খুঁজুন
, ,

আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের দর্শনে বিশ্বাসী : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 March, 2023, 9:47 pm
আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের দর্শনে বিশ্বাসী : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের দর্শনে বিশ্বাসী। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজীকরণ এবং দেশের উন্নয়নে আমরা আশু, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি।

আগামীকাল ২৬ মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে তিনি দেশে এবং প্রবাসে বসবাসকারী সকল বাংলাদেশি নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়ন অগ্রগতিও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকি। এসকল কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা এবং জোরালো সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকগণকে, যাঁদের সুযোগ্য দিক নির্দেশনায় সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের রক্ত এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের আত্মত্যাগের ঋণ কখনও শোধ হবে না। সম্মান জানাই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সকল বন্ধুরাষ্ট্র, সংগঠন, সংস্থা, ব্যক্তি এবং বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বোতভাবে সহায়তা করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র, তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলাকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। দিনে দিনে পাকিস্তানিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যমূলক মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। শেখ মুজিব যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে বাঙালিদের অধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে অটল ছিলেন। তাঁর অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ, যে সংগঠন দু’টির সৃষ্টি থেকে শুরু করে তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ওতপ্রতোভাবে জড়িত ছিলেন। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ’৬২-এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে এ সংগঠন দু’টির ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

শেখ হাসিনা বলেন, গণরোষের মুখে আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর, বঙ্গবন্ধু। ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা করেছিলেন, ‘আজ হতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় এদেশটির নাম হবে পূর্ব-পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধু মাত্র বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ’৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু, পাক-সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে টালবাহানা শুরু করে। শেখ মুজিব অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করেন। ২৩শে মার্চ সারা দেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ এর নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করতে শুরু করে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাক সামরিক জান্তা শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বাঙালির জননেতাকে পাকিস্তানের মিয়াওয়ালী কারাগারে বন্দি করে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ডাকে বাংলার মুক্তিপাগল জনতা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর মিত্র শক্তির সহায়তায় ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির পিতা, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি তাঁর প্রাণপ্রিয় স্বাধীন মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। শূন্য হাতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সহায়তা নিয়ে ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করেন, অবকাঠামো পুনস্থাপন ও উন্নয়ন করেন এবং উৎপাদন খাত ও অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। স্বাধীনতা অর্জনের নয় মাসের মধ্যেই একটি সংবিধান উপহার দেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেন; জাতিসংঘ সেই স্বীকৃতি প্রদান করে। তাঁর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ১২৩টি দেশের স্বীকৃতি এবং ২৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, ’৭১-এর পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাতে থাকে। ’৭৫-এর ১৫ই আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে শাহাদত বরণ করেন। খুনি মোস্তাক-জিয়া ও তাদের উত্তরসূরিরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করে। বিএনপি ২৫শে মার্চে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কুশীলব, মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধী এবং জাতির পিতার খুনিদের ক্ষমতায় বসায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। আমরা দায়িত্ব নিয়েই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তনের মাধ্যমে গরিব ও প্রান্তিক মানুষদের জীবনমান পরিবর্তনের মিশনে নেমে পড়ি। দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত করি। আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বাস্তুহারা মানুষের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করি। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করি। মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করি। ১৯৯৬ সালেই ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষর করি। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন করি এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী চাকমা উদ্বাস্তুদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসি। ১৯৯৭ সালের ৮ মার্চ নারী উন্নয়ন নীতিমালা ঘোষণা করি। ব্যক্তি মালিকানায় টেরিস্ট্রিয়াল ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল চালুর অনুমোদন দেই। ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে আমরা জাতির পিতা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করি। ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে সমাজ ও জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ পুনপ্রতিষ্ঠা করি। আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকাল ছিল সকল পশ্চাৎপদতা, অনুন্নয়ন ও দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে অন্ধকার থেকে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে অভিযাত্রা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবকটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে সরকার পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যেই আমরা রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছি। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে এসেছি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে সুনীল অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটিয়েছি। আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। মেট্রোরেল উদ্বোধন করেছি। তাছাড়া, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রজেক্টের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। এক দিনে ১০০টি সেতু এবং ১০০টি সড়ক উদ্বোধন করেছি। আমাদের মাথাপিছু আয় বর্তমানে ২,৮২৪ মার্কিন ডলার। আমরা ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অর্থাৎ রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন করছি। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকদের দায়ের করা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দলিল-এর ৪ খন্ড, তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট (১৯৪৮-১৯৭১)-এর ১৪ খন্ডের মধ্যে ১১ খন্ডসহ তাঁর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং আমার দেখা নয়াচীন প্রকাশ করেছি। আমার বিশ্বাস এই বইগুলো পড়লে নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতার ইতিহাসে জাতির পিতার দৃপ্ত পদচারণা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সকল বাংলাদেশিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ লালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মমর্যাদাশীল ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

