খুঁজুন
, ,

নারীরা অনলাইনে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 December, 2022, 4:24 pm
নারীরা অনলাইনে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন

প্রতি ১‘শ জনের মধ্যে ৬৪ জন নারী অনলাইন হয়রানি ও সহিংসতার সম্মুখীন হতে হয়। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ২০২২ সালে করা এক সমীক্ষা অনুসারে, ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী উত্তরদাতারা বলেছেন তারা অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, গত বছরে যা ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ। দেশে অনলাইন সহিংসতার হার জানার জন্য অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করে।

এ সমীক্ষাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের অনুভূত বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা এবং হয়রানি চিহ্নিত করার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং এর পেছনের মূল কারণ এবং অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে সচেতনতার জন্য বিভিন্ন পন্থা উপস্থাপন করে।

১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে রোববার (২৭ নভেম্বর) ব্র্যাক সেন্টার ইন এ অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাট এই ৬টি জেলায় একটি অনলাইন জরিপের মাধ্যমে এই সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়, যেখানে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৫৯ জন নারী অংশ নেন।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২২ সালে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নারীরা বেশিরভাগই ফেসবুকে (৪৭.৬০%), মেসেঞ্জারে (৩৫.৩৭%), ইনস্টাগ্রামে (৬.১১%), ইমোতে (৩.০৬%), হোয়াটসঅ্যাপে (১.৭৫%) এবং ইউটিউবে (১.৩১%) অনলাইন সহিংসতার সম্মুখীন হয়। ‘অন্যান্য মাধ্যমে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নারী বলেছেন তারা ভিডিও কল, মোবাইলফোন এবং এসএমএসের মাধ্যমে হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।

এই বছরের সমীক্ষায় দেখা গেছে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার মধ্যে ঘৃণ্য এবং আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ মন্তব্য, ৫৩ দশমিক ২৮ শতাংশ নারী ইনবক্সে যৌনতাপূর্ণ ছবি গ্রহণ এবং যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব, ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ নারী বৈষম্যমূলক মন্তব্য এর শিকার হয়েছেন।

১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতারা বলেছেন যে তাদের নামে অন্য কেউ অনলাইনে নকল আইডি তৈরির ফলে হয়রানির শিকার হয়েছেন, ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বলেছেন যে তাদের কার্যকলাপ সবসময় সাইবারে অনুসরণ করা হয় এবং

১৩ দশমিক ১০ শতাংশ সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন, ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বলেছেন তাদেরও ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হয়েছে এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যৌন নিপীড়নের হুমকি পেয়েছেন।

৩ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতাদের মতে, যৌন নিপীড়নের সময় তাদের ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল এবং সেগুলো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছিল। ২ দশমিক ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি গোপনে পোস্ট করা হয় এবং পরে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থের জন্য ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বলেছেন যে তাদের ছবি সম্পাদনা করে পর্নোগ্রাফি সাইটে প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষা মতে অনলাইন সহিংসতার কারণে নারীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব হলো মানসিক আঘাত, হতাশা এবং উদ্বেগ (৬৫.০৭%), দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা বা মতামত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আস্থা হারানো (৪২.৭৯%)। ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ট্রমার শিকার হয়েছেন এবং ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ আত্মমর্যাদা হারিয়েছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, অনলাইন সহিংসতা এবং হয়রানির কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা নারীর আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং ৮৫ শতাংশেরও বেশি ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ জমা না দিয়ে নীরব ছিলেন যদিও তারা বিভিন্ন উপায়ে অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ জাতীয় জরুরি পরিষেবার (৯৯৯) মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ নিকটস্থ থানায়, ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ সাইবার ক্রাইমের ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সিটিটিসি ও ডিএমপির মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয় যে বেশিরভাগ নারী মনে করেন বিদ্যমান অভিযোগের প্রক্রিয়াগুলো কার্যকর নয়। তাই তারা কোনো অভিযোগ (২৮.৮৭%) জমা দিতে আগ্রহ দেখাননি। ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ উত্তরদাতারা তাদের জমা দেওয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার বা ব্যবস্থা নিতে দেখেননি।

সামাজিক কলঙ্ক, ভুক্তভোগী দোষারোপ এবং গোপনীয়তা হারানোর ভয়ে ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ নারী অনলাইনের মাধ্যমে বেনামে অভিযোগ করতে চান। ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা আরও বলেছেন যে তারা অনলাইনে সহিংসতা এবং নারীর প্রতি হয়রানির বিষয়ে কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা দেখেননি।

৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ বলেছেন যে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করেছেন, ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সারের মাধ্যমে এবং ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখেছেন।

সমীক্ষা মতে, ৩৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রচারাভিযান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট, ৩৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

সমীক্ষায় উত্তরদাতারা অনলাইন হয়রানি, অপব্যবহার এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দ্রুত শাস্তির পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়াও অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রতি অভিমত দিয়েছেন সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা।

