খুঁজুন
, ,

নারীরা অনলাইনে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 December, 2022, 4:24 pm
নারীরা অনলাইনে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন

প্রতি ১‘শ জনের মধ্যে ৬৪ জন নারী অনলাইন হয়রানি ও সহিংসতার সম্মুখীন হতে হয়। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ২০২২ সালে করা এক সমীক্ষা অনুসারে, ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী উত্তরদাতারা বলেছেন তারা অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, গত বছরে যা ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ। দেশে অনলাইন সহিংসতার হার জানার জন্য অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করে।

এ সমীক্ষাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের অনুভূত বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা এবং হয়রানি চিহ্নিত করার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং এর পেছনের মূল কারণ এবং অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে সচেতনতার জন্য বিভিন্ন পন্থা উপস্থাপন করে।

১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে রোববার (২৭ নভেম্বর) ব্র্যাক সেন্টার ইন এ অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাট এই ৬টি জেলায় একটি অনলাইন জরিপের মাধ্যমে এই সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়, যেখানে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৫৯ জন নারী অংশ নেন।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২২ সালে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নারীরা বেশিরভাগই ফেসবুকে (৪৭.৬০%), মেসেঞ্জারে (৩৫.৩৭%), ইনস্টাগ্রামে (৬.১১%), ইমোতে (৩.০৬%), হোয়াটসঅ্যাপে (১.৭৫%) এবং ইউটিউবে (১.৩১%) অনলাইন সহিংসতার সম্মুখীন হয়। ‘অন্যান্য মাধ্যমে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নারী বলেছেন তারা ভিডিও কল, মোবাইলফোন এবং এসএমএসের মাধ্যমে হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।

এই বছরের সমীক্ষায় দেখা গেছে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার মধ্যে ঘৃণ্য এবং আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ মন্তব্য, ৫৩ দশমিক ২৮ শতাংশ নারী ইনবক্সে যৌনতাপূর্ণ ছবি গ্রহণ এবং যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব, ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ নারী বৈষম্যমূলক মন্তব্য এর শিকার হয়েছেন।

১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতারা বলেছেন যে তাদের নামে অন্য কেউ অনলাইনে নকল আইডি তৈরির ফলে হয়রানির শিকার হয়েছেন, ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বলেছেন যে তাদের কার্যকলাপ সবসময় সাইবারে অনুসরণ করা হয় এবং

১৩ দশমিক ১০ শতাংশ সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন, ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বলেছেন তাদেরও ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হয়েছে এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যৌন নিপীড়নের হুমকি পেয়েছেন।

৩ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতাদের মতে, যৌন নিপীড়নের সময় তাদের ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল এবং সেগুলো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছিল। ২ দশমিক ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি গোপনে পোস্ট করা হয় এবং পরে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থের জন্য ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বলেছেন যে তাদের ছবি সম্পাদনা করে পর্নোগ্রাফি সাইটে প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষা মতে অনলাইন সহিংসতার কারণে নারীদের জীবনে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব হলো মানসিক আঘাত, হতাশা এবং উদ্বেগ (৬৫.০৭%), দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা বা মতামত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আস্থা হারানো (৪২.৭৯%)। ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ট্রমার শিকার হয়েছেন এবং ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ আত্মমর্যাদা হারিয়েছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, অনলাইন সহিংসতা এবং হয়রানির কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা নারীর আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং ৮৫ শতাংশেরও বেশি ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ জমা না দিয়ে নীরব ছিলেন যদিও তারা বিভিন্ন উপায়ে অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ জাতীয় জরুরি পরিষেবার (৯৯৯) মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ নিকটস্থ থানায়, ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ সাইবার ক্রাইমের ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সিটিটিসি ও ডিএমপির মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ করা হয় যে বেশিরভাগ নারী মনে করেন বিদ্যমান অভিযোগের প্রক্রিয়াগুলো কার্যকর নয়। তাই তারা কোনো অভিযোগ (২৮.৮৭%) জমা দিতে আগ্রহ দেখাননি। ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ উত্তরদাতারা তাদের জমা দেওয়া অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার বা ব্যবস্থা নিতে দেখেননি।