Feb2
Feb2

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 3:38 pm
বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র বলছে, দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের এ বৈঠকটি আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং— আইজিআরএম) নামে পরিচিত। এবার ঢাকার রেলভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েরও আগ্রহ রয়েছে। তবে ট্রেন তিনটির চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে শুধু দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতি যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মতামত প্রয়োজন হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকেই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইজিআরএম বৈঠকটি প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। পরে ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী— তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর চলাচল আর স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আইজিআরএম বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে যাচ্ছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেসের রুট খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি। এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না : রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 6 September, 2026, 9:32 pm
ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো— আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু সংঘাতে কখনো জড়াবেন না।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন। তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন। আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে, ভাইস চ্যান্সেলর বসে আছেন, সামনে এখন শিক্ষক নেবে। জমির টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। কালকে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। সেখানে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে। এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম, আমাদের মনে আছে। আপনাদের মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্রভর্তি শুরু হবে। আমাদের ভূল্লী ও রুহিয়ার দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, দুটোই হয়ে গেছে, ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।

বিমানবন্দর ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন, আমি রাজি হয়েছি আপনাদের কথায়। বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হবে তা নয়, কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন তাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নেই। মানুষের কাজ নেই। এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারে আসার পরপরই আমরা এখানে অর্থ উপদেষ্টাকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু বিনিয়োগকারীকে এখানে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।

চীনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা এখানে চীনের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছিলাম। এই স্টেডিয়ামে তিনি প্রায় ছয় হাজার শিশুকে স্কুলব্যাগ দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে দশজন ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে চীনে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এখানে কলকারখানা তৈরির জন্য চীন থেকেও বিশেষজ্ঞরা আসবেন।

রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ খুব নির্ঝঞ্ঝাট। এখানে মামলা-মোকদ্দমা সবচেয়ে কম হয় এবং সবাই নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায়। আমরা এই অবস্থাটা রাখতে চাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না। অতীতে আমরা দেখেছি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর কী অকথ্য নির্যাতন হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শত শত-হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় আমাদের শ্রমিক-কৃষকদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেই সময়টা পার হয়ে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রিয় ঠাকুরগাঁওবাসী, আমি সেসব কথা বলে আপনাদের ভারাক্রান্ত করতে চাই না। আমরা অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে আজ এখানে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে দেখলেন, কয়েকজন মহিলা এসে সহযোগিতা নিয়ে গেলেন, তাদের সকলেরই সন্তান এই সংগ্রামে নিহত হয়েছে। এ রকম মৃত্যু, এই রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই না যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়। আমরা দেখতে চাই সবাই একসঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।

মঞ্চে উপস্থিত অন্য দুই রাজনৈতিক নেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আজ দুলু সাহেব আছেন, তার জেলা লালমনিরহাট, তিনি সেখানে চমৎকার একটা পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমাদের পাশের জেলার মন্ত্রী ফরহাদ আজাদ সাহেবও আছেন, তিনিও পঞ্চগড়কে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আমরা রাজনীতি করব। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা।

মন্ত্রী থাকাকালে নেওয়া উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন এই এলাকায় মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ কোটি টাকার সহযোগিতা করা হয়েছে।

দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে আনন্দ সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 6 September, 2026, 7:38 pm
দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে আনন্দ সমাবেশ

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শের’ মুখপাত্র দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসের উদ্যোগে পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটি পিআরইউ’র আহ্বায়ক ও দৈনিক দিনকাল ব্যুরো চীফ হাসান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত।

উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময়, আনন্দ সুধী সমাবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ‌ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, আব্দুল হালিম শাহ আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আর ইউ চৌধুরী শাহিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শওকত আজম খাজা, সাবেক কমিশনার নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন, মহানগর যুবদল সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সাংবাদিক নেতা মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, সাংবাদিক নেতা সালেহ নোমান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ , ডা: এসএম সারোয়ার আলম, আবু সালেহ, ফজলুল হক সুমন, মামুনুর রশিদ শিপন, সাইফুল ইসলাম টুটুল, জসীম উদ্দীন চৌধুরী, তানভীর মল্লিক, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, মহানগর যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক ও লেখক জহিরুল ইসলাম জহির, স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য’ ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগার চট্টগ্রামের সহ- প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন খাঁন, ড্যাব নেতা ডাক্তার এস এম রিয়াসাদ সাহাবুদ্দিন, ডাক্তার ইফতেখার আদনান, ডাক্তার মেহেদী হাসান, ডাক্তার সৈয়দ মোঃ হোসেন ফাহাদ, ডাক্তার মাইমুন রিদোয়ান চৌধুরী, ডাক্তার সামিউল, এস এম শাহরিয়ার জিয়া, ডাক্তার হাসিবুল হাবিব, ডাক্তার সামেদ আহাম্মেদ, সাইফুল ইসলাম ইমন, ডাক্তার সাজিদ রোহান, মোঃ মুশফিকুর রহমান, শাহেদ হাওলাদার, সাবেক কাউন্সিলর জেসমিন খাঁনম, বেগম খালেদা বোরহান, জিন্নাতুন নিছা জিনিয়া, সেলিম উদ্দিন রাসেল, শাহেদুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, বেগম শামসুন নাহার বাবুল, জসীম উদ্দীন সাগর, হাফেজ মোঃ কামাল উদ্দিন, লায়ন সালাউদ্দিন আলী, মিম ইসলাম, সানজিদা ইসলাম, খোরশেদ আলম কে আলম, হামিদুল হক চৌধুরী, মোছাঃ নাসরিন, মইনুদ্দিন খাঁন রাজিব, আসিফ চৌধুরী লিমন, সৌরভ প্রিয় পাল, এ্যাব নেতা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুম, দিদারুল ইসলাম, মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ, ইমরান হোসেন, সৈয়দ সাফওয়ান আলী, সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য সচিব ইমরান এমি, সূফিবাদী ঐক্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা নুর মোহাম্মদ রানা, মোরশেদ রনী, কাজী সরোয়ার মঞ্জু, ফরহাদুল ইসলাম, জাহেদ চৌধুরী, এএফ রুমী, এডভোকেট রেজাউল, ইকবাল হায়দার, দীপক চৌধুরী কালু, সাজু দাস, টিটু মহাজন, জাভেদ ওমর, সাংবাদিক নেতা সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, ইসমাইল ইমন, কামরুল কুতুবী, শফিউল শামু, মেহেদী হাসান রায়হান, জাহেদ হোসেন ইফতি, মোঃ সালাউদ্দিন, নাহিদা নাজু, এস. বি‌‌ সুমী, ইকবাল পিন্টু, রিফাত চৌধুরী লিজা, আলমগীর, মোঃ মামুন, কুতুব উদ্দিন নয়ন, শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, সত্যজিৎ বড়ুয়ার রুপু, বোরহানুল হক, এস এম তৈয়ব, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম জাহেদ, সালেহ আহাম্মদ খোকন, নজরুল ইসলাম, জুলাই যোদ্ধা রিদওয়ান সিদ্দিকী, কাজী সাকলাইন মোস্তফা, ইলিয়াস আকাশ, মুহাম্মদ সারোয়ার, মীর মোহাম্মদ মোবারক হোসেন, মোঃ রুবেল, শরিফুল ইসলাম আবীর, মঞ্জরুল আলম, মো: রাকিব, জাহিদুল ইসলাম আরাফাত সহ- পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটি পিআর ইউ’র নেতৃবৃন্দ।

 

৪১ বছর পর্দাপন অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ একটি আনন্দ ও গৌরবের দিন। আজ দৈনিক দিনকাল তার গৌরবময় পথচলার ৪১ বছর পূর্ণ করেছে। এই দীর্ঘ পথচলায় পত্রিকাটি বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জগতে একটি পরিচিত নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৪১ বছর শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটি চার দশকেরও বেশি সময়ের শ্রম, নিষ্ঠা, সাহস, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই এবং পাঠকের ভালোবাসার প্রতিফলন।

একটি সংবাদপত্রের মূল শক্তি হলো সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রতি তার অঙ্গীকার। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ধরন ও প্রযুক্তি বদলেছে, পাঠকের প্রত্যাশা বদলেছে; কিন্তু মানুষের জানার অধিকার, সত্য জানার আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার প্রয়োজন কখনো বদলায়নি। সেই দায়িত্বকে সামনে রেখে দিনকাল-এর পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তি, সাংবাদিক, সম্পাদক, লেখক, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের। যাঁদের শ্রম ও অবদানে দিনকাল আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে, তাঁদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তার, ভুয়া তথ্যের প্রবাহ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই যুগে একটি সংবাদপত্রের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী দিনের দিনকালকে আরও আধুনিক, অনুসন্ধানী, জনবান্ধব এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংবাদমাধ্যম হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে।