খুঁজুন
, ,

শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকের অপেক্ষা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 6 September, 2022, 2:20 pm
শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকের অপেক্ষা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিন সবার চোখ দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসের দিকে। আর কিছুক্ষণ পর এখানেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও একান্ত আলোচনায় বসবেন শেখ হাসিনা।

চারদিনের সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সোমবার দুপুরে দিল্লি পৌঁছার পর তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এরপর বিকালে হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ জিয়ারত ও আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। রাতে বাংলাদেশ হাই কমিশনারের দেওয়া সংবর্ধনা ও নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।

সফরের দ্বিতীয় দিনটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনই বেশি ব্যস্ততায় কাটবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

শেখ হাসিনা সকাল ৯টায় রাষ্ট্রপ্রতি ভবন যান। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

এরপর শেখ হাসিনা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসব কর্মসূচির পর দুপুরে হায়দরাবাদ হাউজে বৈঠক করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। তার আগে সেখানেও নরেন্দ্র মোদি তাকে স্বাগত জানাবেন।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরে একটি প্রেস বিবৃতি দেয়া হবে।

এর আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বলেন, “আমি আশা করি এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হবে এবং আমাদের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন করা এবং আমাদের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা- যা আমরা করতে সক্ষম হব। বন্ধুত্বের মাধ্যমে আপনি যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেন। সুতরাং, আমরা সবসময় এটিই করি।”

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক তার সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজনে যোগ দেবেন।
একইদিন শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

পরের দিন ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়ন মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সভায় এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ বা গুরুতর আহত ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর অফিসারদের বংশধরদের ‘মুজিব বৃত্তি’ প্রদানের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরার আগে রাজস্থানের খাজা গরিব নওয়াজ দরগাহ শরীফ, আজমির (আজমির শরীফ দরগাহ) জিয়ারত করবেন।

এন-কে

Feb2
Feb2

আইভরি কোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:00 am
আইভরি কোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ে

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ের রূপকথা শেষ ৩২ এ ফুরিয়ে যায়নি। ডালাস স্টেডিয়ামে তারা আইভরি কোস্টকে হারিয়েছে। আর্লিং হালান্ডের গোলে ২-১ ব্যবধানে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ব্রাজিলের সামনে তাদের কঠিন পরীক্ষা।

প্রথমার্ধে আর্লিং হালান্ডের কপাল খারাপই বলতে হয়। তৃতীয় মিনিটে বক্সের সেন্টার থেকে তার একটি হেড ব্লকড। বিরতির তিন মিনিট আগে পা বাড়িয়ে দিয়ে তার নিশ্চিত গোল ঠেকালেন আইভরি কোস্টের এক ডিফেন্ডার। মাঝে তার একটি ট্রেডমার্ক হেড সেভ করেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।

নরওয়ের গোলমেশিন গোল না পেলেও শেষ ৩২ এর ম্যাচে আইভরি কোস্ট পেছনে পড়েছে। মার্টিন ওডেগার্ডের অ্যাসিস্টে ৩৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসা বক্সের বাম দিকে বল পেয়ে পায়ের কাজ দেখিয়ে কিছু জায়গা বের করেন। তারপর ডান পায়ের কোণাকুনি শটে ফোফানাকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন তিনি। নুসার একমাত্র গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি।

আর ওডেগার্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম তিন ম্যাচেই অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়লেন। তার আগে ১৯৮৬ ও ২০০২ সালে যথাক্রমে এই রেকর্ড গড়েন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইগোর বেলানোভ ও জার্মানির মাইকেল বালাক।

আইভরি কোস্টও নরওয়ের বক্সে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু লক্ষ্যে ছিল না বল। ২১ মিনিটে ঘিসলাইন কোনানের ডানপায়ের শট কাছের পোস্ট দিয়ে বাইরের জালে জড়ায়। সাত মিনিট পর নিকোলাস পেপের ডান পায়ের শট বাঁ দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে এমানুয়েল আগবাদুর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট রুখে দেন নরওয়েজিয়ান কিপার ওরহান নাইলান্ড। শেষ মুহূর্তে তার একটি হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৫৫তম মিনিটে পেপে বক্সের মাঝখান থেকে বাম পায়ে শট নেন। নাইলান্ড সেটি ডানদিকের নিচু কোণা দিয়ে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। আইভরি কোস্টের এটিই ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচের সেরা সুযোগ। নরওয়ের বক্সে হেগেম একটি শট ব্লক করার পর বলটি ফাঁকায় পেপের কাছে চলে আসে, কিন্তু নাইলান্ড কাছের পোস্টে দুর্দান্তভাবে বলটি আটকে দেন।

দুই মিনিট পর ফ্রাঙ্ক কেসির বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট নাইলান্ড ডানদিকের নিচু কোণায় রুখে দেন। এই শটটিতে অ্যাসিস্ট করেছিলেন পেপে।

৬৭তম মিনিটে একেবারে গোলমুখ থেকে নরওয়ের সুযোগ ফিরে আসে। হেগেমের বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া ডান পায়ের শটটি প্রতিহত হয়। গোলটা না হওয়া ছিল বিস্ময়কর। কর্নার থেকে সরলথ বলটি ফ্লিক করে হেগেমের দিকে বাড়িয়ে দেন এবং হেগেম মাত্র চার গজ দূর থেকে একটি নিচু ভলি মারেন। কিন্তু গোল লাইনের ওপর থাকা আমাদ দিয়ালো বলটি আটকে দেন এবং শেষ মুহূর্তে বিপদমুক্ত করে আইভরি কোস্ট।

৭৪তম মিনিটে নরওয়েকে ধাক্কা দেয় আফ্রিকানরা। দিয়ালো ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেপের সাথে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢোকেন। কিছুক্ষণ আগে গোললাইনে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচানো ম্যানইউ তারকা একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোণাকুণি শটে গোলরক্ষক নাইলান্ডকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

