খুঁজুন
, ,

গতি বাড়ছে পূর্বাঞ্চল রেলে, সময়সূচিতে পরিবর্তন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 18 November, 2023, 2:49 pm
গতি বাড়ছে পূর্বাঞ্চল রেলে, সময়সূচিতে পরিবর্তন

ট্রেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হচ্ছে

তিন বছরের বেশি সময় পর নতুন সময়সূচি কার্যকর করতে যাচ্ছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন সময়সূচিতে চলাচল করবে ট্রেন। এ ক্ষেত্রে ট্রেনভেদে যাত্রার সময় ৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কমিয়ে এনেছে রেলওয়ে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীনে এক লেনের রেললাইন দুই লেনে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া রেলের বহরে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক ইঞ্জিন ও কোচ। এ কারণে গতি বাড়ছে ট্রেনের। সবমিলিয়ে নতুন সময়সূচি কার্যকর করতে যাচ্ছে রেলওয়ে। প্রত্যেক বছরই একটি নির্দিষ্ট সময়ে সময়সূচি প্রণয়নের কথা থাকলেও তা হয়ে ওঠেনি। সবশেষ ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি সময়সূচি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস সকাল ৭টায় ছাড়লেও নতুন সূচিতে ছাড়বে সকাল সাড়ে ৭টায়। ঢাকাগামী আরেক দ্রুতগতির ট্রেন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ছাড়ে বিকেল ৫টায়। নতুন সময় সূচিতে ছাড়বে পৌনে ৫টায়। আবার ঢাকা থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছাড়বে বিকেল সাড়ে ৪টায়। সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছাড়বে সকাল ৭টায়। তূর্ণা এক্সপ্রেস কমলাপুর ছাড়বে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। মহানগর এক্সপ্রেস ছেড়ে যাবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।

সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে সময় লাগছে ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে লাগছে ৫ ঘণ্টা ১০ মিনিট। নতুন সময়সূচিতে দুটি ট্রেনেরই লাগবে ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলী আগের মতোই ছাড়বে বেলা ৩টায় এবং মহানগর এক্সপ্রেস ছাড়বে দুপুর সাড়ে ১২টায়। চট্টলা এক্সপ্রেস বর্তমানে সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এটি পৌঁছায় বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে। নতুন সময় অনুযায়ী, এ ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়বে সকাল ৬টায়। ঢাকায় পৌঁছাবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে। আর তূর্ণা এক্সপ্রেস এখন রাত ১১টায় ছাড়লেও নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ছাড়বে রাত সাড়ে ১১টায়। তবে আধা ঘণ্টা দেরিতে ছাড়লেও পৌঁছাবে আগের মতো ভোর সোয়া ৫টায়।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে করে যাওয়া যাবে ৮ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে। যেখানে এখন লাগে ৯ ঘণ্টা। এই ট্রেন এখন সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়ে, নতুন সূচিতে ছাড়বে ৭টা ৫০ মিনিটে। পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে সকাল সাড়ে ১০টায়। আরেকটি ট্রেন উদয়ন এক্সপ্রেস আগের মতোই রাত পৌনে ১০টায় ছাড়বে। তবে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় কম লাগবে ১৫ মিনিট।

চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস বিকেল সোয়া ৫টায় ছাড়লেও নতুন সূচিতে ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টায়। সময় লাগবে ৪ ঘণ্টা। চাঁদপুর থেকে মেঘনা ছাড়বে ভোর ৫টায়। ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস নতুন সূচি অনুযায়ী চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যাবে সকাল সোয়া ৯টায়। আগের সময়সূচিতে ছিল সকাল ৭টা ২০ মিনিট। আর ময়মনসিংহ থেকে বিজয় এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে রাত ৮টা ১০ মিনিটে।

ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবাত ট্রেন ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে ছাড়বে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে। এ ট্রেন এখন ছাড়ে ৬টা ২০ মিনিটে। সিলেট থেকে পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে বেলা সাড়ে ৩টায়। সিলেটগামী আরেকটি আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেসের ঢাকা ছাড়ার নতুন সময় বেলা ১১টায়। যদিও এ ট্রেন এখন ছেড়ে যায় সকাল সাড়ে ৮টায়। ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস সিলেট স্টেশন থেকে ছাড়বে রাত ১১টায়।

ঢাকা থেকে সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস ছাড়বে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে। এখন ছেড়ে যায় বেলা ৩টায়। কালনী এক্সপ্রেস সিলেট থেকে ছেড়ে যাবে সকাল সোয়া ৬টায়। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এখন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ছাড়লেও ভবিষ্যতে ছাড়বে সকাল সাড়ে ১০টায়। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস কিশোরগঞ্জ থেকে ছাড়বে বিকেল ৪টায়। জামালপুর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছাড়বে সকাল ১০টায়। যদিও এ ট্রেন এখন ছাড়ে সকাল সাড়ে ১০টায়। এটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।

অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে তারাকান্দির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বেলা সাড়ে ১১টায়। বর্তমানে ছাড়ে বেলা ১১টায়। তারাকান্দি থেকে ঢাকাগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ছাড়বে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর গোধূলী এখন ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে। নতুন সময় অনুযায়ী ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। এগারসিন্দুর গোধূলী কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, রেলের বহরে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন একলেনের রেললাইন দুই লেনে উন্নীত করায় নতুন সময়সূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী যাত্রীরা এখন আগের তুলনায় আরও কম সময়ে গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবেন।

Feb2
Feb2

চিকিৎসার মাঝপথেই মানুষের টানে ফিরে এসেছি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 September, 2026, 6:53 pm
চিকিৎসার মাঝপথেই মানুষের টানে ফিরে এসেছি

দীর্ঘদিন বিদেশে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে সংসদে ফিরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। সংসদ অধিবেশনে হুইল চেয়ারে বসে নিজের বক্তব্য দেন বিএনপির এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

মির্জা আব্বাস বলেন, দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় রাজনৈতিক সভায় অংশ নেওয়া অবস্থায় তিনি স্ট্রোক আক্রান্ত হন। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষ না হলেও এবং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না থাকা সত্ত্বেও নিছক ভালোবাসা, আবেগ ও জনগণের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে তিনি আজকের সংসদে উপস্থিত হতে বাধ্য হয়েছেন। সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগে তার কণ্ঠ বারবার বুজে আসছিল এবং তিনি নিজের অশ্রু সংবরণের চেষ্টা করছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মির্জা আব্বাস শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ২০০৬ সালের পর আজ আবার এই কক্ষে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। এটি তার জন্য আনন্দের ও গর্বের বিষয়।

নিজের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সফর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, অসুস্থতার খবর শুনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নিজে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সার্বিকভাবে নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রেখেছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পিকারের এই আচরণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কেবল একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সাধারণ সমবেদনা ছিল না, বরং তা ছিল আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অপূর্ব ও মানবিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের এই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তিনি কোনোদিন ভুলবেন না।

সংসদীয় রাজনীতির প্রকৃত দর্শন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আজ এই সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে রাজনীতি কেবল দলীয় পার্থক্য বা রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় নয়; রাজনীতি মূলত মানুষের সেবা করার জন্য। সংসদ কোনো নেহাত বিতর্কের মঞ্চ নয়, এটি গণমানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর পবিত্রতম স্থান।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন যাতে আমার নির্বাচনী এলাকা তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য জীবনের বাকি সময়টুকু নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারি।’

বক্তব্যের শেষভাগে তিনি তাকে দেখতে আসা, খোঁজখবর নেওয়া এবং অসুস্থতার দিনগুলোতে যার যার অবস্থান থেকে দোয়া ও প্রার্থনা করা সমস্ত সহকর্মী সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং দেশবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ২০০৬ সালের দীর্ঘ ব্যবধানের পর আজ আবার সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি মানুষের কাছে কেবল একটি কথাই বলতে চান, মানুষের সেবায় এবং প্রিয় বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বার্থে কাজ করতেই তিনি আবার ফিরে এসেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় যেন বাকি জীবনটুকু আত্মনিয়োগ করতে পারেন, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে আইএসডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 September, 2026, 6:13 pm
ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে আইএসডিবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আইএসডিবি গ্রুপের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটিতে আইএসডিবি প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০৪.২৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্ব, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। আগামী দিনে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যকার সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 3 September, 2026, 6:02 pm
দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব রটাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। সাম্প্রদায়িক উসকানি কিংবা বিদ্বেষ যেন আমাদের সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত সংখ্যালঘু। সুতরাং, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু, এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। অতএব, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদের বাংলাদেশি মনে করি। রাষ্ট্র এবং সমাজে দল মত ধর্ম বর্ণ পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব সংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা দেওয়াসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায়, যে রাষ্ট্র তার সাধ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অপরদিকে নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সব নাগরিক দায়িত্ব পালন করবে। এভাবেই রাষ্ট্র-সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব-আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সবার কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ রাষ্ট্র বা কল্যাণ বাংলাদেশ। এই রাষ্ট্র এবং সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা। এই দেশ আপনার, আমার আমাদের সবার।

তিনি আরও বলেন, নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার-আমার-আমাদের সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এবং ’‘ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’