খুঁজুন
শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে বোমা বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে বোমা বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যক্রম পরিচালনাকালে বোমা বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।

নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন, সৈনিক জসিম উদ্দিন, সৈনিক জাহাঙ্গীর আলম ও সৈনিক শরিফ হোসেন। এদের মধ্যে জসিম উদ্দিনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার কাটিঙ্গা গ্রামে। জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার দক্ষিণ টিট পাড়া গ্রামে। আর শরিফ হোসেনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার বাড়াক রুয়া গ্রামে।

আজ মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত দেড়টা) বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের একটি বহর টহল থেকে ফেরার সময় পথে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি) বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বহরের প্রথম গাড়িটি আক্রান্ত হয়, সেটি ছিটকে ১৫ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। এতে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত এবং টহল কমান্ডার মেজর আশরাফুল হক আহত হন।

আইএসপিআর জানায়, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিম সেক্টরের বোয়ার এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন (ব্যানব্যাট-৮) ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর থেকে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত আছে। দুর্গম এলাকার অস্থায়ী ক্যাম্প কুই থেকে পরিচালিত যান্ত্রিক টহলের একটি দল মেজর আশরাফের নেতৃত্বে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কাইতা এলাকায় টহলে যায়। বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টার দিকে ফেরার পথে টহল কমান্ডার মেজর আশরাফকে বহনকারী প্রথম গাড়িটি মাটিতে পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। সৈনিক শরিফ, জাহাঙ্গীর ও জসিম গুরুতর আহত হন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ঘটনার পরপরই আহত শান্তিরক্ষীদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। মিশন সদর, জাতিসংঘ সদরদপ্তর ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুততার সঙ্গে আহত শান্তিরক্ষীদের ১৪৪ কিলোমিটার দূরে বোয়ারে অবস্থিত মিনুসকা হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সৈনিক জসিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম ও শরিফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অপর আহত শান্তিরক্ষী মেজর মো. আশরাফুল হক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

এ ছাড়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে নিয়োজিত অন্য শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে আছেন জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে আনার কার্যক্রম চলছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা আফ্রিকার ৮টি দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে চলেছেন। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

২৪ঘণ্টা/বিআর

Feb2

স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল : তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল : তারেক রহমান

স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ (শুক্রবার) বিকেলে নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের স্ত্রীরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। কৃষকদের আমরা ১০ হাজার ঋণ মওকুফ করেছি। কৃষকদের কার্ডের বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। তারা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে পানি পায় না। সেজন্য আমরা খাল খনন শুরু করেছি। কৃষক, শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারলে বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যাবে।

রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান : রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আজ যে রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি, তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারা সমুন্নত রেখে শ্রমিকদের একাধিক সমাবেশে শ্রমিক সমাজের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মে দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

সাহাবুদ্দিন বলেন, জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ত্রিপক্ষীয় শ্রম নীতি ও সংস্কার শ্রমকল্যাণের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। ১৯৭৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের নতুন যুগের সূচনা করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণয়ন ও শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশের আপামর শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ, ন্যায্য অধিকার রক্ষা, শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। দেশের শিল্প-কলকারখানা, কৃষি, পরিবহন, গৃহকর্ম ও নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, সভ্যতা ও উন্নয়নকে বেগবান ও সমৃদ্ধ করছে। প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বিশাল রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে অর্জিত আয় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি।

তিনি বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুসারে শ্রমিকদের কল্যাণে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সবগুলোই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ শিল্প-কলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয়টি পাটকল চালু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই শিল্প উন্নয়ন ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শ্রম খাতে শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখা এবং শ্রমিক-মালিকের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহ দিতে এই সরকার সচেষ্ট।

মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে এ দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকরাই হলো দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। শিল্প, কৃষি, নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক এবং শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে একটি উন্নত শ্রমিকবান্ধব সমাজ এবং মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ- এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বলেছেন, নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা করে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করতেও সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষাসহ নানাবিধ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে, ঢাকায় মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান।

১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকেরা কাজের সময়সীমা আট ঘণ্টা নির্ধারণ, কাজের উন্নত পরিবেশ, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সেদিন দাবি আদায়ের জন্য পথে নেমে এসেছিলেন।

কিন্তু বিক্ষোভ দমনে সেদিন বর্বর কায়দা অবলম্বন করা হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন শ্রমিকেরা। সে ঘটনায় তখন সারা বিশ্ব সোচ্চার হয়ে ওঠে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায় শিকাগোর শ্রমিকদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই।