খুঁজুন
রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎ অপচয়ে প্রশাসনের জরিমানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
মিরসরাইয়ে বিদ্যুৎ অপচয়ে প্রশাসনের জরিমানা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক বাড়ির মালিক ও দুই ব্যবসায়িকে বিদ্যুৎ অপচয়ের অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে। ১০ আগস্ট (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেন মিরসরাই উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এস.এম.এন জামিউল হিকমা। অভিযানে তিনি এক বাড়ির মালিক ও দুই ব্যবসায়ির ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

অভিযানে মিরসরাই পৌরসভার কলেজ রোড এলাকায় বাড়িতে আলোকসজ্জা করে বিদ্যুৎ অপচয় করার কারণে বাড়ির মালিক শফিকুল মাওলাকে ২ হাজার টাকা ও সুফিয়া রোড় এলাকায় রাত ৮টার পর দোকান খোলা রেখে বিদ্যুতের অপচয় করার কারণে দোকানি আব্দুল আউয়াল ও রবিন্দ্র নাথকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এস.এম.এন জামিউল হিকমা বলেন, বিদ্যুৎ অপচায় করায় এক বাড়ির মালিক ও দুই ব্যবসায়িকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ অপচয় না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এভাবে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মানুষ সচেতন না হয় তাহলে আমরা বড় ধরণের জরিমানা করবো।

জে-আর

Feb2

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ (রোববার) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন তা পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আহ্বানের পর থেকেই এ প্রস্তুতি শুরু হয়। অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

রেওয়াজ অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর দিন প্রথমে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে, যেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন কত কার্যদিবস পর্যন্ত চলবে তা চূড়ান্ত করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট ২০২৬-২৭ উপস্থাপন করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বাজেটের আকার হবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থের বড় একটা অংশ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর, ভ্যাট ও শুল্ক থেকে। এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

পর্যাপ্ত নয় ভর্তুকি

বাজেটে সরকারের ব্যয়ের বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ অন্যতম। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি তেল-গ্যাস আমদানি, সারসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন উপকরণ আমদানি ও সহায়তা, রপ্তানিতে নগদ সহায়তা, রেমিট্যান্স বাড়াতে প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতে এসব ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার আমদানিতে। দেশে শিল্প উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এই ভর্তুকি খুবই জরুরি।

তবে দাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চাইছে দেশের বাজেট ঘাটতি কমানো হোক এবং ভর্তুকি তুলে দেওয়া হোক। সরকার ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তির সময় ভর্তুকি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই ঋণ কর্মসূচি যদিও এখন চলবে না বলে জানা যায়। তবে বাংলাদেশ নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের জন্য সংস্থাটিকে চিঠি দিয়েছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পরিকল্পনা করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদ্যুৎ খাতের জন্য ভর্তুকি রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও একই পরিমাণ বরাদ্দ ছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এ ছাড়া গ্যাস আমদানির (এলএনজি) জন্য রাখা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। গ্যাস আমদানির এই অর্থ অন্যান্য ভর্তুকির নামে রাখা অর্থ থেকে ব্যয় হবে। অন্যান্য খাতে রাখা হয়েছে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সার আমদানিতে রাখা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। সারের এই অর্থ কৃষি খাতের জন্য রাখা ১৭ হাজার কোটি টাকা ও বাকিটা অন্যান্য খাত থেকে খরচ হবে। আগামী বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দও চলতি বছরের সমান।

অর্থ বিভাগের বাজেট পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ, এলএনজি ও কৃষি ভর্তুকি বাবদ অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে আগামী অর্থবছর।

খাদ্যে ভর্তুকি কমছে

দেশে বাজেটে বরাদ্দ করা ভর্তুকির বড় অংশ খরচ হয় ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য বিতরণের জন্য। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার এ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১০ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের মূল বাজেটে এ খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে খাদ্যে ভর্তুকি কমিয়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ছে: দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় দুটি খাতের একটি রেমিট্যান্স। হুন্ডি ঠেকাতে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ২ শতাংশ প্রণোদনা চালু রয়েছে। এই খাতে প্রণোদনা ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জন্য মূল ও সংশোধিত উভয় বাজেটেই ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

