খুঁজুন
, ,

অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 17 July, 2026, 8:55 pm
অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (BMPCA) গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, দেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার, ডিজিটাল পেমেন্টের সহজলভ্যতা এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ আর্থিক ও সামাজিক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

বাংলাদেশে Public Gambling Act, 1867-এর আওতায় জুয়া নিষিদ্ধ। তবুও বিভিন্ন বিদেশি বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিভিন্ন সময়ে অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা (MFS) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ব্যর্থতার কারণেই দেশে উদ্যোগ যেন হারে বেড়েছে অনলাইন জুয়া। এই দায় বিটিআরসি কোন ভাবে এড়াতে পারে না। গতকাল প্রায় ছয় হাজার ৫০০ সিম উদ্ধার করেছে পুলিশ। যত্রতত্রভাবে সিম বিক্রির দায় মোবাইল অপারেটর এড়াতে পারে না।

‘বিশেষ করে, অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে যদি মোবাইল আর্থিক সেবার কোনো অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা অপব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে তা দ্রুত শনাক্ত করে বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একইভাবে, মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিচালিত অবৈধ জুয়ার ওয়েবসাইট, এসএমএস প্রচারণা বা অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রম শনাক্ত ও বন্ধে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।’

সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা। কিন্তু অনলাইন জুয়ার বিস্তার প্রমাণ করছে যে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও শক্তিশালী করতে হবে। অনলাইন জুয়া বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ লেনদেন ও প্রচারণার পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের দাবিসমূহ

১. অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও ডোমেইন দ্রুত শনাক্ত করে ব্লক করতে হবে।
২. অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংকিং লেনদেন শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে।
৩. মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিচালিত অবৈধ জুয়া প্রচারণা, এসএমএস ও অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এনসিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি স্থায়ী টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।
৫. অনলাইন জুয়ার অর্থায়ন, বিজ্ঞাপন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, শুধুমাত্র ওয়েবসাইট ব্লক করাই যথেষ্ট নয়; অবৈধ আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর অপব্যবহার এবং অনলাইন প্রচারণা—এই তিনটি ক্ষেত্রেই একযোগে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে অনলাইন জুয়া উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

Feb2
Feb2

জিয়া থেকে তারেক : ৪৮ বছরে বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন, সামনে যত চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 1 September, 2026, 12:50 am
জিয়া থেকে তারেক : ৪৮ বছরে বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন, সামনে যত চ্যালেঞ্জ

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্ণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে যাত্রা শুরু করা দলটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান, তার স্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাদের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকার পর ক্ষমতায় ফিরে এবার দলটির সামনে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ, জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের হাতে বিএনপির জন্ম

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার ধারণাকে সামনে রেখে দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে ছিল ১৯ দফা।

বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও পথের মানুষকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার মধ্য দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপিকে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেন জিয়াউর রহমান। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে তার নিহত হওয়ার পর দলটি নেতৃত্বের সংকটে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দলের নেতৃত্বে আসেন তার সহধর্মিণী ‘গৃহবধূ’ খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিস্তার

১৯৮২ সালে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন তিনি। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৪২ বছর দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন এই আপসহীন নেত্রী। বিএনপি চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।

চার দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন খালেদা জিয়া। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব বিএনপিকে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ফলে, জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি তার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

তারেক রহমানের উত্থান

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে দলের বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন— যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বগুড়ায় সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন।

২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে তারেক রহমানকে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে নির্বাসিত হন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন। এর আগে তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে যখন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হন, তখন তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়।

২০২৬ সালে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসে।

নেতৃত্বের তিন পর্ব

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসকে মোটাদাগে তিনটি নেতৃত্ব পর্বে দেখা যায়— জিয়াউর রহমানের সময় দলটির প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মাণ, খালেদা জিয়ার সময়ে দলকে গণভিত্তিক ও নির্বাচনী শক্তিতে পরিণত করা এবং তারেক রহমানের সময়ে দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতি পেরিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলকে পরিচালনা করা।

এখন সেই নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ক্ষমতায় এসে বিএনপি কতটা নিজেদের সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কতটা কার্যকর হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া শূন্যতা অপূরণীয়। তবে, তার রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শকে ধারণ করেই বর্তমান নেতৃত্ব একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যেতে চায়।

তিনি বলেন, ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপির আন্দোলন, নির্বাচন, সরকার পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরে এসে দলটির সামনে এখন নতুন ধরনের পরীক্ষা।

“সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, তৃণমূলের প্রত্যাশা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”

ক্ষমতায় এসে চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি

সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য

বিএনপির নেতারা বলছেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা হলো সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য রাখা। আন্দোলন কিংবা বিরোধী দলে থাকার সময়ের রাজনৈতিক কর্মকৌশল সরকার পরিচালনার সময়ে একইভাবে কার্যকর নয়।