সমীক্ষায় বলা হয়, নারীরা অনলাইন ব্যবহার এবং সুরক্ষা প্রোটোকল সম্পর্কে সচেতন নয় যদিও তারা অনলাইন সহিংসতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীরা মোবাইলফোনের মালিক নয়, তারা তাদের বাবা-মা বা বড় ভাই-বোনের ফোন ব্যবহার করতে অভ্যস্ত,

যা তাদেরও হয়রানি নিয়ে কারও কাছে মুখ খুলতে না পারার একটি প্রধান কারণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীরা ডিজিটাল সাক্ষরতায় পারদর্শী নয়, এমনকি তারা জানেন না কোথায় অভিযোগ জমা দিতে হবে এবং অনলাইন হয়রানি এবং সহিংসতা সংক্রান্ত কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রযুক্তিগতভাবে কী করতে হবে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা নতুন কিছু নয় এবং এটি এখনো বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যমান রয়েছে। পরিবার, সামজ, রাষ্ট্র-প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন হচ্ছে এবং এর নানা রকম বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে।

এর নতুন এক মাধ্যম হলো অনলাইন, এই প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে নারীদের প্রতি সহিংসতা বাড়চ্ছে। বিশেষ করে কিশোরী ও ১৮ বছরের নিচের কন্যাশিশুরা এর শিকার বেশি হচ্ছে। সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করলে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

অনলাইন সহিংসতা নিরসনে আইনি প্রক্রিয়ার জোরদারের পাশাপশি প্রযুক্তিগত সহায়তা বেশি দরকার বলে অভিমত প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন।

মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, প্রকল্প পরিচালক, সরকার ও ডিজিটাল সাক্ষরতা কেন্দ্র প্রকল্পের জন্য নিরাপদ ইমেইল, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), আইসিটি বিভাগ বলেন, সরকার ২০২১ সালে ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন করে।

এখান থেকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল লিটারেসি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ডিজিটাল লিটারেসি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টারে।

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং সাইবার টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাদাত রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অনলাইন হয়রানির কারণে গত ২ বছরে ১১ জন তরুণী আত্মহত্যা করেছে।

কিশোর-কিশোরীরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সচেতন, কিন্তু তারা জানে না কীভাবে সহায়তা পেতে হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করতে হবে।

২৪ ঘণ্টা / জেআর

Feb2
Feb2

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 13 September, 2026, 9:27 pm
নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 13 September, 2026, 8:18 pm
ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

এদিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে এনসিপি কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

এসময় তিনি সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ড ভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ততা, পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের এনসিপি সমর্থিত সম্ভাব্য দুই মেয়র প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

কাপ্তাই লেক নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেব না: নাজিমুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 13 September, 2026, 7:38 pm
কাপ্তাই লেক নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেব না: নাজিমুর রহমান

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, কাপ্তাই লেক শুধু একটি জলাধার নয়; এটি আমাদের দেশের সম্পদ, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই কাপ্তাই লেকের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব নিয়ে কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না।

তিনি আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গ্রেটার চট্টগ্রাম ফোরাম ও চট্টগ্রাম ওয়াসা গ্রাহক সমন্বয় ফোরাম আয়োজিত কাপ্তাই লেকের পানি নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আমলারা নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কাপ্তাই লেককে ঘিরে যদি কোনো মহল দেশের স্বার্থবিরোধী পরিকল্পনা করে থাকে, তাহলে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জাতীয় সম্পদ নিয়ে কোনো গোপন সিদ্ধান্ত, অপপ্রচার কিংবা ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। পানির লেভেল অতিক্রম করার আগেই পানি ছেড়ে দিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা সহ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত করার ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট—কাপ্তাই লেকের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং লেককে ঘিরে যেকোনো অনিয়ম বা ষড়যন্ত্রের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে।

আমরা চাই কাপ্তাই লেক হোক দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনার উৎস। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে জাতীয় সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। দেশবিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বীর চট্টলার আপামর জনসাধারণ প্রস্তুত।

গ্রেটার চট্টগ্রাম ফোরামের মহাসচিব হাসান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শওকত আজম খাজা, মঞ্জুর রহমান চৌধুরী।

জহিরুল ইসলাম ও সাজ্জাদ খানের পরিচালনার অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন➤প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান, আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র, মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, এমরান এমি, আরিফ হাসান, এড. ইকবাল হোসেন, কিরণ শর্মা, ইসমাইল ইমন, আবু বক্কর রাজু, কামাল পারভেজ, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী রাশেদ আলম, প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হাছান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মিনহাজুল হক ভূঁইয়া,কামরুল হাসান, এস এ গনি, মোরশেদ রনী, নুর হোসেন, নুরুল আলম, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মহসিন,সাইদুল হক সিকদার, আব্দুল জলিল, মহসিন, সাফওয়ান, মাঈনউদ্দিন খান রাজিব, জাভেদ ওমর, কামরুল হাসান আকাশ, মো: শাহ আলম, নিলয়, সিফাত, ইমরান, রুবেল, রায়হান, রনি, ইয়াসিন, মহিন, সাহেদ, শুভ, শান্ত, সাইদুল, জাবেদ, ইফতি সহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।