানের চিকিৎসা ও লালন-পালনের জন্য সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসক তাকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত গণশুনানীতে এ দৃশ্য উপস্থিত সবার মনে গভীর মানবিক আবেদন সৃষ্টি করে।

একইভাবে আকবরশাহ থানার ফিরোজশাহ কলোনীর বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার, যিনি কিডনি ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত, তিনিও পান সহায়তা। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী শারীরিক দুর্বলতার কারণে গার্মেন্টসের চাকরি হারিয়েছেন। দুই শিশু সন্তান—জিহাদুল ইসলাম ও আরাফাত ইসলামকে নিয়ে তার জীবনযাপন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। তার আবেদন শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তা আনার আশ্বাস দেন।

বন্দর এলাকার মোছাম্মৎ লাইজু বেগমও এসেছিলেন সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইতে। তার স্বামী দিনমজুর। সীমিত আয়ে সংসার চালানোর মধ্যেই ছোট সন্তানটির চোখের দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জেলা প্রশাসকের সহায়তায় আবারও চিকিৎসার আশা দেখছেন তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীর নাজমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে চর্মরোগে ভুগছেন। স্বামী বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। মানুষের বাসায় কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালালেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। গণশুনানীতে আবেদন জানালে তাকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

মিরেরশ্বরাই উপজেলার রেমন্ডু ফিলিপ রায় গুরুতর অসুস্থতায় একটি পা হারিয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তার একমাত্র সন্তান দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় থাকা এই ব্যক্তি সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসক শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, সন্তানের পড়াশোনার খোঁজও নেন।

এছাড়াও সহায়তা পেয়েছেন ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বিধবা মাছুমা, হৃদরোগে আক্রান্ত বাঁশখালীর মাবিয়া খাতুন, স্বামীহারা ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাহার, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য আবেদনকারী আর্জিনা আক্তার এবং চট্টগ্রাম কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী, যার আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

গণশুনানীতে আসা আবেদনকারীরা জানান, জেলা প্রশাসক তাদের কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বুধবার আয়োজিত এই গণশুনানীতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর থেকে আগত সেবাপ্রত্যাশীদের আবেদন, অভাব ও অভিযোগ শোনা হয়। সর্বশেষ আজকের গণশুনানীতে ৭৪ জন সেবাপ্রত্যাশীর সমস্যা শোনা হয় এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় অসুস্থ ৯ জন ব্যক্তি ও ১ জন শিক্ষার্থীকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৪৮ জন দুস্থ নারী-পুরুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়া গুঁড়া সম্বলিত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়া কিছু আবেদন ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি সেবাপ্রত্যাশীদের জানানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই গণশুনানি কার্যক্রম এখন শুধু একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়—এটি ধীরে ধীরে মানুষের প্রত্যাশা ও নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে একজন মানবিক জেলা প্রশাসকের স্পর্শে বদলে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের জীবন।

‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আজ (বুধবার) সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথোরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া, কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কে মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সহিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড এবং সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত। উপরন্তু সরকার কর্তৃক সময় সময় যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তা সরকারি নির্দেশনামতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিপালন করে থাকে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বাবা-ছেলে মিলে শ্যালকের পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
বাবা-ছেলে মিলে শ্যালকের পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিন স্বজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যার সময় ব্যবহৃত ধারালো হাঁসুয়া এবং ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এসব তথ্য জনান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগ্নি সবুজ রানা (২৫) তিনি দুলাভাই আব্দুস সামাদের ছেলে, নিহত হাবিবের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম এবং শহিদুলের ছেলে শাহিন মন্ডল।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জনান, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম যায় এবং আলামত সংগ্রহ করে। আমরা একটানা নিবিড় তদন্ত করে এই চার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হই। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় বলা হচ্ছে না।

তিনি আরও জনান, নমির উদ্দিনের পাঁচ মেয়ে এবং এক ছেলে। এর মধ্যে এক ছেলেকে তিনি ১৩ বিঘা জমি লিখে দেন এবং প্রতি মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন। এ নিয়ে মেয়েদের এবং জামাইদের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। ২০ এপ্রিল সবুজ এবং নিহত হাবিব ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে যান। গরু কিনতে না পেরে সন্ধ্যার সময় চলে আসেন। তাদের মধ্যে আগে থেকে ক্ষোভ ছিল কীভাবে হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। হাবিব এবং তার বংশধরদেরকে যদি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বোনেরা জমির মালিক হবে এবং নাতিরা লাভবান হবে।

পুলিশ সুপার জনান, সেদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার নানার বাসায় সবুজ যান। সবুজ তার মামা হাবিব, মামি পপি এবং তার নানা মিলে সেদিন রাতে একই সঙ্গে খাবার খান। নিহতের ভাগ্নি সবুজ খাবার খেয়ে বাইরে একটি মাঠে চলে যান। সেখানে দুলাভাই শহিদুল ও তার ছেলে শাহিন ছিল। সেখানে গিয়ে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা ছিল তারা নমিরের কাছ থেকে তার জমির দলিল নিয়ে আসবে এবং হাবিবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে। পরিকল্পনা শেষে শাহিন ওই বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। সবুজ তখন তাদেরকে বলে- একটু পরে তারা ঘুমায়ে পড়বে তোমরা তখন চলে আসবে। এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে শহিদুল, স্বপন (নিহতের চাচাতো ভাই), সবুজ এবং শাহিন মিলে হাবিবুরের ঘরে প্রবেশ করে। শাহিন হাবিবের ঘরে প্রবেশ করে বড় ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে হাবিবকে জবাই করে। এরপর একে একে হাবিবের স্ত্রী এবং তার সন্তানদেরকে হত্যা করেন।

তিনি জনান, ওই বাড়িতে প্রবেশের পর নমির উদ্দিনের ঘরে বাইরে থেকে ছিটকানি লাগিয়ে দেন তারা। যেন নমির উদ্দিন ঘর থেকে বের হতে না পারেন। প্রথমে তারা হাবিবকে হত্যা করেন, এরপর হাবিবের স্ত্রী পপি সুলতানা প্রকৃতির ডাকে বের হলে সবুজ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রাখা ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর বাচ্চাদের ঘরে প্রবেশ করে বাচ্চাদেরকেও মেরে ফেলেন। তাদের মূল টার্গেট ছিল জমিজমার উত্তরাধিকার। সবুজকেই তার নানা বেশি পছন্দ করতেন। সবুজ এটাও ভেবেছে যে উত্তরাধিকার যদি শেষ করে দিতে পারি তাহলে তিনি বেশি জমির ভাগিদার হতে পারবেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জায়গা জমি নিয়ে তাদের মধ্যে একটি ক্ষোভ ছিল। হত্যার কাজে ব্যবহৃত ধরালো অস্ত্রগুলো শাহিনের বাড়ির কাছে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আরেকটি ধারালো ছুরি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ামতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা সবুজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেউ যেন নিরপরাধ মানুষকে কষ্ট না দিতে না পারে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।