খুঁজুন
, ,

সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন রুমে পানি, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 6:41 pm
সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন রুমে পানি, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এমটি সি স্পাইক ও এমভি সান শাইনের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুর্ঘটনায় তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইকের কার্গো ট্যাংকগুলো অক্ষত রয়েছে এবং জাহাজ থেকে কোনো ধরনের তেল নিঃসরণ হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী এমটি সি স্পাইক নোঙর করে থাকা বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সান শাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে তীব্র স্রোতের কারণে ট্যাংকারটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, এমটি সি স্পাইকের সব কটি কার্গো ট্যাংক সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। কার্গো ট্যাংকে কোনো পানি প্রবেশ করেনি। ফলে জাহাজে থাকা ডিজেলও নিরাপদ রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সংঘর্ষের পর ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমের পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক এক বর্গমিটার ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে সাময়িক ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে জরুরি ব্যাটারির সাহায্যে জাহাজটির ভিএইচএফ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা হয়। জাহাজটি স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙরের ১০ শ্যাকেল করে চেইন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী, ভাটার সময়ও জাহাজটি নিরাপদে ভাসমান থাকবে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রমে নামে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড। বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্ডারী-৮ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বন্দর কতৃপক্ষ জানায়, দ্রুততম সময়ে ট্যাংকারে থাকা জ্বালানি তেল খালাসের জন্য শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজের ফাটল মেরামত ও উদ্ধারের জন্য স্যালভেজ কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

Feb2
Feb2

খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 6:55 pm
খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে: অর্থমন্ত্রী

সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের একটি এলএনজিবাহী জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়াকে ‘খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা ও আহত শ্রমিকের চিকিৎসার খোঁজ নিতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হতে যাচ্ছে। কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখানে কারও পক্ষে বিপক্ষে কিছু নেই। সরকারের দায়িত্ব তদন্ত করে সঠিক তথ্য বের করে আনা।

তিনি জানান, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও কিছু দেব।

সেনাবাহিনীর টিম ঘটনাস্থলে গেছে। তারা গ্যাস নির্গত হওয়া বন্ধের চেষ্টা করছে।

মন্ত্রী বলেন, এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্পের কমপ্লায়েন্সের ওপর জোর দিচ্ছি। হংকং চার্টার গ্রেডিং করে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের। তারা সনদ দেয়। সরকার হিসেবে দায়িত্ব- কমপ্লায়েন্সের কোনো ঘাটতি ছিল কিনা, যদি থেকে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া।

এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চেম্বারের পরিচালক এসএম সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ১৫৩ রান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 2:58 pm
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ১৫৩ রান

দলীয় স্কোর তিনশ পার হওয়ার পরপর ছোট্ট একটা ধস। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শক্ত জবাব যেন ম্লান হতে বসেছিল। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দুজন মিলেই দিন শেষ করেছেন। অবশ্য দিনের শেষটা হয়েছে মিরাজের জীবন পেয়ে। নয়তো ছয় নয়, সাত উইকেট থাকত বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে!

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশঃ ৩৫১/৬ (মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮)
অস্ট্রেলিয়াঃ ১৯৮ (স্মিথ ৭১, হাসান ৬/৫৫); বাংলাদেশের লিড ১৫৩ রানের।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৮০ ওভার শেষে নতুন বল হাতে পেয়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ফেলেছিল। ১১ রানে বাংলাদেশ তিন উইকেট হারায়। তবে হাসান মাহমুদ একমাত্র অবশিষ্ট স্বীকৃত ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে লিড দেড়শ ছাড়িয়েছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তাদের লিড ১৫৩ রানের।

দিনের শুরুতে তানজিদ ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটিতে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হওয়ার পর শান্ত ও তানজিদ দলকে এগিয়ে দেন। ১৮৮ বলে চমৎকার সেঞ্চুরির পরপর তানজিদ মাঠ ছাড়লেও বাংলাদেশ বড় লিড নেওয়ার আভাস দিচ্ছিল। শান্ত ছিলেন সেঞ্চুরির কাছে। কিন্তু ৮৪-তে অধিনায়কের আউটের পর বিস্ময়করভাবে বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা।

