খুঁজুন
, ,

হিজাব নারীজাতির অধিকার;বাধা দেওয়া অনৈতিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 9 February, 2022, 10:30 pm
হিজাব নারীজাতির অধিকার;বাধা দেওয়া অনৈতিক

ইসলাম শব্দটি মুখে আসলেই মনের কোণে একধরনের প্রশান্তির নহর জারি হয়। ভাষা বিজ্ঞানীদের মতে ‘ইসলাম’ শব্দটি ‘সালাম’ শব্দমূল থেকে নির্গত। সালাম অর্থ শান্তি। ঘোর তিমিরে দীপশিখার নাম ইসলাম। সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনব্যবস্থার নামই ইসলাম। ইসলাম মানুষকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ সম্মান। লিঙ্গভেদে নারী ও পুরুষের রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। অবস্থালোকে উভয়ের মাঝে শরীয়তের বিধানেও রয়েছে ভিন্নতা। লজ্জাস্থন হেফাজত করা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য আবশ্যকীয় বিধান। কিন্তু হিজাব শুধুমাত্র নারীর জন্য ফরজ। যেমন পবিত্র কুরআনের বাণী, “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিংদাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সুরা আহজাব: ৫৯)নারীরা কাপড়ের একটি টুকরো মাথায় পরছে, আর তাতে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো দেশে তা পরতে আইন করা হচ্ছে; কোনো কোনো দেশ তা পরতে সাধারণ অনুমতি দিচ্ছে। আবার কোনো কোনো দেশে তা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু এ হিজাব কী? মুসলিম নারীরা কেন হিজাব পরছে? মুসলিম নারীদের পরা ছোট্ট এক টুকরো কাপড় ‘হিজাব’ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ওঠে আসছে কেন? আসলেই নারীর জন্য পবিত্রতার প্রতীক হলো হিজাব।

এটি নারীর প্রতি মহান আল্লাহর এক মহা নিয়ামত। তিনি প্রত্যেক ঈমানদার নারীর জন্য হিজাব পরাকে আবশ্যক করেছেন। ঈমানদার নারীরা আল্লাহর বিধান পালনে তা পরতে বাধ্য। এ হিজাব নারীর শালীন চলাফেরা ও নিরাপত্তার কার্যকারী উপায়। হিজাব পরলে নারী-পুরুষের মাঝে শালীন অনুভূতি কাজ করে। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে ঈমানদার নারীকে হিজাব পরতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না তাদের দেহের (বুকের) ওপর ফেলে রাখে (সূরা নূর: ৩১)নারীর জীবনমান ও সমাজের পবিত্রতা রক্ষায় মহিলার জন্য পুরো শরীর আবৃত করা ফরজ।কেননা নারীরা সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল এবং অসভ্য পুরুষের পাশবিক আচরণের মুখে অসহায়। তাই সভ্যতা-সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রগতি কোনো কিছুর দোহাই তাদেরকে এসব পাশবিকতা থেকে রক্ষা করতে পারে না। এ জন্যই আল্লাহ পর্দার বিধান দিয়েছেন। নারীদের ইজ্জত-আব্রু রক্ষায় হিজাব ছায়াসঙ্গী। আমাদের সামাজিক ও নৈতিক ক্ষয়-লয় এবং পতন-পঁচনের সমাজেও আমরা দেখছি, যেসব নারী পর্দার মধ্যে বেড়ে ওঠে তারা বখাটেদের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে বেঁচে থাকেন। সাধারণত পর্দানশীন নারীদের উত্ত্যক্ত করতে দুষ্টরা দ্বিধাবোধ করে, তাদের প্রতি কিছুটা হলেও সম্ভ্রম বোধ বজায় রাখে। কোনো মুসলিম নারীরই উচিত নয়, আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজের জীবনের কল্যাণের উৎস নষ্ট করে দেওয়া। বেপর্দা হয়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনাবৃত রেখে কোনো মহিলা কোথাও জাগতিক স্বার্থ লাভ করে না। একান্তই শয়তানের প্ররোচনা অথবা অমুসলিম বা পরকালভোলা নারীদের অনুকরণের প্রবণতায় তারা এরূপ কঠিন হারামে লিপ্ত হয়। হিজাব পরণে কারো জাগতিক কোনো ক্ষতি হয় না, কোনো কর্ম বা প্রয়োজন ব্যাহত হয় না, পারিবারিক-সামাজিক সম্মান বা মর্যাদায় ঘাটতি আসে না; বরং নারী অতিরিক্ত সম্মান-মর্যাদা লাভ করেন। আল্লাহর অফুরন্ত দয়া, কল্যাণ ও বরকত লাভেও ধন্য হন।

