খুঁজুন
, ,

বড় জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 16 June, 2023, 8:27 pm
বড় জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

মিরপুরের আকাশে শেষ বিকেলে মেঘের ঘনঘটা। মাঠে আলোকস্বল্পতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ফ্লাডলাইট। কৃত্রিম আলোর নিচে পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় যেন চোখে অন্ধকারই দেখছিল সফরকারী আফগানরা। ৬৬২ রানের টার্গেট তাড়ায় ইনিংসের ২ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানিস্তান। এর মধ্যে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদির রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া। পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় তৃতীয় দিন শেষে আফগানদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৫ রান।

ঢাকা টেস্ট জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৮ উইকেট। অন্যদিকে, মিরাকল কিছু ঘটাতে আফগানদের লাগবে আরও ৬১৭ রান।

অসম্ভব লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় সফরকারীরা। শরিফুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন আফগান ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। ফুল লেংথের ডেলিভারি ব্যাটে লাগাতে পারেননি। বল গিয়ে আঘাত হানে প্যাডে। জোরাল আবেদনে সাড়া দিতে দেরি করলেন না আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।

শরিফুলের পরের ওভারেই সাফল্য পেয়েছেন আগের ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকা তাসকিন। টাইগার পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরে বলে কভার ড্রাইভের চেষ্টা করেন মালিক। বল ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। ইব্রাহিমের গোল্ডেন ডাকের পর মাত্র ৫ রান করে ফেরেন মালিক। প্রথম ২ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় আফগানরা।

বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার আগেই বড় ধাক্কা আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদীর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের খেলা চলছিল তখন। বোলিংয়ে ছিলেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ। তার করা ওভারের তৃতীয় বলে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। আফগানদের হয়ে সে সময় ব্যাট করছিলেন অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি।

তাসকিনের করা সেই বলটি এই ব্যাটার ভেবেছিলেন বাউন্সার হবে। যে কারণে বল আসার আগেই বসে পড়েন তিনি। কিন্তু সেই ডেলিভারি খুব বেশি ওপরে উঠেনি। এই সময়ে সরাসরি গিয়ে আঘাত করে শহীদির হেলমেটে। অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছিল বেশ ভালো আঘাতই পেয়েছেন আফগান এই ক্রিকেটার। এরপর মাঠে তাকে সেবা শুশ্রুষার পরও ঠিক হয়নি তার সমস্যা। যে কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে শহীদি উঠে গেছেন ব্যক্তিগত ১৩ রান করে।

এরপর যদিও আর কোনো বিপর্যয় হয়নি। আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে তৃতীয় দিনের খেলা। অপরাজিত আছেন দুই ব্যাটার রহমত শাহ (১০) ও নাসির জামাল (৫)।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এদিন ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ২৯১ রান যোগ করে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেয় স্বাগতিকরা।

দুই বছর পর সেঞ্চুরিখরা ঘুচিয়েছেন মুমিনুল। ছবি ক্রিকইনফোর
মুমিনুলের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে একই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের অনবদ্য ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১২৪ রান। দুই ইনিংস মিলে তার সংগ্রহ ২৭০ রান৷

শান্তর পর তিন অঙ্কের দেখা পান মুমিনুল হক। দুই বছরের অপেক্ষার পর ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১২১ রানে অপরাজিত থাকেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এছাড়া লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৬৬ রান৷

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৮২

আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ১৪৬

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৮০ ওভারে ৪২৫/৪ (ডিক্লে.) (জয় ১৭, জাকির ৭১, শান্ত ১২৪, মুমিনুল ১২১*, মুশফিক ৮, লিটন ৬৬*; আহমাদজাই ১৩-১-৬১-০, মাসুদ ১২.৫-০-৮৩-০, হামজা ১৬.১-০-৯০-১, জানাত ৮-০-৪৮-০, জাহির ২৩-০-১১২-২, শহিদী ৩-০-১৯-০, জামাল ২-০-৪-০, রহমত ২-০-৪-০)

আফগানিস্তান ২য় ইনিংস: ১১ ওভারে ৪৫/২ (জাদরান ০, মালিক ৫, রহমত ১০*, শহিদী ১৩ রিটায়ার্ড হার্ট, জামাল ৫*; শরিফুল ৪-১-৬-১, তাসকিন ৪-০-২৮-১, তাইজুল ২-০-৬-০, মিরাজ ১-০-১-০)

Feb2
Feb2

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।