সরকারের সিদ্ধান্তের দায় সরকারের ওপর পড়ার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের প্রভাবও দলের ভাবমূর্তিতে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় প্রভাব বিস্তার, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ কিংবা দলীয় পরিচয়ে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে, প্রশাসন ও দলীয় সংগঠনকে পৃথক রেখে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা তারেক রহমানের নেতৃত্বের অন্যতম বড় পরীক্ষা।

তৃণমূলে গ্রুপিং ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব

দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষমতায় আসার পর পদ-পদবি, মনোনয়ন, প্রভাব ও সুযোগ-সুবিধাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। একই এলাকায় একাধিক নেতা নিজেদের অনুসারী তৈরি করলে সাংগঠনিক বিভক্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন ও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে পড়তে পারে।

তাই, তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি গ্রুপিং নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়

বিএনপির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীরাও এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রজন্মের পরিবর্তনের সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকৌশলেও পরিবর্তন আসছে। ফলে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ধরে রেখে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগঠনকে মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি

ক্ষমতায় থাকার সময় দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ে। কোনো নেতার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড কিংবা অনিয়মের অভিযোগও শেষ পর্যন্ত পুরো দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত মানা, সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আনুগত্য এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা দেখানো বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় জবাবদিহি দুর্বল হলে শুধু সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই নয়, সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জনসম্পৃক্ততা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মতে, বর্তমান সময়ে দলটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশকে নতুন করে পুনর্গঠন করা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক শূন্যতার সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি জিয়াউর রহমানের চিন্তা ও আদর্শ।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনে দেশের অর্থনীতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেও দুর্বল করা হয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন, কার্যকর ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও কাজ করতে হবে। অপসংস্কৃতি ও মৌলবাদী চিন্তার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করে একটি সুস্থ, মুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নিতাই রায় চৌধুরীর ভাষায়, রাষ্ট্রের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ধরে রাখাও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় যে জনসম্পৃক্ততা দলটির রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেটি ধরে রাখা সহজ নয়।

দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা হলে সরকারের পাশাপাশি দলের জনপ্রিয়তাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

সামনে নতুন পরীক্ষা

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই শুধু অতীত স্মরণের উপলক্ষ্য নয়। জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতা ও বিরোধী রাজনীতি করেছে। এখন তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বে তারেক রহমানের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

বিএনপির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতির পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির সামনে মূল পরীক্ষা হবে— সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য রাখা, তৃণমূলের দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। একইসাথে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করে জনগণের আস্থা ধরে রাখা।

তারা আরও বলছেন, ৪৮ বছরের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা পেরিয়ে বিএনপি এখন যে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, সেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় মূল্যায়ন হবে— দলকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব সরকার পরিচালনা করা যায়।

নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 31 August, 2026, 10:34 pm
নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

জানা গেছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

এতে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।

বেতনস্কেলের আর্থিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার একযোগে পুরো বেতনস্কেল বাস্তবায়ন না করে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আগে বেতনস্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ভাতাগুলো ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পর্যায়ক্রমে বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত করা সম্ভব হবে।

নতুন বেতনস্কেলে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসরগ্রহণকারীদের তথ্য না থাকায় ওআরওপি একবারে বাস্তবায়ন না করে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর পরিবর্তে বর্তমানে অবসরভোগী পেনশনধারীদের নিট পেনশন স্ল্যাবভিত্তিক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়বে।

এর ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি হবে।

প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা, সবার জন্য মোবাইল ভাতা

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এত দিন শুধু ৫ম গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারী এই ভাতা পাবেন।

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্কের (এমটিবিএফ) আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।

এদিকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে। সেটিও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর মতো ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এতে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিস্তারিত বিধান থাকবে।

ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন, হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 31 August, 2026, 5:28 pm
ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন, হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর খানপুর এলাকায় তিনটি সার্কেলের ভূমি কমিশনারের কার্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় দুটি সার্কেল অফিসে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। তবে হাজিরা খাতায় তাদের অনেকের স্বাক্ষর আগে থেকেই দেওয়া ছিল।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী অফিসের কার্যক্রম ঘুরে দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অফিসের সার্বিক কার্যক্রম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

আগাম হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত না থাকলেও অনেকের হাজিরা দেওয়া হয়ে গেছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জনগণ দেশের প্রকৃত মালিক। তাদের সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব, কোনো দয়া নয়। তাই সময়মতো অফিসে উপস্থিত থেকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পৌনে ৯টায় অফিসে যান। আপনারা যদি এমন করেন, তাহলে কি আমরা সেবাটা দিতে পারব? সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না।

পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন নারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেই হবে না, সরকারি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।

সরকারি দপ্তরে জনগণকে হয়রানিমুক্ত ও যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।