খুঁজুন
, ,

জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধাঃ আমির খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 29 May, 2022, 7:55 pm
জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধাঃ আমির খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বিদ্রোহ চট্টগ্রাম থেকেই হয়েছে। জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা। তিনি পাকিস্তানের সৈন্যদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পাকিস্তানিদের হত্যা করে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। নেতারা কিন্তু যুদ্ধের অগ্রভাগে থাকে না, ওনি কিন্তু যুদ্ধে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের বিশাল অংশ মুক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান। তিনি দেশের ক্ষমতা নেওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য প্রথম একটি দর্শন প্রণয়ন করেন। একটি ভাবনা দিয়েছেন, একটি চিন্তা দিয়েছেন। সেটি হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

তিনি রবিবার (২৯ মে) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪১ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে আলোচনা সভা শেষে নেতাকর্মীরা বের হওয়ার সময় সভাস্থলে অতর্কিত ভাবে বিষাক্ত গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে শ্বাসকষ্ঠ ও চামড়া, বুক জ্বালায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর সহ শতাধিক নেতাকর্মী। এসময় উত্তেজনা দেখা দিলে আবুল হাশেম বক্কর পুলিশের সাথে কথা বলে এর প্রতিবাদ জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদের দর্শন দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। অর্থাৎ এই সীমানার মধ্যে যারা আছে সবাই বাংলাদেশি। কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ হিন্দু, কেউ খ্রিস্টান-সবাইকে একতাবদ্ধ করার জন্য জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদের প্রবর্তন করেন। দেশের উন্নয়নের ভাবনা দিয়েছেন, একদলীয় থেকে বহুদলীয় শাসনের দর্শন চালু করেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সমান সুযোগ রেখেছিলেন। কারণ এর আগে ছিল রাষ্ট্র পরিচালিত অর্থনীতি। অথাৎ আওয়ামী পরিচালিত অর্থনীতি। বাকশাল পরিচালিত অর্থনীতি থেকে বের হয়ে সবাই যাতে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে, সেই দর্শন তিনি প্রণয়ন করেন। আজকে খুনী, স্বৈর সরকার থাকার পরও অর্থনীতি একটি অবস্থান আছে। তার কারণ জিয়াউর রহমান। বিএনপি থাকলে অর্থনীতির গতি আরও বেড়ে যেত। বর্তমানে কিছু লোকের হাতে অর্থনীতি চলে গেছে। এই অর্থনীতিকে ফিরিয়ে আনতে হলে জিয়াউর রহমানের অর্থনীতি দর্শন নিয়ে আসতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, তারেক রহমান দেশে আসলে বিপ্লব হয়ে যাবে। বেগম খালেদা জিয়াকে একবার জন সম্মুখে আসতে দেন, দেখেন দেশে কী হয়। পুলিশের সাবেক আইজি শহিদুল হক বলেছেন- আওয়ামী লীগের জন্য ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। তাদের অত্যাচারে কাজ করা যায় না। পুলিশ ভাইদের বলব, এখনই সময় জনগণের সঙ্গে থাকার। বিপদে পড়লে এরা আপনাদের সাহায্য করবে না।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এই চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। বিশ্বের নেতারা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের মতো দেশপ্রেমিক মানুষ হয় না। তারেক রহমান তার যোগ্য উত্তরসূরী। তিনি আসলে দেশের সব মানুষ তার হয়ে কাজ করবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় স্তম্ভ। এই স্থানের গুরুত্ব দেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি। কারণ শহীদ জিয়াউর রহমান এখান থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কেউ চাইলেই এই ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের আধুনিক রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর শাসনামল ছিল বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ। কৃষি থেকে শুরু করে রেমিটেন্সসহ অর্থনীতির চাকা সচল হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। মহান মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন সেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে বাংলাদেশকে উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাড়াতে পারতো। কিন্তু দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের কারনে তিনি তা করতে পারেননি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বিদ্রোহ চট্টগ্রাম থেকেই হয়েছে। তাই চট্টগ্রামের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধপূর্ব এবং যুদ্ধকালীন সময়ে অবিস্মরনীয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে নীরব ছিলেন না। এদেশের সেনাবাহিনীকে সংগঠিত করে তিনি পাক সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেছেন চট্টগ্রাম থেকেই।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, দেশের মানুষের আহবানে দেশ ও জাতিকে পথ দেখানোর জন্য জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছিল। জিয়াউর রহমান সে বাকশাল বিলুপ্ত করে বহুদলীয় ক্ষমতায়নের প্রবর্তন করেছেন। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ৫টি মৌলিক ইস্যুকে ধংস করে দিয়েছে। বিএনপি তা ফিরিয়ে দিয়ে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি সেখানে সফল হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো. নাছির উদ্দীন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. ছিদ্দিক আহম্মেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দীন আহম্মেদ মানিক।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এড, আবদুস সাত্তার, এড. মুফিজুল হক ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. এনামুল হক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব এড. হাসান আলী, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি প্রমুখ।

Feb2
Feb2

ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 pm
ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ছুটির দিনে হাতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ নিতে শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আসে।

পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি চালু করেছে।

শুক্রবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে আসছে। নির্ধারিত স্থানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিয়ে তারা বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও।

চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ ইসলাম ও তার সহপাঠী সারোয়ার হোসেনও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরিফ বলে, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াবে।

আরিফ বলে, ‘এখন থেকে রাস্তায় কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দেখলে সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করব। বন্ধুদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’

দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে শিশুদের বিনোদন ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ যুক্ত করে জেলা প্রশাসন ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় আসেন। উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সব নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

ইকবাল বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হলে নাগরিকদের অভ্যাসেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এতে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। উদ্বোধনী দিনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্লাস্টিক কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা মুখ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য একটি বিনিয়োগ।’

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।