তবে সমতা বেশিক্ষণ থাকেনি। ৮৬তম মিনিটে হালান্ড ঠিক সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় হাজির হয়ে যান। অস্কার ববের ডিফেন্স-চেরা পাসের পর প্যাট্রিক বার্গের কাট-ব্যাক থেকে একদম কাছ থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান তিনি। নরওয়ের হয়ে এটি তার ৫৩ ম্যাচে ৬০তম গোল এবং এই বিশ্বকাপের পঞ্চম গোল।

একেবারে শেষ মুহূর্তে নরওয়ের রক্ষাকর্তা হন নাইলান্ড। ৯৬তম মিনিটে দিয়ালো ফ্রি কিকে বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ে শট নেন। ডানদিকে দুই কদম সরে উড়ে গিয়ে বাম হাতে বল বাম কোণার ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দিয়ালোর নেওয়া শটে বল নিশ্চিতভাবেই উঁচু কোণা দিয়ে জালে জড়াতো। কিন্তু নাইলান্ড ত্রাতা হয়ে এসে রুখে দিলেন।

নরওয়ে জিতলেও আইভরি কোস্ট মোট শট নিয়েছিল ১৪টি, বিপরীতে প্রতিপক্ষের শট ছিল ৯টি। মূলত গোলকিপার নাইলান্ড চার সেভে দ্য এলিফ্যান্টদের রুখে দিয়েছেন। আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান দেশটি।

এর আগে নিজেদের শেষ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে উঠেছিল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোতে তারা ইতালির কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ওই আসরেই ব্রাজিলকে গ্রুপ ম্যাচে পরাজিত করেছিল তারা।

৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মাইলফলকে চেন্নাই অ্যাপোলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 11:26 pm
৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মাইলফলকে চেন্নাই অ্যাপোলো

ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রায় ৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশি রোগীকে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করেছে অ্যাপোলো হসপিটালস।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১২টায় চেন্নাইয়ের হায়াত রিজেন্সি হোটেলের কনফারেন্স হলে বর্ণাঢ্য এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সাফল্য উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের অর্ধশত রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজ করতে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা এবং এবং চট্টগ্রামে টেলিমেডিসিন ও টেলি-রেডিওলজি সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল চেন্নাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মো. আলিমুজ্জামানের। তবে হঠাৎ অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে না পারায় তাঁর পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা দেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো চেন্নাই হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নাভিন ভি বলেন, “ভারতের বৃহত্তম হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে কার্ডিওলজিস্ট ড. প্রতাপ চন্দ্র রেড্ডির হাত ধরে। বর্তমানে কেবল চেন্নাই অঞ্চলেই আমাদের ১০ টারও বেশি হাসপাতাল রয়েছে।” বিশ্বমানের প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে অ্যাপোলোর অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আমরাই প্রথম ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত আধুনিক ‘প্রোটন বিম থেরাপি’ নিয়ে এসেছি। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ক্লিনিক্যাল আউটকাম এবং রোবটিক সার্জারির অনন্য বেঞ্চমার্কের কারণেই বাংলাদেশিরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন।”

বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সেবার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নাভিন ভি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে অ্যাপোলোর ৫টি তথ্য কেন্দ্র (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ) চালু আছে এবং খুব শীঘ্রই সিলেটে নতুন শাখা চালু হবে। এসব অফিস থেকে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিসা প্রসেসিং ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া খুব দ্রুতই একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রোগীরা দেশেই বসে সরাসরি চেন্নাইয়ের চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘সেকেন্ড মেডিকেল অপিনিয়ন’ নিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হসপিটালসের রিজিওনাল সিইও ডা. ইলেন কুমারান কে. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, “এই ৫ লাখের মাইলস্টোন মূলত একটি গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমাদের দুই দেশের ভৌগোলিক সীমানা আলাদা হলেও, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীতের সুর আমাদের এক সুতোয় বেঁধেছে।”

প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. ইলেন কুমারান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইউরোপের মতো আমাদের বর্ডারহীন সীমান্ত না থাকলেও ভারত ও বাংলাদেশের চমৎকার কালচারাল কানেকশনের কারণে রোগীরা এখানে এসে নিজেদের বাড়ির মতো কমফোর্ট ও কনফিডেন্স পান। চিকিৎসার পর রোগীরা যাতে নিজেদের দেশেই ফলো-আপ করতে পারেন, সেজন্য আমরা বাংলাদেশে মাল্টিপল ক্লিনিক করার পরিকল্পনা করছি।”

দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “চেন্নাই বিভিন্ন সময়েই বাংলাদেশি রোগীদের প্রথম পছন্দের ডেস্টিনেশন। ৫ লাখের এই বিশাল সংখ্যাটিই প্রমাণ করে রোগীরা এখানে এসে কেমন সেবা পাচ্ছেন।” চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাইয়ে আসা যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিককে যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার আশ্বাস দেন তিনি।

এপোলো হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরু প্রসাদ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় তথ্যটি দিয়ে জানান, “বাংলাদেশি রোগীদের সুবিধার্থে এবং তাঁদের ফলো-আপ কেয়ার সহজ করতে আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা শুরু করেছি। ঢাকা বা চট্টগ্রামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ এবং অনুমতি সাপেক্ষে টেলিমেডিসিন সেন্টার চালুর পরিকল্পনা আমাদের পাইপলাইনে রয়েছে।”

এপোলো হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেস্কের ইনচার্জ সানজিৎ নায়েকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাপোলো হাসপাতালের বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দ রিফাত ফারুক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একটি ফটো সেশন ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 11:09 pm
দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষ্যে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।

অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা।

এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।