খুঁজুন
, ,

নিরাপত্তাহীনতা থাকলে চিকিৎসকদের বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 15 August, 2026, 4:31 pm
নিরাপত্তাহীনতা থাকলে চিকিৎসকদের বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই করা হোক, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, নতুন ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোনো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতালটি আজ আকার ও আয়তনে বড় রূপ ধারণ করেছে। তিনি হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, হেলথ টেকনিশিয়ানসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

‘নিউরোচিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে’

নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগের মতো সমস্যায় দেশে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

৫০০ শয্যার আধুনিক ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত নতুন ভবনটি শুধু রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতা বাড়াবে না, চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেন স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, অতিরিক্ত বেড ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই ব্যবস্থা দেশের হাজারো রোগীর জন্য আশার আলো বয়ে আনবে।

‘প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতাও জরুরি’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তি থাকলেই একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানবিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।

রোগীর প্রতি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিশীল আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসার পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসকের নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকেরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন, কিংবা রোগী ও তার স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই করা হোক, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।

‘স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া জরুরি’

স্বাস্থ্যের অধিকার শুধু মৌলিক অধিকার নয়, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতিরও চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া জরুরি। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও প্রান্তিক মানুষের কাছেও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যেন যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সে জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসাসুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অক্টোবরে চালু হবে পাঁচ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে।

একইভাবে শিশুস্বাস্থ্যের প্রতিও সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর অংশ হিসেবে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর কাজ শুরু হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে এই পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে সরকার সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা উল্লেখ

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে যে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য শুধু স্লোগান নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার দেশে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে মানুষ দেশের ভেতরেই সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পায়। তবে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে সরকার যত উদ্যোগই গ্রহণ করুক না কেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপরই স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার সাফল্য নির্ভর করবে।

‘অর্থাভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না’

সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না এবং অর্থাভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না—এমন প্রত্যয়ের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একজন সাধারণ মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

Feb2
Feb2

ফেসবুকে রেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, যাচাই ছাড়া প্রচারে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 30 September, 2026, 9:29 pm
ফেসবুকে রেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, যাচাই ছাড়া প্রচারে প্রশ্ন

বাংলাদেশ রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্ট ও ফটোকার্ডে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব পোস্টে টেন্ডার, ই-জিপি (e-GP), স্পেয়ার পার্টস ক্রয়-বিক্রয় এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও নানা দাবি করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে কি না—তা পোস্টগুলো থেকে স্পষ্ট নয়।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তির ছবি ও নাম ব্যবহার করে একতরফাভাবে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক ও পেশাগতভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস, নথিপত্র ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা ব্যক্তির মর্যাদা ও পেশাগত ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফেসবুকে প্রচারিত অভিযোগগুলো সত্য হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগগুলো অসত্য বা বিভ্রান্তিকর হলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মানবিক প্রশাসনের অনন্য দৃষ্টান্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 30 September, 2026, 8:53 pm
মানবিক প্রশাসনের অনন্য দৃষ্টান্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদ

বাবার হাতে মেয়ের চিকিৎসার কাগজপত্র। মেয়ের হাতে ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের পরীক্ষার প্রতিবেদন। কেউ এসেছেন অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে। কারও কাঁধে চাকরি হারানোর পর জমে ওঠা ঋণের বোঝা। তারা এসেছেন চট্টগ্রামের নানা প্রান্ত থেকে। কেউ আবার আসতে পারেননি-হাজার মাইল দূরে প্রবাসে বসেই যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের উদ্বেগ দেশে ফেলে আসা জমি, বাড়ি আর সম্পত্তি নিয়ে। মানুষ আলাদা, সংকটও আলাদা।

তবে আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাদের সবার গন্তব্য ছিল এক-চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি। বেলা ১১টা, জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষ তখন সাহায্যপ্রার্থী ও সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড়ে সরগরম। গণশুনানীতে উপচে পড়া ভিড়ে সামনে বসে উপস্থিত সকলের কথা শুনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ডিসির সামনে একে একে এসে বসছেন মানুষ। কেউ খুলে দিচ্ছেন চিকিৎসার ফাইল, কেউ জমির দলিল। কেউ বলছেন অসুস্থতার কথা, কেউ সংসারের টানাপোড়েনের গল্প। জেলা প্রশাসক শুনছেন। কখনো কাগজপত্র দেখছেন, কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডাকছেন। চিকিৎসা ও জীবিকার সংকটে থাকা মানুষকে দেওয়া হচ্ছে আর্থিক সহায়তা। জমি ও সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া হচ্ছে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ। এদিন সরাসরি গণশুনানিতে এসেছিলেন দুই শতাধিক মানুষ। অনলাইনে নেদারল্যান্ডস, ওমান, দুবাই ও কুয়েত থেকে যুক্ত হন আরও চার প্রবাসী।

