খুঁজুন
, ,

পেকুয়ায় ১৪৪ ধারা কার্যকরে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 28 August, 2022, 6:15 pm
পেকুয়ায় ১৪৪ ধারা কার্যকরে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বিভাগীয় জেলা শহর চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় একই স্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পেকুয়া স্টেডিয়াম থেকে চৌমুহনী হয়ে পেকুয়া আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরীর বাজার পর্যন্ত। যে কোনো স্থানে যে কোনো প্রকারের সভা সমাবেশের উপর ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। ২৭ আগস্ট (শনিবার) রাতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা এ ঘোষণা দেন।

তার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, পেকুয়া উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান বজায় রাখার নির্মিত্তে আজ ২৮ আগস্ট (রোববার) সকাল ৬টা হতে রাত ৯ টা পর্যন্ত পেকুয়া স্টেডিয়াম হতে চৌমুহনী হয়ে পেকুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় সকল প্রকার রাজনৈতিক সভা সমাবেশ ও মিছিল আয়োজনের উপর ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।

জারিকৃত এ আদেশ সকল রাজনৈতিক দল ও সর্বসাধারণকে মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়। এদিকে সকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পেকুয়ার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পেকুয়া আলহাজ্ব কবির মিয়ার বাজার ও চৌমুহনীতে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ ফরহাদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের অবস্থান ও টহল লক্ষ্য করা গেছে।

কর্মসূচির বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বারেক বলেন, আমাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি ছিল আজ ২৮ আগস্ট (রোববার) কিন্তু বিএনপি হুট করেই একই দিন মিছিল ডেকে বসে আমাদের স্থানে। তারা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য আমাদের সমাবেশস্থলে মিছিল ডেকেছে। তিনি আরো বলেন, আগস্ট শোকের মাস এ মাসে বরাবরের ন্যায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করা বিএনপির প্রধান উদ্দেশ্য।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির যেকোনো সহিংসতা রোধে আমরা প্রস্তুত আছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বিএনপি ঘটাতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন মিলে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবেন বলেও জানান।
এ ছাড়াও তিনি দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তারা মেনে চলবেন বলেও জানান।

এদিকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দলীয় নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ডাক দেয় বিএনপি। কিন্তু সেই কর্মসূচি পেকুয়াতে পালনের উদ্দেশ্যে তারা গণমিছিলের ডাক দেয় কিন্তু প্রশাসন সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গভীর রাতে ১৪৪ ধারা জারি করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা দেখিয়ে দিতাম পেকুয়ার আপামর মানুষ কিভাবে আমাদের দল বিএনপি ও প্রিয় নেতা সালাহউদ্দিন ভাইয়ের জন্য রাস্তায় নেমে এসে কর্মসূচি পালন করে। এ ছাড়াও তিনি ১৪৪ জারির কারণে তাদের মিছিল স্থগিত করেছেন এবং খুব শিগগিরই আবার তারা কর্মসূচিটি ব্যাপকভাবে পালন করবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমাদের পুলিশ সদস্যদের টহল ও ১৪৪ ধারা জারিকৃতস্থানে আমাদের পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখা ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা সদা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।

জে-আর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।