সামাজিক কলঙ্ক, ভুক্তভোগী দোষারোপ এবং গোপনীয়তা হারানোর ভয়ে ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ নারী অনলাইনের মাধ্যমে বেনামে অভিযোগ করতে চান। ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা আরও বলেছেন যে তারা অনলাইনে সহিংসতা এবং নারীর প্রতি হয়রানির বিষয়ে কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা দেখেননি।

৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ বলেছেন যে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করেছেন, ৩৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সারের মাধ্যমে এবং ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখেছেন।

সমীক্ষা মতে, ৩৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রচারাভিযান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট, ৩৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

সমীক্ষায় উত্তরদাতারা অনলাইন হয়রানি, অপব্যবহার এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দ্রুত শাস্তির পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়াও অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রতি অভিমত দিয়েছেন সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা।

সমীক্ষায় বলা হয়, নারীরা অনলাইন ব্যবহার এবং সুরক্ষা প্রোটোকল সম্পর্কে সচেতন নয় যদিও তারা অনলাইন সহিংসতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীরা মোবাইলফোনের মালিক নয়, তারা তাদের বাবা-মা বা বড় ভাই-বোনের ফোন ব্যবহার করতে অভ্যস্ত,

যা তাদেরও হয়রানি নিয়ে কারও কাছে মুখ খুলতে না পারার একটি প্রধান কারণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীরা ডিজিটাল সাক্ষরতায় পারদর্শী নয়, এমনকি তারা জানেন না কোথায় অভিযোগ জমা দিতে হবে এবং অনলাইন হয়রানি এবং সহিংসতা সংক্রান্ত কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রযুক্তিগতভাবে কী করতে হবে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা নতুন কিছু নয় এবং এটি এখনো বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যমান রয়েছে। পরিবার, সামজ, রাষ্ট্র-প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন হচ্ছে এবং এর নানা রকম বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে।

এর নতুন এক মাধ্যম হলো অনলাইন, এই প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে নারীদের প্রতি সহিংসতা বাড়চ্ছে। বিশেষ করে কিশোরী ও ১৮ বছরের নিচের কন্যাশিশুরা এর শিকার বেশি হচ্ছে। সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করলে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

অনলাইন সহিংসতা নিরসনে আইনি প্রক্রিয়ার জোরদারের পাশাপশি প্রযুক্তিগত সহায়তা বেশি দরকার বলে অভিমত প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন।

মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, প্রকল্প পরিচালক, সরকার ও ডিজিটাল সাক্ষরতা কেন্দ্র প্রকল্পের জন্য নিরাপদ ইমেইল, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), আইসিটি বিভাগ বলেন, সরকার ২০২১ সালে ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন করে।

এখান থেকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল লিটারেসি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ডিজিটাল লিটারেসি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টারে।

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং সাইবার টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাদাত রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অনলাইন হয়রানির কারণে গত ২ বছরে ১১ জন তরুণী আত্মহত্যা করেছে।

কিশোর-কিশোরীরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সচেতন, কিন্তু তারা জানে না কীভাবে সহায়তা পেতে হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করতে হবে।

২৪ ঘণ্টা / জেআর

Feb2
Feb2

টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 11:37 pm
টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

রাজধানী ঢাকার বাজার থেকে সংগ্রহ করা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক হারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলে দূষণের এই মাত্রা আরও বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক যৌথ গবেষণায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ সম্প্রতি এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে সয়াবিন তেলের মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে এগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে দূষণের পরিমাণ অন্তত ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ। শিল্পকারখানার আধিক্য, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার কাছাকাছি অবস্থান এবং খোলা তেল সংরক্ষণে পাত্রের বারবার ব্যবহারের কারণে এমন দূষণ ঘটছে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে তেলের এসব নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়। এগুলো হলো—লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্বে এবারই প্রথম কোনো গবেষণায় উঠে এসেছে। শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর ৮২.৫ শতাংশই আঁশ বা ফাইবারজাতীয়। পাশাপাশি ৫৬.২৯ শতাংশ কণা স্বচ্ছ প্রকৃতির এবং ৩৫.৮৪ শতাংশ কণার আকার ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।

দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণের হিসাব অনুযায়ী মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি প্রাক্কলনও তুলে ধরা হয়েছে এই গবেষণায়। এতে দেখা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। তবে কম ওজনের কারণে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ। তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। একটি শিশু তার জীবনদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব ক্ষুদ্র কণা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ ও কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গবেষণা দলটির প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান দূষক, যা মানবদেহে প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক পুরোপুরি বর্জন করা এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংয়ের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, মানসম্মত ফিল্টারের ব্যবহার এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। দেশে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোজ্যতেলের এই দূষণের আগে দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক বছরব্যাপী পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) প্লাস্টিক কণা রয়েছে।

ইএসডিওর ওই গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা ছিল মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ-এ ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি করে কণা শনাক্ত হয়। এমনকি শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেই এই দূষক পাওয়া যায়। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।

শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের আধুনিকায়নকৃত মাঠ: চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 9:29 pm
শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের আধুনিকায়নকৃত মাঠ: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কারণে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের মাঠটি শিশু-কিশোরদের জন্য কার্যত অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাঠটি পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক মাঠের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, একসময় এই মাঠে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতে পারত না। মাঠটি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা উদ্যোগ নিয়ে মাঠটি পুনরুদ্ধার করেছি এবং যেহেতু এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন, তাই নগরবাসীর জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে শিশু, কিশোর, তরুণসহ সকল বয়সের মানুষ খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, মাঠটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। আমরা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক মানের একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে এবং সেদিন নগরবাসীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মাঠটি উদ্বোধন করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলার মাঠের বিকল্প নেই, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপদ ও মানসম্মত খেলার মাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০ মাসে আমি প্রতিটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ১১টি খেলার মাঠ উন্নয়ন ও প্রস্তুত করা হয়েছে। আমি নগরবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। এখনো প্রায় ৩০টি মাঠের উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

মেয়র বলেন, একটি আধুনিক, সুস্থ ও মানবিক নগর গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, বিনোদন ও সামাজিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। নগরবাসীর জন্য আরও নতুন নতুন উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, মহানগর বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং স্থানীয় ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।

মাত্র ১২৫ টাকায় তদবির ছাড়া চাকরি পাওয়া গত ২০ বছরের ইতিহাসে বিরল’: ভূমি প্রতিমন্ত্রী 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 8:58 pm
মাত্র ১২৫ টাকায় তদবির ছাড়া চাকরি পাওয়া গত ২০ বছরের ইতিহাসে বিরল’: ভূমি প্রতিমন্ত্রী 

বাংলাদেশের বিগত ২০ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রকার তদবির বা উৎকোচ ছাড়া মাত্র ১২৫ টাকা খরচে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরি সম্পন্ন হওয়ার কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

আজ সোমবার (২৮ জুলাই) ঢাকার তেজগাঁও ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হল রুমে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের (পেশকার) ওরিয়েন্টেশন শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে আপনারা যারা চাকরি পেয়েছেন এবং আপনাদের অভিজ্ঞতার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিগত ২০ বছর ধরে এ দেশ দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত ছিল। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত গুটিকয়েক দুষ্টু লোকের দুর্নীতির বোঝা পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে টানতে হয়। তাই সকলকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে পরম সততার সাথে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের প্রতি তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে সর্বপ্রথম ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছে।

জনগণের অধিকার ও সেবা প্রদান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বলে থাকেন—যারা সরকারি সেবা নিতে অফিসে আসেন, সেই জনগণই হলো এদেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই আপনাদের অনুভব করতে হবে এই জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে।” এ সময় বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনা অন্তরে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে যোগদানকারী নতুন পেশকারদের সততা ও মনোভাব প্রশংসনীয়। সমাজে শ্রেণী বৈষম্য দূর করা, দুঃখী মানুষের কল্যাণ সাধন এবং দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী নবযোগদানকৃতদের নিজ নিজ বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করে সততার সাথে দেশের ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে অন্যান্য বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় এসে জনগণ যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ‘সিটিজেন সার্ভিস’ চালু করেছে এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা কানুনগো পদে পদোন্নতি প্রদান নিশ্চিত করেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের পক্ষে মোছা. ফারহানা খাতুন, মো. শিহাব উদ্দিন ও শাকিল আহমদ আবেগজড়িত কণ্ঠে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ায় সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জেড এম সালাহউদ্দিন নাগরীসহ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।