খুঁজুন
, ,

পারমাণবিক ক্লাবে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 5 October, 2023, 8:59 am
পারমাণবিক ক্লাবে বাংলাদেশ

একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কথা শুরু করেছিলেন ফরাসি ও রাশানদের সঙ্গে। অবশেষে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সফল হলো বাংলাদেশ। ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে এসেছে ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়াম। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠান (গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান) অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ঐতিহাসিক এই গ্র্যাজুয়েশনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩৩তম ইউরেনিয়াম জ্বালানির যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। আমরা এখন নিউক্লিয়ার ক্লাবের গর্বিত সদস্য।

১৯৬২ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রমত্তা পদ্মা নদী তীরবর্তী রূপপুরকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থান হিসাবে নির্বাচন করা হয়। বুধবার সরেজমিন বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠানকে ঘিরে উৎসবের সাজে সেজেছে ঈশ্বরদীর রূপপুর এলাকা। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিভিন্ন রঙের পতাকা শোভা পাচ্ছে। গ্রিনসিটি আবাসিকের সামনের প্রাচীরে রঙিন চিত্রকর্ম নজর কাড়ছে সবার। একদিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, অন্যদিকে সাজসাজ রব। সব মিলিয়ে রূপপুর যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ভিন্ন এক জায়গা। তবে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে এখানকার মানুষ উন্মুখ হয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন।

ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে রূপপুরে এসেছে উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল। প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছেন মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ফলে পুরো প্রকল্প ও গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান কবিতার ভাষায় বলেন, ‘পিতা চেয়েছিল পরমাণু যুগ শুরু হোক রূপপুরে, পিতার চাওয়া হয়েছে পূরণ কন্যার হাত ধরে। রূপপুর আজ রূপ পেয়েছে অর্জন অশেষ; এই না হলে শেখের বেটি শাবাশ, শাবাশ বাংলাদেশ।’

এ সময় দেশের জিডিপিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২ শতাংশ অবদান রাখবে বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। তিনি বলেন, সাধারণত নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে ১২ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে। সে হিসাবে মাত্র ৭-৮ বছরের মধ্যে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা একটা মাইলফলক। এসবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। ইউরেনিয়াম আসার মধ্য দিয়ে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পারমাণবিক স্থাপনা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এদিকে গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের পর আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর। তিনি বলেন, মাসটিতে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাবে রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। তবে ২০২৫ সালের শুরুতেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। আর প্রকল্পটি চালু হলে দেশের জিডিপিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২ শতাংশ অবদান রাখবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনে গেলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কমবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও।

ড. মো. শৌকত আকবর বলেন, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাবে রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। তবে ২০২৫ সালের শুরুতেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি এবং সংরক্ষণ করতে সেফটি ও ইন্টারন্যাশনাল অবলিগেশন-সব মানা হয়েছে আমাদের প্রকল্প এলাকায়। ইউরেনিয়াম আনতে গিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশিয়ান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর শর্ত পূরণ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক এলাকা আজ থেকে গ্লোবালি রিকগনিশন পাবে পারমাণবিক স্থাপনা হিসাবে।

প্রকল্পের গ্রিনসিটি এলাকায় কথা হয় বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে। এ অর্জনে নিজেদের গর্বের অংশীদার মনে করেন তারা। বলেন, এ আমাদের জন্য কী আনন্দ ও গর্বের, তা বলে বোঝাতে পারব না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ দেওয়ানোর জন্য তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। তারা আরও বলেন, প্রকল্পকে ঘিরে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বেকার মানুষ কর্মসংস্থান পেয়েছেন। অসচ্ছল পরিবার সচ্ছল হয়েছে। ঈশ্বরদীকে এক টুকরো রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন তারা।

