খুঁজুন
, ,

এক দফার আন্দোলন চট্টগ্রামে মারা যায় কি না, তা দেখার বিষয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 July, 2023, 6:20 pm
এক দফার আন্দোলন চট্টগ্রামে মারা যায় কি না, তা দেখার বিষয়

বিএনপির এক দফার আন্দোলন চট্টগ্রামেই মারা যায় কি না, তা দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বুধবার (৫ জুলাই) সচিবালয়ে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সংবাদপত্রে প্রতিফলন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি জানিয়েছে তারা চট্টগ্রাম থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু করবে- এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি চট্টগ্রাম থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু করবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কিন্তু চট্টগ্রামে নিহত হয়েছিলেন তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে। চট্টগ্রাম থেকে শুরু করা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এক দফার আন্দোলন তো তারা মাঝে মধ্যে ঘোষণা দেন, এক দফার আন্দোলন চট্টগ্রামে মারা যায় কি না, সেটি দেখার বিষয়।

বিদেশিদের ‘পায়ে না ধরে’ জনগণের কাছে নালিশ করার অনুরোধ

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, আমরা তাদের এটি জানিয়েছি।’ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশকে বলা কতটুকু যুক্তিসংগত? তথ্যমন্ত্রীকে এই প্রশ্ন করেন একজন সাংবাদিক।

এর জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির যদি কোনো নালিশ থাকে দেশের জনগণ হচ্ছে দেশের মালিক। দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় কারা যাবে সেটি নির্ধারণ করার মালিক হচ্ছে জনগণ। বিএনপির যদি কোনো নালিশ থাকে সেই নালিশ দিতে হবে জনগণের কাছে। সেই নালিশ বিদেশিদের কাছে নয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচন হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে যেভাবে নির্বাচন হয়, সেখানে যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তারা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বে থাকে। আমাদের দেশেও ঠিক একইভাবে নির্বাচন হবে। আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, নালিশ জনগণের কাছে করার জন্য। বিদেশিদের হাতপায়ে না ধরার জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রের আরও কর্মকর্তারা বাংলাদেশে আসছেন- এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তা আসছেন এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা আসবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র বিরাট ভূমিকা রাখছে। তাদের এই আগমনে আমরা স্বাগত জানাই। তাদের এই আগমন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার বার্তাই বহন করে।

বিদেশিরা ঘন ঘন আসছে। আওয়ামী লীগ চাপে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কোনো চাপে নেই। ২০১৩-১৪ সালে যে আন্দোলন ও সহিংসতা তারা করেছে আমরা তা সামাল দিয়েছি। সেটি করার সামর্থ্য এখন বিএনপির নেই। ভূ-রাজনীতির কারণে সেই ধরনের আন্দোলন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, সেই ধরনের ঘটনাপ্রবাহ ঘটানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা জানি কখন কি করতে হবে। সুতরাং আমরা কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছি না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে জনগণকেও বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদেরও আহ্বান জানিয়েছিল ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য। তাদের এত প্রচারণা-আহ্বানের মধ্যেও সেখানে গড়ে ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবে। গণতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে- জনগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে কি না। বিএনপির অংশগ্রহণকে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাই। বিএনপি যদি অংশগ্রহণ নাও করে আগামী নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে।

Feb2
Feb2

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 2:34 pm
জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে সকালে ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান। তার আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে ঢামেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:35 pm
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।

ধসে পড়েছে সেতু, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:09 pm
ধসে পড়েছে সেতু, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানির প্রবল স্রোতে একটি সেতু ধসে পড়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পানির তীব্র স্রোতের মুখে দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকার সেতুটি ধসে পড়ে। ফলে সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই পাশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু ধসে পড়ায় কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা ও নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

খবর পেয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।