খুঁজুন
, ,

লোহাগাড়ায় প্রবাসীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার : স্ত্রী, শাশুড়ী ও শালিকা আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 March, 2023, 12:27 am
লোহাগাড়ায় প্রবাসীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার : স্ত্রী, শাশুড়ী ও শালিকা আটক

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুটিবিলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পহরচান্দার পাহাড়ী টিলা এলাকার নালায় মাটিচাপা অবস্থায় মনছুর আলী (২৭) নামে এক দুবাই প্রবাসীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত মনছুর আলীর স্ত্রী রিনা আক্তার (২৩), শ্বাশুড়ী সায়রা বেগম (৪৭) ও শালিকা রুম্মান আকতার (১৬) কে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী অভিযানের পর দুপুর পৌনে ১২টায় নিহত মনছুর আলীর অর্থগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের পূর্ব পহরচান্দা সেকান্দর পাড়ার ফয়েজ আহমদের পুত্র। তিনি দুই সন্তানের জনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে দেশে আসেন মনছুর আলী। পরের দিন গত ১ মার্চ তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় গত ২ মার্চ তাঁর বোন বুলবুল আক্তার বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। গত ৮ মার্চ ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামীয় আসামীদের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় একটি অপরহণ মামলা দায়ের করেন বুলবুল। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে তদন্ত শুরু করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম পিপিএম। মামলা তদন্তের এক পর্যায়ে তিনি অপহরণ ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে সক্ষম হন। অতপর : নিখোঁজের ১৪ দিন পর মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দুর্ঘম পাহাড়ি এলাকায় মাটি চাপা অবস্থায় তার লাশটি উদ্ধার করেন।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ আতিকুর রহমান জানান, গত ২ মার্চ সন্ধ্যা ৬ টা ৪০ মিনিটে লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়ন ফকির হাট এলাকা থেকে অজ্ঞাত ৪/৫ জন লোক সিএনজি যোগে পুটিবিলা পূর্ব পহরচান্দার সেকান্দর পাড়ার ফরিদ আহমদের ছেলে মনছুর আলী (২৭) নামের এক দুবাই ফেরত যুবককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অপহরণের শিকার মনছুরের বোন বুলবুল আকতার বাদী হয়ে গত ৮ মার্চ লোহাগাড়া থানায় অপহরণ মামলা (নং- ১৫, তারিখ : ০৮/০৩/২০২৩) দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তকালে আর্থিক লেনদেন, অনৈতিক সম্পর্কের সন্দেহ ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে শশুর বাড়ীর লোকজনের সাথে ভিকটিম মনছুর আলীর বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরেই ভিকটিম মনছুর আলী অপহৃত হতে পারেন মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে তার স্ত্রী রিনা আক্তার (২৩), শাশুড়ী ছায়েরা খাতুন (৪৭) এবং শালিকা রুম্মান আক্তার (১৬) পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তারা জিজ্ঞাসাবাদকালে ভিকটিমের অবস্থান সংক্রান্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ভিকটিম মনছুর আলীর সাথে কথোপকথনের ইতিহাস পর্যালোচনা করে পহরচান্দা এলাকায় ঘটনায় জড়িত ধৃত আসামী মনছুর আলীর স্ত্রী, শাশুড়ী ও শালিকাকে নিয়ে গতকাল ১৪ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমানের তত্ত্বাবধানে লোহাগাড়া থানার ওসি মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় এসআই শরিফুল ইসলাম পিপিএম, এসআই যুযুৎসু যশ চাকমা, এসআই মোঃ নুরুন নবী, এএসআই আলমগীর হোসেন এবং স্থানীয় ২০/২৫ জন লোকসহ লোকালয় হতে প্রায় তিন মাইল দূরে পুটিবিলা ইউনিয়নের পহরচান্দার দূর্গম পাহাড়ী টিলা এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ধৃত রিনা আক্তার (স্ত্রী), ছায়েরা খাতুন (শাশুড়ী), এবং রুমন্নান আক্তার (শালিকা) দের তথ্যমতে দুপুর পৌনে ১২টায় আসামীদের বাড়ী হতে অনুমান ৩০০ গজ দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহাগাড়া থানাধীন পুটিবিলা ইউনিয়নের পহরচান্দা পাহাড়ীটিলার পার্শ্ববর্তী নালায় মাটি চাপা ও উপরে ঝোপঝাড় দেয়া অবস্থায় ভিকটিম মনছুর আলীর লাশ পুতে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমের ভাই খোরশেদ আলম লাশটি সনাক্ত করেন। মৃত দেহটি সম্পূর্ণ গলে গেছে। শরীর হতে চামড়া খসে গেছে। লাশটি সুরুতহালকালে মাথার ডান পার্শ্বে বড় ধরনের কাটা জখম, মৃতের দুই কান, নাক, মুখ এবং থুতনি শরীর হতে কেটে বিচ্ছিন্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহৃ লক্ষ্য করা যায়।
মামলাটি তদন্তাধীন এবং ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

