খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুরু হয়ে গেল বিগ বস-১৫, কে কে আছেন প্রতিযোগিতায়?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
শুরু হয়ে গেল বিগ বস-১৫, কে কে আছেন প্রতিযোগিতায়?

রোববার (৩ অক্টোবর) থেকেই শুরু হচ্ছে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় আপাতবাস্তব টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বিগ বস ’-এর ১৫তম সিজন। শুরু থেকেই এই রিয়েলিটি শো নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একে ভারতের সবচেয়ে বড় ও বিতর্কিত রিয়েলিটি শো বললেও ভুল বলা হয় না! তবে, আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো- যতই সময় গড়াচ্ছে, ততই যেন কমছে ‘বিগ বস’র প্রাইজ মানি! নানা ঘটনার মধ্যদিয়ে এক কোটি থেকে সর্বশেষ ৩৬ লাখে নেমে আসে শোটির প্রাইজ মানি।

তবে, অন্যবারের মতো এবারের বিগ বসকে ঘিরেও রয়েছে বহু জল্পনা-কল্পনা। কারা অংশ নিচ্ছেন, কী হতে চলেছে- মূলত এসব নিয়েই আগ্রহ সবার! শনিবারের প্রিমিয়ারের দিকেও নজর ছিল সবারই।

এদিন রাতে বলিউডের সুপারকুল অভিনেতা রণবীর সিং-এর ঝলক এবং ভাইজান সালমান খানের নাচের তালে যেমন মুগ্ধ হলেন ভক্তরা, তেমনই চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের নাম জানতে পেরে উত্তেজিত প্রত্যেকেই। এবার কে কাকে টেক্কা দেবেন, এই সিজনে কে হবেন চ্যাম্পিয়ন, তা নিয়েই এখন চর্চা বাড়ছে হুহু করে। এই সব প্রশ্নের উত্তর তো সময়ই দেবে।

তবে চলুন, তার আগে জেনে নেয়া যাক বিগ বস-১৫ সিজনের চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের নাম।

প্রতীক সেহাজপাল: বিগ বসের এ বারের আসরের প্রথম প্রতিযোগী হলেন প্রতীক। বিগ বসের ওটিটি ফাইনালিস্টদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই যুবক। যেখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ বিসর্জন দিয়ে বিগ বস ১৫-র ঘরে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

নিশান্ত ভাট: নিশান্তও ছিলেন ওটিটি-র ফাইনালিস্টদের মধ্যেই। সেখানে রানার্স আপ হয়েই বিগ বসের ঘরে প্রবেশের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

শমিতা শেট্টি: শমিতা ছিলেন বিগ বস ওটটি-র দ্বিতীয় রানার্স আপ। তারও আগে বিগ বসের তৃতীয় সিজনেও অংশ নিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির ছোট বোন। কিন্তু রাজ কুন্দ্রার সঙ্গে শিল্পার বিয়ে ঠিক হওয়ায় সেবার বিগ বসের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন এই লাস্যময়ী।

তেজস্বি প্রকাশ: তেজস্বি একজন টিভি অভিনেত্রী। স্বরাগিনী ধারাবাহিকে তিনি জনপ্রিয় মুখ। তবে এটাই তাঁর প্রথম রিয়ালিটি শো-তে অংশ গ্রহণ নয়। এর আগে ফিয়ার ফ্যাক্টর এবং খাতরো কি খিলাড়ির ১০ম সিজনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

করণ কুন্দ্রা: করণ যে জনপ্রিয় এই শো-তে অংশ নিতে চলেছেন, তা সবার জানা ছিল আগে থেকেই। কেননা, এই সপ্তাহের শুরুতেই তাঁকে নিয়ে প্রোমোও রিলিজ করেছিল বিগ বস কর্তৃপক্ষ।

আকাসা সিং: বিগ বস-১৫ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে এই শো-তে যোগ দিয়েছেন খিচ মেরি ফটো, নাগিন, ঠগ রঞ্জার মতো বেশ জনপ্রিয় গানের গায়িকা আকাশা সিং।

ডোলান্ডো বিস্ত: এক দিওয়ানা থা বা রুপ- মরদ কা নয়া স্বরুপ-এ অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ডোলান্ডো। এই বছরই প্রথম বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করলেন এই টিভি অভিনেত্রী।

উমর রিয়াজ: প্রোমো থেকেই জানা যায় যে, বিগ বসের সিজন ১৫-তে অংশ নিচ্ছেন উমর। এর আগে উমরের দাদা অসীম রিয়াজও এই শো-তে অংশ নিয়েছিলেন।

সিম্বা নাগপাল: ‘শক্তি অস্বিত্ব কে এহসাস কি’ ধারাবাহিকে অংশ নিয়েই জনপ্রিয় হন সিম্বা নাগপাল। তাইতো এবারের বিগ বসে সকলকে টক্কর দিতে প্রস্তুত এই টিভি অভিনেতা।

সাহিল শ্রফ: শাহরুখ খানের ‘ডন টু’ এবং ফারহান আখতারের ‘শাদি কে সাইড এফেক্টস’এ দেখা গিয়েছিল সাহিলকে। তবে এবার নতুন লক্ষ্য নিয়ে বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করছেন এই অভিনেতা।

মিশা আইয়ার: মিশা আইয়ার যে বিগ বস ১৫-তে অংশ নিতে চলেছেন, সেটা তিনি আগেই জানিয়েছিলেন।

জয় ভানুশালী: অভিনয়ের পাশাপাশি জয় নিজেও একজন জনপ্রিয় সঞ্চালক। একেবারে শেষ মুহূর্তে বিগ বসে অংশ নিতে রাজি হয়েছেন তিনি।

বিধি পাণ্ডিয়া: উড়ান, বালিকা বধূর মতো জনপ্রিয় শো’তে পরিচিতি পেয়েছিলেন বিধি। এবার বিগ বসের অন্যতম প্রতিযোগী হলেন তিনিও।

বিশাল কোটিয়ান: বিশালও ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় মুখ। অনেক আগেই বিগ বসে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পাকা করে দিয়েছিলেন তিনিও।

আফসানা খান: পঞ্জাবি গায়িকা আফসানাও এবার সকলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রবেশ করলেন বিগ বসের ঘরে। তাঁর প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে বলে জানা যায়। যে কারণে বিগ বসে অংশ নিতে রাজি হচ্ছিলেন না তিনি। পঞ্জাবে ফিরে গিয়েছিলেন আফসানা। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁর বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করাটা সবাইকেই কিছুটা চমকে দিয়েছে।

তবে, এই ১৫ জনের মধ্যে বিগ বসের কঠিন চ্যালেঞ্জে শেষ পর্যন্ত কারা টিকে থাকতে পারেন, সেটাই শেষ পর্যন্ত দেখার বিষয়! লড়াইটা যে মোটেও সহজ হবে না সেটা সবারই জানা। কেননা, বাইরের জগৎ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিগ বসের ঘরে বন্দি থাকাটা নিঃসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জই বটে। তাই দেখার বিষয়, এই কঠিন চ্যালেঞ্জে সবাইকে টেক্কা দিয়ে শেষ হাসিটা কে হাসেন! কার হাতে ওঠে বিগ বসের ট্রফি!

এন-কে

Feb2

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখার জেরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাতের পর বিকেল পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। পরবর্তীতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রচার করেন আল মামুন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হলে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তবে বিকেল চারটার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদে নিউমার্কেট মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কলেজের দিকে অগ্রসর হলে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেল পাঁচটার দিকেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজের সামনে এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রদলের দাবি, শিবিরের হামলায় তাদের ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ৫ থেকে ৬ জন কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাহাড়তলি ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফের অবস্থা গুরুতর এবং তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিকী রনির মোবাইল ফোনে কল করা হলে অন্য একজন রিসিভ করে বলেন, ‘কলেজে মারামারি হয়েছে। রনি ভাই আহত হয়েছেন, তাকে পাচ্ছি না।’

সংঘর্ষের বিষয়ে সিটি কলেজের একজন শিক্ষক জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও কলেজের সুনাম রক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়েছিল। দুপুরে এবং বিকেলের শিফটে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আদর্শিকভাবে দেউলিয়া ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শিক লড়াইয়ের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, দুপুর থেকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন এক পাষণ্ড স্বামী। এমন অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান নবজাতক কন্যা ও তার অসহায় মাকে দেখতে। শুধু খোঁজখবরই নয়, জেলার অভিভাবক হিসেবে নবজাতকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন তিনি।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে গর্ভবতী শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালালেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। একদিকে অসুস্থ মা, অন্যদিকে নবজাতক—দুজনেই পড়েন চরম অনিশ্চয়তায়।

এরই মধ্যে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয় এবং ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার খবর পেয়ে সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম নিজেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। আজ মঙ্গলবার নিজেই হাসপাতালে গিয়ে মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান।
এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নবজাতকের জন্য শিশু খাদ্য, পোশাক, ডায়াপার, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করছি।”

তিনি আরও বলেন,“এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেন নিজের পরিবারকে এভাবে ফেলে না যায়—এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

নবজাতকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, “তার স্বামী আগেই বলেছিল মেয়ে সন্তান হলে রাখবে না। সন্তান জন্মের পর থেকেই সে আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আমি নিজেই কষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে আমি ও আমার বাচ্চা ভালো আছি।”

তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,“ডিসি স্যার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে কী যে হতো জানি না। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন।”

শাহনাজারের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার জানান, “ডিসি স্যার ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই হাসপাতালের সবাই আরও বেশি যত্ন নিচ্ছেন। এমনকি তিনি একজন কর্মচারীকেও দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যাতে সব সময় খোঁজ রাখা হয়।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও এনআইসিইউ প্রধান ডা. মোহাম্মদ শাহীন বলেন, “প্রতিটি রোগীই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে জেলা প্রশাসক নিজে থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছেন। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ জেলা প্রশাসককে মা ও শিশুর জন্য উপহার নিয়ে আসতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ।”

হাসপাতালে উপস্থিত রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেও জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবিক সংকটে প্রশাসনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ হাজার টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানায় র‍্যাব।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানী কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় তার হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে দক্ষিণখান থেকে শরিফুল আলম করিম, বাড্ডা থেকে আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিনকে এবং আরিফুজ্জামানকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দ্বন্দ্ব থেকেই ২০ হাজার টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পক্ষে দেশে থাকা শরীফুল আলম করিমসহ অন্যরা কাজটি সম্পন্ন করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছে, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরণ দেখে মনে হয় এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল বিদেশে অবস্থান করছে। তবে তিনি এই টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি র‍্যাব।