খুঁজুন
, ,

মিরসরাইয়ে যুবলীগ কর্মীকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা

টাকার বিনিময়ে মামুন মানুষ খুন করে- আকাশের বাবা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 20 September, 2022, 10:21 pm
টাকার বিনিময়ে মামুন মানুষ খুন করে- আকাশের বাবা

মিরসরাই প্রতিনিধি:::চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে খুন হওয়া যুবলীগ কর্মী আকাশের পিতা জানিয়েছেন টাকা বিনিময়ে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। তিনি জানান, খুনি মামুন এলকার চিহ্নীত ভাড়াটে খুনি। সেটাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করে। তাকে ২লাখ টাকা দিলেই সে যে কাউকে খুন করতে দ্বিধা করে না।

গত সোমবার (১৯ সেপ্টম্বর) সন্ধ্যায় নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী মামুন ও তার বাহিনীর হাতে খুন হন শহিদুল ইসলাম আকাশ (২৮) নামে এক যুবলীগ কর্মী। প্রকাশ্যে জনসম্মুখে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এলাকায়। নিহত আকাশ উপজেলার ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী। এছাড়া সে হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের মানত মিঝি বাড়ির নুরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। হামলার পর রাত ৯ টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মামুন বাহিনীর প্রধান মামুন ও তার লোকজন আকাশকে কুপিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিহত শহিদুল ইসলাম আকাশের বাবা নুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী মামুন টাকার বিনিময়ে মানুষ হত্যা করে। তাকে ২লাখ টাকা দিয়ে যদি বলা হয় কাওকে খুন করতে সে তাকে খুন করে। আমার ছেলেকেও টাকার বিনিময়ে মামুনের নেতৃত্বে ইকবাল, মোতালেব সহ ৭/৮জন মিলে আমার ছেলেকে খুন করেছে।
এদিকে ঘটনার ১দিন অতিবাহিত হলেও থানায় কোন মামলা হয়নি। থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত আকাশের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন এজাহার জমা দেয়া হয়নি। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নুর হোসেন মামুন জানান, হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত একাধিক ব্যাক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি। তবে তাদের কাওকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্বব হয়নি। সকলেই গা ডাকা দিয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে শহিদুল ইসলাম আকাশের লাশের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাপন করা হবে বলে পরিবারসূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় বারইয়ারহাট-করেরহাট সড়কের চিনকিরহাট বাজারে যুবলীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম আকাশের মালিকানাধীন নাজমা টিম্বার এন্ড ফার্ণিচার মার্ট’এ বসে ব্যবসায়িক কাজ করছিলেন। এসময় স্থানীয় ইসলামপুর গ্রামের সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির মামুনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোতালেব (৩২) সহ ৭/৮ জন হামলা চালায় আকাশের উপর। হিঙ্গুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম জানান, শহিদুল ইসলাম আকাশ ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি হিঙ্গুলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ছিলেন।

হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামুনের নামে বহু মামলা রয়েছে এলাকায় সে চিহ্নীত সন্ত্রাসী। ২০১৮ সালেও আকাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিল মামুন। গতবার জানে মারতে না পারলেও এবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে তাকে।

হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া জানান, আমি খুনের ঘটনা সম্পর্কে সঠিক এখনো জানি না।
এছাড়া জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নূর হোসেন মামুন বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নারী-নির্যাতনসহ ১০টি মামলা রয়েছে। ইতি পূর্বে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ৫দিন আগে সে জামিনে এসেছে। এখন শুনছি সে আকাশকে হত্যা করেছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

Feb2
Feb2

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।