খুঁজুন
, ,

মিরসরাইয়ে নারীর শরীরে ভুল রক্ত পুষ করার অভিযোগ হাসপাতালের বিরুদ্ধে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 14 May, 2023, 6:23 pm
মিরসরাইয়ে নারীর শরীরে ভুল রক্ত পুষ করার অভিযোগ হাসপাতালের বিরুদ্ধে

মিরসরাই প্রতিনিধি::::মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। সিজারিয়ান এক রোগীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয় না করেই রক্ত দেয়া হয়েছে। এতে ভুল রক্ত শরীরে প্রবেশের সাথে সাথে রোগীর অবস্থা অবনতি হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে চট্রগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী রোগীর নাম সোনিয়া আক্তার। তিনি পূর্ব হিংগুলীর খালেদ মাহমুদের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন।

রবিবার ( ১৪ মে) দুপুরে সোনিয়া আক্তারের স্বামী খালেদ মাহমুদ এই অভিযোগ করেন।

খালেদ মাহমুদ বলেন, তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের প্রসববেদনা উঠলে গত বৃহস্পতিবার বারৈয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার নাছিমা আক্তার রাতেই সিজার করেন। এতে তার অত্যাধিক রক্তক্ষরণ হয় ও রক্তের হিমোগ্লোবিন (৭.৮) কম হওয়ায় রক্ত দেয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। সোনিয়া আক্তারকে রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে নাইটেঙ্গেল ডায়াগনস্টিক ল্যাব এর পূর্বের রিপোর্ট অনুযায়ী রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ (A+) বলে জানান ডাক্তার নাছিমা আক্তারকে। কিন্তু নাছিমা আক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে নিশ্চিত না হয়ে ক্রস চেক না করে মুখের কথার উপর নির্ভর করে রোগীর শরীরে রক্ত দিয়ে দেন। রক্ত দেয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায় রোগীর রক্তের গ্রুপ (O+) ও পজেটিভ। রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় কোন সমস্যা হবেনা দুটাই পজেটিভ ব্লাড। সাময়িক সমস্যা হলেও আস্তেধীরে ঠিক হয়ে হয়ে যাবে। এভাবে কালক্ষেপণ করা ১ দিন পর রোগীর অবস্থা আরো সংকটাপন্ন হলে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

খালেদ মাহমুদ জানান, ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তাকে বিপদে পড়তে হয়েছে। একদিকে নাইটেঙ্গেল ডায়াগনস্টিক ল্যাব এর ভুল রিপোর্ট অন্যদিকে বারৈয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালের খামখেয়ালি। রোগীকে এখন আইসিইউতে রাখতে হচ্ছে, রক্ত ডায়ালাইসিস করে আবার নতুন রক্ত দিতে হবে। এতে প্রায় বাড়তি খরচ আসবে দেড় থেকে ২লাখ টাকা। এতো টাকা এখন আমি কোথায় পাবো?

বারৈয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাক্তার শাহজাহান ও পরিচালক আলিহাদার টিপু জানান, রোগী সোনিয়া আক্তার একজন ইউনিভার্সেল ডোনার। উনি যে কাওকে রক্ত দিতে পারবেন কিন্তু নিতে পারবেন না। উনাকে রক্ত দেয়ার পূর্বে ক্রস ম্যাচিং করা হয়েছে তখন কোন অসঙ্গতি ধরা পড়ে নাই। কারন তার ক্ষেত্রে ক্রস ম্যাচিং নয় বরং গ্রুপিং টা গুরুত্বপূর্ণ। নাইটেঙ্গেল ডায়াগনস্টিক ল্যাব এর রিপোর্ট ভুল থাকায় এই ভুল হয়েছে তাই এটা বারৈয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তারের কোন দোষ নেই।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মিনহাজুর রহমান জানান, যে কোন রোগীকে রক্ত দেয়ার পূর্বে রক্তের গ্রুপ ও ক্রস ম্যাচিং করে নিশ্চিত হতে হবে। অন্যথায় কেউ এর দায় এড়াতে পারে না। এতে রোগীর পরিবার ইচ্ছে করলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।