খুঁজুন
, ,

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 June, 2022, 6:12 pm
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী গ্রেপ্তার

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শুক্রবার (৩ জুন) র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

নজরুল ইসলামের গ্রেপ্তারের বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তিনজনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। আসামিরা হলেন, রেজাউল করিম মন্টু, শহিদ মণ্ডল ও মো. নজরুল ইসলাম। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম পলাতক ছিলেন। নজরুল ইসলাম স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেন। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হত্যাসহ অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। এর ফলশ্রুতিতে র‌্যাব ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নজরুলকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

তিনি আরও বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাড়ে ১২ টায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, গ্রেপ্তার নজরুল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় নওগাঁর বদলগাছি থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ-নিরস্ত্র বেশ কয়েকজনকে হত্যাসহ অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, ঘরবাড়ি লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে। নজরুল রাজধানীর মোহাম্মদপুর আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কমিটি গঠনের এখতিয়ার রাখেনা ঢাকা মোহামেডান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 9:54 pm
চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কমিটি গঠনের এখতিয়ার রাখেনা ঢাকা মোহামেডান

চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একটি স্বতন্ত্র ক্লাব।যা তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরিচালিত হয়। এই ক্লাব কারো শাখা বা অধীনস্থ ক্লাব নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব শতবর্ষের কাছাকাছি চলে এসেছে তার নিজস্ব গতিতে। কখনো ঢাকা মোহামেডান কিংবা অন্য কোন সংগঠন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকান্ডে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা, সহমর্মিতা কোনটাই করেনি বা চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেনি।

কিন্তু হঠাৎ করে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: কর্তৃক চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের একটি এডহক কমিটি গঠন করে দিয়েছে যা চট্টগ্রাম সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এখতিয়ার বহির্ভুত। এধরণের হটকারী কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এর লক্ষ লক্ষ সমর্থকের মনে আঘাত দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্লাব টির নবগঠিত কমিটির কর্মকর্তারা জানান চট্টগ্রাম মোহামেডানের হারানো গৌরব ফেরাতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন তরুণদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। যাতে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে একটি আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনে পরিণত করা যায়। যার স্বপ্ন দেখেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু হঠাৎ করে ঢাকা মোহামেডান কর্তৃক এধরনের কমিটি গঠন খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করার শামিল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গভর্নিং বডির মহাসচিব শওকত আজম খাজা। বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দ্বিপ্তী এবং সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন দ্বিপ্তী বলেন, একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র ক্লাবের বৈধ কমিটির বিপরীতে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: কর্তৃক একটি এডহক কমিটি প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনী এবং অনৈতিক। যারা ধরণের গর্হিত কাজ করেছেন তারা অন্তত আলোচনা করতে পারতেন। যাকে সভাপতি করা হয়েছে রাজনৈতিকভাবে আমরা একই আদর্শের এবং আমরা তার সহকর্মী। তিনি আমাদেরকে তার প্রত্যাশার কথা জানাতে পারতেন। আমরা তার সাথে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। আর তাতে একজন রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আমরা নিজেরাও বিব্রত। তবে তিনি এখনো আলোচনার পথ খোলা রয়েছে বলে জানান।

দ্বিপ্তী জানান ঢাকা মোহামেডান যাকে চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাধারন সম্পাদক বানিয়ে দিয়েছেন তিনি এক এগারোর কুশিলব বর্তমানে কারাবন্দী জেনারেল মাসুদ উদ্দিনের দোষর। যে মাসুদ উদ্দিনের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেমনই একজন ঘৃনীত এবং চিহ্নিত দোষরকে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে ক্লাবটির লক্ষ লক্ষ সমর্থক মেনে নেবেনা কোনদিন।

ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম বলেন, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মত একটি গৌরবময় প্রতিষ্টানের উপর একটি অবৈধ কমিটি চাপিয়ে দেওয়াটা শুধু গর্হিত কাজই নয়, বরং অবিচার বটে। ঢাকা মোহামেডান কোন কালেই চট্টগ্রাম মোহামেডানের কোন কাজে সহযোগিতা বা হস্তক্ষেপ কোনটি করেনি বা করার এখতিয়ার ও রাখেনা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক নিজস্ব গতিতে বিগত ৭৫ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেই চলবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান, কোষাধ্যক্ষ ইয়াছিন আরাফাত পাবলু, আবু বকর ছিদ্দিক, মাসুদুর রহমান মাসুদ, নেয়ামত উল্লাহ তৌহিদ, ফজলুল হক সুমন, দিদার হোসেন, দিদারুল আলম জাবেদ, এডভোকেট ওমর চৌধুরী, সমর্থক গোষ্ঠী সভাপতি শিবলী নোমান সিফাত, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার খান, মোঃ বেলাল, শওকত খান রাজু, মিয়া হারুন, শেখ আলম রাজু, নুর খান, সাগির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, গোলাম ইয়াজদী, শওকত আলী প্রমুখ।

কেবল শিক্ষাই জেলে পল্লীর ভাগ্য বদলাতে পারে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 9:24 pm
কেবল শিক্ষাই জেলে পল্লীর ভাগ্য বদলাতে পারে: ডিসি জাহিদ

শিক্ষাই উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী ঘাট বেড়িবাঁধ এলাকায় স্বপ্নীল মডেল একাডেমিতে আয়োজিত মানবিক সহায়তা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতেন, আজও যদি একই পদ্ধতিতে তাঁদের যেতে হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হলো শিক্ষা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হলেও জেলে ও চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকেও নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্যোগী হতে হবে।