পূর্ব বাকলিয়া থেকে আসা এক বাবার সব দুশ্চিন্তা এখন তাঁর অসুস্থ মেয়েকে ঘিরে। আয় সামান্য। স্ত্রীও সন্তান প্রসবের পর থেকে অসুস্থ। একদিকে স্ত্রীর অসুস্থতা, অন্যদিকে মেয়ের চিকিৎসা-দুইয়ের খরচ টানতে গিয়ে পরিবারটির সামর্থ্য প্রায় শেষ। তারপরও মেয়ের চিকিৎসা তো থামিয়ে রাখা যায় না। তাই চিকিৎসার কাগজপত্র হাতে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে এসেছিলেন তিনি। নিজের অবস্থার কথা খুলে বলেন। কাগজপত্র দেখেন জেলা প্রশাসক। এরপর মেয়ের চিকিৎসার জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

আব্দুল্লাহ আল মামুনের আবেদনপত্রের একটি বাক্যই যেন তাঁর সংকটের পুরো গল্প বলে দেয়-‘ঋণগ্রস্ত থেকে বাঁচিয়ে, আমি এবং আমার পরিবারকে টিকে রাখুন।’২০২২ সালে চাকরি হারান তিনি। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে আর্থিক সংকট। সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে ঋণ করতে হয়েছে। পরিবারের একজনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাে (ইউএসটিসি) পড়াশোনার খরচও রয়েছে। আয় সীমিত। কিন্তু সংসারের ব্যয় আর ঋণের কিস্তি থেমে নেই। গণশুনানিতে নিজের সেই অসহায়তার কথাই তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁর আবেদন বিবেচনায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

অমলা দাস এসেছিলেন নিজের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চাইতে। সঙ্গে এনেছিলেন চিকিৎসার কাগজপত্র। তাঁর আলট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে লিভার বড় হয়ে যাওয়া, গ্রেড-২ ফ্যাটি লিভার ও সিস্টাইটিসের কথা উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর নিয়মিত ওষুধ-সব মিলিয়ে ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছে সেই কথাই বলেন অমলা। তাঁকেও দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা।

হাটহাজারী থেকে আসা আরেক ব্যক্তির দুশ্চিন্তা তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। স্ত্রীর চিকিৎসা চালিয়ে নিতে আড়াই লাখ টাকা সহায়তা চেয়েছিলেন। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে আসে। গণশুনানিতে তার কথা শুনে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। মানসী দত্তের হাতে ছিল মা লক্ষ্মী দত্তের চিকিৎসার কাগজপত্র। মা ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসা ও কেমোথেরাপির ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদনে লক্ষ্মী দত্তের বাম টনসিলের বায়োপসিতে ‘লিম্ফোপ্রোলিফারেটিভ ডিজঅর্ডার, ফেভারস নন-হজকিন লিম্ফোমা’ উল্লেখ রয়েছে। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেও তার চিকিৎসা হয়েছে বলে আবেদনে জানানো হয়। মায়ের চিকিৎসা যেন অর্থেওরঅভাবে থেমে না যায়-এই আবেদন নিয়েই এসেছিলেন মানসী। তার কথা শুনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

রাউজান থেকে আসা আরেক ব্যক্তিও দীর্ঘদিনের অসুস্থতার চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে তার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে তার আবেদন এসেছিল জেলা প্রশাসকের কাছে। সঙ্গে ছিল চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। গণশুনানিতে তাঁকেও দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা।

সম্মেলনকক্ষে যখন একের পর এক মানুষ তাদের সমস্যার কথা বলছিলেন, তখন পর্দায় যুক্ত হন বিদেশে থাকা চট্টগ্রামের চার বাসিন্দা। দেশ থেকে তারা হাজার মাইল দূরে। কিন্তু দুশ্চিন্তা পড়ে আছে দেশে-নিজেদের জমি, বাড়ি আর সম্পত্তি নিয়ে।

নেদারল্যান্ডস প্রবাসী হাটহাজারীর নাছের ইসলামের অভিযোগ, তাঁর মা ছকিনা খাতুনের কাছ থেকে হেবা সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির বিপরীতে মোহাম্মদ ইব্রাহীম অবৈধভাবে নামজারি খতিয়ান সৃষ্টি করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি), হাটহাজারীর কাছে আবেদন করেও দীর্ঘদিন সমাধান না পাওয়ায় এবার সরাসরি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান তিনি।

ওমান প্রবাসী মিরসরাইয়ের মোহাম্মদ মোস্তফার অভিযোগ, প্রতিবেশী জাফর উল্লাহ ও তার সহযোগীরা তাঁর কেনা সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে বৈঠক করেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানান মোস্তফা।

দুবাই প্রবাসী ফটিকছড়ির মামুনুল হকের অভিযোগ, তার মালিকানাধীন জায়গা তার ভাতিজা মাসুদ জোর করে দখল করে ভাড়া দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তের পর জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শে আদালতে মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন মামুনুল হক। এরপরও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানান তিনি।
কুয়েত প্রবাসী হাটহাজারীর মোহাম্মদ ফোরকানের দুশ্চিন্তা তার কেনা একটি ভবন নিয়ে। ভবনটি দেখাশোনার জন্য বোন শিরু আক্তার ও রাসু আক্তারকে সেখানে থাকতে দিয়েছিলেন তিনি। তার অভিযোগ, শিরু আক্তার, মোঃ রশেদ, রোকসানা ও রাসু এখন ভবনটি দখলের চেষ্টা করছেন। তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকেও সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রবাসীদের চারটি অভিযোগই শোনেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন।

