খুঁজুন
, ,

আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ির জগতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 September, 2021, 10:49 am
আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ির জগতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

পাঁচ সিটের সেডান গাড়ির দাম পড়বে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা। এখানেও এককালীন টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা কিস্তিতে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। কারখানায় শুধু চার চাকার বৈদ্যুতিক গাড়িই নয়, একই সঙ্গে মাইক্রোবাস, কাভার্ড ভ্যান ও মিনি ট্রাক উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই পরিকল্পনা কিন্তু বাহিরের কোন দেশের নয়, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জাগুয়ারসহ বিশ্বের বড় বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানির বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কার্বন নিঃসরণ কমাতে ব্যাটারি তথা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বাজারে আনার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। আসছে বছর দেশের রাস্তায় দেখা মিলবে বৈদ্যুতিক গাড়ি।

বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে কারখানাটি তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে। এটি এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। ৩০ হাজার একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুত করতে ১০০ একর জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে কারখানার কাজ। তবে করোনার ধাক্কায় মাঝখানে কিছু সময় গতি কমেছে কাজে। চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিকে অংশীদার করে আগামী বছরের শুরুতেই দেশের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ি আনতে চায় বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ।

স্কুল-কলেজের শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কথা মাথায় রেখেই চার চাকার গাড়ি উৎপাদন করা হবে। মূলত মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তকে টার্গেট করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। গাড়ির দাম থাকবে ৭ থেকে ১৪ লাখ টাকার মধ্যে। কিস্তিতে থাকবে টাকা পরিশোধের সুযোগ। মহাসড়কে ব্যাটারিতে চার্জ দেওয়ার জন্য দেশে বিদ্যমান সিএনজি ও পেট্রলপাম্পের পাশে বসানো হবে চার্জিং ইউনিট। বাসায়ও ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে।

দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের ব্যপারে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এ মান্নান খান বলেন, ‘বিশ্ববাজারে গাড়ি উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি কী আসছে, তা দেখার জন্য ২০১৬ সালে প্রথমে চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করি। ওই সব দেশ ভ্রমণে গিয়ে দেখেছি, পরিবহনে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বড় বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি। সেখান থেকেই দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের পরিকল্পনা শুরু করেছিলাম।’

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা আছে কি না, তা যাচাই করতে দেশজুড়ে একটি জরিপ করে অটো ইন্ডাস্ট্রিজ। তাতে দেখা গেছে, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে একজন শিক্ষকের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য আয় মিলে মাসিক বেতন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। আবার গত এক দশকে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও বেড়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনে যাঁরা কর্মরত, তাঁদের আয়ও ভালো। এর পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের হাতেও টাকা আছে। তাঁদের অনেকে এখন মোটরসাইকেল চালায়। এমন বেশ কয়েকটি পেশার ওপর জরিপটি চালিয়ে দেখা গেছে, দেশের বাজারে চার চাকার বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারজাত করে যেকোনো কোম্পানি সফল হতে পারবে। তা ছাড়া দেশে চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। তাতে বাজারের আকারও বড় হচ্ছে। বিদেশ থেকে গ্রামে প্রচুর টাকা ঢুকছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণি চাইলে চার চাকার ব্যাটারিচালিত গাড়ি ব্যবহার করতে পারে। এসব দিক বিবেচনা করে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ।

ব্যাটারিচালিত গাড়ি উৎপাদনে প্রথমেই দরকার জমি। বড় আকারে জমি পেতে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রথমে বেজা থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কাঁচামাল আমদানি করতে হবে, সে জন্য বন্দরের পাশে জমির নিশ্চয়তা চেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয় তাদের। বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ বলছে, কারখানায় গাড়ি সংযোজন নয়, সরাসরি উৎপাদন করা হবে। গাড়ির ৭০ শতাংশই কারখানায় উৎপাদিত হবে, বাকি ৩০ শতাংশ হবে সংযোজন।

বৈদ্যুতিক গাড়ি হবে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ডের। গাড়িগুলোর নকশা এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে খুব সহজে এ দেশে ব্যবহার করা যায়। বিদ্যমান জাপানি ও কোরিয়ান গাড়ির নকশা যেভাবে করা, সেভাবেই এ দেশে গাড়ির নকশা করা হচ্ছে। নকশা তৈরির ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের কথাও মাথায় রাখা হয়। যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ি ব্যবহার করা যায়। পাঁচ সিটের হ্যাচব্যাক কার মডেলের দাম পড়বে ৭ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে। যে কেউ দেড় লাখ টাকা এককালীন জমা দিয়ে গাড়ি নিতে পারবেন। ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা কিস্তিতে বাকি টাকা পরিশোধ করার সুযোগ থাকবে।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ মোট তিনটি কারখানা করবে। একটি কারখানায় তৈরি হবে গাড়ির বডি, দ্বিতীয় কারখানায় তৈরি হবে ব্যাটারি এবং তৃতীয় কারখানায় তৈরি হবে মোটর কন্ট্রোলার চার্জার।

আরো জানা গেছে, কারখানায় মোট তিন ধাপে বিনিয়োগ করা হবে। প্রথম কারখানা নির্মাণ ও কাঁচামাল আমদানিতে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৫০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপে বিনিয়োগ হবে ৩০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি। মান্নান খান আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে আমরা বেশ আশাবাদী। আশা করছি, ভালো সাড়া পাব।’ আগামী বছরই বাংলাদেশ বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগে প্রবেশ করবে বলে জানান তিনি।

এন-কে

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।