জেলে পরিবারের অভিভাবকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। শুধু বই, খাতা বা পোশাক দিলেই হবে না, শিক্ষার মাধ্যমে তাঁদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, “আপনাদের সন্তানরা যেন আগের মতো ঝুঁকি নিয়ে সাগরে না যায়। তারা যেন শিক্ষা, জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তি নিয়ে মাছ আহরণে যায়। বাবা-মা হিসেবে কিছু কষ্ট স্বীকার করতে হবে। নিজের ও সন্তানের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এই কষ্ট প্রয়োজন।”

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ। শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। একজন মৎস্যজীবীকেও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তিনি নিজের পেশার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন।

সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, একজন জেলে সাগরে গেলে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা, পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা সম্ভব হওয়া উচিত। “আমরা চাই না, একজন জেলে ভাই সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ থাকবেন, অথচ তাঁর অবস্থান কেউ জানতে পারবে না।”

তিনি জানান, মৎস্যজীবী ও চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে তিনি জেলেদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানাতে হবে। “আপনারা যদি সমস্যার কথা না জানান, তাহলে আমরা কীভাবে বুঝব? আপনারা প্রয়োজনগুলো জানাবেন, আমরা আপনাদের পাশে থাকব।”

উপকূলীয় জেলে পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে নবপ্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বিদ্যুৎ সংযোগসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, গত শীতে শীতবস্ত্র বিতরণের সময় স্থানীয়রা একটি বিদ্যালয়ের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল, বই ও পোশাক দেওয়ার পরও যদি সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো না হয়, তাহলে এই উদ্যোগ সফল হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সবসময় মৎস্যজীবী ও চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও এই জনগোষ্ঠীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। সরকার, প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং প্রান্তিক মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শুনে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ জেলে পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, নুডলস, চিড়া, বিস্কুট, সাবান, মোমবাতি, লাইটার ও ওরস্যালাইন ছিল। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত একটি প্রতিষ্ঠানের পুনর্বাসনের জন্য ১২ বান্ডেল ঢেউটিন ও ৩৬ হাজার টাকার চেক এবং ১১৮ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন স্কুল ড্রেস ও দুটি করে খাতা তুলে দেওয়া হয়।

পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারিস্তা করিম বলেন, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগেই স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বিদ্যালয়ের দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। তিনি জানান, এলাকায় প্রায় ৬৫০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নৌযান চলাচলের রুট ও নেভিগেশন চ্যানেলে জাল না বসানোর আহ্বান জানান এবং স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

উত্তর চট্টলা জেলে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হরি জলদাস অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানের জেলেরা জাল কেড়ে নেওয়া, মাছ ধরায় বাধা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং জেলে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা পায়ে হেঁটে স্থানীয় জেলে পল্লী পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, আবাসন, শিক্ষা, সুপেয় পানি, নিরাপত্তা ও জীবিকার বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। সরু গলি দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষের সৃষ্টি হয়।

বাসিন্দারা জানান, জেলা প্রশাসক শুধু ত্রাণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বাস্তব পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের বলেন, সমস্যাগুলো প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে, কারণ জনগণ না জানালে সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, ব্রাইট ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা, মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ঘোষণা ফিফার, জায়গা পেলেন কারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 7:00 pm
বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ঘোষণা ফিফার, জায়গা পেলেন কারা

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন দিন পর টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা। সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত এই একাদশে সবচেয়ে বেশি তিনজন করে জায়গা পেয়েছেন স্পেন ও ফ্রান্সের।

রানার্সআপ আর্জেন্টিনা থেকে আছেন দুজন। এ ছাড়া ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও কেপ ভার্দের একজন করে ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। ব্রাজিলের কেউ বা স্পেনের লামিনে ইয়ামাল এই একাদশে নেই।

৪-৩-৩ ছকে সাজানো এই দলে গোলবারের নিচে আছেন কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা আফ্রিকান দলটির হয়ে দুর্দান্ত সব সেভ করে টুর্নামেন্টের অন্যতম চমক হয়ে ওঠেন তিনি। একাদশে জায়গা পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৯.৬% শতাংশ ভোটও পেয়েছেন ভোজিনিয়াই।

রক্ষণভাগে জায়গা পেয়েছেন স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো, আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং ফ্রান্সের দায়ো উপামেকানো। পুরো টুর্নামেন্টে এক মিনিটও মিস না করা কুকুরেয়া দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। স্পেনও বিশ্বকাপ জেতার পর পথে পুরো আসরে মাত্র এক গোল হজম করে সাতটি ক্লিন শিট রেখেছে।

মাঝমাঠে জায়গা পেয়েছেন স্পেনের রদ্রি, ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে এবং ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন রদ্রি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বলও জিতেছেন তিনি। সেমিফাইনালে খেলা ফ্রান্সের হয়ে ৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন ওলিসে। অন্যদিকে বেলিংহাম ইংল্যান্ডের হয়ে করেছেন সাত গোল।

আক্রমণভাগে জায়গা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হলান্ড। ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে টুর্নামেন্টে চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার পথে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন এমবাপ্পেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯.৬% ভোট পেয়েছেন এই ফরাসি তারকা।

অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন মেসি। পুরো টুর্নামেন্টে করেন ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। আর নরওয়ের বিশ্বকাপযাত্রা শেষ আটে থেমে গেলেও এর মধ্যেই সাত গোল করেন হলান্ড।

ফিফার বিশ্বকাপ সেরা একাদশ
গোলরক্ষক: ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে)
রক্ষণভাগ: পেদ্রো পোরো (স্পেন), দায়ো উপামেকানো (ফ্রান্স), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা), মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)
মাঝমাঠ: রদ্রি (স্পেন), মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স), জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)
আক্রমণভাগ: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)