মিরসরাইতে কৃষকের ৭শ একর জমি অধিগ্রহণ করে এমপি পুত্রকে দেওয়ার গুজব নাকচ করলেন বেজা চেয়ারম্যান
আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : মিরসরাইয়ের এক মাত্র শিল্প নগরী বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর এলাকায় নতুন করে ৭’শ একর তিন ফসলি কৃষকের জমি বেজা কর্তৃক অধিগ্রহণ করে তা এমপি পুত্র ইঞ্চিনিয়ার রুহেলের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে গুজব উঠেছে মিরসরাই জুড়ে। তবে এমন গুজবের সত্যতা নাকচ করেছেন বেজা (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরি।
বুধবার (৫ আগষ্ট) দুপুর ৩টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর এলাকায় জমির মালিক, স্থানিয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সাথে উন্নয়ন মুলক মতবিনিময় সভায় এই বিষয়ে নিশ্চিত করেন তিনি।
মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিরসরাই সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পুত্র হোটেল পেনিনসুলা ও এসবি ট্রেড্রার্সের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান রুহেল, সভাপতিত্ব করেন পবন চৌধুরি। উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় একাধিক চেয়ারম্যান, মেম্বার, জনপ্রতিনিধ, বেজা কর্মকর্তা ও সাংবাদিক বৃন্দ।
মতবিনিময় সভার শুরুতেই বক্তব্য রাখেন এমপি পুত্র মাহবুবুর রহমান রুহেল, তিনি তার বক্তব্যে ইকোনোমিক জোন নিয়ে সরকাররের সাফল্যে পিতার ব্যাক্তিগত প্রচেষ্টা ও পবন চৌধুরির নিরলশ পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। এছাড়া তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে কোন ফসলি অধিগ্রহণ করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক সাগর থেকে জেগে উঠা সৃষ্ট চরের ৩০ হাজার একরেই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।
বিশেষ অতিথি মাহবুবুর রহমান রুহেলের বক্তব্যের পরেই ইকোনোমিক জোনের বিভিন্ন কর্মঅগ্রগতি ব্যাখ্যা শেষে উন্মোক্ত আলোচনার আহ্বান জানান পবন চৌধুরি।
উন্মোক্ত আলোচনায় স্থানিয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। তবে বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্যে উপস্থিত সকলের নজরে আজে ১৬নং সাহেরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরির জিজ্ঞাসায়। তিনি পবন চৌধুরির কাছে জানতে চান বেজা নতুন করে ৭০০ একর তিন ফসলি জমি অধিগ্রহন করছে কিনা? যেটি নিয়ে গত বেশ কিছুদিন যাবত জমির মালিক ও কৃষক সমাজ আন্দোলন, সভা-সমাবেশ করে আসছে? ঘুজব উঠেছে উক্ত জমি বেজা অধিগ্রহণ করে এমপি পুত্র রুহেলের কাছে হস্তান্তর করবে এটার সত্যতা ও গ্রহণ যোগ্যতা কতটুকু।
চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরির প্রশ্নে পবন চৌধুরি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ইকোনোমিক জোন একটি বিশাল অর্থনৈতিক মহড়া, এই মহড়া সফল করতে বৃহৎ স্বার্থে স্থানিয়দের সামান্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যেখানে এক সময় ভাটার সময় মহিষ চরতো আর যোয়ারের সময় সাগরে তলিয়ে যেত সেখানে এখন উচু দালান তৈরি হচ্ছে, শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। এই অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের সুফল বয়ে আনবে এতদ অঞ্চলে, লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানে সৃষ্টি হবে এখানে স্থানিয়রাই অগ্রাধিকার পাবে কর্মক্ষেত্রে। বৃহৎ স্বার্থে কৃষকদের জমি যদি অধিগ্রহণ করা হয় তাহলে আমরা কৃষকদের সাথে সমযোতার মাধ্যকে গ্রহণ করা হবে। তাদের জন্য আলাদা করে কলোনি তৈরি করা হবে। যেখানে ঘর-বাড়ি, মসজিদ সহ সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তবে অধিগ্রহণ কৃত জমি বা ভূমি এমপি পুত্র ইঞ্চিনিয়ার মাহবুবুর রহমানকে হস্তান্তর করা হবে এটা সম্পুর্ণ গুজব, মিথ্যা ও বানোয়াট।
তিনি আরো বলেন, আমি নিজেই দ্বায়িত্ব নিয়ে বলছি রুহেলকে এক ইঞ্চি মাটিও দেয়া হবে না এই ৭’শ একর জমি থেকে। এমন ঘোষণায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধিও স্থানিয়রা করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান। তবে এমপি পুত্র রুহেল ওই সময় পবন চৌধুরির পাশে থাকলেও কোন মন্তব্য করেননি।
এছাড়া স্থানিয় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে একোনোমিক জোন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কয়েকটি গাছ রোপন করে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্ধোধন করেন।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন