খালেদার জামিন বিষয়ে কাদেরর সাথে হারুনের সাক্ষাৎ
harun
কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর এবার তার জামিনের বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও সংসদীয় মুখপাত্র হারুন অর রশীদ।
বুধবার (২ অক্টোবর) সচিবালয়ে সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে দলের প্রধান জামিন নিয়ে কথা বলেন বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব। পরে সেখানে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হারুন।
বিদেশে চিকিৎসা করাতে পাঠানোর মাধ্যমে তাকে (খালেদা জিয়া) কি বিএনপির রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এটি ঠিক নয়। তার ৭৬ বছর বয়স। তিনি নানা রোগে আক্রান্ত। তার জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। সে কারণে আমরা বলেছি তাকে জামিন দেন এবং তার চিকিৎসা করাবো। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই।’
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন হারুন। সেসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন- ‘আজকে জামিন পেলে, কালকেই চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন’— তবে আজকে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগে তার মুক্তি হোক। তারপর দেখা যাবে চিকিৎসা দেশে হবে নাকি বিদেশে।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর প্যারোলে মুক্তি নিয়ে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কথা উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘প্যারোল নিয়ে আগে কোনও আলোচনা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও প্যারোলের কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। আর পরিবার ও দলের পক্ষ থেকেও তার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনও আবেদন করা হয়নি। এই প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি মিডিয়া থেকে এসেছে। এটা মিডিয়ার সৃষ্টি।’
খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে ওবায়দুল কাদের কী বলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি আজ সন্ধ্যায় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।’
জামিন দেয়া তো আদালতের বিষয়, তারপরও আপনারা কেন সরকারের কাছে বারবার আবেদন করেন?— জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার কথা আপনারা সবাই জানেন। রাজনীতিকদের নামে অনেক মামলা হয়, সাজাও হয়। আবার তা সরকারের মধ্যস্থতায় ফয়সালাও হয়। অনেক ছোট ছোট নেতা এভাবে জামিন নিয়ে বিদেশে চলেন গেছেন। খালেদা জিয়া তো তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, উনি কেন জামিন পাবেন না।’
আপনারা খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে বারবার সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন, এটা রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত বহন করে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এটি সমঝোতা হতে যাবে কেন? যে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে সেটি তো প্রশ্নবিদ্ধ। ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখে হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তো কিছুদিন আগে লন্ডনে তার চোখের অপারেশন করিয়েছেন, যা দেশে সম্ভব ছিল। কাজেই সামর্থ্য থাকলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কেন বিদেশে হবে না।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমি আবারও আপনাদের বলছি একজন সন্তান হিসেবে অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার বিষয়ে যা যা করা দরকার সেই দায়িত্ববোধ থেকে আমি খালেদা জিয়ার জন্য জামিন চাইতে এসেছি। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। জামিন পেলে তার চিকিৎসা করানো হবে।’


আপনার মতামত লিখুন