খুঁজুন
, ,

দলের প্রত্যেক কেন্দ্রীয় নেতাকে নির্বাচনমুখী হতে হবে : শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 5 October, 2023, 9:07 am
দলের প্রত্যেক কেন্দ্রীয় নেতাকে নির্বাচনমুখী হতে হবে : শেখ হাসিনা

দলের প্রত্যেক কেন্দ্রীয় নেতাকে নির্বাচনমুখী হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি মাসে আমিও ছয়টি জনসভায় অংশ নেব। দায়িত্বপ্রাপ্তদের এলাকায় যেতে হবে। আমরা সরকারে থেকে কী কী করেছি, সেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে দেশে ফিরেছেন। ১৬ দিনের সরকারি সফর শেষে গণভবনে পৌঁছালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন। গণভবনে উপস্থিত একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনী জোর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, যথাসময়েই নির্বাচন হবে। প্রস্তুত হোন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে। দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ভোটের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর যারা এই ভোট ঠেকাতে আসবে তাদের প্রতিহত করতে হবে। সরকারের অর্জনগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস, অর্থ লুটপাট, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা, হামলা-মামলা, নির্যাতনের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে কোনো ছাড় নয়
যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্র অব্যাহত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
এ সময় দলের নেতাকর্মী যারা টকশোতে আলোচনায় অংশ নেন, তাদের বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা বেশি করে তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট (বিজি-২০৮) বুধবার বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য মন্ত্রীরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সফরসঙ্গী ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে সোজা গণভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন। এরপর তিনি সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ২০২০ সালে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর এই প্রথম কেন্দ্রীয় নেতারা গণভবনে যান দলীয় সভানেত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে।

উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কিছুটা অসুস্থ ছিলাম। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেখে সুস্থ হয়ে গেছি। আওয়ামী লীগই আমার প্রাণ, আওয়ামী লীগের কর্মীরাই আমার শক্তি। অসুস্থ থাকলেও তাদের দেখলেই ভালো হয়ে যাই।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানো নিয়েও কথা বলেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি তো অনেক উদারতা দেখিয়েছি। তার (খালেদা জিয়া) ভাই, বোন আমার কাছে কান্নাকাটি করেছে। শেখ রেহানাকে ধরেছে। আমার নির্বাহী ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি। দেশের সেরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এখন যদি বিদেশ যেতে চায় তাহলে তো তাকে জেলে যেতে হবে। আদালতের আদেশ নিয়ে বিদেশে যেতে হবে। এখানে আমার করার কিছুই নেই।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন- বিএনপি আন্দোলন করছে, তাদের পলাতক নেতা (তারেক রহমান) বলে, যত টাকা লাগে কোনো সমস্যা নেই। এই ‘এত টাকা’ কোথায় থেকে পেল? তাদের এই টাকার উৎস্য কী? খোঁজ নেওয়া দরকার। তারা ক্ষমতায় থাকতে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছিল। সে কারণে এখনো তারা ‘যত’ টাকা লাগে কোনো সমস্যা নেই বলে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও বলেছিল, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি খুনির দল। জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। খালেদা জিয়া ও তাদের কুপুত্র তারেক রহমান আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করেছিল। সে সময়ে খালেদা জিয়া আমাকে নিয়ে কটাক্ষ করেছিল। বলেছিল, ওনাকে কে মারতে যাবে? ভ্যানিটি ব্যাগে নিজেই গ্রেনেড নিয়ে গেছে। আমার মনে কষ্ট দিতেই খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করে। কারণ ওইদিন আমি বাবা-মা-ভাইসহ সবাইকে হারিয়ে এতিম হয়েছিলাম। অথচ খালেদা জিয়ার সেদিন জন্মদিন না। শুধু তাই নয়, জাতির পিতার খুনি আবদুল আজিজ পাশাকে মরণোত্তর পদোন্নতি দিয়েছিল। তাকে সব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিল। অন্য খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল। খুনি রশিদকে বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছিল বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি আজকে হামলা-মামলার যে অভিযোগ করে, তারা কোন মুখে এ কথা বলে। তারা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করেছে। নাটোরের মমতাজ উদ্দিন, খুলনার মঞ্জুরুল ইমামকে গুলি ও বোমা মেরে হত্যা করেছে। আমাকে (শেখ হাসিনা) কয়েকবার টার্গেট করেছে। গ্রেনেড হামলা করেছে। আমাদের দলের নেতা তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সাবের হোসেনকে কীভাবে লাঠিপেটা করেছে, সেগুলো কী ভুলে গেছে? বাহাউদ্দিন নাছিমকে কীভাবে নির্যাতন করেছে? শেখ সেলিমকে বিনা ওয়ারেন্টে ধরে নিয়ে কীভাবে রিমান্ডে নির্যাতন করেছে সেগুলো কী বিএনপি ভুলে গেছে? আমরা কী করেছি তাদের? তারা তো আন্দোলন করছে।

তিনি বলেন, যারা টিভিতে টকশো কর, তারা বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনগুলো বেশি বেশি করে বলবে। ছয় ঋতুর দেশ। মানুষ ভুলে যায়। মনে করিয়ে দিতে হবে।

গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, অসীম কুমার উকিল, আমিনুল ইসলাম আমিন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ড. শাম্মী আহমেদ, ওয়াসিকা আয়েশা খান, ডা. রোকেয়া সুলতানা, শামসুর নাহার চাপা, সিদ্দিকুর রহমান, ড. সেলিম মাহমুদ, সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, সায়েম খান, আনিসুর রহমান, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, গোলাম কবির রাব্বানী চিনু, প্রফেসর মেরিনা জামান কবিতা, মারুফা আকতার পপি, পারভীন জামান কল্পনা, আজিজুস সামাদ আজাদ ডনসহ অনেকেই।

Feb2
Feb2

দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 11:38 pm
দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 9:58 pm
বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা

ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আজ শুক্রবার লোহিত সাগরের দ্বীপ ময়উন ওরফে পেরিম দ্বীপ দখলের মধ্যে দিয়ে এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথি গোষ্ঠী।

পেরিম বা ময়উন দ্বীপটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বীপটির ভৌগলিক অবস্থান বাব এল-মান্দেব প্রণালির একদম মাঝখানে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুথি যোদ্ধাদের বহনকারী বেশ কয়েকটি নৌযান সেই দ্বীপে পৌঁছে দ্বীপটি দখল করে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মানদেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব আল-মান্দেব প্রণালিটির অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। সংকীর্ণ এই জলপথটি একদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অপরদিকে সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচলও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।

জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এই প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্র উপকূলে যেসব তেলখনি আছে, সেসব থেকে উৎপদিত তেলের ১২ শতাংশ বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা গত সপ্তাহে বাব আল-মানদেব এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরুর পর থেকে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজারো পরিবার।

ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল–মানদেব প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।

এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কেন, কী বলছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 September, 2026, 9:41 pm
এক বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কেন, কী বলছে পুলিশ

একটি বাড়িতে ৬৩ বিদেশি নাগরিক। কারও হাতে মোবাইল, কেউ ব্যস্ত ল্যাপটপে। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ আবাসিক বাড়ি মনে হলেও ভেতরে চলছিল সংঘবদ্ধ অনলাইন কার্যক্রম। চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই বাড়িতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা। পুলিশের অভিযানে একসঙ্গে ৬৩ জন গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য।

বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এক দুবাইপ্রবাসীর কাছ থেকে। সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ডিভাইসের সংখ্যাও বেশ বড়— ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ। এর সঙ্গে ছিল ট্যাব, পেনড্রাইভ, সিমকার্ডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক একসঙ্গে চট্টগ্রামে এসে কীভাবে একটি আবাসিক বাড়ি ভাড়া নিলেন এবং দেড় মাস ধরে সেখানে অবস্থান করলেন? তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাড়ির মালিক, আশপাশের বাসিন্দা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা জানতেন? আসামিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন, কে বা কারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং ভাড়াটেদের পরিচয় যাচাই কীভাবে হয়েছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনসের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী। প্রায় দেড় মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেন বিদেশি নাগরিকরা।

অভিযানে উদ্ধার করা ডিভাইসের সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, বাড়িটিতে অনলাইনভিত্তিক কাজের জন্য একটি সংগঠিত সেটআপ ছিল। ৬৩ জনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় দুইটি করে মোবাইল ছিল প্রত্যেকের জন্য। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে ৫৭টি ল্যাপটপ।

এ ছাড়া একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ও পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গেছে চারটি সিমকার্ড। পাকিস্তানের তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কম্বোডিয়ার একটি কর্মসংস্থান কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এতগুলো ডিভাইস কেন এবং কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্‌ম এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করবে তারা।

শুধু বিদেশিরা নন, আছে সহযোগীরাও

পুলিশ বলছে, এই চক্রের কার্যক্রম শুধু ওই বাড়ির ৬৩ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের কথা জানিয়েছেন। তাদের কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন বলে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন তারা।

এই সহযোগীরা কী ধরনের সহায়তা দিতেন, বাড়ি ভাড়া নেওয়া, যাতায়াত, যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ কিংবা অর্থ লেনদেনে তাদের ভূমিকা ছিল কি না— এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে। কারণ, এতজন বিদেশি নাগরিকের জন্য বাসস্থান, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা এককভাবে পরিচালনা করা কঠিন।

চট্টগ্রাম কেন?

অনলাইন অপরাধের জন্য ভৌগোলিক অবস্থান অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ না হলেও চট্টগ্রাম বন্দরনগরী হওয়ায় এখানে দেশি-বিদেশি মানুষের চলাচল তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আনাগোনাও রয়েছে। সেই সুযোগকে অপরাধী চক্র ব্যবহার করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের চট্টগ্রামে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন কিংবা তাদের ভিসার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

তদন্তে সামনে আসবে বড় নেটওয়ার্ক?

একটি বাড়ি থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিক এবং বিপুলসংখ্যক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনা, এটিকে নিছক একটি আবাসিক বাড়িতে কয়েকজন বিদেশির অবস্থানের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ রাখছে না। পুলিশের বক্তব্যে দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থানের তথ্যও এসেছে।

তদন্তে এখন মূল বিষয় হবে এই ৬৩ জনের মধ্যে কে কোন ভূমিকায় ছিলেন, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কারা যুক্ত ছিলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল এবং এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না।

উদ্ধার করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণেই এসব প্রশ্নের অনেক উত্তর মিলতে পারে। একই সঙ্গে ওই বাড়ির ভাড়া চুক্তি, বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে আসার নথি এবং তাদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখলে চক্রটির বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা হচ্ছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে চট্টগ্রামের ওই বাড়ি থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।