ঈমানদার নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। যদিওবা পর্দা বা হিজাব ইসলামী শরীয়তের অলঙ্ঘনীয় বিধান; তথাপি হিজাব আধুনিক সত্যতার পরিচায়ক। সামগ্রিক নারীজাতির রক্ষাকবচ হলো হিজাব। বিশ্বব্যাপী আধুনিকতার নামে নগ্নতাকে প্রমোট করে লাজ-লজ্জার মাথা খাওয়া নির্লজ্জ সভ্যতার বিরুদ্ধে ‘হিজাব আন্দোলন’ উত্তপ্ত মরুভূমিতে শান্তির ফোয়ারা। সমাজে আধুনিকতার নামে গায়ের ওড়না হয়েছে মাফলার বা ক্ষেত্রে বিশেষে ওড়নাই নেই। যত বেশি খোলামেলা পোশাক পরা যায় ততবেশি আধুনিক। এ আধুনিকতা মেয়েদের পণ্য বানিয়ে রেখেছে। টিভির বিজ্ঞাপনগুলোতে মেয়েদের চিত্র প্রদর্শনীই মূখ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাগাজিনের কভারে কোন নারী মডেলের ছবি ছাপলেই বেশি বিক্রি হচ্ছে। আর অন্যদিকে এ নগ্নতার মাধ্যমে আমাদের সমাজ হচ্ছে কুলষিত। দেহের এই সৌন্দর্য প্রদর্শনী নারীদেরকে কতটুকু নিচে নামাচ্ছে তা যেদিন তারা বুঝবে; আফসোস করা ছাড়া কোন গতি থাকবে না।হিজাব বাস্তবেই মেয়েদের সম্মানকে সুনিশ্চিত করে। যেমন, রাস্তা দিয়ে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া দু’টি মেয়ে; যাদের একজন হিজাব পরে ও অন্যজন খোলা চুল এলিয়ে আঁট-সাঁট পোষাক পরে চলছে, রাস্তার বখাটে ছেলেরা সহজে উত্যক্ত করবে হিজাব বিহীন মেয়েটিকে। পত্রিকার পাতায় এ ধরনের নারী উত্যক্ত হবার অহরহ ঘটনা পড়তে পড়তে আমরা বিরক্ত।ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতি প্রকৃত আধুনিকতার বিরুদ্ধে নয়; বরং ইসলামই সর্বাধুনিক। ইসলাম কারো উপর প্রয়োজনাতিরিক্ত কিছুই চাপিয়ে দেয় না। বলা চলে, ব্যাক্তির যা প্রয়োজন, ইসলামের তা-ই আয়োজন। অতএব হিজাব নারীজাতির সম্মান যেমন বাড়ায়, ধর্ষণ ইভটিজিং থেকেও বাঁচিয়ে রাখে। হিজাব মুসলিম নারীজাতির অধিকার। কোন অজুহাতে এ অধিকার হরণ করা অমার্জনীয় অপরাধ। হিজাব নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা। বহুকাল ধরে বিশ্বব্যাপী ‘হিজাব বিতর্ক’ চলে আসছে। সময়ে সময়ে এ বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। সম্প্রতি এ বিতর্ক আলোচনার তুঙ্গে! ভারতে হিজাব পরে প্রতিবাদ করা কর্ণাটকের কলেজ ছাত্রী মুসকান খান ভারতসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোটা দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছেন। গত সোমবার তিনি বরাবরের মতো হিজাব পরে কলেজ ক্যাম্পাসে গেলে এক দল হিন্দু যুবকের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় ‘জয় শ্রী রাম’ বলে তার সামনে স্লোগান দিতে থাকে, যাদের পরনে ছিল বিজেপি ও আরএসএস সমর্থিত গেরুয়া ওড়না। এক পর্যায়ে তাদের ‘উত্যক্তের’ জবাবে ব্যাপক সাহসিকতার পরিচয় দেন মুসকান খান। তিনি ওই যুবকদের ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানের জবাবে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে থাকেন। মুসকান খানের ওই বীরত্ব সূচক স্লোগান ইতোমধ্যে নানা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বহুল প্রচারিত গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।রীতিমতো ঈর্ষনীয় প্রশংসায় ভাসছেন এই মুসলিম তরুণী। মুসলিম অগ্নিকন্যা মুসকান খানের কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি হিজাব বিতর্কের অবসান ঘটাক; এ প্রত্যাশায় শেষ করছি।