এর আগে শুক্রবার রাশিয়া থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান রূপপুর পৌঁছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের কাছে পারমাণবিক জ্বালানির সনদ ও মডেল হস্তান্তর করবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেস্কি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। হস্তান্তর প্রক্রিয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। রোসাটমের জ্বালানি প্রস্তুতকারী কোম্পানি টেভেলের একটি প্রতিষ্ঠান নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্ট (এনসিসিপি) রূপপুরের এই জ্বালানি উৎপাদন করছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আলী হোসেন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান এবং পারমাণবিক জ্বালানির সনদ ও মডেল হস্তান্তরের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সফলভাবে কর্মসূচি পালনে প্রস্তুত। অতিথিরা চারটি পয়েন্ট থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং বক্তৃতা করবেন বলেও জানান তিনি।

প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পটিতে সাত হাজার পেশাদারসহ ৩০ হাজার দেশি-বিদেশি কর্মী কাজ করছেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে পারমাণবিক ক্লাবে প্রবেশ বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। কারণ, এটি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। একই সময়ে এটি ফ্ল্যাশের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমিয়ে দেবে। প্রকল্পে চার বছর ধরে ইন্সটলার হিসাবে কাজ করছেন স্থানীয় যুবক নাসির উদ্দিন ও আশরাফুল ইসলাম। তারা বলেন, বিশ্বের অন্যতম মেগা প্রকল্প এটি। প্রকল্পের অনেক কাজে আমাদের হাতে ছোঁয়া লেগে আছে। আমাদের দেশে গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদে আমরা কাজ করতে পেরে খুবই আনন্দিত।

এদিকে প্রকল্প পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আরএনপিপি প্রতিদিন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক উদ্যোগ নিশ্চিত করবে। রাশিয়ান ঠিকাদার হিসাবে রোসাটম, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নিয়ে গঠিত। মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরমাণু শক্তি কমিশন আরএনপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্টোএক্সপোর্ট প্রকল্পের অধীনে ১২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে। পারমাণবিক জ্বালানি রোসাটমের সহযোগী কোম্পানি টিভিইএল ফুয়েল তৈরি করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি ক্রয় করে।

ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইট অনুসারে পরমাণু শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, ইউক্রেন, জার্মানি, জাপান, স্পেন, সুইডেন, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ভারত, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বুলগেরিয়া, পাকিস্তান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, রোমানিয়া, আর্জেন্টিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বেলারুশ, স্লোভেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, ইরান ও আর্মেনিয়া। এবার যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নামও। একবার পারমাণবিক জ্বালানি পাওয়ার প্ল্যান্টের চুল্লিতে লোড করা হলে এক বছরের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। এরপর জ্বালানি চুল্লিতে পুনরায় লোড করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৬১ সালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৬২-১৯৬৮ সালে রূপপুরকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থান হিসাবে নির্বাচন করা হয়। একাধিক সমীক্ষার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের যথার্থতা যাচাই করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর এবং আবাসিক এলাকার জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ভূমি উন্নয়ন, অফিস, রেস্টহাউজ, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন এবং কিছু আবাসিক ইউনিটের নির্মাণকাজ আংশিক সম্পন্ন করা হয়। এরপর ১৯৬৯-৭০ সালে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাতিল করে দেয়। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও তা গতি পায় ২০০৮ সালের পর। তখন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে। ২০০৯ সালে দলটি ক্ষমতায় এলে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেন।

২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয়। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ১ হাজার ৬২ একর জমির ওপর প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হয়। সূত্র আরও জানায়, ২০২১ সালের অক্টোবরে ইউনিটের কাঠামোর

মধ্যে চুল্লি স্থাপনের মাধ্যমে রূপপুর ইউনিট-১ প্রায় সম্পন্ন হয়। এটি এআইইএ-এর মান অনুযায়ী স্থাপন করা হয়। চুল্লি একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান উপাদান। গত বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি স্থাপন করা হয়।