শুধু ব্যবস্থা নিলেই হবে না-কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তার অগ্রগতি ও ফলাফলও যেন অভিযোগকারীরা জানতে পারেন, সেই নির্দেশও দেন তিনি। গণশুনানি শেষ হতে হতে অনেকের হাতের আবেদনপত্র তখন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে। কারও মুখে স্বস্তি, কারও অপেক্ষা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের। এদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ ও অসহায় ২২ ব্যক্তিকে চিকিৎসা ও জীবিকায়নের জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। সহায়তার প্রয়োজনও একেকজনের একেক রকম। কারও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে, কারও সংসারের চাকা সচল রাখতে হবে। এক দিনের আর্থিক সহায়তায় ক্যানসারের চিকিৎসা শেষ হবে না। দীর্ঘদিনের ঋণও মিটবে না। জমি নিয়ে বছরের বিরোধেরও এক দিনে নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। তারপরও বিপদের সময়ে নিজের সমস্যার কথা সরাসরি বলার একটি জায়গা পেয়েছেন মানুষগুলো। কেউ পেয়েছেন তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা, কেউ পেয়েছেন তাঁর অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস ও নির্দেশনা। এদিন রোবোটিক্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে যাওয়া এক মেধাবী শিক্ষার্থীকেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পন্সরশীপ দেওয়া হয়। সরকারি দপ্তরে প্রতিদিন অসংখ্য আবেদন জমা পড়ে। সঙ্গে থাকে জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, সুপারিশপত্র, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র, আলট্রাসনোগ্রাম, হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদন কিংবা জমির দলিল।

কাগজে সেগুলো একেকটি আবেদন বা ফাইল। কিন্তু বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে সেই ফাইলগুলোর পেছনের মানুষগুলোই সামনে এসেছিলেন। সেখানে একজন বাবা ছিলেন, যিনি মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ করতে চান না। একজন মেয়ে ছিলেন, যিনি ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে চান। একজন স্বামী ছিলেন, যাঁর সামর্থ্য ফুরিয়ে আসছে স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ মেটাতে মেটাতে। ছিলেন চাকরি হারিয়ে ঋণের বোঝায় বিপর্যস্তএকজন মানুষ। আর হাজার মাইল দূরে বসে চার প্রবাসী বলেছিলেন দেশে ফেলে আসা জমি ও বাড়ি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা। তাদের সবার কথা একে একে শুনেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। যেখানে সম্ভব, তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েছেন। যেখানে তদন্ত প্রয়োজন, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। দিন শেষে সব সমস্যার সমাধান হয়নি। চিকিৎসার পুরো খরচ জোগাড় হয়নি, ঋণের বোঝা শেষ হয়নি, জমির বিরোধেরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তবে মানুষগুলো অন্তত এটুকু নিয়ে ফিরেছেন-প্রশাসনের কাছে তাদের কথা বলার জায়গা আছে, আর সেই কথা শোনারও কেউ আছেন। গণশুনানির মানবিকতাও হয়তো এখানেই-ফাইল নয়, ফাইলের ওপাশে থাকা মানুষটিকে দেখা।

অস্থিতিশীলতার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 30 September, 2026, 8:10 pm
অস্থিতিশীলতার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে: মীর হেলাল

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছে বিএনপি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরের ২ নম্বর গেইটস্থ বিপ্লব উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে নেতারা বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এখন মহানগর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিকেল ৩টায় বিপ্লব উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা গণমিছিল নিয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি ওয়াসার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশের বাইরে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানি বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এমপি এরশাদ উল্লাহ বলেন, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যাপক হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবে ঘরে ঘুমাতেও পারেননি; অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেছেন, ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষায় তারা রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র বা নৈরাজ্য মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সাংগঠনিক ঐক্য। তাই সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং দলীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের গভীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই। জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে, তাদের সচেতন করতে হবে এবং যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো মহল সন্ত্রাস বা নৈরাজ্যের পথ বেছে নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। উসকানি, গুজব ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বা বোমা হামলার মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত অপশক্তির যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বে যারা বিশ্বাস করেনি, তাদের একটি অংশ বর্তমানে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এসব শক্তির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে তারেক রহমানের সরকারের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা কিংবা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিরোধের নামে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে গণমিছিল বের করা হয়। বিপ্লব উদ্যান থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াসার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।

উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য ইকবাল চৌধুরী, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, ইস্কান্দার মির্জা, খোরশেদ আলম, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল হক হুমায়ুন, জাফর আহমেদ, এ কে খান, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, আবু মুসা, আশরাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নুরুন্নাবাহার, মোশারফ হোসেন দিপ্তীসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, শ্রমিক দল নেতা নুরুন্নাবাহার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলু, সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, তাঁতীদলের সভাপতি সেলিম হাফেজ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুরাদ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আজিজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।