সাইফুল ইসলাম চৌধুরী
লেখক ও ইসলামী আলোচক
খতিব- গাউসিয়া উসমান চৌধুরী জামে মসজিদ।

Feb2
Feb2

১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 12:33 am
১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ম্যাচের শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধজুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি থ্রি লায়নরা। তবে বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত দারুণ এক প্রত্যাবর্তন করেছে তারা। কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।

৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এরপর ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও জালে বল জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে অসাধারণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো ডিআর কঙ্গোকে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৭ম মিনিটে দারুণ এক গোলে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গার। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের নিচের বাঁ কোণে পাঠিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। গোলটির পেছনে বড় অবদান ছিল অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার, তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোল হয়।

গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহাম সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। শূন্যে ভেসে আসা ক্রসে দারুণ এক হেডে বল পোস্টের ডান দিকে পাঠান তিনি। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি অসাধারণ রিফ্লেক্সে বলটি ফিরিয়ে দেন। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।

পাঁচ মিনিট পর আবারও সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শট নেন মার্কাস রাশফোর্ড। তবে কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করায় হতাশ হতে হয় তাকে। সমতায় ফেরার আরেকটি সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় ইংলিশদের।

৪২ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিল ডিআর কঙ্গো। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে সুযোগ পেয়ে যান ইওয়ান উইসা। অ্যারন ওয়ান-বিসাকার বাড়ানো বলে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন তিনি। তবে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করে গোলপোস্ট। বল পোস্টে লেগে ফিরে এলে বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় থ্রি লায়নরা।

এর দুই মিনিট পর ম্যাচে তৈরি হয় বিতর্ক। মাঝমাঠ থেকে আসা লম্বা বল ধরে কঙ্গোর বক্সে ঢুকে পড়েন হ্যারি কেইন। তাকে থামাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক এমপাসি। দুজনের সংঘর্ষে বক্সের ভেতরে পড়ে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। পেনাল্টির জোরালো দাবি তুললেও রেফারি উল্টো কেইনের বিপক্ষেই ফাউলের বাঁশি বাজান। ফলে পেনাল্টির বদলে ফ্রি-কিক পায় ডিআর কঙ্গো।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বেলিংহামের নিচু হেড গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু আবারও সামনে দাঁড়িয়ে যান এমপাসি। বাঁ দিকের নিচের কোণ থেকে দুর্দান্ত সেভ করে ইংল্যান্ডকে গোলবঞ্চিত করেন তিনি।

৫৪তম মিনিটে আবারও দুর্দান্ত এক সেভে ইংল্যান্ডকে হতাশ করেন এমপাসি। জুড বেলিংহামের শট কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বলটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

তবে ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কঙ্গোর গোলরক্ষক বলটিতে হাত লাগালেও সেটিকে জালে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেননি।

সমতায় ফেরার মাত্র ১১ মিনিট পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন কেইন। ৮৬তম মিনিটে গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ১১ মিনিট আগে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

কেইনের এই জোড়া গোলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে এনে দেয় মূল্যবান জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ১৩ গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এবারের আসরে তার গোল মোট ৫টি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 11:04 pm
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্র ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারাদেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ।

তিনি জানান, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার এবং আটজন আনসার সদস্য। তারা ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্র, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, ঔষধ চক্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল কর্মস্থলে কোনো সদস্য অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বাহিনীর নিয়োগ ও মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সফ্‌টওয়্যারভিত্তিক যাচাই-বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং বাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্যদের সততা ও দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মলদোভাসহ বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল মজিদ এবং মো. রাশেদুজ্জামানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 10:16 pm
ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হলো, তা নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কীভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।

ঢাকার এই বৃত্তাকার সড়কের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারিঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেইট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যাবে। সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৮৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলছে। বৈঠকে জানানো হয় এই পথে ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃত্তাকার এই সড়ক নির্মাণ হলে রাজধানীর ভেতরের সড়ক ব্যবহার না করেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়া যাবে। সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামের যাত্রীরা ঢাকা না ঢুকেও গন্তব্যে যেতে পারবেন। এতে শহরে যানবাহনের চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে যানজটও কমে আসবে।

একইভাবে ঢাকা শহরে ঘিরে ১১০ কিলোমিটারের নদী পথ রয়েছে তার চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং রাজধানীর বৃত্তকার নদী পথে মানুষজন এক গন্তব্যে থেকে অন্য গন্তবে যেতে পারবে অনায়াসে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, এই বিষয়গুলো বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা এর কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। নদী পথ ব্যবহার করলে পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকবে, জ্বালানি সাশ্র্রয়ী হবে, সময়ও কম লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বলেছেন। কারণ নদী পথের যানবাহনগুলো হবে বিদ্যুৎচালিত।

বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেল পথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।