খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে নৌকার মাঝি হতে চায় ২২১ জন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে নৌকার মাঝি হতে চায় ২২১ জন

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শেষদিনে ২৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। চার দিনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে নৌকা প্রতীকের ২৩০টি ফরম বিক্রি করা হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকজন একাধিক আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। ২২১ জন নৌকা-প্রত্যাশী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সালাউদ্দিন সাকিব বলেন, গতকাল শেষদিনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ২৩ জন। গত চার দিনে ২৩০টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, চার দিনে চট্টগ্রামের ১৬ টি আসনে আওয়ামী লীগের ফরম কিনেছেন ২২১ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চট্টগ্রাম- ৮ (বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ) আসনে।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই):
মাহবুব উর রহমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ মোস্তফা।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি):
মোহাম্মদ শাহজাহান, সাদাত আনোয়ার সাদী, খদিজাতুল আনোয়ার, বেলাল মোহাম্মদ নূরী, সাবরিনা চৌধুরী, হাসিবুন সুহাদ, মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, হোসাইন মো. আবু তৈয়ব, ফখরুল আনোয়ার, সৈয়দ রাজিয়া মোস্তফা, মোহাম্মদ হারুন, তৌহিদ মু. ফয়সল কামাল, সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী, এমআর আজিম, মোহাম্মদ ছালামত উল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, খোরশেদ আহমদ জুয়েল, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, কাজী মো. তানজীবুল আলম, আব্দুল নাসের।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ):

মো. রাজিবুল আহসান, মাহফুজুর রহমান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. জাফর উল্লাহ, মানিক মিয়া তালুকদার, একেএম বেলায়েত হোসেন, মহিউদ্দিন আহমেদ, মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, সরোয়ার হাসান জামিল, রুমানা নাসরিন, রফিকুল ইসলাম, মো. ইউনুছ আলী জীবন।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড ও চসিক আংশিক):

মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দীন, ড. নিছার উদ্দীন আহমদ মঞ্জু, মোহাম্মদ ইমরান, এসএম আল মামুন, দিদারুল আলম, চৌধুরী মোহাম্মদ জিন্নাত আলী, রতেন্দু ভট্টচার্য্য, আবু মনির মোহাম্মদ শহীদুল হক চৌধুরী, মহিউদ্দিন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও চসিক আংশিক):

মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শামীম, মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, মনজুরুল আলম চৌধুরী, এড. মো. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, ইউনুস গনি চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন, মোহাম্মদ ইউনুছ, বাসন্তী প্রভা পালিত, মো. নাছির হায়দার করিম, ডা. নূরউদ্দিন জাহেদ, মাহমুদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী, মাসুদুল আলম।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান):

এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী, মো. মুসলিম উদ্দিন চৌধুরী, ইমরানুল কবির, মোহাম্মদ আবুল কালাম, দেবাশীষ পালিত, বখতেয়ার উদ্দিন খান, মো. ছালামত আলী।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী আংশিক):

মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, মো. ওসমান গনি চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চসিক আংশিক) :

মো. খোরশেদ আলম, মো. মনছুর আলম পাপ্পী, এটিএম আলী রিয়াজ খান রক্সি, জিনাত সোহানা চৌধুরী, মো. এমরান, জাবেদুল আজম মাসুদ, মো. আরশাদুল আলম, মো. সাইফুল ইসলাম, কফিল উদ্দিন খান, নোমান আল মাহমুদ, মোহাম্মদ আবদুল কাদের, মো. মোবারক আলী, মো. বেলাল হোসেন, সেলিনা খান, আবদুচ ছালাম, এসএম কফিল উদ্দিন, মো. দিদারুল আলম, কাজী শারমিন সুমি, এসএম নুরুল ইসলাম, বিজয় কুমার চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মো. দিদারুল আলম, মুজিবুর রহমান, মো. নুরুল আনোয়ার, মো. আবু তাহের, আশেক রসুল খান, এম.এ সুফিয়ান সিকদার, শেখ আমেনা খাতুন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী):

মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, আমিনুল হক, শাহাজাদা মোহাম্মদ ফৌজল মুবিন খান, এড. মো. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, শফিক আদনান, শেখ ইফতেখার সাইফুল চৌধুরী, আ জ ম নাছির উদ্দীন, শফর আলী, মো. রাশেদুল হাসান, মহিবুল হাসান চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, মো. দিদারুল আলম, মো. শহিদুল আলম, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, মশিউর রহমান চৌধুরী, মো. জালাল উদ্দীন।

চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং):

মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু, মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, আ জ ম নাছির উদ্দীন, শফর আলী, কেবিএম শাহজাহান, মো. খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ ইউনুছ, সৈয়দ মাহমুদুল হক, মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, মো. আসলাম হোসেন, সাইফুদ্দিন খালেদ, জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, আব্দুস সবুর লিটন, মো. ছালামত আলী, একেএম বেলায়েত হোসেন, মো. ফয়সল আমীন, মোহাম্মদ অহিদ সিরাজ চৌধুরী, মো. সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, মো. এরশাদুল আমীন, আবুল ফজল কবির আহমদ।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা):

শেখ মাহমুদুল ইসহাক, মোহাম্মদ এনামুল হক, মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আ জ ম নাছির উদ্দীন, শফর আলী, জিয়াউল হক সুমন, মো. রাশেদুল হাসান, মো. খোরশেদ আলম, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, এম. আবদুল লতিফ, দেবাশীষ পাল, রেখা আলম চৌধুরী, মো. জাবেদ ইকবাল, সওগাতুল আনোয়ার খান, মশিউর রহমান চৌধুরী, ইকবাল আলী, মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, মোজাফ্ফর আহমদ, হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মো. ইলিয়াছ, ইমরান ফাহিম নূর, সায়রা বানু রুশনী, মো. মাহবুবুর রহমান, নওশাদ সরোয়ার, ছালেহ আহমদ চৌধুরী, আকবর হোসেন, এম.এনামুল হক চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া):

মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, মো. আবদুর রশীদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, সামশুল হক চৌধুরী, চেমন আরা বেগম, সত্যজিৎ দাশ রুপু, হাজী মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ, জুলকারনাইন চৌধুরী, মো. হাবিবুল হক চৌধুুরী, মো. মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ ফারুক, রাশেদ মনোয়ার, মো. আবুল কালাম আজাদ চৌধুরী, প্রদীপ কুমার দাশ।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী):

শাহজাদা মহিউদ্দিন, সমীরন নাথ, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মুহাম্মদ বদিউল আলম।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক):

মফিজুর রহমান, নাছির উদ্দীন, আফতাব মাহমুদ, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এম. মাসুদ আলম চৌধুরী, ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ আসিফ, রফিকুল ইসলাম, মোহা. কায়কোবাদ ওসমানী, মোহাম্মদ আবদুল কৈয়ম চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুল জব্বার চৌধুরী, মো. জাহিদুল ইসলাম, মীর মো, মহিউদ্দিন, মো. আবুল বশর ভূঁইয়া, মাহবুবুর রহমান, মামুন উল হক চৌধুরী, শাহিদা আক্তার জাহান, আবু আহমেদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া):

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, সৈয়দ মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, আব্দুল মোতালেব, সাজেদা সুরাত, মো. মইনুল ইসলাম মামুন, কামরুন নাহার, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, আ. ম. ম মিনহাজুর রহমান, মো. এরশাদুল হক, মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী, মো. আমিনুল ইসলাম, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ অহিদ সিরাজ চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী):

চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী, আরেফ উল হক, মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. আলমগীর চৌধুরী, আবদুল্লাহ কবির, মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সিকদার, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, মুজিবুর রহমান, আবু নাছের মো. সরওয়ার আলম, এড. মুজিবুল হক, শেখর দত্ত, সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি, আবুল হোসেন মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (শামস্), মোসলেহ উদ্দিন মনসুর, মো. ছৈয়দুল মোস্তফা রাজু, নাজমা আক্তার।

Feb2

শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবন সম্পর্কে অবগত হন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানিয়েছেন।

এসময় সাজ্জাদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড তৈরি করেছেন।

দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব এসব উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনী কাজে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তরুণ এই উদ্ভাবককে উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
সাবেক আইজিপি বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের পুলিশ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বেনজীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন। তাকে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি মহান জাতীয় সংসদকে অবহিত করছি যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এটি পাঠানো হয়েছিল এবং আমরা বিষয়টি মনিটর করেছি। ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল ও ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের প্রতি রেড নোটিশ জারি করে। উক্ত রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ করা হয়।

তিনি বলেন, আমি এ মহান সংসদের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে জানাচ্ছি যে, গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে প্রেরিত একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, আমি এই মহান সংসদকে আরও অবহিত করছি যে, এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএই ফেডারেল ল’ নাম্বার ৩৯ অব ২০০৬ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ প্রস্তাব) প্রেরণ করতে হবে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ১০৯ সেকশন; ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ সেকশনের ৫(২), ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারা; এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারার সেকশন ১১ অনুযায়ী মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই বিষয়ে এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোলের চ্যানেলের মাধ্যমে রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট প্রেরণ করে এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।

এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

বেনজীর ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ফজলুল হক, মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক ও বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০২১০ সালের ১১ অক্টোবর ডিআইজি হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর জন্য আবেদন করেন। আবেদন ফরমে ‘অফিসিয়াল’ হিসেবে মার্ক করা হয়। তার আবেদনপত্রের প্রফেশন এর ক্রমিকে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করা হয়। পরে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায়ও পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জালিয়াতি-প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেন। অন্যান্য সময়েও বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)/ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) এর জন্য আবেদন করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আসামিরা বেনজীর আহমেদ-এর দাপ্তরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত থেকেও অন্যান্য আসামিরা বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ সংগ্রহ না করে কিংবা যাচাই না করে স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে তার নামে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ই-পাসপোর্ট ইস্যুর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দি বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩ এর ১১ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলাসহ মোট ৬টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। যা বিচারাধীন।

বেনজীরের পাসপোর্ট সংক্রান্ত ইতিহাস

১৯৮৮ সালে চাকরিজীবন শুরু করেন বেনজীর। তিনি তার পুরোনো হাতে লেখা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর। সে সময় নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট না নিয়ে নেন সবুজ রঙের সাধারণ পাসপোর্ট। আসল পরিচয় আড়াল করে নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। আবেদন ফরমে পেশা হিসেবে লেখেন ‘প্রাইভেট সার্ভিস’।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ওই বছরের ১৪ অক্টোবর বেনজীরকে নবায়ন করা এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) দেওয়া হয়। যার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর। যদিও মেয়াদপূর্তির আগেই ২০১৪ সালে ফের বেনজীর পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন। কিন্তু এবারও যথারীতি নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। ২০১৪ সালে বেনজীর ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি অফিশিয়াল পাসপোর্ট নেননি।

দ্বিতীয় দফায় নবায়ন করা পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরে ২০১৬ সালে তিনি ফের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন জমা দেন। সে সময় তিনি ছিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক। সেবারও যথারীতি তিনি বেসরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেন তার আবেদনে। সে দফায় পাসপোর্টে বেনজীরের তথ্য গোপন ও জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে যায়।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সূত্র জানায়, র‌্যাব মহাপরিচালকের বেসরকারি পাসপোর্ট দেখে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কর্মকর্তারা পরে বিষয়টি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের নজরে আনলে বেনজীরের আবেদনপত্র আটকে যায়। তখন বেনজীরকে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু এনওসি জমা না দিয়ে পাসপোর্ট নবায়নের চাপ দেন তিনি।

পরে সন্দেহজনক বিবেচনায় বেনজীরের বেসরকারি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের পক্ষে যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়ে র‍্যাব সদরদপ্তরে চিঠি দেয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। চাপের মুখে একদিনের ব্যবধানে তাকে পাসপোর্ট দেয় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ (ডিআইপি)।

২০২০ সালে ৩০তম আইজিপি হিসেবে পুলিশ বাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব নেন বেনজীর। নিয়মানুযায়ী সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার কথা। কিন্তু বেনজীর মর্যাদাপূর্ণ লাল পাসপোর্টও নেননি। আইজিপি হয়েও তিনি ফের বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। সে সময় দেশে চালু হয় ই-পাসপোর্ট। বেনজীরের আবেদন নিয়েও দেখা দেয় জটিলতা। তা সমাধান করতে তিনি আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে যাননি। অসুস্থতার কথা বলে পাসপোর্টের ডিআইপির মোবাইল ইউনিট চেয়ে পাঠান। পরে পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার বাসায় গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়াসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালের ৪ মার্চ তার আবেদনপত্র জমা হয়ে যায়। ওই বছরের ১ জুন বেনজীরের নামে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।

 

টেকসই উন্নয়ন ও জনভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেবে সিডিএ : ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
টেকসই উন্নয়ন ও জনভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেবে সিডিএ : ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি কমানো এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে সিডিএ।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকা থেকে ফিরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সব সেবা সংস্থার একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত চট্টগ্রামকে আরও ভালো কিছু দেওয়া। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই নগরীর দীর্ঘদিনের সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড। কিন্তু জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বয়ের অভাব এই শহরের সম্ভাবনাকে ব্যাহত করছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), ওয়াসা, ওয়াপদা, গ্যাস বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে সিডিএ আগামী দিনে কাজ করবে। চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি কমানো এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম দেখতে চাই, যেখানে নাগরিক সেবা পাওয়া সহজ হবে এবং পাহাড়-প্রকৃতি সংরক্ষণ করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সিডিএর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, নগরকে সাজাতে হবে বৈজ্ঞানিক ও যুগোপযোগী পদ্ধতিতে। এ জন্য তিনি নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশকর্মী ও গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে চান। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে সিডিএর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন উপকারের বদলে জাতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তা আর হতে দেওয়া হবে না। এই নগরকে ভালো কিছু দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য।