৩ উইকেটে ২৯৭ রান করা বাংলাদেশ ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারায়। নতুন বলে ১১ রানে তাদের তিন ব্যাটারের পতন হয়। ক্রিজে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার মিরাজ ও হাসান ১৪৭ বলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে লিড বাড়াচ্ছেন।

এই জুটির আগে নতুন বল হাতে নেওয়ার দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজলউড শান্তকে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ বানান। অজি পেসারের এক্সট্রা বাউন্সে বল তার ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়ে। ১২৬ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ইনিংস সাজানো ছিল অধিনায়কের ১৬ রানের আক্ষেপে ভাসানো ইনিংস।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দলে জায়গা পাওয়া লিটন দাস ডাক মারেন। দলীয় স্কোর তিনশ পার হওয়ার পর মুশফিকের সঙ্গ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে এই উইকেটকিপার ব্যাটার। স্টার্কের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু বল থিক এজ হয়ে ফের স্মিথের হাতে পড়ে। মুশফিক সেট হওয়ার আভাস দিলেও ফিরতে হয়। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে প্যাট কামিন্সের শিকার হন তিনি। এবারও স্মিথের হাতে পড়ে বল।

৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে একজোট হন হাসান ও মিরাজ। দাঁত কামড়ে ক্রিজে থাকার পণ করেছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত সফল তারা। প্রায় ২৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করলেন দুজনে। ৭৩ বলে ৩২ রানে মিরাজ ও ৭৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন হাসান। তার এমন প্রাচীর গড়া ইনিংসে বাংলাদেশ আরও বড় লিড নেওয়ার আশা করছে।

মার্নাস লাবুশেনের বলে ক্যামেরন গ্রিন নিচু ক্যাচ ধরতে পারেননি। বল মাটিতে না পড়লে মিরাজ তৃতীয় দিন নামতে পারতেন না। ৩২ রানে পাওয়া জীবনের সদ্ব্যবহার তিনি শেষ পর্যন্ত করতে পারবেন কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা। আপাতত গ্রিনের হাত ফসকে মিরাজের উইকেট বেঁচে যাওয়ার সঙ্গেই দিনের শেষ ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডের বিষাক্ত গ্যাস ‘লিকেজে’ মৃত বেড়ে ৮

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 14 August, 2026, 2:43 pm
সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডের বিষাক্ত গ্যাস ‘লিকেজে’ মৃত বেড়ে ৮

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 100?

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় লিক হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে নিহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ঘটনাস্থলে ৩ জনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট ৮ শ্রমিক মারা গেলেন। ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামে ওই কারখানায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এই ঘটনা ঘটেছে।

ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় গ্যাস লিক হয়েছে বলে জানা যায়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকদের পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ (চমেক) আশপাশের নানা হাসপাতালে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন প্রথমে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। পরে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। চমেক হাসপাতালে আনার পর মারা গেছেন তারা। অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ থেকে ১৫ জন।

মৃতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন, নাছির, মনছুর, রানা ও খোকন। এর মধ্যে নাছির ও মনছুর সম্পর্কে ভাই।

ঘটনার খবর পেয়ে চমেক হাসপাতালে এসেছেন ভাটিয়ারী এলাকার মো. মহিউদ্দিন। বোনজামাই মনছুরের খোঁজে এসে পান তার মৃতদেহ। তিনিই জানান, মনছুরের ছোট ভাই নাছিরও গ্যাসের বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন।

‘সকাল ৭ টায় দুই ভাই ঘর থেকে বের হয়ে কাজে যায়। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে দুর্ঘটনার খবর আসে। ততক্ষণে সব শেষ। আমার বোনের দুই মেয়ে। এখম তারা কীভাবে চলবে জানি না’- বলছিলেন মনছুর।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছে শুনেছি।’

ঘটনাস্থলে এখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।