জানা যায়, প্রথম ইউনিট (১২০০ মেগাওয়াট) চালু করার জন্য ৭৫ টন ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হবে। একবার জ্বালানি দেওয়ার পর ১৮ মাস নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এরপর এক-তৃতীয়াংশ ইউরেনিয়াম অর্থাৎ ২৫ টন তুলে সেখানে নতুন রড দিতে হবে। এরপর আবার ১৮ মাস চলবে। এভাবে ১৮ মাস পরপর আংশিক জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। এক কেজি ইউরেনিয়াম প্রায় ১০০ টন কয়লার সমান তাপ উৎপাদনে সক্ষম। আর একই পরিমাণ তাপ তেলে উৎপাদন করতে হলে ৬০ টন ডিজেল প্রয়োজন হবে। যে কারণে এটিকে সহজে পরিবহণযোগ্য বিবেচনা করা হয়। এই জ্বালানি একবার লোড করে নিরবচ্ছিন্নভাবে ১৮ মাস বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ অন্য জ্বালানিতে পেতে হলে অনবরত সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেডিয়েশন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। রেডিয়েশনের মাত্রা মানুষের সহনক্ষমতার মধ্যে থাকবে। ২৩টি রেডিয়েশন স্টেশন চালু হবে, সেখানে রেডিয়েশনের মাত্রা প্রদর্শিত হবে। যে কেউ দেখতে পারবেন। এসব স্টেশন ১৮ কিমি. দূরে পর্যন্ত থাকবে। ১২.৫ কিলোমিটার দূরে মনিটরিংয়ের প্রয়োজন নেই। যেভাবে বসবাস করছে, সেভাবে করতে পারবে।

Feb2
Feb2

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 6:24 pm
বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আজ বুধবার বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 2:35 pm
জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে জশনে জুলুস। ৫৫তম জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েঠেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঐতিহ্যের জশনে জুলুস শুরু হয়।

ভিড় পেরিয়ে সেই জুলুস অপরপ্রান্ত টাইগারপাসে পৌঁছে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এ সময় আকাশ মেঘে ছেয়ে যায়, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়।

বৃষ্টিতে ভিজেই হুজুর কেবলার গাড়ি অনুসরণ করে জুলুস। আবার একই পথে ফিরে যায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে।

জুলুস অংশগ্রহণকারী ও পথচারীদের পানি, শরবত, খেজুর, কলা, বিরিয়ানি বিতরণ করছেন বিভিন্ন সংগঠন ও আগ্রহী মানুষেরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।

জুলুসের কারণে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলে আশেকরা আসেন নগরে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

পীর আল্লামা সাবির শাহ বলেন, প্রিয় নবীর আগমনে খুশি উদযাপন করা কোরআন, হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। আল্লাহ নেয়ামত প্রাপ্তিতে আনন্দ তথা ঈদ উদযাপন করতে বলেছেন। তাই সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (দ) প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য নেয়ামত। জশনে জুলুস এমন একটা কর্মসূচি যেখানে শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজ হয় না। কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (দ) পাঠ, রাসুলের সীরাত আলোচনা হয় এখানে। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার।

জুলুসে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মাহমুদ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন খোকনসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 1:47 pm
অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সহযোগিতা করতে জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার সচেষ্ট জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এমন কোনো অপরাধ নেই, যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী সেটা (অপরাধীকে) গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’ তবে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ বুধবার সকালে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে ভঙ্গুর অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাওয়া গিয়েছিল, গত ছয় মাসে তাদের মনোবল ফিরছে। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী এখন পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে কাজ করছে। ভালো কাজের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পুরস্কার, সনদ ও পদক দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সরকার ‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করছে। তবে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রংপুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মিরপুরের শিশুধর্ষণ ও হত্যা থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে আলোচিত কিংবা আলোচনার বাইরে থাকা প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত বিচার শেষ করতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা, তাদের মনোবল বাড়ানো এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার কাজ একসঙ্গে চলছে। অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব বাহিনীর জবাবদিহি ও কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) শিক্ষা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাঁর আদর্শে শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা রয়েছে। দেশে ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়, সাম্য ও শৃঙ্খলার পথে চলার আহ্বান জানান তিনি।

মানুষ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধী যে-ই হোক, যত ক্ষমতাশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, মানুষ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় এবং মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্র যেন আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

রংপুরের ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধী চক্র কোথা থেকে তৈরি হচ্ছে এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করে নির্মূল করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।