রপ্তানি প্রণোদনা অপরিবর্তিত থাকছে

বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দিতে বাজেটে ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মূল ও সংশোধিত বাজেটের সমান।

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ (রোববার) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় দেবেন।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে।

পরদিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত চলাকালে ডিএনএ ও ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

পরে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।

গত ৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত ও মামলার অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতকে বলেন, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ দাবি করেন, মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন নেই, আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। তাই অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি আদালতের কাছে খালাস প্রার্থনা করেন। তবে বিকল্পভাবে সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা চেয়েছেন তিনি।

মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে এত দ্রুত বিচারিক অগ্রগতি বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রায়ের আগে শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে রামিসার বাবা বলেন, তিনি শুধু নিজের সন্তানের হত্যার বিচার চান না, বরং এমন একটি সমাজ ও বিচারব্যবস্থা চান যেখানে আর কোনো শিশুকে এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।

মনোরেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত করা হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
মনোরেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত করা হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম মহানগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা ও মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নিয়ে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন রেস্ট হাউজে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে বৈঠক করেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর ৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সভায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করলে আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নের বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে সড়ক ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পটির প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডিও সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহল অত্যন্ত আগ্রহী আছে। যদি আমরা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই শেষ করতে পারি, তাহলে আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটির মূল কাজ করা সম্ভব হবে। আর তাহলে বাংলাদেশের প্রথম মনোরেল চালু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। সভায় চট্টগ্রাম নগরীর ট্রাফিক জ্যাম নিরসন, বর্তমান গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মনোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ মশিউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (ম্যাস ট্রানজিট) ও যুগ্মসচিব আবদুল লতিফ খান, ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া-সিএমএ প্রকল্প পরিচালক ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার, সিএমএ প্রকল্প এবং ম্যাস ট্রানজিট প্ল্যানার মুহাম্মদ আবদুর রকিব এবং সহকারী ম্যাস ট্রানজিট ইঞ্জিনিয়ার (বিআরটি) মোঃ ইনজামুল হক মেহেদী।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ শাফকাত আমিন, আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রধান প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরী প্রকল্পের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

এসময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দরনগরী, বাণিজ্যিক রাজধানী এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যানজট এ নগরীর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন কর্মঘণ্টার অপচয়, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং জনভোগান্তির কারণে নগরবাসীকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ বাস্তবতায় আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি বলেন, “মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। নগরবাসী দ্রুত, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে সড়কের ওপর চাপ কমে যাবে এবং যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আমরা চাই পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট মহানগরীতে রূপান্তর করতে।”

মেয়র আরও বলেন, “চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় মনোরেল একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। আমরা আশা করছি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে আগামী বছরের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুধু এই নগরীর উন্নয়ন নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। মনোরেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত, গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডিটিসিএর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “চট্টগ্রামের পরিবহন খাতের উন্নয়নে আপনাদের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও উন্নত নগরী উপহার দেবে।”

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ মশিউর রহমান জানান, ৫ জুন থেকে ৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ডিটিসিএর ৫ সদস্যের এই টিম চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সরেজমিন পরিদর্শন করছেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে প্রকল্পের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবেন।

সভায় গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট, আধুনিক ও টেকসই নগরে রূপান্তরের অংশ হিসেবে মনোরেল প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, পাহাড়-সমুদ্রবেষ্টিত অবস্থান, সীমিত সড়ক অবকাঠামো এবং ঘনবসতিপূর্ণ নগর বিন্যাস বিবেচনায় এখানে মেট্রোরেলের তুলনায় মনোরেল অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। মনোরেল নির্মাণে তুলনামূলকভাবে কম জায়গার প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যমান সড়ক ব্যবস্থার ওপর কম প্রভাব পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী যানজট নগরীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করছে। মনোরেল চালু হলে নগরবাসী দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা পাবে, একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।”

আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিশ্বের অনেক উন্নত শহরে মনোরেল সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি একটি পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। চট্টগ্রামেও দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আমরা আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে।”