নিহতের আত্মীয় মো : ফোরকান জানান, মনচুর আলম লেদু দুবাই প্রবাসী। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে তার পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। তার সাথে শালিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমরা এ হত্যাকান্ডের সুষ্টু বিচার চাই।

নিহতের বড় ভাই খোরশেদ আলম জানান, আমার ছোট ভাই মনচুর দেশে ফেরার পরের দিন হতে নিঁখোজ হন। শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সদস্যদের সাথে তার বিরোধ ছিল। শালিকার সাথে পরকীয়া ছিল। আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই। এ ঘটনায় জড়িতের শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

স্থানীয় পুটিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোছেন মানিক জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। মনচুর আলম দুবাই প্রবাসী ও একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। নিখোঁজের আগের দিন তার সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ১৪দিন পর তাঁর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

এদিকে, এ ঘটনায় আটক নিহত মনছুর আলীর স্ত্রী রিনা আকতার, শ্বাশুড়ী সায়েরা বেগম, শালিকা রুম্মান আকতারকে আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলাম পিপিএম।

Feb2
Feb2

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:16 pm
স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আপত্তি থাকবে কেমন করে, বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ৯১-তেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল, গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল। তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল? আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন? তারা রাজপথে কেউ ছিল না।

তারেক রহমান বলেন, আমরা কিছুদিন যাবত খেয়াল করে দেখছি, এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। করছে না? খেয়াল করেছেন আপনারা? কি বলে-এক দফা এক দফা। আপনারাই কিন্তু বললেন, আমরা যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছি, বর্তমান সরকার যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, এ কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করলে কার উপকার হবে? মানুষের উপকার হবে। সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের উপকার হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, যারা এক দফা এক দফা বলছে অথবা যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল-এদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? এদের কি খালকাটা কর্মসূচি আছে? এদের কি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আছে? এদের কি কৃষক কার্ড আছে? এদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা আছে? এদের কি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০-এর বদলে ১৫০ বেডে করার কর্মসূচি আছে? তাহলে তারা কিসের রাজনীতি করে? মানুষের কর্মসূচি কই?

সরকার প্রধান আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন চায় ভাগ্যের পরিবর্তন। কেউ কি খারাপ অবস্থায় সবসময় থাকতে চায়? মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। আমরা মনে করি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যদি মা-বোনদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, ইমাম সাহেব মুয়াজ্জিন সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের মিনিমাম একটি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষক ভাইদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো আস্তে আস্তে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বচ্ছল হয়ে উঠবে তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে চায়, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানী বাস্তবায়ন করতে চায়, বিএনপি কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, খাল খনন করতে চায়, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করতে চায়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এই কর্মসূচিগুলো দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে যারা আজ দেশে অরাজকতা তৈরি চেষ্টা করছে, দেশের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আমাদের কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? মুয়াজ্জিন সাহেবরা বলেন না, তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের থেকে ধর্মের জ্ঞান আপনাদের বেশি আছে। একটু ভাই বলেন তো, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। বলছিল না মানুষকে, আপনারাও তো শুনেছেন। দেখছেন না, দেখেছেন। বেহেশত-দোজগের মালিক কে? একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। যেটার মালিক আল্লাহ সেটার কথা কি কোনো মানুষ বলতে পারে? যেটা দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার, সেটি যদি মানুষ বলে আমি দেব, সেটি কি শিরিকের পর্যায়ে পড়ে? যারা শিরিকি করে, আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি করে, তাহলে মানুষের সঙ্গে তারা কত বড় মুনাফিকি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, স্বৈরাচারী রাজনীতি করে, যাদের কাছে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এরা যদি দেশ চালানোর দায়িত্ব পায়, আর যাই করুক জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি গ্রহণ করবে না। যদি তাদের নেওয়া জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি থাকতো, তাহলে তারা বলতে পারতো কি কর্মসূচি তারা গ্রহণ করতে পারে। আজ পর্যন্ত জনগণের উপকার হয় এরকম কোন কর্মসূচির কথা তারা তুলে ধরতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছি আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি বিএনপির যা বলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। আমরা আমাদের কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করেছি বিএনপি সব সময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে।

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:11 pm
দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেখা দেওয়া তথ্যমতে, সরকারি ভবনে স্থাপিত দেশের প্রথম এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা শূন্য দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় এসব স্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ও ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আটটি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রতিটিতে প্রায় ২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত সিস্টেমের সক্ষমতা প্রায় ১০৩ কিলোওয়াট।

ছাগলনাইয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদসহ মোট ১২টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ৪১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া পরশুরাম উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ মোট ছয়টি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) দায়িত্ব দেওয়া হলেও মোট ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন জানিয়েছেন, তিন উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর আড়াইটার দিকে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 5:06 pm
মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পদত্যাগ করায় জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন (মহিলা আসন-২৩) বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই তারিখ থেকে শূন্য হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষর করেন। আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি সংসদে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।